somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পৈতালির বড় দাওয়াই... ( নরম মনের মানুষেরা পড়বেন না)

১৩ ই মার্চ, ২০১০ দুপুর ২:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পিচ শুকনো খটকটে। ব্যাটিং স্বর্গ বলতে বোঝায়, ঠিক তেমনি। নিতান্তই গাঞ্জুট্টি না হলে, কিংবা ক্রিটেকের "ক" "খ" না জানা লোকেও এই পিচে এক কথায় বলবে ব্যাটিং করবো।

না, আমাদের ভাগ্যে গাঞ্জুট্টির চেয়েও বেশি খোর মগজ জুটেছে। তারা পিচ দেখার আগেই সিদ্ধান্ত নিয়ে বসেছিলেন যে পিচ যাইই হোক, ইংল্যান্ডকে ব্যাটিং এ পাঠাতে হবে।

আমাদের দলে চার চার জন স্পিনার, সাথে শাহাদাত আর রুবেলের পেস আক্রমন। ইংল্যান্ডের তো দফা রফা হয়েই যাবে। ব্যাটিং স্বর্গ উইকেটে ইংল্যান্ডকে ব্যাটিং এ পাঠানোর পেছনে এ রকমই একটা পৈতালি কাজ করেছিল।

ঠিকই ধরেছেন। আমি চট্টগ্রামে টেস্ট ক্রিকেটের কথাই বলছিলাম। না শাকিবের দোষ নেই। কেননা ধারাভাষ্যকার আতাহার নির্বাচক এবং কোচের সাথে কথা বলে জেনেছিলেন যে, টসে জিতলেই বাংলাদেশ বোলিং নেবে। তাই সুতোয় বাধা পুতুলের মত, শাকিব ছিল অন্যনোপায়।

ক্রিকেট বোর্ডের বড় বাপ, আদম ব্যাপারি এবং সন্ত্রাসিদের গড ফাদার লোটাস কামালের অনেক কীর্তির কথাই শোনা গেছে। এখন চলছে, তার মর্জিমত সবকিছু। সম্ভবত এই পিচে বোলিং নেবার পেছনে তার সম্মতি থাকা বিচিত্র কিছু না।

লোটাস কামাল না হয়, একটা ফালতু লোক। তোরা যারা বোর্ডের বাকি পদ্গুলিতে আছিস, ওই ব্যাটাকে তো বলতে পারতি, ভাই যার কাজ তারে করতে দ্যান। কিন্ত কিসের কি? গদির লোভ কি ছাড়া যায়।

আর প্লেয়াররাও যা হয়েছে। লেখাপড়া ঠিকমত না করলে যা হয় আর কি ! অল্প জ্ঞান বিপদজনক হয়ে দেখা গিয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন অনেক ক্রিকেট ম্যাচ হয়েছে, যেখানে পিচ রিডিং এ ভুল করে উল্টা পাল্টা সিদ্ধান্তের খেসারত খুব বাজেভাবেই বাংলাদেশ দলকে দিতে হয়েছে। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয়া তো দুরের কথা, বরং কে কত বেশি ইতিহাসের সেই কলঙ্কগুলির পুনরাবৃত্তি করতে পারে, তারই প্রতিযোগিতা চলছে।

নতুবা কেন একই চিত্রনাট্টের পুনরাবৃত্তি বার বার দেখতে হবে আমাদের। ব্যাটিং স্বর্গ উইকেটে বোলিং নিয়ে প্রতিপক্ষকে রানের হিমালয়ে চড়ানো। এর পর ২০-২০ স্টাইলে ব্যাটিং চালিয়ে ফলো অনের পড়া। এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ততোধিক বাজে খেলে আরো কম রানে আউট হয়ে ক্রিকেটের ইতিহাসের অংশ হয়ে যাওয়া।

ইংল্যান্ড ৫৯৯ রানের হিমালয় গড়েছে। এর পর দেখবো, তামিম বাবাজি প্রথম বলেই উড়িয়ে মারতে গিয়ে প্যাভিলিয়ানে। ইমরুল আর জুনায়েদ, কুক কিংবা পিটারসনের মহল্লার মানের বোলিং এর সামনেও জড়সর হয়ে থাকবে। তবে বেশিক্ষনের জন্য না। এর পর ভালো বলটাকেই উড়িয়ে মারতে গিয়ে হয় কট নইলে বোল্ড হয়ে ফেরৎ আসবে। শাকিব আর মুশফিক বেশ কিছুক্ষন ধৈর্য্য ধরে খেলবে। এর পর হুড়াহুড়ি করতে গিয়ে দু জনেই রান আউট। মাহমুদুল্লাহ কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও গড়তে পারে। শেষের দিকে নাইম ভাববে, আমার ছক্কা নাইম নামটা সার্থক করি। সেটাই তার আউটের কাল হবে। বাকি যারা রইলো অর্থাৎ বোলাররা ভাববে, ব্যাটসম্যানরাই কিছু করতে পারেনি, আমরা কি করবো। ভেবে সেধে সেধে উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসবে।

আমাদের দলের বালখিল্যতার এই একটা নমুনা। যা কাল্পনিক হলেও, অনেকবারেই বাস্তব হয়ে দেখা দিয়েছিল।

আমরা অনেক আবেগ দিয়ে নিজ দলকে সমর্থন করি। তাছাড়া, দেশের অবস্থা যাইই হোক না কেন, খেলোয়াড়রা যে অংকের পারিশ্রমিক পান, তা তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা দিয়ে কোনদিনই অর্জন করা সম্ভব হতো না। তাহলে কেন কর্তব্যে এমন অবহেলা?

এসব বন্ধে একটাই দাওয়াই। ইন্ডীয়ান সমর্থকদের পথ অনুসরন করা। দেখুন না, সেই দাওয়াই এর প্রভাবে ইন্ডিয়া এখন ক্রিকেটে এক নং দল। আমরা এক নং এ না যেতে পারি, অন্তত এই সব বালখিল্যতা তো কমাতে পারবো। সাথে আরো যোগ করা যায়

১। প্রতিটা বাজে শট খেলার জন্য ১০,০০০ টাকা কর্তন। ওই শটে আউট হলে ৫০,০০০ টাকা জরিমানা।
২। দ্বায়িত্বজ্ঞান হীন অধিনায়কত্বের জন্য ম্যাচ ফি না দেয়া।
৩। ভুল বোঝা বুঝির করে রান আউটের জন্য ২৫০০০ টাকা জরিমানা।
৪। ক্রমাগত লেগ সাইডে বাজে বলে জন্য বল পিছু ২৫০০ টাকা জরিমানা।
৫। প্রতিটি ক্যাচ মিসের জন্য ২০,০০০ টাকা জরিমানা।
৬। টসে জিতে ভুল সিদ্ধান্ত নিলে অধিনায়ক, কোচ কর্মকর্তা প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা।
৭। বাজে ফিল্ডিং এর জন্য ৫০০০ টাকা জরিমানা।
৮। জিতা ম্যাচ হারা জন্য দলের সাথে সংক্লিস্ট প্রত্যেকের ম্যাচ ফির পুরোটাই কেটে নেয়া, সাথে ১০,০০০ টাকা করে জরিমানা।

আপেক্ষিকভাবে সহজ অর্থ উপার্জনের পথে থেকেও যদি, এর মর্ম না বোঝে তাহলে, শক্ত দাওয়াই দিইয়েই ওদের বোঝাতে হবে যে, অর্থ কামাই এত সহজ হওয়া উচিত নয়।

কি বল্লেন? এতে কাজ হবে না? পরীক্ষা প্রার্থনীয়।
১২টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×