পিচ শুকনো খটকটে। ব্যাটিং স্বর্গ বলতে বোঝায়, ঠিক তেমনি। নিতান্তই গাঞ্জুট্টি না হলে, কিংবা ক্রিটেকের "ক" "খ" না জানা লোকেও এই পিচে এক কথায় বলবে ব্যাটিং করবো।
না, আমাদের ভাগ্যে গাঞ্জুট্টির চেয়েও বেশি খোর মগজ জুটেছে। তারা পিচ দেখার আগেই সিদ্ধান্ত নিয়ে বসেছিলেন যে পিচ যাইই হোক, ইংল্যান্ডকে ব্যাটিং এ পাঠাতে হবে।
আমাদের দলে চার চার জন স্পিনার, সাথে শাহাদাত আর রুবেলের পেস আক্রমন। ইংল্যান্ডের তো দফা রফা হয়েই যাবে। ব্যাটিং স্বর্গ উইকেটে ইংল্যান্ডকে ব্যাটিং এ পাঠানোর পেছনে এ রকমই একটা পৈতালি কাজ করেছিল।
ঠিকই ধরেছেন। আমি চট্টগ্রামে টেস্ট ক্রিকেটের কথাই বলছিলাম। না শাকিবের দোষ নেই। কেননা ধারাভাষ্যকার আতাহার নির্বাচক এবং কোচের সাথে কথা বলে জেনেছিলেন যে, টসে জিতলেই বাংলাদেশ বোলিং নেবে। তাই সুতোয় বাধা পুতুলের মত, শাকিব ছিল অন্যনোপায়।
ক্রিকেট বোর্ডের বড় বাপ, আদম ব্যাপারি এবং সন্ত্রাসিদের গড ফাদার লোটাস কামালের অনেক কীর্তির কথাই শোনা গেছে। এখন চলছে, তার মর্জিমত সবকিছু। সম্ভবত এই পিচে বোলিং নেবার পেছনে তার সম্মতি থাকা বিচিত্র কিছু না।
লোটাস কামাল না হয়, একটা ফালতু লোক। তোরা যারা বোর্ডের বাকি পদ্গুলিতে আছিস, ওই ব্যাটাকে তো বলতে পারতি, ভাই যার কাজ তারে করতে দ্যান। কিন্ত কিসের কি? গদির লোভ কি ছাড়া যায়।
আর প্লেয়াররাও যা হয়েছে। লেখাপড়া ঠিকমত না করলে যা হয় আর কি ! অল্প জ্ঞান বিপদজনক হয়ে দেখা গিয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন অনেক ক্রিকেট ম্যাচ হয়েছে, যেখানে পিচ রিডিং এ ভুল করে উল্টা পাল্টা সিদ্ধান্তের খেসারত খুব বাজেভাবেই বাংলাদেশ দলকে দিতে হয়েছে। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয়া তো দুরের কথা, বরং কে কত বেশি ইতিহাসের সেই কলঙ্কগুলির পুনরাবৃত্তি করতে পারে, তারই প্রতিযোগিতা চলছে।
নতুবা কেন একই চিত্রনাট্টের পুনরাবৃত্তি বার বার দেখতে হবে আমাদের। ব্যাটিং স্বর্গ উইকেটে বোলিং নিয়ে প্রতিপক্ষকে রানের হিমালয়ে চড়ানো। এর পর ২০-২০ স্টাইলে ব্যাটিং চালিয়ে ফলো অনের পড়া। এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ততোধিক বাজে খেলে আরো কম রানে আউট হয়ে ক্রিকেটের ইতিহাসের অংশ হয়ে যাওয়া।
ইংল্যান্ড ৫৯৯ রানের হিমালয় গড়েছে। এর পর দেখবো, তামিম বাবাজি প্রথম বলেই উড়িয়ে মারতে গিয়ে প্যাভিলিয়ানে। ইমরুল আর জুনায়েদ, কুক কিংবা পিটারসনের মহল্লার মানের বোলিং এর সামনেও জড়সর হয়ে থাকবে। তবে বেশিক্ষনের জন্য না। এর পর ভালো বলটাকেই উড়িয়ে মারতে গিয়ে হয় কট নইলে বোল্ড হয়ে ফেরৎ আসবে। শাকিব আর মুশফিক বেশ কিছুক্ষন ধৈর্য্য ধরে খেলবে। এর পর হুড়াহুড়ি করতে গিয়ে দু জনেই রান আউট। মাহমুদুল্লাহ কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও গড়তে পারে। শেষের দিকে নাইম ভাববে, আমার ছক্কা নাইম নামটা সার্থক করি। সেটাই তার আউটের কাল হবে। বাকি যারা রইলো অর্থাৎ বোলাররা ভাববে, ব্যাটসম্যানরাই কিছু করতে পারেনি, আমরা কি করবো। ভেবে সেধে সেধে উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসবে।
আমাদের দলের বালখিল্যতার এই একটা নমুনা। যা কাল্পনিক হলেও, অনেকবারেই বাস্তব হয়ে দেখা দিয়েছিল।
আমরা অনেক আবেগ দিয়ে নিজ দলকে সমর্থন করি। তাছাড়া, দেশের অবস্থা যাইই হোক না কেন, খেলোয়াড়রা যে অংকের পারিশ্রমিক পান, তা তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা দিয়ে কোনদিনই অর্জন করা সম্ভব হতো না। তাহলে কেন কর্তব্যে এমন অবহেলা?
এসব বন্ধে একটাই দাওয়াই। ইন্ডীয়ান সমর্থকদের পথ অনুসরন করা। দেখুন না, সেই দাওয়াই এর প্রভাবে ইন্ডিয়া এখন ক্রিকেটে এক নং দল। আমরা এক নং এ না যেতে পারি, অন্তত এই সব বালখিল্যতা তো কমাতে পারবো। সাথে আরো যোগ করা যায়
১। প্রতিটা বাজে শট খেলার জন্য ১০,০০০ টাকা কর্তন। ওই শটে আউট হলে ৫০,০০০ টাকা জরিমানা।
২। দ্বায়িত্বজ্ঞান হীন অধিনায়কত্বের জন্য ম্যাচ ফি না দেয়া।
৩। ভুল বোঝা বুঝির করে রান আউটের জন্য ২৫০০০ টাকা জরিমানা।
৪। ক্রমাগত লেগ সাইডে বাজে বলে জন্য বল পিছু ২৫০০ টাকা জরিমানা।
৫। প্রতিটি ক্যাচ মিসের জন্য ২০,০০০ টাকা জরিমানা।
৬। টসে জিতে ভুল সিদ্ধান্ত নিলে অধিনায়ক, কোচ কর্মকর্তা প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা।
৭। বাজে ফিল্ডিং এর জন্য ৫০০০ টাকা জরিমানা।
৮। জিতা ম্যাচ হারা জন্য দলের সাথে সংক্লিস্ট প্রত্যেকের ম্যাচ ফির পুরোটাই কেটে নেয়া, সাথে ১০,০০০ টাকা করে জরিমানা।
আপেক্ষিকভাবে সহজ অর্থ উপার্জনের পথে থেকেও যদি, এর মর্ম না বোঝে তাহলে, শক্ত দাওয়াই দিইয়েই ওদের বোঝাতে হবে যে, অর্থ কামাই এত সহজ হওয়া উচিত নয়।
কি বল্লেন? এতে কাজ হবে না? পরীক্ষা প্রার্থনীয়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


