somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রবীন্দ্রচর্চা কোন ধর্ম নিরপেক্ষতার পরিচায়ক নয়।

০৫ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ২:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। বিশ্বকবি বলে যিনি সম্মানিত এবং সমাদৃত। আমাদের বাংলা ভাষা, সাহিত্য এবং কলাকে যিনি সারা বিশ্বব্যাপি পরিচিত করিয়ে দিয়েছেন। বঙ্কিমের সময়কার সাধারনের জন্য দুর্বোধ্য লেখ্য ভাষাকে সাধারনের জন্য বোধ্য করে দেবার অগ্রদুত যিনি, তিনিই রবি ঠাকুর। একারনেই বাংলা ভাষাভাষি মানুষ চিরকাল তার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবে।

রবীন্দ্রনাথের আরো পরিচয় আছে। যেমন তিনি ছিলেন জমিদার, ব্যাবসায়ি এবং ধর্মানুরাগি একজন সব্যসাচি মানুষ।



প্রকৃতির অদ্ভুত খেয়ালে উজান আর ভাটির মানুষদের মধ্যে সব সময়েই মন মানসিকতার একটা পার্থক্য লক্ষনীয়। বাংলায় সেই পার্থক্য ধর্মীয়ভাবে আরো প্রকট হয়ে দেখা দেয় ১৭৫৭ সালে বৃটিশ বণিকদের বাংলা কুক্ষিগত করার মাধ্যমে। "যবনদের" পতনে উল্লাসিত হিন্দুরা বৃটিশদের দেয়া সব সুযোগ সুবিধার পুর্ণ সদব্যাবহার করে। আর "খেলাফত" হারানোর অদুরদর্শি অভিমানে মুসলমানেরা বৃটিশদের ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করে। এখানে লক্ষনীয় যে পশ্চিম বাংলায় হিন্দুরা ছিল সংখ্যাগুরু এবং পুর্ব বাংলায় মুসলমানেরা।


বৃটিশ শাসনে প্রথমে কোলকাতাই ছিল রাজধানি। তাই প্রাশাসনিক দফতর থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সবই ছিল কোলকাতায়। আর অপেক্ষাকৃত উর্বরভুমি থাকায় পুর্ব বাংলা ছিল শস্যভান্ডার। ফলে পশ্চিম বাংলায় যেমন একদিকে হাজার হাজার শিক্ষিত মানুষ গড়ে উঠছিল, তখন পুর্ব বাংলার শিক্ষার আলো বঞ্চিত মানুষেরা শস্য উৎপাদনের নিমিত্ত বলেই গণ্য হতো। আর একারণেই সময়ের সাথে সাথে পুর্ব বাংলার বাঙ্গালিদের প্রতি পশ্চিম বাংলার বাঙ্গালিদের এক ধরণের নাক সিটকানোর অভ্যাস তৈরি হয়েছিল। সাথে ছিল মুসলমান হবার অপরাধ।

পুর্ব বাংলার মুসলমানদের ঘুম যখন ভাঙ্গলো, তখন পশ্চিম বাংলার মানুষেরা শিক্ষা দীক্ষায় অনেকদুর এগিয়ে গিয়েছে। শুধু তাই না, বৃটিশ প্রশাসনের অনেক গুরুত্বপুর্ণ পদেও তারা আসীন।

বিশাল এই প্রার্থক্য দুর করতে ( অনেকে বলেন, বৃটিশদের ডিভাইড এন্ড রুলের অংশ হিসেবে) ঢাকাকে রাজধানি করে ইস্ট বেঙ্গল এন্ড আসাম প্রদেশ গড়ার ঘোষনা দিয়েছিলেন তৎকালিন ভাইসরয় লর্ড কার্জন। একই সাথে পুর্ব বাংলার মানুষদের উচ্চ শিক্ষার জন্য ঢাকা বিশ্বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাও করা হয়। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের কট্টরপন্থি হিন্দুরা বঙ্গমাতার কল্পিত অস্তিত্ব আবিস্কার করে "মায়ের" দ্বিখন্ডিতকরনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ গড়ে তুলে। (১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের সময় "মায়ের" এই দ্বিখন্ডিতকরন তারা কোন যুক্তিতে মেনে নিয়েছিলেন, সেটা ইতিহাসের কাছেই প্রশ্ন হয়ে থাক)।

এই মিছিলে বঙ্কিমের মত মুসলমান বিদ্বেষি থেকে শুরু করে স্বয়ং রবীন্দ্রনাথের মত মনিষিরাও ছিলেন। আর এই বঙ্গভঙ্গ রদ আন্দোলনকে সাংস্কৃতিক রুপ দিতে রবীন্দ্রনাথ "আমার সোনার বাংলা" রচনা করেছিলেন। যা আজ আমাদের জাতীয় সঙ্গিত! তিনি একই সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠারও বিরোধীতা করেছিলেন। এটা কি পুর্ব বাংলার চাষাভুষাদের শিক্ষিত হয়ে যাবার আশংকায় নাকি সমসাময়িক বিশ্বভারতীতে ছাত্র ভর্তি কমে যাবার আশংকায়, সেটা ইতিহাস বিবেচনা করবে। এছাড়াও রবীন্দ্রনাথ প্রকাশ্যেই স্বদেশী আন্দোলনের প্রতি সমর্থন দান করেছিলেন, যা প্রকারন্তেই ছিল উগ্র হিন্দু সাম্প্রদায়িক আন্দোলন।

তথ্য সুত্রঃ
Click This Link


সেই আন্দোলনের ফলে বঙ্গভঙ্গ রোধ হয়েছিল। ফলে পুর্ব বাংলার মানুষদের শিক্ষাদীক্ষা ব্যাবসা বাণিজ্য কিংবা প্রাশাসনিক কাজে পশ্চিম বাংলার মুখাপেক্ষি হয়ে থাকতে হয়েছিল। ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগ হবার আগ পর্যন্ত এ অবস্থা চলেছিল।

পুর্ব বাংলা এখন স্বাধীন বাংলাদেশ। আমাদের পুরানো প্রজন্মের শিক্ষিত মানুষদের অনেকেই কোলকাতায় লেখাপড়া শিখেছেন। মুলত আমাদের যে শিক্ষিত বুদ্ধিজীবি সমাজ, তার সিংহভাগই কোলকাতাকেন্দ্রিক। তারা যে ধরণের সাংস্কৃতিক চর্চা করেন, সেটা যত না আমাদের দেশ ও মাটির কাছাকাছি, তার চেয়ে বেশি পশ্চিম বাংলার সাথে সামঞ্জস্য পুর্ণ।

বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জীবনধারা নিরিখে একটি স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক ধারার উত্তরণ ঘটাতে ব্যার্থ হয়ে, ইনারা রবীন্দ্রনাথকেই আকড়ে ধরেছেন। আর তাদের ওই ব্যার্থতা ঢাকতে এমন সব মিথ্যাচারের জন্ম দিচ্ছেন, যা শুনলে খোদ রবীন্দ্রনাথ নিজেও লজ্জা পেতেন। এর মধ্যে মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জলন, উত্তরীয় উপহার, ঘটপুজা ইত্যাদি। সাথে রবীন্দ্র সংগীত পরিবেশনা। ( এধরণের আচার শান্তিনিকেতনের সাধারণ আচার)।

প্রথমত ইংরেজি শিক্ষার প্রতি ঘৃণার মত অবাস্তব ও অদুরদর্শি সিদ্ধান্তের কারণে এবং দ্বিতীয়ত সুযোগের অভাবে শিক্ষিত না হতে পারার জন্য বাংলাদেশের সাধারণ মানূষ এক ধরণের হীনমন্যতায় ভোগে। তাই বাধ্য হয়েই কোলকাতাকেন্দ্রিক এই সাংস্কৃতিক আচারকেই "শিক্ষিত" মানুষের আচার বলে মেনে নিচ্ছে। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারিদের মুখ বন্ধ করার জন্য অবশ্য "সাম্প্রদায়িক চেতনাধারি" কিংবা "বাঙ্গালি বিরোধী" নামের অপবাদটি তৈরি করাই আছে। এই ভয়েও অনেকে এই ধরণের বাংলাদেশের মুল সংস্কৃতির পরিপন্থিরা আচারের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলেন না।

অথচ রবীন্দ্রনাথদের জীবন ও আদর্শ যারা পড়েছেন, তারা কোনদিনও অবশ্য রবীন্দ্রনাথকে অসাম্প্রদায়িক কিংবা ধর্মনিরপেক্ষতার প্রতিভু বলবেন না। রবীন্দ্রনাথ নিজেও কোনদিন এই দাবি করেননি।

যুগের সাথে সময়ের সাথে সবকিছু বদলায়। আমাদেরকেও বদলাতে হবে। শিক্ষিত সম্প্রদায়ের মাথা বলে যাদেরকে আমরা শীর্ষস্থানে বসিয়ে সম্মান করছি, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কিংবা সংস্কৃতির পরিপন্থি আচার অনুসরন এবং প্রচারের মত কাজে জড়িতরা, এধরণের সম্মানের উপযুক্ত কিনা, সেটা আবার ভেবে দেখার সময় এসেছে।
৪৬টি মন্তব্য ৪৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×