
নেই নেই নেই। পানি নেই বিদ্যুত নেই গ্যাস নেই। এর মাঝে বেঁচে থাকাকেও কি বেঁচে থাকা বলে? মানলাম এ আগের সরকারের কুকর্মের ফসল। তাহলে আগের সরকারের দন্ডমুন্ডের কর্তারা বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন না কেন? সরকারের বিরোধীতা করার জন্য তো মামলা হামলা কম হচ্ছে না! তাহলে জনদুর্ভোগকে এই অসহনীয় পরিস্থিতির মুখোমুখি দার করানোর হোতারা কেন বিচারের বাইরে থাকবে?

এটা যে একদিনের ব্যার্থতার কারণে হয়নি, সেটা বোধবুদ্ধিসম্পন্ন সবাই বোঝে। একদিনেও যে এর প্রতিকার হবে, সেটাও তো কেউ দাবি করছে না। অন্তত উদ্যোগটুকু তো নিতে পারতেন?
তা না করে নামকরণ আর নাম বদলের ঘৃণ্য নির্লজ্জ প্রতিযোগিতা, ঘড়ির কাটা বদল, এটা ওটা ব্যাবহার করা যাবে না বলে আইনি ফতোয়া, ২০১৩ সালের মধ্যে ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদনের মুলা ঝুলিয়ে মিছে আশা দেওয়া, এসব শুধু ব্যার্থতা ঢাকার দৃস্টিকটু অপচেস্টাই নয়, বরং এসব করে জনরোষকে আরো উসকে দেবার পায়তাড়া করা হচ্ছে। কেন বাবা ষাড়কে লাল রঙ্গের ঝান্ডা দেখানো? এর নামই কি সুখে থাকলে ভুতে কিলায়?
আপনাদের এতদিনের কাজ কর্ম যা দেখছি, তাতে ভারতের হাতে সর্বস্ব তুলে না দেয়া পর্যন্ত আপনারা ক্ষান্ত হবেন বলে মনে হয় না। ইচ্ছে করে এই জনদুর্ভোগ বাড়িয়ে এমন অবস্থার সৃস্টি করতে চাচ্ছেন, যাতে ভারত থেকে বিদ্যুত আমদানির বিরুদ্ধে কেউ টু শব্দটি না করতে পারে। ভারত কি এমনি এমনি দেবে? ৫ টাকার রদ্দি মাল ৫০ টাকায় বিক্রি করে ছাড়বে, এমন বেণিয়ার জাত ওরা। এটা আপনারাও জানেন। তবে দাদা বলে কথা ! কলসি কানা করলেও প্রেম না দিয়ে আপনারা থাকতে পারবেন না।
সাথে কমিশনের বখরা তো আছেই। খান। খাবেন না কেন? বাংলাদেশের মসনদে কেউ তো আর সমাজসেবার জন্য বসে না। খেয়ে আগামি ১৪ পুরুষের চর্ব্য চোষ্য লেহ্য পেয়র সুবন্দোবস্ত করার নামই তো ক্ষমতায় আরোহন। গনতন্ত্র ইত্যাদি তো জনগণের চোখে ধুলো দেবার জন্য শ্রেফ কথার কথা !
৯৬ সালে ক্ষমতায় থাকার সময়েও তো একই কান্ড ঘটিয়েছিলেন। মনে নেই মোমবাতিকে লোকজন ব্যাঙ্গ করে হাসিনা বলে ডাকতো? এর পরেও আপনাদের লজ্জা হয় না? নাকি জন্মের সময় থেকেই ওই বস্তুটি চরিত্রে নেই?
বিদ্যুত পানি আর গ্যাস, এই তিনটি জিনিস প্রতিটি নাগরিকের পাবার অধিকার আছে। আর এই তিনটি দেবার ব্যার্থতা আড়াল করার জন্য গৃহপালিত বুদ্ধিজীবি, সাংবাদিক, সম্পাদক, পেটোয়া বাহিনী, আর আইন আদালত দিয়ে সেটি ঢাকার চেস্টা করে পার পাওয়া যাবে না। আর নিত্য নতুন নামকরন, নাম বদল, আর ইতিহাস বদল করেও এই দাবি থেকে মানুষের দৃস্টি অন্যদিকে ফেরানো যাবে না।
ভাই/আপা, খান। বেশি করে খান। যেখান থেকে বিদ্যুত আমদানির ইচ্ছা, আমদানি করুন। যাকে খুশি খনিজ সম্পদ ইজারা দেবার, তা দিন। তাতেও যদি হাসপাতালের অসুস্থ রোগিগুলির গতি হয়। গ্রামের মেহনতি কৃষকের রোদে পুড়তে থাকা কস্টের ফসল্গুলি যদি তাতে বেঁচে যায়, বাঁচুক। পানির কস্টে কারবালার পুনরাবৃত্তি রোধ যদি হয়, তাহলেও সমর্থন দেবে মানুষ।
বাংলাদেশকে বাচানোর জন্য আপনাদের মরতেও বলতে পারি না, আবার আর দেশের মানুষকে তিলে তিলে মেরে ফেলার জন্য আপনারা বেঁচে থাকুন, সে আশির্বাদ দেয়াও সম্ভব হচ্ছে না।
সাধারণ মানুষের ভাগ্য নিয়ে খেলা করে নিজের ভাগ্য উন্নোয়নে লিপ্ত হয়, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ তাদের কোনদিন ক্ষমা করেনি কোনদিন, করবেও না। এত সম্পদ দিয়ে কি হবে, যদি তা ভোগই না করতে পারলেন?
বিদ্রঃ আর বিরোধী দলেরও বলিহারি যাই ! এইসব ব্যাপারে তাদের মুখে হাল্কা প্রতিবাদ ! কেনই বা না। ক্ষমতায় থাকতে ইনারাও তো ওই একই পথের পথিক ছিলেন। এক চোর আরেক চোরের বদনাম করে কি করে?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



