বিশ্বকাপের উন্মাদনায় দেশের সাথে সাথে ব্লগও সমান তালে ফুটবল জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে। অনেকদিন পর ঢুকে দেখি শুধু বিশ্বকাপের খবর। এদিকে আমাদের ক্রিকেটাররা যে আবার পুরানো রুপে ফিরে এসেছেন, সে খবরটা তেমন সাড়াও ফেলেনি। আর এই সুযোগে আওয়ামি সরকারের একের পর এক কুকর্মের কারনে এতদিন মুখ ঢেকে থাকারা, আবারও প্রকাশ্যে এসেছেন। এবং বলাই বাহুল্য যে বহু ব্যাবহারে জীর্ণ শীর্ণ ইস্যুগুলি নিয়ে বাকশালিদের কদর্য মুখ ঢাকার চেস্টা করে যাচ্ছেন।
যাই হোক। দিন বদলের কথা বলে চট্টগ্রামে বি এন পি সমর্থিত প্রার্থি মেয়র নির্বাচনে জয়ি হয়েছেন। এধরণের একটা কথার সাথে দ্বিমত প্রকাশ করছি। কেননা দিন বদল ফদলের কথায় চিড়া ভিজতো না। আসল খবর হলো, নির্বাচনে কারচুপির বিরুদ্ধে বি এন পির নেতা কর্মি সহ সাধারণ মানুষ মারমুখি অবস্থান গ্রহন করার ফলেই বাকশালি আর ওদের তল্পিবাহক ই সি কোন বেচাল করতে পারেনি। এই একই ধরণের অবস্থান নেয়া উচিত ছিল ২০০৭ সালের সংসদ নির্বাচনের সময়েই। তাহলেই জাতির উপর আওয়ামি লিগ নামে অশান্তি চেপে বসতে পারতো না।
একদিকে প্রভুভক্তের মত আওয়ামী লিগ একের পর এক ভারতের চাহিদা পুরণ করে চলেছে (আশা করি বিনা যুদ্ধে চট্টগ্রাম বন্দর তুলে দেয়া সম্ভব হবে না), অন্য দিকে আওয়ামী লিগের নস্টামি প্রকাশকারি মিডিয়া, সাংবাদিক এবং সম্পাদকদের বিরুদ্ধে চলছে নির্যাতন। আর এদুটো ঢাকা দেবার প্রচেস্টায় আওয়ামী লিগের তৃতীয় ফ্রন্ট বলে পরিচিত তথাকথিত বুদ্ধিজীবি গ্রুপ আবারো যুদ্ধাপরাধিদের ইস্যু নিয়ে সয়া সেমিনার করছে।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে যেখানে খোদ সাধারণ মানুষের মধ্যে কোন দ্বিমত নেই, সেখানে শ্রেফ রাজনৈতিক প্রতারনার কারণে এই ইস্যুকে ব্যাবহার করতে গিয়ে আওয়ামী লিগের অবস্থা হয়েছে সাপের ছুচো গেলার মত। আইন মন্ত্রি এক কথা বলে তো প্রতিমন্ত্রি আরেকটা। আবার তাদের পোষ্য চামচা বুদ্ধিজীবিরা বলে আরেক! প্রধানমন্ত্রি একটা বলে, তো তাদের দলের সাধারণ সম্পাদক বলেন আরেক কথা। আসলে কোন দালালের পক্ষ্যেই অন্য দালালের দালালির বিচার করার মত নৈতিক দৃঢ়তা থাকে না। আর একারণেই আওয়ামী লিগের পক্ষ্যে কারো বিচার করা সম্ভব না, সাজেও না।
আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদকের সাথে হিজবুত তাহিরির সংক্লিষ্টতা আবিস্কার করেছে সরকার। মোটা মাথার এই কাঁচা বুদ্ধিটি কি ভুড়িয়াল নাকি টেকোমাথা নাকি কামের বুয়ার মাথা থেকে বের হয়েছে, সেটা অবশ্য জানা যায়নি। এর আগেও কেচো খুড়তে সাপ বের হয়েছিল। যেমন জে এম বির সমন্ধে খোজ নিয়ে দেখা গেলো যে কুখ্যাত আওয়ামি সন্ত্রাসি মির্জা আযমের দুলাভাই হচ্ছেন শায়খ আব্দুর রহমান। এরকম গভীরে খোজ নিলে, বাংলাদেশের সব দুর্বৃত্তদের সাথেই আওয়ামী কানেকশন খুজে পাওয়া সম্ভব।
শিরোনামের যথার্থতা তুলে ধরা যাক।
১। ১১ জন নিরপরাধ বাসযাত্রিকে গান পাউডার দিয়ে পুড়িয়ে মারা, এবং পিলখানা হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার দায়ে নানক ও আযমকে মাইনাস করা হোক।
২। সারা দেশে মাৎসন্যায় সৃস্টির জন্য ছাত্রলিগ যুবলিগের বড় ছোট মাঝারি নেতা কর্মিদের মাইনাস করা হোক।
৩। সন্ত্রাস অরাজকতাকে প্রশ্রয় দিয়ে দেশবাসিকে নাকাল করার জন্য সাহারাকে মাইনাস করা হোক।
৪। ভারতের আগ্রাসনকে সমর্থন ও ওই আগ্রাসি কর্মকান্ডকে ঢেকে রাখার অপচেস্টার জন্য শাঃ কবির, কবির চৌধুরি, হাসান ইমাম ( সাথে সমমনা তথাকথিত সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব ও বুদ্ধিজীবি) মতিউর-মাহফুজ-ফরিদুর-মাহফুজুর রহমান (সাথে সমমনা লেখক সাংবাদিক সম্পাদক) গংদের মাইনাস করা হোক।
৫। বহিঃবিশ্বে বাংলাদেশকে ভারতের পদলেহি করে পরিচিত করার পাশাপাশি, স্বতন্ত্র পররাস্ট্রনীতি পরিহার করার জন্য দিপুমনি মাইনাস।
৬। অযথা চাপাবাজি আর গালাগালিতে ব্যাস্ত থেকে দ্রব্যমুল্যের পরিস্থিতি অসহনীয় করে ফেলার মতিয়া চৌধুরি মাইনাস।
৭। নিজের ভাইকে বেসরকারি বিদ্যুত কেন্দ্র পরিচালনার সুযোগ দিতে বিদ্যুত পরিস্থিতি অসহনীয় করার জন্য ফারুক খানকে মাইনাস।
৮। নিজ দলের বড় থেকে ছিচকে চোর ডাকার সন্ত্রাসি দলবাজ চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা, বিনা তদন্তে একের পর পর প্রত্যাহার করার জন্য ব্যাঃ শফিক আর ব্যাঃ কামরুলকে মাইনাস। অবশ্য মুক্তিযোদ্ধাকে রাজাকার বলে অপমান করার দায়ে ব্যাঃ কামরুলের চান্দিতে সুপারি রেখে খরম দিয়ে বাড়ি দেয়া অত্যাবশ্যক হয়ে গিয়েছে।
৯। টিপাইমুখ বাধ বিষয়ে, দালালের মত নির্লজ্য ভারতের পক্ষ্যে গলাবাজির জন্য আব্দুর রাজ্জাক আর রমেশকে মাইনাস।
১০। দেশের মানুষকে ইন্টারনেটে পুর্ণ সুবিধা বঞ্চিত রেখে বাপের দেশ ভারতে রফতানি এবং ভারতে ফাইবার অপটিক স্থাপনের জন্য রাজু আর সুনিল বোসকে মাইনাস।
তালিকা আরো দীর্ঘ করা যায়। আপাতত থাক। তবে যাবার আগে বলি, এদের সবার পালের গোদা এবং তার পুত্র কন্যা বোন ভাগ্নে ভাগ্নি, অন্যান্য আত্মীয়স্বজন, এদের সবচেয়ে আগে মাইনাস করলে, অশান্তি প্রায় ১২ আনা কমে যাবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



