somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যুদ্ধাপরাধিদের বিচার যেমন ইস্যু নয়, তেমনি আওয়ামী লিগের বর্তমান আচরনও নুতন কোন খেলা নয়।

০১ লা জুলাই, ২০১০ সকাল ১০:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রবাদ রয়েছে, নতুন বোতলে পুরানো মদ। আওয়ামী লিগ একটার পর একটা যে খেলা খেলছে, সেটাও অনেক পুরানো। বুলিও অভিন্ন। শুধু উপস্থাপনায় খানিকটা বদল করেছে মাত্র।

চাপাবাজ বাকশালি রাজনীতিবিদ আর (কু)বুদ্ধিজীবিদের দিয়ে হাজার খানেক হরতাল বিরোধী ফতোয়া দিয়ে, পুলিশ র‌্যাব আর ছাত্র লিগের সন্ত্রাসিদের লেলিয়ে দিয়েও যখন হরতাল বিফল করা যায়নি।চরম মানসিক অসুস্থতায় আক্রান্ত এই দলটি তাই সেটা দেখে শিক্ষা নেয়নি।

সাম্প্রতিক খবর হলো, নিজামি মুজাহিদ আর সাইদিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা যাদের কাজ, তারা ঠিক কোন আইনে এই ত্রয়িকে ১৬ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন, সেটা তারাই ভালো বলতে পারবেন।

এই মহা সুখবরে ছাত্রলিগ নাকি মিস্টি বিতরণ করেছেন। ভাবখানা এমন যেন বিশ্বজয় করা হয়ে গেছে। অথচ যে যুদ্ধাপরাধের জন্য এদের প্রতি বার বার অঙ্গুলি নির্দেশিত হয়েছে, সেই অপরাধের জন্য তাদের গ্রেফতার করা হয়নি। তাহলে ছাত্রলিগের এই উল্লাসের কারণ কি ?

খুব সহজ। কেননা, এই তিনজনের গ্রেফতার এবং বিচারের আড়ালে ছাত্রলিগের কুকর্মগুলি অন্তত সাধারণ মানুষের চোখের আড়ালে চলে যাবে। অন্তত আওয়ামী লিগ ক্ষমতায় থাকতে ওদের কেশাগ্র স্পর্শও তো কেউ করতে পারবে না। কিন্তু ভবি যে ভুলিবার নয়, সেটা ক্ষমতার পালা বদল হলেও কোন মতে লুঙ্গি সামলে প্রভুর দেশে পালিয়ে যাবার অভিজ্ঞতা থেকেও ওরা শিক্ষা নেয়নি।

যারা সত্যিকার অর্থে যুদ্ধাপরাধিদের বিচার চান, এবং এই ভরসাতেই নৌকা মার্কায় ভোট দিয়েছিলেন, তারা আওয়ামী লিগের বাটপারির ইতিহাস সমন্ধে হয় অজ্ঞাত ছিলেন। নতুবা ভুলে গিয়েছিলেন। এজন্যই আজ তাদের হতাশ হতে হবে।

যে সব বুড়া খাটাশরা চাপা বেঁচে সংসার চালায়, তারাও এই ইতিহাস সমন্ধে খুবই অজ্ঞ। কিন্ত ওই যে ! টু পাইস কামানোর ধান্ধায় অন্ধ দলীয় স্তাবকের ভুমিকায় খুব দুর্দান্ত ভুমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।

আসলে নিযামি মুজাহিদ আর সাইদিকে গ্রেফতার কারন বি এন পির কাছে থেকে জামাতকে আলাদা করে ফেলা। যাতে কিছুটা হলেও বিন এন পির সাংগঠনিক শক্তিকে দুর্বল করে ফেলা যায়।

আমার মতে বি এন পি একক ভাবেই যথেষ্ট ছিল। খামাখা জামাতকে সঙ্গে নিয়ে আঃ লিগকে ক্যাচাল তৈরি করে দেবার খোরাক না জোগালেও চলতো।

কথা হচ্ছিল নতুন বোতলে পুরানো মদ নিয়ে। ৯১ সালে পাব্লিক যখন আওয়ামী লিগের মুখে ঝাটার বাড়ি দিয়ে বি এন পিকে নির্বাচিত করেছিল, তখন এই জামাতকে বশে আনবার জন্যই শহীদ জননীকে দিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই নামের আন্দোলন করেছিল আওয়ামি লিগ। ফলে পাছার চামড়া বাচাতে, জামাত সুর সুর করে বি এন পি বিরোধি আন্দোলনে যোগ দিয়েছিল। তাতে আঃ লিগের ক্যাডার ভাড়ার পয়সা বেশ কমই লেগেছিল।

১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আরোহনের পর আঃ লিগ আর ঘাদানিকের অবস্থা এমন হয়েছিল, যেন ভাজা মাছটি উল্টে খেতে জানে না। এক সভায় নাটক সিনেমা করে যে হাসান ইমাম বেশ বড় বড় চাপা মারছিল। (সে ছিল ঘাদানিকের প্রধান পান্ডা। পরে শহীদ জায়া বেগম মুশ্তারি সফিকে সেই পদ দেয়া হয়েছিল। অথচ তাকে ল্যাং মেরে কোথাকার কে তথাকথিত সাংবাদিক শাঃ কবির সেই স্থান দখল করেছিল।) তাকে সাংবাদিক হিসেবে প্রশ্ন করেছিলাম, আঃ লিগ ক্ষমতায় আসার পরেই কেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রশ্নে ঘাদানিকের কার্যক্রম ঠান্ডা মেরে গিয়েছে?

ব্যাটা আমার দিকে এমন ভাবে তাকিয়েছিল, যেন আমাকে ভস্ম করে ফেলবে। ভর মজলিসে গালিও দিতে পারছে না। তার অবস্থা হয়েছিল দেখার মত। তোতলাতে তোতলাতে শুধু বলেছিল, না না ঠান্ডা হয়নি। আমরা এই সরকারের সময়েই হেন করবো তেন করবো ইত্যাদি।

৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত এই ইস্যুতে আঃ লিগ কি করেছিল, সেটা নতুন করে বলার দরকার আছে কি? তবে ক্ষমতার পালা বদলের পর জনগনকে প্রতারিত করার জন্য (সাথে ইন্ডিয়ার পক্ষ্যে নির্লজ্য দালালি) সেগুন বাগিচায় পাবলিক অর্ধ দিগম্বর করে এই হাসান ইমামকে ভালো ডলা দিয়েছিল। ফলে ব্যাটা ওই ৫ বছর কখন দিল্লি কখনও নিউইয়র্কে নিপাট ভালো মানুষ সেজে মুখ চুপ করে ছিল।

২০০৬ সাল থেকেই আবার যখন হঠাৎ করেই সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের ব্যানারে আঃ লিগ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ইস্যুটা নিয়ে হৈ চৈ করছিল, তখনই বলেছিলাম যে, এটা আওয়ামী বাটপারির আরেকটা নতুন কৌশল। নতুবা দেখুন। আঃ লিগ ক্ষমতায় আসার পর ভোজবাজির মত ঘাদানিক বা সেকফোর কার্যক্রম কেমন ঠান্ডা হয়ে গিয়েছে।

৯৬ এর প্রতারণার কৌশল পাল্টে এবার ক্ষমতায় এসে নিযামি মুজাহিদ এবং সাইদিকে জেলে ভরেছে আঃ লিগ। কেননা ৯৬ এর মত ধমক টমক দিয়ে জামাতকে বি এন পির বিরুদ্ধাচারণ করানো যায়নি। তবে জেলে নিয়ে প্যাদানি দিয়ে যদি জামাতকে আঃ লিগের কোলে বসানো যায়, তাহলেই দেখবেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের নাম আর আঃ লিগ মুখেও আনবে না। এমনিতেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কত নামে ডাকা হচ্ছে। শফিক বলে মানবতাবিরোধিদের বিচার। তার ডেপুটি টাকলা ছাগল বলে আরেক নাম। বুবু বলে আমার মেয়ের দাদাশশুর রাজাকার, কিন্তু যুদ্ধাপরাধী না। ওদিকে শেখ হেলালের সাথে বৈবাহিক সুত্রে হাসিনার বেয়াই হলো কুখ্যাত রাজাকার নুলা মুসা।

আসলে ওই যে বললাম, এই সব বিচারের কথা সবই ফাপা। নিজের পাছার কাপড় খুলে যাওয়ায় আঃ লিগের লজ্জা ঢাকার জন্যই একের পর এক ইস্যু তৈরি করছে আঃ লিগ। নতুবা এতদিন যে গোলাম আযমের নামে কুকুরের নামকরণ থেকে শুরু করে গালাগালি পর্যন্ত কোনটাই বাদ রাখেনি তারা, আজ তারই নাম কেন ওরা উচ্চারনও করছে না?
১৯টি মন্তব্য ১৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×