প্রবাদ রয়েছে, নতুন বোতলে পুরানো মদ। আওয়ামী লিগ একটার পর একটা যে খেলা খেলছে, সেটাও অনেক পুরানো। বুলিও অভিন্ন। শুধু উপস্থাপনায় খানিকটা বদল করেছে মাত্র।
চাপাবাজ বাকশালি রাজনীতিবিদ আর (কু)বুদ্ধিজীবিদের দিয়ে হাজার খানেক হরতাল বিরোধী ফতোয়া দিয়ে, পুলিশ র্যাব আর ছাত্র লিগের সন্ত্রাসিদের লেলিয়ে দিয়েও যখন হরতাল বিফল করা যায়নি।চরম মানসিক অসুস্থতায় আক্রান্ত এই দলটি তাই সেটা দেখে শিক্ষা নেয়নি।
সাম্প্রতিক খবর হলো, নিজামি মুজাহিদ আর সাইদিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা যাদের কাজ, তারা ঠিক কোন আইনে এই ত্রয়িকে ১৬ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন, সেটা তারাই ভালো বলতে পারবেন।
এই মহা সুখবরে ছাত্রলিগ নাকি মিস্টি বিতরণ করেছেন। ভাবখানা এমন যেন বিশ্বজয় করা হয়ে গেছে। অথচ যে যুদ্ধাপরাধের জন্য এদের প্রতি বার বার অঙ্গুলি নির্দেশিত হয়েছে, সেই অপরাধের জন্য তাদের গ্রেফতার করা হয়নি। তাহলে ছাত্রলিগের এই উল্লাসের কারণ কি ?
খুব সহজ। কেননা, এই তিনজনের গ্রেফতার এবং বিচারের আড়ালে ছাত্রলিগের কুকর্মগুলি অন্তত সাধারণ মানুষের চোখের আড়ালে চলে যাবে। অন্তত আওয়ামী লিগ ক্ষমতায় থাকতে ওদের কেশাগ্র স্পর্শও তো কেউ করতে পারবে না। কিন্তু ভবি যে ভুলিবার নয়, সেটা ক্ষমতার পালা বদল হলেও কোন মতে লুঙ্গি সামলে প্রভুর দেশে পালিয়ে যাবার অভিজ্ঞতা থেকেও ওরা শিক্ষা নেয়নি।
যারা সত্যিকার অর্থে যুদ্ধাপরাধিদের বিচার চান, এবং এই ভরসাতেই নৌকা মার্কায় ভোট দিয়েছিলেন, তারা আওয়ামী লিগের বাটপারির ইতিহাস সমন্ধে হয় অজ্ঞাত ছিলেন। নতুবা ভুলে গিয়েছিলেন। এজন্যই আজ তাদের হতাশ হতে হবে।
যে সব বুড়া খাটাশরা চাপা বেঁচে সংসার চালায়, তারাও এই ইতিহাস সমন্ধে খুবই অজ্ঞ। কিন্ত ওই যে ! টু পাইস কামানোর ধান্ধায় অন্ধ দলীয় স্তাবকের ভুমিকায় খুব দুর্দান্ত ভুমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।
আসলে নিযামি মুজাহিদ আর সাইদিকে গ্রেফতার কারন বি এন পির কাছে থেকে জামাতকে আলাদা করে ফেলা। যাতে কিছুটা হলেও বিন এন পির সাংগঠনিক শক্তিকে দুর্বল করে ফেলা যায়।
আমার মতে বি এন পি একক ভাবেই যথেষ্ট ছিল। খামাখা জামাতকে সঙ্গে নিয়ে আঃ লিগকে ক্যাচাল তৈরি করে দেবার খোরাক না জোগালেও চলতো।
কথা হচ্ছিল নতুন বোতলে পুরানো মদ নিয়ে। ৯১ সালে পাব্লিক যখন আওয়ামী লিগের মুখে ঝাটার বাড়ি দিয়ে বি এন পিকে নির্বাচিত করেছিল, তখন এই জামাতকে বশে আনবার জন্যই শহীদ জননীকে দিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই নামের আন্দোলন করেছিল আওয়ামি লিগ। ফলে পাছার চামড়া বাচাতে, জামাত সুর সুর করে বি এন পি বিরোধি আন্দোলনে যোগ দিয়েছিল। তাতে আঃ লিগের ক্যাডার ভাড়ার পয়সা বেশ কমই লেগেছিল।
১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আরোহনের পর আঃ লিগ আর ঘাদানিকের অবস্থা এমন হয়েছিল, যেন ভাজা মাছটি উল্টে খেতে জানে না। এক সভায় নাটক সিনেমা করে যে হাসান ইমাম বেশ বড় বড় চাপা মারছিল। (সে ছিল ঘাদানিকের প্রধান পান্ডা। পরে শহীদ জায়া বেগম মুশ্তারি সফিকে সেই পদ দেয়া হয়েছিল। অথচ তাকে ল্যাং মেরে কোথাকার কে তথাকথিত সাংবাদিক শাঃ কবির সেই স্থান দখল করেছিল।) তাকে সাংবাদিক হিসেবে প্রশ্ন করেছিলাম, আঃ লিগ ক্ষমতায় আসার পরেই কেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রশ্নে ঘাদানিকের কার্যক্রম ঠান্ডা মেরে গিয়েছে?
ব্যাটা আমার দিকে এমন ভাবে তাকিয়েছিল, যেন আমাকে ভস্ম করে ফেলবে। ভর মজলিসে গালিও দিতে পারছে না। তার অবস্থা হয়েছিল দেখার মত। তোতলাতে তোতলাতে শুধু বলেছিল, না না ঠান্ডা হয়নি। আমরা এই সরকারের সময়েই হেন করবো তেন করবো ইত্যাদি।
৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত এই ইস্যুতে আঃ লিগ কি করেছিল, সেটা নতুন করে বলার দরকার আছে কি? তবে ক্ষমতার পালা বদলের পর জনগনকে প্রতারিত করার জন্য (সাথে ইন্ডিয়ার পক্ষ্যে নির্লজ্য দালালি) সেগুন বাগিচায় পাবলিক অর্ধ দিগম্বর করে এই হাসান ইমামকে ভালো ডলা দিয়েছিল। ফলে ব্যাটা ওই ৫ বছর কখন দিল্লি কখনও নিউইয়র্কে নিপাট ভালো মানুষ সেজে মুখ চুপ করে ছিল।
২০০৬ সাল থেকেই আবার যখন হঠাৎ করেই সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের ব্যানারে আঃ লিগ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ইস্যুটা নিয়ে হৈ চৈ করছিল, তখনই বলেছিলাম যে, এটা আওয়ামী বাটপারির আরেকটা নতুন কৌশল। নতুবা দেখুন। আঃ লিগ ক্ষমতায় আসার পর ভোজবাজির মত ঘাদানিক বা সেকফোর কার্যক্রম কেমন ঠান্ডা হয়ে গিয়েছে।
৯৬ এর প্রতারণার কৌশল পাল্টে এবার ক্ষমতায় এসে নিযামি মুজাহিদ এবং সাইদিকে জেলে ভরেছে আঃ লিগ। কেননা ৯৬ এর মত ধমক টমক দিয়ে জামাতকে বি এন পির বিরুদ্ধাচারণ করানো যায়নি। তবে জেলে নিয়ে প্যাদানি দিয়ে যদি জামাতকে আঃ লিগের কোলে বসানো যায়, তাহলেই দেখবেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের নাম আর আঃ লিগ মুখেও আনবে না। এমনিতেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কত নামে ডাকা হচ্ছে। শফিক বলে মানবতাবিরোধিদের বিচার। তার ডেপুটি টাকলা ছাগল বলে আরেক নাম। বুবু বলে আমার মেয়ের দাদাশশুর রাজাকার, কিন্তু যুদ্ধাপরাধী না। ওদিকে শেখ হেলালের সাথে বৈবাহিক সুত্রে হাসিনার বেয়াই হলো কুখ্যাত রাজাকার নুলা মুসা।
আসলে ওই যে বললাম, এই সব বিচারের কথা সবই ফাপা। নিজের পাছার কাপড় খুলে যাওয়ায় আঃ লিগের লজ্জা ঢাকার জন্যই একের পর এক ইস্যু তৈরি করছে আঃ লিগ। নতুবা এতদিন যে গোলাম আযমের নামে কুকুরের নামকরণ থেকে শুরু করে গালাগালি পর্যন্ত কোনটাই বাদ রাখেনি তারা, আজ তারই নাম কেন ওরা উচ্চারনও করছে না?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


