somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বুলেট নাকি ব্যালটের ভয়েই সংবিধানে পরিবর্তন আনা হচ্ছে?

২৩ শে জুলাই, ২০১০ সকাল ১১:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




বাঙ্গালি জাতিয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র এবং ধর্ম নিরপেক্ষতা এই চারটি স্তম্ভকে মুল ধরেই রচিত হয়েছিল স্বাধীনতা পরবর্তি বাংলাদেশের সংবিধান। এই সংবিধান রচিত হয় ১৯৭২ সালের নভেম্বরে এবং ৭২ এর ডিসেম্বরে বঙ্গবন্ধুর সাক্ষরের মাধ্যমে এটা স্বীকৃতি লাভ করে।

আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় বাঙ্গালি জাতিয়তাবাদ সংবিধানে যুক্ত করাটা খুব যুক্তিসঙ্গত হলেও, পাহাড়ি সহ অন্যান্য নৃতাত্তিক জনগোষ্ঠি একে তাদের অস্তিত্বের প্রতি হুমকি বিবেচনা করাতে দুটি পথ খোলা ছিল। প্রথমটি এই জাতিয়বাদকে পরিহার করা। দ্বিতীয়টি হলো বাঙ্গালিত্বকে আত্মস্থ করার আহবান জানানো। বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় পথটি অনুসরণ করাতে পার্বত্য অঞ্চলে যে ক্ষোভের আগুন জ্বলেছিল, সেটা আজো মাঝে মাঝেই জ্বলে উঠছে। মাঝখানে স্বাধীনতার একমাত্র সোল এজেন্ট দাবিকারি আঃ লিগ বাঙ্গালিদের নিজভুমে পরবাসি করে চুক্তি করাতে হবু স্বাধীন জুম্মল্যান্ড গঠনের আশায় চাকমা সন্ত্রাসিদের একটি অংশ আপাতত চুপ চাপ রয়েছে।




গণতন্ত্র এবং সমাজতন্ত্র এক সাথে কি করে একটি দেশের সংবিধানে যুক্ত হতে পারে, অথবা দুই নৌকায় পা দেবার মতই মুরগি আর গরুর মাংস এক সাথে রান্না করার মত 'সুবিবেচনাবোধ'টি কার মাথায় এসেছিল সেটা জানতে ইচ্ছে করে। তবে সংবিধান রচয়িতা হিসেবে ডঃ কামাল হোসেনের নামই চলে আসে। বোধ করি সে সময় বঙ্গবন্ধুর আস্থাভাজনদের মধ্যে ঘটে বুদ্ধিধর একজনই ছিল। সেটা কামাল হোসেন। যিনি বাংলাদেশ বংশদ্ভুত তো ননই, এমনকি নিজ বিয়েটাও পাকিস্থানে করেছেন। এবং কন্যাকে বিদেশি এক শ্বেতাঙ্গের সাথে বিয়ে দিয়েছেন। বাংলাদেশের মাটি ও মানুষের প্রতি যার এমনই শ্রদ্ধাবোধ! তো সেই মানুষটা কোন ভালোবাসায় বাংলাদেশের জন্য ভালো কিছু করতে উৎসাহি হবেন, এই প্রশ্নটি করা যায়।

আপনারা অনেকেই হয়তো জানেন না যে, বাংলাদেশের সংবিধান এবং শাসনতন্ত্র সেই বৃটিশদের করাই। খালি কিছু ধারা এই দিক সেই দিক করা হয়েছে। আর বৃটিশদের এই অস্র দিয়েই পুর্ব বাংলার মানুষদের উপর অনেক ঝড় ঝাপ্টা গিয়েছে।




শোষনের হাতিয়ার না বদলানোর ফলে যেই ক্ষমতায় যাচ্ছে, সেইই শোষকে পরিনত হচ্ছে। অতিরঞ্জিত কি না জানি না, তবে মুরুব্বি একজন বলেছিলেন যে, বৃটিশদের করা আইন কানুন পরিবর্তনের যোগ্যতা নাকি বাংলাদেশ তো কোন ছাড় ভারত বা পাকিস্থানেরো কারো নেই।



জীবিকা এবং সামাজিক প্রয়োজনেই এককালের পুর্ব বাংলার মানুষ বরাবরই ধর্মনিরপেক্ষতা অনুসরন করেছে। পুর্ব বঙ্গের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষরা কৃষি, মৎস আহরন, কাপড় বোনা এসব পেশায় নিয়োজিত ছিল বলেই, একে অন্যের উপর কোন না কোনভাবে নির্ভরশীল ছিল। তাছাড়া বৃটিশদের চিরস্থায়ি বন্দোবস্তের মত সামন্ততান্ত্রিক যাতাকলে সমানভাবে পিস্ট হবার কারনে হিন্দু মুসলমানরা একে অপরের প্রতি সহানুভুতিশীল ছিল।

এখানে ধর্মনিরপেক্ষতা বলতে ভিন্ন ধর্মের মানুষদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ এবং ভিন্ন ধর্মচর্চার পুর্ণ স্বাধীনতার কথা বোঝাচ্ছি। যদিও আজকাল পশ্চিম দিকে আছাড় খেলেও প্রায়শ্চিত্তের পন্থা আবিস্কারে মত্ত গুটি কয়েক "শিক্ষিত" মানুষদের কাছে ধর্ম নিরপেক্ষতার সংজ্ঞাটি ধর্মকে নির্বাসনে পাঠানো।

ভারতের হাজার রকম জাতি ধর্মের মানুষের বাস। সেই বিচারে তাদের সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতার সংযোজন যথাযথ। আবহমান ধর্মনিরপেক্ষতার সংস্কৃতি লালন পালনকারি বাংলাদেশের মানুষদের ধর্মনিরপেক্ষতা শেখানোর এই আয়োজন কিন্তু অপমানেরই নামান্তর।

স্বাধীনতা যুদ্ধে সাহায্য করেছিল, এই কৃতজ্ঞতায় মাথা বেচে দেবার মত এই ক্ষেত্রে ভারতকে অন্ধ অনুসরণ প্রমান করে যে, স্বাধীনসত্ত্বা নয়, আঃ লিগ আত্মমর্যাদা বিকিয়ে ভারতের করুণায় বেচে থাকাটাই ব্রত হিসেবে নিয়েছে। তিন বার ক্ষমতায় আসীন আঃ লিগের কর্মকান্ডের এই উক্তির প্রমান হিসাবে উপস্থাপন করা যায়।

ক্ষমতায় গেলেই যে আঃ লিগ তার ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে এবং সব লেজে গোবরে করে ফেলে এটা নতুন কিছু নয়। প্রতিবার তাই ঘটছে। এরই ধারাবাহিকতায় শেখ হাসিনা এবার দেশকে পেছনে টেনে নেবার জন্য ৭২ এর সংবিধান আবারও চালুর ঘোষনা দিয়েছেন।

৭২ এর সংবিধান যথাযথ ছিল না বলেই, তো সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনি আনার প্রয়োজন হয়েছিল। হাসিনার কি সেই সাহস হবে যে এই কারনে তিনি তার পিতার সমালোচনা করেন? তাছাড়া বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব বিরোধী অবস্থান নিয়েও যাদেরকে তিনি শান্ত রেখেছিলেন, বাঙ্গালি জাতিয়তাবাদের পুনরাস্থাপন তারা আবারো অশান্ত হবে না এই নিশ্চয়তা কে দেবে?

আর যাদের প্রত্যক্ষ আশির্বাদে তেলসামাতি নির্বাচনে হাসিনা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে শাসনে বসেছেন, এই সমাজতন্ত্রের কারণেই তো তারা স্বাধীনোত্তর বাংলাদেশের কাছে থেকে মুখ ফিরিয়ে রেখেছিল। তাদের বিরাগে হাসিনার বংশ লোপ পেয়েছিল। এখন তারা এখন যদি হাসিনার প্রতি বিরাগভাজন হয়, তাহলে সেই ঠ্যালা সামাল দেবার শক্তি হাসিনার আছে?

মোতা চালের কেজি বেড়ে হয়েছে ৩০ টাকা। নির্বাচনী ইস্তেহারে ১০ টাকা দরের চাল খাওয়ানোর প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের জ্বালা এখন দেশবাসির সর্বাঙ্গে। এর সাথে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি মগের মুল্লুকের মত হওয়ায়, সাথে মন্ত্রি মিনিস্টারদের চাপাবাজির কারনে মানুষ কিন্তু ভেতরে ভেতরে ফুসছে। এই ক্রোধের বিস্ফোরণ ঘটলে কি বিয়োগান্ত ঘটনার সৃস্টি হতে পারে, সেটা হাসিনার চেয়ে ভালো আর কারো জানার কথা না।

বোধ করি এই ভয় থেকে মুক্তি পাবার জন্যই খড়কুটো আকড়ে ধরার চেস্টায় আবারো সেই ৭২ এর সংবিধান পুনরস্থাপনের এত তোড়জোর। ৪র্থ সংশোধনি দিয়েও যখন শেষ রক্ষা হয়নি, তখন এই সংবিধান কি করে হাসিনাকে রক্ষা করতে পারে জানি না। তবে দেশের স্বার্থকে সবার উপরে প্রাধান্য দিয়ে, আগের কাজ আগে আর পরের কাজ পরে করলে, আর পোষা কুকুরগুলিকে ডান্ডা মেরে ঠান্ডা করলে সেটাই হাসিনার জন্যএকমাত্র রক্ষা কবচ জ্ঞান হতে পারে।

১৫টি মন্তব্য ১৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×