

প্রভার সেই আলোচিত ভিডিও চিত্র নিয়ে ব্লগে যে রকম ঢি ঢি পড়ে গিয়েছিল, তাতে নানা মুনির নানা মত। আমি প্রভাকে দোষ দেই না। সে আমাদের দেশের সামাজিক অবক্ষয়ের একটি মুর্ত প্রতিক বৈত। খুজলে এ রকম হাজারো প্রভার ভিডিও চিত্র পাওয়া সম্ভব। ছাত্রলীগ তো নিজেদের নায়ক বানিয়ে রীতিমত এ ধরণের ভিডিও এর ব্যাবসাই শুরু করে দিয়েছে।
সবচেয়ে ক্ষতির ব্যাপার হলো, নতুন প্রজন্মের অনেকেই এ ব্যাপারে ডোন্ট মাইন্ড নীতিতে বিশ্বাস করা শুরু করে দিয়েছে। ব্লগে একজন বলেই বসলো, এ ধরনের কর্ম এবং ভিডিও ধারণ খুবই স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। তাকে যখন জিজ্ঞেস করা হলো, তিনিও এ ধরণের ভিডিওতে নায়কের ভুমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন কিনা, তখন তার জবাব একটাই। ৩৫ বছর বয়সের একজনের পক্ষ্যে নাকি "নতুন প্রজন্মের" আধুনিক মানসিকতা বোঝা সম্ভব নয়। অর্থাৎ যিনিই এই ধরণের "কর্মের" বিরোধি তিনি কোন অবস্থাতেই নতুন প্রজন্মের হতে পারেন না।

বিশ্বায়নের সুফল হয়তো অনেক কিছু। কিন্তু একটা দেশের সংস্কৃতি ধবংসের অর্থ হলো সে জাতিকেই নিঃশেষ করে দেয়া। আমাদের ভাষায় ভেজাল ঢুকে এখন বান্দিশ ভাষার চল হয়েছে। ইন্টারনেট আর ডিশের কল্যাণে স্বল্প পোষাক, পাছার নীচে প্যান্ট পরিধান, অবাধ পরকিয়া, প্রেমের সংজ্ঞায় শারিরিক প্রধান্য ইত্যাদি , এমনভাবে আমাদের সমাজে জাকিয়ে বসিয়েছে, যাকে বিধবংসি ক্যান্সারের সাথেই একমাত্র তুলনা করা যায়। এর বিপরীতে অবস্থানকারিরে মধ্যযুগীয় প্রগতিবিরোধী মানুষ বলে কোনঠাসা করার একটা কুপ্রচেস্টা লক্ষনীয়।
স্বাভাবিক প্রেমের ৮০ ভাগ দেহজ্ আকর্ষন, বাকি ২০ভাগ মনের। জীবনের এটাই স্বাভাবিক গতি। তবে সবার চরিত্র তো আর একই রকম নয়। দ্বায়িত্ববোধ না থাকলে, সেই ৮০ ভাগই হয়ে যায় শতভাগ। সুযোগ বুঝে মজা লুটে নিত্য নতুন ফুলের খোজ করে দুঃচরিত্র ভ্রোমরা। পুরুষতান্ত্রিক বিশ্ব সমাজ ব্যাবস্থায় তাই নারীকেই কলংকিনি নামের অপবাদ বয়ে বেড়াতে হয়। কখনও কুকুর শেয়ালের খাদ্য হতে অবৈধ প্রেমের ফসলকে ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলে আপদ মুক্ত হলেও, সে চিহ্ন শরীর আর মনে বয়ে বেড়াতে হয় অনেকদিন। তাছাড়া বহু ভোগের মজা পাওয়া নারী কিংবা পুরুষ তখন এককেন্দ্রিক সঙ্গি/সঙ্গিনীর প্রতি অল্পদিনের আকর্ষন হারিয়ে ফেলে। এর ফলশ্রুতিতে পরকিয়া আর বিবাহ বিচ্ছেদের মত সামাজিক ব্যাধিগুলি প্রকোপ বেড়ে যাচ্ছে সন্দেহ কি?
তর্কের খাতিরে না হয় শোয়াশুয়ির ব্যাপারটা মেনে নেয়া গেলো। কিন্তু এটা নিয়ে ভিডিও করার কি মানে? পশ্চিমা দেশগুলিতে নগ্ন দেহ এবং কামকলা প্রদর্শন করে ভিডিও করা একটা পেশা। যারা করেন তাদের একমাত্র উদ্দেশ্যে শর্টকার্টে অনেক অর্থ কামানো। আমাদের মধ্যে এসব কেন? যারা একে অপরের সাথে শুচ্ছেন, তারা তো একে অপরের দেহের বাকগুলি ভালো করে দেখছেন। আমাদের দেশ কেন, যেখানে পর্ণ একটা ইন্ডাস্ট্রি, সেখানের পেশাজীবিরাও তো এ সব আপন জনের কাছ থেকে দূরে রাখছেন। তাহলে আমাদের দেশের ওরা কি উদ্দেশ্যে এসব ভিডিও করছেন।
উত্তর একটাই। বিবেকবুদ্ধি সমাজ এবং মুল্যবোধকে বিসর্জন দিয়ে পশ্চিমাদের অন্ধ অনুকরণ। এবং এক ধরনের ভ্রান্ত বিশ্বাস যে, তারা যা করে সেটাই ভালো এবং ফ্যাশন।
আমাদের দেশের সংস্কৃতি, যেভাবে চলছে তাতে মনে আমাদের চিরচারিত ঐতিহ্য এবং স্বাধীন সত্ত্বা হারাতে বসেছি আমরা। যেভাবে উগ্রতা চলছে, সেই উগ্রতা মোকাবেলায় যদি আরেক উগ্রপন্থার সৃস্টি হয়, তাহলে খুব অবাক হবার মত কিছু হবে বলে মনে হচ্ছে না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


