somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এই প্রেমলীলার চলচিত্র কাকে দেখাবার জন্য? (ইষৎ পরিবর্তিত)

২৯ শে আগস্ট, ২০১০ ভোর ৬:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :





প্রভার সেই আলোচিত ভিডিও চিত্র নিয়ে ব্লগে যে রকম ঢি ঢি পড়ে গিয়েছিল, তাতে নানা মুনির নানা মত। আমি প্রভাকে দোষ দেই না। সে আমাদের দেশের সামাজিক অবক্ষয়ের একটি মুর্ত প্রতিক বৈত। খুজলে এ রকম হাজারো প্রভার ভিডিও চিত্র পাওয়া সম্ভব। ছাত্রলীগ তো নিজেদের নায়ক বানিয়ে রীতিমত এ ধরণের ভিডিও এর ব্যাবসাই শুরু করে দিয়েছে।

সবচেয়ে ক্ষতির ব্যাপার হলো, নতুন প্রজন্মের অনেকেই এ ব্যাপারে ডোন্ট মাইন্ড নীতিতে বিশ্বাস করা শুরু করে দিয়েছে। ব্লগে একজন বলেই বসলো, এ ধরনের কর্ম এবং ভিডিও ধারণ খুবই স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। তাকে যখন জিজ্ঞেস করা হলো, তিনিও এ ধরণের ভিডিওতে নায়কের ভুমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন কিনা, তখন তার জবাব একটাই। ৩৫ বছর বয়সের একজনের পক্ষ্যে নাকি "নতুন প্রজন্মের" আধুনিক মানসিকতা বোঝা সম্ভব নয়। অর্থাৎ যিনিই এই ধরণের "কর্মের" বিরোধি তিনি কোন অবস্থাতেই নতুন প্রজন্মের হতে পারেন না।




বিশ্বায়নের সুফল হয়তো অনেক কিছু। কিন্তু একটা দেশের সংস্কৃতি ধবংসের অর্থ হলো সে জাতিকেই নিঃশেষ করে দেয়া। আমাদের ভাষায় ভেজাল ঢুকে এখন বান্দিশ ভাষার চল হয়েছে। ইন্টারনেট আর ডিশের কল্যাণে স্বল্প পোষাক, পাছার নীচে প্যান্ট পরিধান, অবাধ পরকিয়া, প্রেমের সংজ্ঞায় শারিরিক প্রধান্য ইত্যাদি , এমনভাবে আমাদের সমাজে জাকিয়ে বসিয়েছে, যাকে বিধবংসি ক্যান্সারের সাথেই একমাত্র তুলনা করা যায়। এর বিপরীতে অবস্থানকারিরে মধ্যযুগীয় প্রগতিবিরোধী মানুষ বলে কোনঠাসা করার একটা কুপ্রচেস্টা লক্ষনীয়।

স্বাভাবিক প্রেমের ৮০ ভাগ দেহজ্‌ আকর্ষন, বাকি ২০ভাগ মনের। জীবনের এটাই স্বাভাবিক গতি। তবে সবার চরিত্র তো আর একই রকম নয়। দ্বায়িত্ববোধ না থাকলে, সেই ৮০ ভাগই হয়ে যায় শতভাগ। সুযোগ বুঝে মজা লুটে নিত্য নতুন ফুলের খোজ করে দুঃচরিত্র ভ্রোমরা। পুরুষতান্ত্রিক বিশ্ব সমাজ ব্যাবস্থায় তাই নারীকেই কলংকিনি নামের অপবাদ বয়ে বেড়াতে হয়। কখনও কুকুর শেয়ালের খাদ্য হতে অবৈধ প্রেমের ফসলকে ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলে আপদ মুক্ত হলেও, সে চিহ্ন শরীর আর মনে বয়ে বেড়াতে হয় অনেকদিন। তাছাড়া বহু ভোগের মজা পাওয়া নারী কিংবা পুরুষ তখন এককেন্দ্রিক সঙ্গি/সঙ্গিনীর প্রতি অল্পদিনের আকর্ষন হারিয়ে ফেলে। এর ফলশ্রুতিতে পরকিয়া আর বিবাহ বিচ্ছেদের মত সামাজিক ব্যাধিগুলি প্রকোপ বেড়ে যাচ্ছে সন্দেহ কি?

তর্কের খাতিরে না হয় শোয়াশুয়ির ব্যাপারটা মেনে নেয়া গেলো। কিন্তু এটা নিয়ে ভিডিও করার কি মানে? পশ্চিমা দেশগুলিতে নগ্ন দেহ এবং কামকলা প্রদর্শন করে ভিডিও করা একটা পেশা। যারা করেন তাদের একমাত্র উদ্দেশ্যে শর্টকার্টে অনেক অর্থ কামানো। আমাদের মধ্যে এসব কেন? যারা একে অপরের সাথে শুচ্ছেন, তারা তো একে অপরের দেহের বাকগুলি ভালো করে দেখছেন। আমাদের দেশ কেন, যেখানে পর্ণ একটা ইন্ডাস্ট্রি, সেখানের পেশাজীবিরাও তো এ সব আপন জনের কাছ থেকে দূরে রাখছেন। তাহলে আমাদের দেশের ওরা কি উদ্দেশ্যে এসব ভিডিও করছেন।

উত্তর একটাই। বিবেকবুদ্ধি সমাজ এবং মুল্যবোধকে বিসর্জন দিয়ে পশ্চিমাদের অন্ধ অনুকরণ। এবং এক ধরনের ভ্রান্ত বিশ্বাস যে, তারা যা করে সেটাই ভালো এবং ফ্যাশন।

আমাদের দেশের সংস্কৃতি, যেভাবে চলছে তাতে মনে আমাদের চিরচারিত ঐতিহ্য এবং স্বাধীন সত্ত্বা হারাতে বসেছি আমরা। যেভাবে উগ্রতা চলছে, সেই উগ্রতা মোকাবেলায় যদি আরেক উগ্রপন্থার সৃস্টি হয়, তাহলে খুব অবাক হবার মত কিছু হবে বলে মনে হচ্ছে না।
৩৮টি মন্তব্য ৩৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×