ঈদ আসতে বেশ ১০-১২দিন বাকি। কোরবানির ঈদ আসতে তো আরো প্রায় তিন মাস। এর মধ্যে কোরবানির প্রসঙ্গ আনাটা অনেকের ভ্রুকুটির উদ্রেক করলেও, প্রসঙ্গিক বলেই ওই রকম শিরোনাম দিতে হলো।
তখন শেখ মুজিবের শাসনামল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রাবাসের ছেলেরা মিলে ঠিক করলো, কোরবানি দেবে। সবাই চাঁদা দিয়ে গরুও কেনা হলো। নেতৃত্বে থাকলেন ছাত্রাবাসের ছাত্রলিগের নেতা। সাধারণ ছাত্রদের বলা হলো, কোরবানির পর যার যার মাংস নিয়ে যাবার জন্য। সকাল গড়িয়ে দুপুর হলো। মাংসের জন্য সাধারণ ছাত্ররা অপেক্ষমান। অনেকের তড় সইছে না। দুপুর গড়িয়ে বিকেল। কখন মাংস আসবে রান্না হবে, খুন্নিবৃত্তি হবে। ক্ষুধায় ক্লান্ত ছাত্রদের ধৈর্য্যের বাধ ভাংছিলো। মাঝে মাঝে দু এক জন গিয়ে দেখেও আসছিলো। সবাইকে ধৈর্য্য ধরতে বলা হলো নেতার পক্ষ্য থেকে। বিকেল পেড়িয়ে যখন সন্ধ্যা নামলো, তখনো যখন মাংসের দেখা নেই, তখন দল বেধে ছেলেরা গিয়ে দেখলো হাড় গোড় পড়ে আছে। মাংস নিয়ে নেতা তার চ্যালা চামুন্ডা সহ উধাও।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লিগের শাসনামলে দৌদন্ড প্রতাপে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাসন করা ছাত্রলীগের নেতার বিরুদ্ধে টু শব্দটি করার মত দুঃসাহস কারো ছিল না। তাই সবাই ব্যাপারটা চেপে গিয়েছিল। তবে আড়ালে আবডালে সেই নেতার খেতাব হয়ে গিয়েছিল গোস্ত চোর হিসেবে।
সেই ছাত্র নেতা এখন আওয়ামী লিগের প্রভাবশালী প্রেসিডিয়াম সদস্য। আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গনে যা হয়। শীর্ষে যেতে পারলেই হলো। পেছনের সব কালো অধ্যায় চাপা পড়ে যায়। আমাদের রাজনীতিবিদদের সবারই কিছু কিছু পরিচয় এমনই যে, যা উল্লেখ করা হলে, আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং শিক্ষা নিয়ে প্রশ্ন এসেই যায়। যিনি কোরবানির মাংস চুরি করতে পারেন, তিনি বড় সুযোগ পেলে আরো অনেক কিছুই হজম করতে পারেন, এই সহজ সত্যটা বিস্মিত হয়ে তার পেছনে লাইন দেবার লোকের অভাব তো দেখি না।
সেই নেতা এক সভায় উক্তি করেছেন যে, ভারতভীতির জুজু ত্যাগ না করলে প্রধান বিরোধী দলের অবস্থা নাকি মুসলিম লীগের মত হবে। যেহেতু তিনি ছাত্র নেতা ছিলেন, ধরে নিচ্ছি কিছুটা হলেও পড়াশোনা করেছেন তিনি। ইতিহাস নিয়ে এমন বিভ্রান্তি ছড়ানোর অর্থ, হয় তিনি ইতিহাস জানেন না, অথবা ভারতের প্রেমে আকন্ঠ নিমজ্জিত হয়ে তিনি প্রলাপ বকছেন। এধরনের প্রলাপ আমরা বাংলাদেশের ইতিহাসে জঘন্যতম পররাস্ট্রমন্ত্রি দিপুমনির মুখে শুনেছি ( "বাংলাদেশ ও ভারতের সংস্কৃতি এক ও অভিন্ন)।)
ইন্ডিয়ানরা বিরোধিতার খাতিরে যত অপপ্রচারই ছড়াক না কেন, এটা ইতিহাস সিদ্ধ যে আমাদের দেশের মানুষ ভারতভাগের পক্ষ্যেই ভোট দিয়েছিল। সেটা মুসলিম লিগের সমর্থন করেই। মাঝখানে শরৎ বসু এবং সোহারর্দির অখন্ড বাংলা গঠনের মরিয়া প্রচেস্টা ব্যার্থ হবার কারনেই। সেই অখন্ড বাংলার বিরোধিতা করেছিল তৎকালিন হিন্দু মহাসভা আর ভারতীয় কংগ্রেস। তাই অনোন্যপায় হয়েই পুর্ব বঙ্গের মানুষ মুসলিম লিগকে সমর্থন করতে বাধ্য হয়েছিল। আসামের করিমগঞ্জের মানুষ তৎকালিন পাকিস্থানে যোগ দিতে চাইলেও, কংগ্রেস সেই সিদ্ধান্তকে শ্রদ্ধা করেনি। হিসাব অনুযায়ি করিমগঞ্জ এখন স্বাধীন বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত হওয়া উচিত। তখনকার দিনের পুর্ব বঙ্গিয় নেতারা সবাই মুসলিম লিগের সদস্যই ছিলেন। এমন কি যে সোহারার্দির হাতে রাজনীতির শিক্ষার প্রথম পাঠ নিয়েছিলেন শেখ মুজিব, তিনিও মুসলিম লিগ নেতাই ছিলেন।
অখন্ড ভারত শাসনে ব্যার্থ হয়েই মুসলিম লিগের বিরুদ্ধে খুব কঠিনভাবেই ভারতীয় কংগ্রেস অপপ্রচার করেছিল। ১৯৪৭ সালে সেই চেতনার পরাজয় হওয়াতে তারা বেশ ক্ষুব্ধ। তবে তাদের অখন্ড ভারতের স্বপ্ন বাস্তবায়নের সংকল্প থেকে তারা এক ফোটাও সরেনি। তা ভারতের শাসন ক্ষমতায় যেইই থাকুক না কেন।
যেদিন থেকে এক তরফাভাবে মুসলিম লিগ পশ্চিম পাকিস্থানিদের স্বার্থ রক্ষার একক প্লাটফর্ম হিসেবে কাজ শুরু করলো, সেদিন থেকেই পুর্ব বাংলার মানূষরা ফুসে উঠলো। আমাদের মুখে ভাষা নিয়ে মুসলিম লিগ আর এদেশি চামচাদের একের পর এক অপতৎপরতার বিরুদ্ধে ৫২ এ রাজপথ লাল হলো। এর পর একের পর এক ঘাত প্রতিঘাত আন্দোলন সংগ্রাম পার হয়ে চুড়ান্ত বিজয়ে এই বাংলাদেশেরই মানুষ এক দিকে পাকিস্থানিদের যেমন চিরতরে বিদায় করলো, তেমনি লাথি দিয়ে মুসলিম লীগকেও চির বিদায় জানালো।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামকে ভারত যতই নিজেদের বিজয় বলে অপপ্রচার করুক না কেন, ভেতরে ভেতরে বাঙ্গালিদের স্বাধীনতার স্পৃহা দেখে ঠিকই ভড়কে যেতে বাধ্য হয়েছিল। কেননা স্বাধীন সত্ত্বা হিসেবে বাংলাদেশের বেচে থাকার অর্থ হলো অখন্ড ভারতের স্বপ্নের পথের কাটা হওয়া। তাই স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালিন সময় থেকেই তারা বিভিন্ন অঙ্গনে তাদের তল্পিবাহকদের তৈরি করে রেখেছিল। যাতে স্বাধীন বাংলাদেশ তার স্বাধীন অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে না পারে। অনেকটা সিকিমের লেন্দুপ দর্জির মতই। সেই বিষ বীজ আজ মহিরুহে পরিণত হয়েছে। তাই আওয়ামী লিগ ক্ষমতায় আসলেই আমরা ভারতের স্বার্থে একনিস্টভাবে কাজ করতে দেখি। সেই সাথে নির্লজ্জ আত্মসম্মানবোধহীনদের মত ভারতের পক্ষ্যে কথা বলতে শুনি।
মিডিয়ায় শক্ত করে গেড়ে বসা ভারতের চামচারা আজ নতুন নতুন শব্দ তৈরি করছে। তার মধ্যে একটা হলো ভারত ভীতি নাকি জুজুর মত অলিক।আর ভারত বিরোধীদের রাজাকার নামের চর্বিত চর্বনের অপপ্রয়োগ করা তো আছেই। সত্যি কি তাই? তাদের জিজ্ঞেস করি, অন্তত একটা উদাহারণ দিন যেখানে ভারত বাংলাদেশের সাথে বন্ধু সুলভ আচরন করেছে। তাহলেই আসল সত্যটা বের হয়ে আসবে।
আমাদের দুর্ভাগ্য যে, আমাদের অসচেতনার সুযোগে ভারতের প্রতি বিশস্ত (বাংলাদেশের প্রতি নয়) আমাদের বুদ্ধিজীবি সমাজ এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে শক্ত খুটি গেড়ে বসেছে। রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এইসব কলুষদের উপস্থিতির কারনেই যে উর্দুকে বুকের রক্ত ঢেলে আমাদের পুর্বসুরিরা দূর করেছিলেন, সেই উর্দুর ভাই হিন্দি এখন বিনা বাধায় দিব্যি আমাদের কোলে চড়ে ঘুরছে।
আওয়ামী লিগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জনাব ওবায়দুল কাদের। ঐ কথার জন্য এককভাবে আপনাকে দোষ দিচ্ছি না। আপনার দলের ৯৯ ভাগ সদস্যই আপনার মত মগজ ধোলাই হওয়া বুদ্ধিপ্রতিবন্ধি দেশদ্রোহি। এখন যখন আপনার বেশ উন্নতি হয়েছে, তখন না হয় সেই মাংসের কাফফারাটা দিয়েই ফেলুন। অসুবিধা কি? সেটা তো আপনার দলের ছাত্রদের পেটেই যাবে। মাঝখান থেকে দেশদ্রোহির তকমার সাথে গোস্ত চোর অপবাদটি তো শেষ হবে?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


