somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশের আকাশে অশনি সংকেত। গরিবের রক্তের দাম নেই?

২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ সকাল ১০:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আফগানিস্তানে তালেবানদের হাতে ক্রমাগত নাকানি চুবানি খাওয়ার পর, মার্কিনিরা এখন বাংলাদেশের কাছে সৈন্য চেয়েছে। উদ্দেশ্য তাদের আগ্রাসনে বাংলাদেশকে শরিক করার। কেননা, তাদের ধারনা যে, বাংলাদেশ একটা গরিব দেশ। মাসিক বেতনের অংকটা বাড়িয়ে দিলে তালেবানদের বুলেট বোমার সামনে বাংলাদেশি সৈন্যরা রক্ত ঝড়াবে। আর উনারা উনার দেশের মানুষের কাছে নিজেদের বীরত্ব জাহির করবেন।

বিশাল লট বহর আর জ্ঞাতি গুস্টি নিয়ে নিউইয়র্কে ভ্রমনরত হাসিনার সফর সঙ্গি ল্যাথার্জিক পররাস্ট্র মন্ত্রি দিপুমনি অবশ্য বিষয়টি নিয়ে ভাববেন বলে কথা দিয়েছেন।



ইউরোপের অনেক দেশ যেখানে ধীরে ধীরে আফগানিস্তান থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করছে, তখন সাপের ছুচো গেলার মত অবস্থায় থাকা মার্কিনিদের সামাজ্যবাদি আগ্রাসনের আগুনে তেল ঢালার জন্য বাংলাদেশকে জড়ানোর অপচেস্টা চলছে।

অথচ এর এই কারণে বাংলাদেশকে চরম মুল্য দিতে হতে পারে। ইতিমধ্যেই তালেবানরা এ ব্যাপারে বাংলাদেশকে হুশিয়ার করে দিয়েছে। যারা আফগানিদের চেনেন, এবং ইতিহাস জানেন, তারা এ ব্যাপারে ভালো ভাবেই অবগত যে, আফগানিদের পরাধীনতার শৃংখলে কেউই বাধতে পারেনি। তাছাড়া নিজেরা যতই ঝগড়া বিবাদে জড়াক না কেন, প্রতিবেশিদের কারো উপর সেই আগুনের আচ তারা পড়তে দেননি। জাতি হিসেবে জেদি এবং এগুয়ে আফগানিরা নিজেদের স্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপকারিদের নির্মম প্রতিশোধের আগুনে পুড়িয়ে মেরেছে।




বাংলাদেশের সৈন্যবল অতি সামান্য। এই সামান্য জনবল নিয়েও বিশ্ব শান্তি রক্ষায় জাতিসঙ্ঘ শান্তি মিশনে দ্বিতীয় বৃহত্তম সৈন্যদল বাংলাদেশের। এ তথ্যটা তো মার্কিনিদের অজানা নয়। কেন? রোমিও জুলিয়েটের মত কঠিন প্রেমে তারা যাদের সাথে মত্ত, সেই ভারতকে কেন সৈন্য পাঠাতে বলছে না তারা? আর প্রতি বছর বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার সাহায্য দেয়া পাকিস্থানকেও কেন ওই অনুরোধ করছে না তারা? আফগানিস্তানের আশে পাশের প্রতিবেশি তো আরো কয়েকটা দেশ আছে। ওদের কেন সৈন্য পাঠাতে বলছে না?

দোষ আমাদেরই বেশি। কেননা, ক্ষমতার লোভে জনগণের অগোচরে হাসিনা বেশ কিছু নাকে খত দিয়ে এসেছিল। এখন সুযোগ বুঝে মার্কিনিরা প্রতিদান চাইবেই তো।


সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নয়, বরং কাসপিয়ান সাগর থেকে শুরু করে ইরাক পর্যন্ত বিশাল তেল ভান্ডার কুক্ষিগত করার লালসাতেই, ৯/১১ তে নিজেরা কুকর্ম করে মুসলমানদের উপর দোষ চাপিয়েছিল ওরা। এজন্যই গলায় গলায় পীরিতি থাকা সত্ত্বেও তালেবান আর সাদ্দাম হয়ে গিয়েছে তাদের চোখের বালি।

এসব দালিলিক প্রমান ইন্টারনেটেই ভুরি ভুরি ছড়ানো আছে। তাই সত্যান্বেষিদের পক্ষ্যে এই সবের সত্যতা খুজে পাওয়া কঠিন কিছু না। আর এই সব তথ্যের উৎসও বিবেকবান মার্কিন নাগরিকরাই। কিন্তু মার্কিন প্রশাসন এবং মিডিয়ায় খুব শক্ত করে খুটি গেড়ে থাকা নব্য রক্ষণশীল এবং কট্টর জায়নবাদিদের কল্যানে সেই মিথ্যা অভিযোগকেই সুযোগ মত ব্যাবহার করে মার্কিন আগ্রাসন চলছে।

হাসিনা যদি মনে করে থাকে যে, মার্কিনিদের বংশবদ হয়ে আজীবন বাংলাদেশ শাসন করতে পারবে তাহলে ভুল করবে। অতীতে সুযোগ মত ব্যাবহার করে অনেক শাসককেই ছেড়া ত্যানার মত ছুড়ে ফেলেছিল মার্কিনিরা। তাছাড়া আমাদের সাথে আফগানিস্তানের তো কোনদিন কোন বিরোধ ছিল না। তবে কেন আমরা মার্কিনিদের বোঝা নিজের কাধে নেব? আর ক্ষমতার লোভে যদি হাসিনা এমন কাজ করেই বসে, তাহলে বাংলাদেশের মানুষ সেটা মেনে নেবে কেন?

এমনিতে তো আওয়ামী দুঃশাসনে দেশ ও জাতি অতিষ্ট। এর মধ্যে যদি এই কুকর্মটি হাসিনা সরকার করে, তবে দেশের জনগনের ঘৃণার আগুনে আবারও সে জ্ঞাতি গুস্টি নিয়ে পুড়ে মরবে, সেটা নিশ্চিতই বলা যায়।






































২৪টি মন্তব্য ২৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বেলফোর রোড টু কাশ্মীর ! : সভ্যতার ব্লাকহোলে সত্য, বিবেক, মানবতা!

লিখেছেন বিদ্রোহী ভৃগু, ১৮ ই আগস্ট, ২০১৯ দুপুর ১:৪০

ফিলিস্তিন আর কাশ্মীর! যেন আয়নার একই পিঠ!
একটার ভাগ্য নিধ্যারিত হয়েছিল একশ বছর আগে ১৯১৭ সালে; আর অন্যটি অতি সম্প্রতি ২০১৯ এ!
বর্তমানকে বুঝতেই তাই অতীতের সিড়িঘরে উঁকি দেয়া। পুরানো পত্রিকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

চামড়ার মূল্য- মানুষ ভার্সেস গরু

লিখেছেন কাওসার চৌধুরী, ১৮ ই আগস্ট, ২০১৯ বিকাল ৩:৪৪


২০১০ সালের কথা; তখন পূর্ব লন্ডনের ক্যানরি ওয়ার্ফ (Canory Wharf) এর একটি বাসায় ক্লাস নাইনে পড়া একটি ছাত্রীকে ম্যাথমেটিকস্ পড়াতাম। মেয়েটির আঙ্কেল সময়-সুযোগ পেলে আমার সাথে গল্পগুজব করতেন। একদিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দাদীজান ও হ্যাজাক লাইট

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৮ ই আগস্ট, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:০০



সময় ১৯৮০ এর দশক, প্রতিবছর ডিসেম্বর মাসের শেষ শুক্রবার আমার দাদাজানের মৃত্যুবার্ষিকী’তে বড় চাচা, আব্বা বেশ খরচ করে গ্রামবাসী ও আত্মীয় পরিজনদের খাবারের একটা ব্যাবস্থা করতেন, বড় চাচা আর আব্বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

গত কিছু সময়ে সামুতে যা যা হয়েছে, ব্লগারদের ওপর দিয়ে যা গিয়েছে, সেসকল কিছু স্টেজ বাই স্টেজ বর্ণনা!

লিখেছেন সামু পাগলা০০৭, ১৮ ই আগস্ট, ২০১৯ রাত ৮:১৪



কনফিউশন: ধুর! কি হলো! ব্লগে কেন ঢুকতে পারছিনা? কোন সমস্যা হয়েছে মনে হয়, পরের বেলায় চেক করে যাব। বেলার পর বেলা পার হলো, সামুতে ঢোকা যাচ্ছে না! কি সমস্যা!... ...বাকিটুকু পড়ুন

আড্ডাঘরের বর্ণনা

লিখেছেন আনমোনা, ১৮ ই আগস্ট, ২০১৯ রাত ১০:৩৩

সামু ব্লগে ছিলো এক সামুর পাগল
সারাদিন করে সে যে মহা হট্টোগোল। ।
খুলিলো আড্ডাবাড়ি আড্ডারি তরে।
জুটিলো পাগল দল তাড়াতাড়ি করে। ।
সরদার হেনাভাই, তার এক হবি।
প্রতিদিন আপলোডে মজাদার ছবি। ।
সকল পাগলে তিনি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×