somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আর কত? এবার ধুতির কোছাটি একটু ঢিলে করুন দাদারা...

২৯ শে জুলাই, ২০১১ দুপুর ২:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
পঃ বঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রি মমতা ব্যানার্জির জলের দরে ইলিশ খাবার আকাংখার কথা শুনে পুরানো একটি লেখা আবার দিতে হলো।



ভারতের নামি দামি পত্রিকাতে ( হিন্দু, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ইত্যাদি) বাংলাদেশের যে খবরটি বেশ আলোড়ন তুলেছে, সেটা হলো এই ভর বর্ষায় ইলিশ মাছের দুস্প্রাপ্যতা। বিশেষ করে জামাই ষষ্ঠিতে কলকাতার বাজারে ইলিশের দেখা না পেয়ে শশুড় শাশুড়িকুলের মুখভার। পত্রিকাগুলি কোন রাখঢাক না করেই সিধে বলে দিয়েছে, ইলিশ না পেলে বাংলাদেশকে দুষুন।

বাংলাদেশে যে ইলিশের ধুম পড়েছে এমন কিন্তু নয়। অবাধে জাটকা নিধনের ফলে, গত জোট সরকারের আমলের প্রথম দিকেই উল্টো নাকি পঃ বঙ্গ থেকে ইলিশ আমদানি করতে হচ্ছিল। তৎকালিন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রি মিলনের ঐকান্তিক প্রচেস্টায়, এই জাটকা নিধন বন্ধ হয়েছিল।(উনি চাঁদপুরের লোক বলেই হয়তো সম্ভব হয়েছিল)। তাতে অন্তত ইলিশ আমদানি করার মত বিড়ম্বনাটি পোহাতে হচ্ছে না।

বাংলাদেশের বাজারে ইলিশের প্রাপ্যতা মোটামুটি হলেও, দাম কিন্তু সাধারণের নাগালের মধ্যে নেই। হয়তো সাধারণ মধ্যবিত্তরের খাবার পাতে কালে ভদ্রে উঠছে। ৩০০-৪০০ টাকায় একটা ইলিশ কেনার সামর্থ্য অন্তত বৃহত্তর জনগোষ্ঠির জন্য খুব সহজ নয়।

প্রবাসি বাংলাদেশিরা একসময় ইলিশ কিনতে প্রচুর উৎসাহি হলেও, প্রতি পাউন্ড $৭ ডলার হিসেবে ( এক কেজির একটা ইলিশের দাম পড়ে প্রায় ১৬ ডলার, বাংলাদেশি টাকায় যা ১১০০ টাকা) ইলিশ কিনতে এখন তেমন উৎসাহি হচ্ছেন না।

অর্থাৎ ঘরে বাইরে ইলিশ দাম বাংলাদেশিদের সাধ্যের খুব নাগালের মধ্যে নেই। এর মধ্যে আবার কলকাতার মানুষের রসনায় ব্যাঘাত ঘটাতে, সে দোষও বাংলাদেশের মানুষের ঘাড়ে চাপছে। পত্র পত্রিকায় তো বটেই, ঘর বয়ে এসে ভারতের মাছ আমদানিকারকরা, সরকারকে দু কথা শোনাতে ছাড়েননি। আর তার সাথে আমাদের মাছ রফতানিকারক সমিতির প্রধানও গলা মেলানোতে মনে হচ্ছে ঘরের শত্রু বিভীষন এখন এই সেক্টরেও সক্রিয়। আমদানিকারকরাই যে রপ্তানি মুল্য নির্ধারন করেন, সেটা বাংলাদেশের মৎস রপ্তানিকারক সমিতির প্রধান অজয় কুমার দাসের মুখেই প্রথম শুনলাম। আবার আগ বাড়িয়ে বাচাল বানিজ্যমন্ত্রি ফারুকের দপ্তরেও নাকি ভারতীয় আব্দারবাণিটি পৌছে দেবার কাজ করেছে সমিতি।

বিস্তারিত শুনুন এখানে
Click This Link

কলকাতার মানুষদের "মিতব্যায়িতা" কিংবা হাড়কিপ্টামির কথা এখন কিংবদন্তিতুল্য। সর্বক্ষেত্রে তারা চান বামুনের গরু, খাবে কম দুধ দেবে বেশি। তবে যুগের সাথে, বাস্তবের সাথে তাল মিলিয়ে চলা হয়তো ওই স্বভাবের কারণেই তাদের পক্ষ্যে সম্ভব হচ্ছে না। তাই অকারণে বাংলাদেশকে দোষ দিয়ে তারা নিজের দোষটুকু ঢাকতে চাইছেন।

ভারতীয় আমদানিকারকরা বলছেন, যেখানে $২ দিয়ে তারা বার্মার ইলিশ আমদানি করতে পারেন, সেখানে বাংলাদেশের ইলিশ $৬ দিয়ে পোষায় না। তারা দাবি করেন, সেই মুল্য কমিয়ে সাড়ে তিন থেকে চার ডলার করার জন্য।

তারা বিলক্ষন ভুলে গেছেন যে, স্বাদে গন্ধে অতুলনীয় বাংলাদেশের মাছের সাথে বার্মার ইলিশের তুলনাই হতে পারে না। তাই জিনিস ভালো চাইবেন আর দাম দিতে চাইবেন না, সেটা কি করে হতে পারে? আর জামাই ষষ্ঠির দিন বার্মার ইলিশ দিয়ে জামাই আপ্যায়ন করার মত ঝুকি নিতে চাইলে নিতে পারেন। আর এর বিকল্প একটাই হতে পারে। কেপ্পন স্বভাবটি পাল্টে ফেলুন। সব জায়গায় বামুনের গরু খুজলে নিরাশ হতে পারেন।

বাংলাদেশের সাথে ভারতের যে সম্পর্ক, সেটাও এমন শক্ত ভিত্তির উপর দাড়িয়ে নেই, যে দেশের সাধারণ মানুষ কিংবা প্রবাসি বাংলাদেশিদের মুখের আহার কেড়ে নিয়ে কলকাতার মানুষকে খাওয়াতে হবে। সিডরে আক্রান্ত দুস্থ বাংলাদেশিদের চাল নিয়ে চালিয়াতি করে, আপনাদের রাস্ট্রদুত কিন্তু ঐ একই রকম উক্তি করেছিল। তাই নিজেদের কথাই গিলে খাবার সময় এসেছে এখন।

বর্তমানে আওয়ামী লিগ সরকারের মন্ত্রিদের ভারত চাটুকারিতা দেখে অবশ্য ভারতীয়দের এহেন অন্যায্য আব্দার করার দুঃসাহস গজানো বিচিত্র কিছু না। তবে একটা জিনিস মনে রাখলে ভালো করবেন। বাংলাদেশের মানুষ আঃ লিগকে ভোট দিয়েছে বটে, কিন্তু যা ইচ্ছা তাই করার লাইসেন্স দেয়নি।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে জুলাই, ২০১১ সকাল ১০:১৩
১৯টি মন্তব্য ১৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×