
হঠাৎ এ রকম বেমাক্কা প্রশ্নে সকালের চা টা বিস্বাদ মনে হতে পারে। কি আজব প্রশ্ন রে বাবা। উত্তর দক্ষিণ আবার কি? বিশ্বরাজনীতিতে দক্ষিণপন্থি বলে একটা কথা আছে বটে। কিন্তু উত্তরপন্থি নেই। তাই রাজনৈতিক দৃস্টিকোণ থেকে প্রশ্নটা মুল্যায়ন করা যায় না।
কাজ নেই তাই খই ভাজার শখের মত লেখাটা লিখছি, এমনটি ভাবারও কারণ নেই। তবে প্রশ্ন কেন?

খবরটা শুনুন। ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এর এলাকা দু ভাগ করে উত্তর দক্ষিণ করে দেয়া হয়েছে।
মানুষ বাড়ার সাথে সাথে শহরের পরিধির সাথে মিল রেখে কর্পোরেশনের সীমানাও বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু লোকবল সেই অনুপাতে বাড়েনি। তাই নাগরিক সুবিধা বলতে যা বুঝায় সেটি সোনার পাথর বাটি হয়েই রয়েছে।
আর বাংলাদেশে কোন রকমে ক্ষমতায় যাওয়া মানেই তো হলো সরকারি মাল পকেটে ঢাল এর মহোৎসব। তাই নগর পিতা থেকে শুরু করে পুত্র তস্য পুত্র নাতি পুতি ধুতি এমনকি রক্ষিতা পুত্ররাও যেভাবে খাওয়া দাওয়ায় শুরু করে, তাতে রুপকথার রাক্ষস খোক্কসদের একেবারে বাস্তব চিত্র খুজে পাওয়া সম্ভব।
হা মানলাম সে সব কথা। তা সর্ষের ভেতর ভুত রেখে নাগরিক সুবিধা বাড়ানোর অজুহাতে শহরকে দু ভাগ করার যৌক্তিকতা কোথায়? দুর্ণীতির বিরুদ্ধে ক্রুসেড ঘোষনা করে হাসিনা সরকার, এক শেয়ার বাজারেই যেভাবে বাজিমাৎ করলো, তাতে তো চোরের মার বড় গলার চেয়ে ভালো কিছু শুনালো না।

তাদেরই মুখে নাগরিক সুবিধা বাড়ানোর জন্য শহর ভাগের এই পরিকল্পনা কি বিশ্বাস করা যায়? যেত যদি নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ ১০ টাকা সের চালের ব্যাপারে প্রতিশ্রতিটা অন্তত রক্ষা করার চেস্টা করতো।
কেমনি কি? উলটো তারা প্রতিশ্রুতিটাই যে অস্বীকার করে বসলো। এখন নেড়া ক বার বেল তলায় যাবে যে সরল বিশ্বাসে তাদের কথা মেনে নেবো?
হাসিনা সমর্থিত তথাকথিত তত্ত্ববধায়ক সরকার বিগত নির্বাচনে ধানমন্ডিকেও দু ভাগ করে দিয়েছিল। সেখান থেকে "নির্বাচিত" হলেন কারা? ঠান্ডা মাথার খুনি নানক আর বাংলাদেশের জঘন্যতম ক্রিমিনাল ফজলুল হক মণি পুত্র আরেক ক্রিমিনাল তাপস।
শোনা কথা। ধানমন্ডির এই আসনের প্রতি ওই দুই ক্রিমিনালেরই চোখ ছিল। তাই ধানমন্ডি ভাগ করে দু জনের মধ্যে বন্টন করে দেয়া হয়েছিল। ফলাফল? এক পাশ থেকে নানক খাচ্ছে আরেক পাশে তাপস।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রি হবার সুযোগে অন্যান্য খাত থেকে খাওয়া দাওয়ার বিশাল সুবিধা পাওয়ায় নানক আপাতত চুপ। কিন্ত তাপসের কি হবে? ঐ দিকে ঢাকার আদিবাসি ভোট, মীর্জা আব্বাসের হাত ধরে বি এন পিতে চলে যাবে, সেটা আটকাতে সাবেক মেয়র মোঃ হানিফ পুত্র সাইদ খোকনকেও দরকার।

তাই ঢাকা শহরকেও এই দুজনের মধ্যে ভাগ করার চিন্তা থেকেই এই সিদ্ধান্ত। এক ভাগ তাপসের এক ভাগ খোকনের। নিজেরাও খাবে, বি এন পিরও ব্যাবস্থা করা যাবে। উইন উইন সিচুয়েশন।
দেশের কি সমস্যার আকাল পড়েছে? সে ব্যাপারে মাথা ব্যাথা নেই সরকারের । তাছাড়া চোর ছ্যাচর দুর্নীতিবাজদের আখরা যে সিটি কর্পোরেশন, তাদের সেখানে বহাল রেখে শহর কে দু ভাগ কেন, ১০০ ভাগ করলেও নাগরিক সুবিধা বলতে যা বুঝায় তা কোনদিনও পাওয়া সম্ভব না।
যারা দেশ চালান, তারা আমাদের মত আম জনতার চেয়ে ঢের বেশি বুঝেন। তা এই সত্যটা বুঝেন না, সেটি বিশ্বাসযোগ্য না। সারা দেশ থেকেই যখন লুটে পুটে খাচ্ছে হাসিনা গং, এখন ক্ষমতার পড়ন্ত বেলায় খাই বেড়ে যাওয়াতে এই রকম সিদ্ধান্ত। খোকা বি এন পির হয়ে খাবে আর আওয়ামিরা ভরপেটে আরো কিছু খেতে পারবে না, সেই হিংসা তো হাসিনার মনে অবশ্যই আছে।
হাসিনার যে রকম দাদাপ্রেম, তাতে অবশ্য আরেকটা সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়া যায় না। কলিকাতায় উত্তর দক্ষিণ আছে। তাই ঢাকাকেও উত্তর দক্ষিণ না করা গেলে দাদাদের সঠিক অনুসরণ সম্ভব না। সেকারণেও এই রকম খই ভাজার কর্ম করে থাকতে পারে হাসিনা।

এই তত্ত্বের বিরোধীতাকারিদের শুধু স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, নির্বাচনে সিলেক্টেড হয়ে খুশিতে গদগদ হাসিনা প্রথমে তার প্রণব দাদা বাবুকে ফোন করে জানিয়েছিলেন। এ রকম কর্মের উদাহারণ সেই ১৭৫৭ সালে মীর জাফর নবাব হবার পরেই দেখা গিয়েছিল।
আবার তিস্তার পানি নিয়ে মমতা দিদি লোক দেখানো সস্তা বিরোধিতা করার পরেও টন টন ইলিশ আর কত কি পাঠাতে হাসিনা কার্পণ্য করেনি। এই সব সেবাদাগিরির চাক্ষুষ প্রমান। আর এই মত ও পথের মানুষদের ভবিষ্যত খুব উজ্জ্বল নয়।
এমনিতে তো ছোট খাট বিষয়ে আমাদের অনৈক্যের ছড়াছড়ি। এখন এই উত্তর দক্ষিণ নিয়েও যে বৈষম্য আর ক্যাচাল সৃস্টি হবে না সে দিব্যি কেউ দিতে পারবে না। আর সেই ফাকতালে নেপোয় দই মেরে যাবে। তাতে বাংলাদেশ নামের স্বাধীন দেশের অস্তিস্ত্ব থাকুক কিংবা নাইই থাকুক।
সেই সুদুর প্রসারি চানক্য বুদ্ধির ইশারা পেয়েই যে তাপস আর খোকনের মধ্যে ঢাকা বাটওয়ারা করার ষড়যন্ত্র, সেটা রুখতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহন প্রয়োজন। কারণ এই সব কাজ ভারতপন্থি ঝুটিবাধা বামদের কাজ নয়।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই অক্টোবর, ২০১১ সকাল ৭:৩৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



