(আমার কুমিল্লার বন্ধুরা সুযোগ পেলেই শিরোনামের ৮০ টাকা তোলা বলে গর্ব করে। এতদিন যেটা কথার কথা ছিল, আজ সেটা প্রমানের সুযোগ এসেছে। সেই সুযোগ কাজে না লাগাতে পারলে মনে করবো সেটা শুধু কথার কথাই।)
তিতাস নিয়ে অবশেষে দিনমজুর ভাইয়ের লেখাটি স্টিকি হলো। এর আগেও টিপাইবাধ নিয়েও তার লেখা স্টিকি করা হয়েছিল। এবং উভয় ক্ষেত্রেই ব্লগারদের ক্রমাগত অনুরোধ আর পীড়াপীড়িতে কর্তৃপক্ষ তাদের চক্ষুযুগল এবং কর্ণ কুহরকে নিরাপদ রাখার জন্য চিরতার পানি গলঃধরণ করলো আর কি !
এই দিক দিয়ে অবশ্য ব্লগার কৌশিক, অন্যমনস্ক শরৎ মায় আ মহিউদ্দিন বা সন্যাসি অনেক ভাগ্যবান। তারা মেঘ না চাইতেই জল লাভ করেন।
পোস্ট স্টিকি হলো। এখন করনীয় কি? স্টিকি পোস্টে দিন মজুর ভাই কিছু সমাধানের পথ বলেছেন। তিনি দশভুজা নন। তাই তিনি লিখেছেন বলেই তাকেই সব দায় নিয়ে সবকিছু করতে হবে, এ ভেবে বসে থাকাটা অকর্মন্যতারই নামান্তর।
এই অধমের সামান্য একটা লেখা ছিল।
একটি কোদাল, এক কোপ এবং সীমান্ত হত্যা বন্ধের সহজ কিছু পথ।
সেখানে একজন শ্রদ্ধেয় পাঠক বি এন পিকে ছাড় দেবার জন্য সমালোচনা করেছেন। তার সমালোচনা শিরোধার্য। তবে লোকমান হত্যায় খোকনকে জড়ানো, সানাউল্লাহ বাবু হত্যায় বি এন পির নেতা কর্মীদের নামে মামলা, পুলিশের তদারকিতে সাদেক হোসেন খোকাকে সরকারি দলের ক্যাডারদের ছুড়িকাঘাত। এখন তিতাস ইস্যুতে ট্যা ফু করলেই আরো কত মামলা হামলা হবে।
ঢাকাই ভাষায় "লৌড়ের" উপর থাকা বি এন পি আগ বাড়িয়ে রিস্ক নেবে বলে মনে হয় না। তাছাড়া ব্রাক্ষ্মণবাদিদের সাথে সামাজ্যবাদিদের ঘনিষ্ঠ প্রেম পীরিতি চলার সময় , ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধাচারণ মানেই তো দুই সাপের মিলনে বাগড়া দিয়ে প্রাণ সংশয় ঘটানো। মনে হয় না, তারা এতটা দেশপ্রেমিক হবার যোগ্যতা রাখে।
আড়িয়াল বিল বা ফুলবাড়িতে জনতা কিন্তু কারো ডাকের জন্য বসে থাকেনি। যারা কুমিল্লার ব্লগার, স্টিকি পোস্টের কল্যাণে আপনারা এখন তিতাসের ব্যাপারে ভালোমতই অবগত। তাহলে বসে আছেন কেন? কিছু না পারেন। একটা মানববন্ধন তো করতে পারেন? আপনারা এলাকার লোক বলে সহজে যেটা করতে পারবেন, সেটা ঢাকা বা অন্য এলাকার লোকজন অতটা সহজে কি করতে পারবে? যদিও ব্যাপারটা জাতিয় স্বার্থের সাথে জড়িত। তবুও স্থানীয় পর্যায় থেকেই শুরুটা করতে হবে।
আমরা বিশ্বাস করতে চাই, শুধু কুমিল্লা নয়, বাংলাদেশি পোলা মানেই ৮০ টাকা তোলা। আর আমাদের গর্বের এই কথাটিকে কাজে পরিণত করার সুবর্ণ সুযোগ এখন কুমিল্লার পোলাদের হাতে। তুলে নিন কোদাল। এক কোপ হলেই তিতাসের বুকে জেগে উঠা পরাধীনতার চিহ্ন রাস্তার বুকে বসিয়ে, সারা বাংলাদেশকে জানিয়ে দিন, এ দেশ পরাধীনতার শৃংখল আর কোনদিন পরবে না। ১৬ কোটি মানুষকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।
যাদের নীরবতা পীড়া দিল।

শেখ হাসিনা আর তার দল যে সিকিমের লেন্দুপ দর্জি এবং তার দলের বাংলাদেশি সংস্করন, এ কথা অন্ধ আওয়ামি লিগার বা তথাকথিত ভারতীয় দালাল ছাড়া সবাই জানে এবং বিশ্বাস করে।
কিন্ত যাদেরকে আমরা এতদিন নিরপেক্ষ নিপাট ভদ্রলোক বলে জানতাম, এ ব্যাপারে তাদের অবস্থান নির্জীব কেন?

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের দিকপাল আমার প্রিয় শিক্ষা ব্যাক্তিত্ব প্রফেসর আবদুল্লাহ আবু সাইদ আলোকিত মানুষ গড়ার কাজে নিজেকে উৎসর্গিত করেছেন। অথচ তিতাসের গলায় ফাস পড়ানোদের ভেতর তারই কিছু কিছু ছাত্র যে যুক্ত তিনি কি সেটা জানেন? শুধু একজন সর্বজন শ্রদ্ধেয় শিক্ষক হিসাবেই নয়, বরং বাপার একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা হিসাবে সর্বপরি একজন দ্বায়িত্বশীল নাগরিক হিসাবে এব্যাপারে তার নীরবতা আমার মত হাজারও ভক্তকে মর্মাহত করেছে।

প্রফেসর আনু মোহাম্মাদকে নিয়ে নতুন কিছু বলার নেই। তিনি আপন জ্যোতিতে উজ্জ্বল এক নক্ষত্র। কিছুদিন আগে তেল গ্যাস ইস্যুতে আওয়ামি পুলিশ বাহিনীর অত্যাচারে তিনি আহত হয়েছিলেন। টিপাই বা তিতাসের ব্যাপারে তিনি নীরব কেন? তিনি কি দমে গিয়েছেন? না ভয় পেয়েছেন? নাকি কোন চাপের কাছে নতি স্বীকার করেছেন? তার মত বরেণ্যরা যদি দমে যান, তাহলে তরুণদের আশা ভরসা জোগাবে কে?
![]()
প্রফেসর আসিফ নজরুলের ভাবনা চিন্তা বেশ আশাজাগানিয়া। দেশে যখন বুদ্ধিজীবি তকমাটাই একটা গালি, সেখানে আসিফ নজরুল একজন ব্যাতিক্রম। তাকেও দেখলাম এব্যাপারে চুপচাপ। কিন্ত কেন এই নিরবতা?

নাট্যকার মামুনুর রশিদ বিবিসির সাথে এক সাক্ষাতকারে বলেছিলেন যে সাধারণ মানুষের সুঃখ দুঃখ জীবনবোধ ইত্যাদি তুলে ধরার মাধ্যমেই তিনি তার নাট্যজীবন সফল করতে চান। বি টিভিতে প্রচারিত এখানে নোঙ্গর কিংবা মঞ্চপাড়ার সফল মঞ্চায়ন রাঢ়াং তার মন্তব্যের যথার্থতা প্রমান করে। অথচ যে ফারাক্কার কারনে মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে সর্বশান্ত সেই ফারাক্কার বিরুদ্ধে তার শক্তিশালি কলম কোথায় হারালো? টিপাই এর কারনে সিলেট অঞ্চলে কিংবা অধুনা তিতাসের গলায় ফাস হয়ে যে লক্ষ লক্ষ মানুষ হবু উদ্বাস্তের ভুমিকায় অবতীর্ণ হতে চলেছে, সেটা নিয়ে আগাম কোন লেখা লিখতে মামুনর রশিদ কুন্ঠিত কেন হবেন?
দেশের বৃহত্তর স্বার্থের পক্ষ্যে বার বার লিখে হয়তো অনেকেরই বিরক্তির কারণ হয়তো হবো। সেটা মনখারাপের কারন হলেও আমাকে অবাক করবে না।

বেশ্যার চেয়েও অধম আর নিকৃস্ট পর্নস্টার বা ভারতীয় নায়িকাদের ছবি পোস্ট অথবা দেশীয় তারকাদের যৌনজীবন নিয়ে পোস্টের পঠিতের সংখ্যা যখন মুহুর্তেই ৪০০, ৫০০ বা হাজার ছাড়িয়ে যায়, সেখানে দেশের স্বার্থে লেখাগুলিতে তুলনামুলকভাবে অনেক কম পাঠক আসেন।
অপরবাস্তব কিন্তু বাস্তবের কিছু মানুষদেরই চারণভুমি। তাই বাস্তবে যা ঘটছে, এখানে তারই প্রতিফলন দেখা যাবে এতে আর অবাক হবার কি আছে? অথচ ব্লগে কিন্ত শিক্ষিত সচেতন মানুষদেরই পদচারনা ! এর পরেও কেন দেশ নিয়ে আমাদের এই ভাবালেশহীনতা, উদাসীনতা, আত্মকেন্দ্রিকতা, স্বার্থপরতা আর ভোগবাদিতায় মত্ত হয়ে থাকা?
তাহলে কি সমস্যার মুলে আমাদের শিক্ষা? নাকি জন্মপরিচয়?
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে ডিসেম্বর, ২০১১ সকাল ৯:৪১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


