somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যাহা বলিবো সত্য বলিবো ... কিছু অসুশীলিয় উক্তি।

০৬ ই জানুয়ারি, ২০১২ সকাল ১১:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



হুজুর কবে মরবেন?

"..................... হাসিনা মরে না কেন?" ফেসবুকে এমন একটি স্ট্যাটাস দিয়ে জাবির একজন প্রবাসি শিক্ষকের জান কালা হয়ে গিয়েছে। প্রথমে আদালত অবমাননার জন্য অনুপস্থিতিতে জেল। দেশ ফিরলে আদালত পর্যন্ত যাওয়া লাগবে না। তার আগেই গুম হয়ে যেতে হবে। জনৈক বিচারপতি সতঃপ্রণদিত হয়ে নিজেই রুল দিয়েছেন। নিজেই বিচার করেছেন। বলিহারি। এর সমালোচনা করলে আবার আদালত অবমাননা। একবার কি বিবেচনা করে দেখা যেতো না কেন মানুষ আরেকটি মানুষের মৃত্যুকামনা করে? যদি আইনের ঝক্কি বা গুম খুন বা হামলা মামলার ভয় থেকে মুক্ত করে সাধারণ মানুষকে ভোট দেবার অধিকার দেয়া হতো, তাহলে গুটিকয় সুবিধাভোগি আর পাড় অন্ধ লীগার ছাড়া সবাই ওই একই স্ট্যাটাস দিতো। যেহেতু সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীন, তাই মনে মনে শিরোনামের আশাই পোষন করছেন তারা।

ছাত্রলীগের হ্যাট্রিকঃ

আমাদের ফুটবলে তো ব্যাড়াছ্যড়া দশা। ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি টিটো মিয়াও যখন জাতিয় দলের কোচ হতে পারে, তাহলে তো ফুটবলের এই দশা হবেই। গোল বাচানোর তাগিদে খেলা জাতিয় ফুটবল দলের পক্ষ্যে হ্যাট্রিক সম্ভব না হলেও ছাত্রলীগের দামাল সোনার ছেলেরা সেটা করে দেখিয়েছে। নতুন বছরের প্রথম তিন দিনেই তাদের কীর্তি, দেশ ও জাতির মুখোজ্জল করেছে।

হাসিনা গং আর মিডিয়ার প্রচারের জোরে স্বাধীনতার সময় ছাত্রলীগের মহান ভুমিকা ইত্যাদি ইত্যাদি শুনে যারা ৭১ এর কারণে ছাত্রলিগের কুকর্মকে হজম করতে চান, তাদের বলি। সে সব মিথ্যা কথা। রাজপথে শুধু নর্তন কুদনই ছিল। অবস্থা বেগতিক দেখে ২৫ শের আগেই সবগুলি দল বেধে পালিয়েছিল। সবচেয়ে আগে পালিয়েছিল ধেড়েগুলি। যারা সম্মুখ সমরে অংশ নিয়েছিলেন, তাদের ৯৯ ভাগই ছিলেন সশস্রবাহিনীর পক্ষত্যাগি বাঙালি সৈনিক। সাথে ছিলেন কৃষক শ্রমিক সাধারন মানুষ এবং ছাত্ররা।

স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালিন সময়ে এই ধাড়িগুলিই কোলকাতায় শুয়ে উঠে বসে মৌজ ফুর্তি করে দিন কাটিয়েছে।

দেশ স্বাধীন হবার প্রক্কালে এরাই ইন্দিরার পোষা কুকুর হয়ে মুজিব বাহিনী তৈরি করে সাধারণ মানুষের রক্ত ও ত্যাগে অর্জিত স্বাধীনতার কৃতিত্ব হাইজ্যাক করে। এদের কারণেই সাধারণ মুক্তিযোদ্ধারা আজও উপেক্ষিত।

এরাই বঙ্গবন্ধুর সেই চাটার দল। ৭৫ এর পর এদের প্রধান দুই ধাড়ি ক্রিমিনাল অক্কা পেলেও পাতিগুলি আজ বড় হয়ে একই রাস্তায় পথ চলা শুরু করেছে। তাই ছাত্রলিগের কর্মকান্ড দেখে অবাক হয়ে লাভ নেই। এরা সব সময় একই রকম ছিল, আছে এবং থাকবে। এই হিংস্র কুকুরদের রাশ টেনে না ধরলে, এরা শুধু হ্যাট্রিক নয়, সেঞ্চুরি এবং ডবল সেঞ্চুরিও করে ফেলতে পারবে।

কামাল ভাইয়ের চরিত্র ফুলে মত "ফবিত্র"ঃ

মিরপুরের কামাল ভাইয়ের চরিত্র তো বহু আগে থেকে জানা।এর পরেও শ্রেফ মার্কার জোরে তাদের এম পি নির্বাচিত করে যে পাপ করেছেন, এখন তার ঠ্যালা সামলান। স্বাধীনতার স্বপক্ষ্যের শক্তি এক জিনিস, আর আওয়ামি লিগ অন্য জিনিস। ৭২ থেকে ৭৫ এবং ৯৬ থেকে ২০০১ সালে আওয়ামি সুশাসনের তেতো স্বাদ আমরা এত তাড়াতাড়ি ভুলে গেলাম কি করে? আর টিভির মহিলা সাংবাদিকের হাত থেকে বুম মাটিতে ফেলে স্টুপিড বলে আবার দুঃখপ্রকাশ করাটা গরু মেরে জুতা দান করার বহু পুরানো আওয়ামি কৌশল। হাসিনা সব সময় করেছে। কামাল ভাইও করেছে। এর পরেও কিছু আন্ধা মিডিয়া তাদের আওয়ামি প্রীতি কমাবে না।

ভালো হয়েছে। খুশি হয়েছি।আর কিছু না করতেই আরটিভির দুই পুরুষ সাংবাদিকের মাটিতে পড়ে যাওয়া দেখে মনে হচ্ছে টাউটারিতে তারা কম যান না। দুই ধাপ্পাবাজের মুখোমুখি ক্যাচাল দেখে ব্যাপক বিনোদিত হয়েছি।

কামাল ভাই যদি হাতের চেয়ে মগজ বেশি চালাতেন, তাহলে মণিপুর স্কুলে ভর্তি বাণিজ্যে যতই কামাতেন, কোন ক্যাচাল হতো না। উনার উচিত মেনন ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ করা। দেখেন না। ভিকারুন্নেসা থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিলেও, এমনকি পরিমল ইস্যুটিও কি সুন্দর ম্যানেজ করেছেন মেনন ভাই। এমন বুদ্ধি থাকলে কামাল ভাইয়ের চরিত্র ফুলের মত ফবিত্র বলে অনেকেই ধবনি দিতো। আফসোস সে বুদ্ধির অনুপস্থিতিতে আম ছালা দুই গেছে।

সর্বশেষ খবরে জানা গিয়েছে, হারাম টাকা হালাল করতে সংবাদ সম্মেলনে কামাল ভাই, হাসিনা এবং নাহিদদের দোহাই পেরেছেন। তিনি বলেছেন, অতিরিক্ত ফি এর বিষয়ে হাসিনা ও নাহিদ দুইজনের সম্মতি ছিল। (সুত্র এ টি এন বাংলা পরশুর রাত দশটার সংবাদ।) অর্থ তিনি একা খেতে চাননি। দুইজন ভাগিদারও আছেন। আর কিছু বলার আছে?

আবারো ব্লগে অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম

হাতুড়ে কবিরাজ অভিজিতের প্রগতিশীলতার বটিকা সেবনে নেশাগ্রস্ত কতিপয় কাগুজে ব্লগার আবারও ব্লগ গরম করার চেস্টায় রত। এতদিন যেহেতু টিপাই-করিডোর-তিতাস ইস্যুতে ব্লগ গরম ছিল, এবং সেই গরমে তাদের গায়ে ফোস্কা পড়ার দশা হয়েছিল, তাই ওই কয়দিন তারা গা বাচিয়ে চলেছিলেন। আমাদের আবেগের মাত্রাটি কম হতেই আবার তাদের হম্বিতম্বি শুরু হয়ে গিয়েছে। উপলক্ষ্য ওই একটাই। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফি কমানো উপলক্ষ্যে সাধারণ ছাত্রছাত্রিদের আন্দোলনে নিজেদের কৃতিত্ব ফলানো আর কি ! এখন দয়া করে যদি পুলিশের নেকনজরে পড়ে কিছুদিন শ্রীঘরে থাকা যায়, কিংবা ছাত্রলিগের চড় থাপড় খাওয়া যায়, তাহলে বেশ হয়। ভিনদেশে রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়ার পথে আরো একধাপ এগুনো যায়।

এ প্রসংগে নজিবুল হক মাইজভান্ডারির উদাহারণ মনে পড়ছে। সরকার বিরোধী আন্দোলনে তিনিও ছাগলের তিন নম্বার বাচ্চার মত লাফাচ্ছিলেন।ওদিকে এইসব মশা মেরে হাত গন্ধে পুলিশের নারাজি ছিলো। এ সময় টিভি চ্যানেলের ক্যামেরা আসতে দেখে, নজিবুল হক সাহেব পারেন না পুলিশের হাতে পায়ে ধরেন। যদি তারা দয়া করে এক আধটূকু লাঠিপেটা নিদেনপক্ষ্যে কয়েকটা চড় থাপড় মারেন। কিন্তু পুলিশ নয় ভুলিবার। অতঃপর ক্যামেরার সামনে পড়তেই নজিবুল সাহেব বিনা পিটুনিতেই রাস্তায় মা গো বাবা গো মেরে ফেললো গো বলে মাতম শুরু করে দিলেন।

তোফায়েলের ইতিহাস কথন

শুরুটা করেছিল হাসিনা। তার দেখাদেখি সাজেদা, মতিয়া। এখন তোফায়েলও পিছিয়ে থাকবে কেন? তিনি দেখেছেন, গলাবাজি করে সেদিনের ছোকড়া ওবায়দুল কাদেরও মন্ত্রি। আবারও হাসিনা বিরোধী বলে ছাত্রলিগের হাতে মার খাওয়া সুরঞ্জিতও মন্ত্রিত্বে পৌছে গিয়েছে। তবে তোফায়েল বেশ খলিফা লোক। একটু ঘুরিয়ে একই কথা বলেছেন। জিয়া মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। অবশ্য জিয়া মুক্তিযোদ্ধা "না" হলেও, তারই দলের দয়া দাক্ষিণ্যে কোটি কোটি টাকা আয় করা (৯১ সালে বি এন পি ক্ষমতায় এলে, তাদের কাছ থেকে বহু সুবিধা ভোগ করে এই আয় করেছে তোফায়েল) তোফায়েলের যে আরো চাই। আছে মাত্র দুই বছর। এর পর আরো কত বছরের নির্বাসনে যাবে আওয়ামি লিগ তার ভরসা নেই। বয়স হয়েছে। বুদ্ধিতে ধারও নেই। তাই অক্ষমের শেষ অস্র ঐ জিয়া বিরোধীতা করেই যদি কিছু করা যায় আর কি ! তবে তোফায়েল ভাই। মুক্তিযুদ্ধে আপনি ঠিক কোন সেক্টরে যুদ্ধ করেছিলেন, সেই ইতিহাস কেউ তুলে আনতে চাইলে কিন্ত আপনার অবস্থা সাজেদার মতই উলঙ্গ হয়ে যাবে। তাই আপনার দেশের একটা প্রবাদই বলি। "পাগল হওন ভালো, কিন্তু খ্যাতাপুরা পাগল হওন ঠিক না।"

আজ এখানেই। তবে এটাই শেষ নয়। সামনে আরো আসবে।


সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১২ সকাল ১১:৪০
১৯টি মন্তব্য ১৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×