(সর্বশেষঃ সবাইকে খানিকটা অবাক করে দিয়ে সামুতে ভারত বিরোধী একটি পোস্ট স্টিকি করা হয়েছে। ধন্যবাদ সুবিবেচনাবোধটুকু জেগে উঠার জন্য। )
লেখা কমিয়ে দিলেও, পর পর দুদিন আবার কলম হাতে তুলে নিতে হল। ফেলানিকে খুন করার ১ বছর পার হল এই সেদিন। আর আজকে কি দেখলাম? বাংলাদেশি এক নাগরিককে নগ্ন করে পেটাচ্ছে নপুংশক ভারতীয় জারজ বাহিনী বি এস এফ।
এই খবর ইতিমধ্যে অনেক ব্লগারের সৌজন্যে আপনারা জেনে গিয়েছেন। বিন্দুমাত্র দেশপ্রেম যার ভেতর আছে, তাকেই দেখছি প্রতিবাদ করতে। অনেকের প্রতিবাদের ভাষা অশ্রাব্য হলেও, ভারতীয়দের ক্রমাগত নির্যাতন আর আওয়ামি লীগ তথা হাসিনার নির্লজ্জ দালালি থেকে সেটা বহুগুনে ভালো।
অনেকেই এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদের বিভিন্ন পথ ও পন্থার কথা নিজ নিজ পোষ্টে জানাচ্ছেন। তবে যেহেতু সামুই আমাদের বিচরণভুমি, তাহলে সামু থেকেই শুরু হোক প্রতিবাদের পথটুকু।
ঘর থেকে ইন্ডীয়ান টিভি বের করে দেয়া অনেকটাই অসম্ভব। কন্যা-জায়া-জননি-ভগ্নিকুলের মতের বাইরে গিয়ে কিছু করা সম্ভব? তাও একদিনেই? এর পরিবর্তে সামুতে যখনই কেউ ইন্ডিয়ান সিনেমার বিজ্ঞাপন দিবে(হিন্দি-বাংলা-তামিল) সেই পোষ্টে কড়া ভাষায় প্রতিবাদ করুন। ঘৃণা জানিয়ে দিন সরাসরি। সামুকে জানিয়ে দিন বাংলাদেশিদের একান্ত নিজস্ব এই সাইটে ইন্ডিয়ান ছবির বিজ্ঞাপন দেয়া যাবে না।
এখানে অনেক তথাকথিত সেলেব্রেটি ব্লগারদের কথা শুনে থাকবেন। যাদের কাজই হল ইন্ডিয়ান বিরোধী ব্লগারদের ছাগু ট্যাগিং করা আর লিস্টি বানানো। অথচ ইন্ডিয়ান আগ্রাসন এবং নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ তো দুরের কথা, এ ধরনের কোন খবর ব্লগে প্রকাশিত হলেই দলবল নিয়ে একেবারে হাওয়া। তখন তাদের টিকিটিও দেখা যায় না। এর পর আবহাওয়া ঠান্ডা হয়ে আসলে আবার উদয় হয়। ভেবে দেখুন, যারা সত্যিকারের দেশপ্রেমিক তারা ই এই রকম দ্বিমুখি আচরণ করবে? এধরণের তথাকথিতরা যখন দেশপ্রেম আর চেতনা আওড়াবে, চোখে আংগুল দিয়ে তাদের আসল রুপ সর্বসম্মুখে উন্মুক্ত করে দিন।
ভারতীয় পোস্ট আসতে পারে। তবে পোস্টদাতাকে ঘোষনা করতে হবে তিনি ভারতের নাগরিক। বাংলাদেশি নাগরিক ইন্ডিয়ানপ্রেমি পোস্ট দিবে, সেটা সামুতে চলতে দিয়ে যেতে পারে না। কিন্তু বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের পক্ষ্যে অজুহাত দেয়াটা রাজাকারি বলেই সামুকে গণ্য করতে হবে। নীতিমালায় সুস্পটভাবে এই ধারা সংযোজন করতে হবে।
ভারত বিরোধীতাকারিদের সাথে সামু বিমাতাসুলভ আচরণ করে থাকে। এটা প্রমানিত হয়েছে বহুবার। সর্বশেষ প্রমান হচ্ছে সামু কর্তৃক বর্ষসেরা ব্লগার মাহমুদুল হাসান কায়রো ভাইয়ের একটি পোস্ট স্টিকি না করা। কারণ একটাই। কারণ সেই পোস্টটিতে ভারত বিরোধী বক্তব্য ছিল। শুধু তাই না। যত ভালো লেখাই হোক না কেন, যত যৌক্তিক লেখাই হোক না কেন, অথবা পাঠকরা যতই অনুরোধ করুক না কেন, সেখানে ভারতের বিরুদ্ধে কিছু লেখা থাকলে, সেই পোষ্ট স্টিকি তো দুরের কথা, পারলে পোষ্টদাতাকে অচ্ছুৎ বানিয়ে রাখে।
সামু যেন ভুলে না যায় যে, এটি স্বাধীন বাংলাদেশের ব্লগ। ভারতের না। তাছাড়া বাংলাদেশের প্রতি ভারতের যা আচরণ, সেখানে "করেছো কলসি কানা, তাই বলে কি প্রেম দেব না" টাইপের সুশিলতা শোভা পায় না। এ ধরণের আচরণ সামু অব্যাহত রাখলে, একদিন বিক্ষুব্ধ জনতা সামুর অফিসের কঠোর প্রতিবাদ সমাবেশ করতে বাধ্য হতে পারে।
ভারতের মুখে লাথি মারার সবচেয়ে উত্তম উপায় তাকে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করা। যদি টিভি দিয়ে না পারেন, তাহলে মস্লা পাতি বা অ ন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনায় ভারতকে বয়কট করুন। তবে সেটা শুরু করতে হবে ঘর থেকেই। আর সামুও যেমন আমাদের দ্বিতীয় ঘর, তাই সামু থেকে আগেই ভাবী (ভারতীয় বীর্য)দের উত্থান বা বেড়ে উঠাকে শক্ত হাতে রুখে দিতে হবে। তাহলে এতটুকু সান্তনা থাকবে যে, বাস্তবে না পারলেও অপরবাস্তবের একটি শক্তিশালি প্লাটফর্মকে আমরা শত্রুমুক্ত করতে সক্ষম হয়েছি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

