somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কারো কাছে জন গণ মন গানটি আছে? থাকলে জলদি দিন। (প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য)

২২ শে মে, ২০১৩ সকাল ৯:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নাহ। এতদিন বড় ভুল করেছি। অনেকেই ভুল করেছে। এখন ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করতেই হবে। সময় বোধ করি বেশি নেই।

আমাদের গোয়ার গোবিন্দ পুর্বপুরুষরা প্রথম ভুলটা করেছিল। সেই ৪৭এই যদি মহান ভারত মাতার পদতলে ঠাই নিতো, তাহলে কি এত গোল হয়?

মহান ভারতের মহান প্রগতিশীল, অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীল চেতনার আলোয় যারা অনেক আগে থেকেই উদ্ভাসিত, তাদের দুরদর্শি সিদ্ধান্তকে লাল সালাম।



এই আলোর দ্যুতিতে যেখানে মাওকে ছেড়ে নেহেরুকে ধরেছেন বড় বড় শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবি, শিক্ষক, কলামিস্ট, সাংবাদিক, লেখক, পত্রিকা সম্পাদক, সংস্কৃতি কর্মি, সেখানে আমি আর আমার মত কয়েকজনের গোয়ারতুর্মি করা মুর্খতা বৈত নয়।










দীর্ঘ ৪২ বছর কঠিন সাধনার ফলে অবশেষ ভারতের আলোয় আমরা উদ্ভাসিত হতে চলেছি। এ আমাদের পরম পুণ্য।

আর এই পুণ্যকে পুর্নতা দেবার জন্য সশ্রদ্ধ সালাম জানাই, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার একমাত্র সোল এজেন্ট আওয়ামি লিগকে।

তারা না থাকলে, এ কি সম্ভব ছিল? যেখানে স্বয়ং নেহেরুই বলে গিয়েছিলেন যে, পাকিস্থান সৃস্টি হচ্ছে একটা অনাসৃস্টি, সেখানে পাকিস্থান হয়ে বাংলাদেশ তো একটা অদ্ভুতুড়ে কারবার।

ধন্যবাদ ভারতবাসিকে। ইচ্ছে করলেই ছোট্ট এই ভুখন্ডটা অনেক আগেই গিলে খেতে পারতেন তারা। আমাদের ভাগ্য সুপ্রসন্ন বলেই গোয়া দিও দমন নিজামের হায়দারাবাদের সৌভাগ্য প্রাপ্ত হতে হয়নি আমাদের।

এজন্য ভারত বিধাতার অধ্যাবসায়ের প্রশংসা না করলে খুব বড় অন্যায় হয়ে যাবে। তারা দিনের পর দিন বসে ছিলেন আমাদের ঘুম ভাঙ্গানোর আশায়। স্থুল দেশপ্রেমের নামে আমাদের ঘুম ভাঙ্গানোর জন্য তারা তাদের অহিংস সংস্কৃতি দিয়ে আমাদের অবশেষে বোঝাতে সক্ষম হয়েছেন যে, আসলেই ভারত মাতা কত মহান !


হ্যা মাঝখানে জিয়াউর রহমান নামে একজন বাগড়া দিতে চেয়েছিল। সে ঝামেলাটাও তো মিটে গিয়েছে অনেক আগেই। তার উত্তরসুরিরাই অবশ্য ভারতের প্রগতিশীল সংস্কৃতিকে আমাদের মাঝে উন্মুক্ত করার যথাযথ ব্যাবস্থা নিয়েছিলো। তাদেরকে বিশেষ ধন্যবাদ না দিলে বড় অনাচার হবে।

তবে দেশপ্রেমের ভুত নামাতে অনেক কস্ট করতে হয়েছে বৈ কি ! নইলে রক্ষণশীল ভারতীয় সমাজের চিরচারিত রুপ থেকে নারী কে বের করে উর্বশি মেনকা বানানো তো অনেক বড় ত্যাগ।



আর সেই উদ্ভিন্ন যৌবনাদের দেখে তরুণ যুবা মায় বৃদ্ধ পর্যন্ত সম্বিত হারিয়ে ফেলেছে। দেশপ্রেমের নামে এতদিন কি অখাদ্য কুখাদ্য দর্শন করছিলো তারা !



আর মহিলা সমাজের অবদান তো অবশ্যই অনস্বীকার্য। ঘুম থেকে উঠা থেকে শুরু করে ঘুমাতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত কোথায় নেই ভারতীয় চর্চা? ফ্যশান, খাওয়া দাওয়া, সিরিয়াল মায় বোলচাল পর্যন্ত ভারতীয়।



আর সেদিনকার পিচ্চি পিচ্চি বাচ্চাগুলিও তো চটজলদি হিন্দি শিখে গিয়েছে। এসবই তো পজেটিভ লক্ষণ।

আসলেই এটাই সত্য পথ। তারা আলো দেখিয়ে গিয়েছেন। তাই তো এখন আমাদের সুমতি হয়েছে।



আমি আর অন্ধকারে থাকতে চাই না। এই জন্যই এখন থেকেই দুবেলা করে জন গণ মন অধিনায়াকে গানটি জপ্তে থাকবো প্রাকটিশ না থাকলে সে অনেক লজ্জার ব্যাপার হবে।

আর তো বেশিদিন না। এর পর আমরাই বলবো, যখন অন্দর আর বাইরে দু যায়গায় ভারতের আলো পৌছে গিয়েছে, তাহলে কেন বাপু পর হয়ে দূরে দূরে থাকা?

এত লুকোছাপার কি আছে? বিশেষ করে এই মহান কাজে এত সংকোচের কোন কারণ তো আমি দেখি না।

অবশ্য আলোর পথে কাটা হয়ে যারা দেখা দিয়েছিলো, বা দিতে পারতো, তাদের তো ১৯৮১ সালে, ২০০৯ সালে এবং ২০১৩ সালে চিরতরে চুপ করিয়ে দেয়া হয়েছে।

বাকিরা অনেকে হয়তো চক্ষুলজ্জার খাতিরে মুখ ফুটে কিছু বলছে না। কিন্তু আমি নিশ্চিত, যে দুই তৃতিয়াংশ ভোটে ক্ষমতাসীন সরকার খালি লিখে দিলেই হয়ে গেলো। কেঊ ট্যা ফো করবে না। করলেই কি? পুলিশ র‍্যাব আর্মি আইন আদালত মিডিয়া সবই তো আপনাদেরই। কার ঘাড়ে কটা মাথা যে উচু গলায় কিছু বলবে?

তখন বাংলাদেশ স্বর্গ হয়ে যাবে গো ! তখন আর দিনের পর দিন লাত্থি উস্টা খেয়ে ভিসার জন্য লাইন দিতে হবে না। ইচ্ছে হলো, তো চলো দিল্লি, চলো বোম্বে, চলো কলকাতা। কে মানা করেছে। ট্রেনে বাসে চেপে বসলেই হলো।

চোরাচালানি বলে কিছু থাকবে না। বিএসএফও আর পাখির মত আমাদের মারবে না। ফেলানিরা ঝুলে থাকবে না কাটাতারের বেড়ায়।

আর যারা এতদিন ভারতের জুজু দেখাতো, তাদের মুখেও বেশ দু ঘা পড়বে। ব্যাটা মুর্খের দল। ভারতের মত মহান দেশের অঙ্গরাজ্য হলেও যে অনেক সম্মান। সবাই তখন আলাদা খাতির করবে।

তাই বলি, গানটা থাকলে আমাকে দিন। আর হ্যা। রাস্ট্রভাষা হিন্দিও যে শিখতে হবে। কেউ শেখাবেন আমায় দয়া করে? কারণ একই দেশের বাসিন্দা হতে চলেছি। তাদের ভাষা না জানলে সৌহার্দ্য হবে কি করে?




কথাবার্তা চালচলন ইত্যাদিদের তাদের মত স্মার্ট হবার জন্য ধুতি পড়াটাও জরুরি। নেহেরু কোট পড়তে অসুবিধা হবে না। কারণ একই প্যা্টার্নের মুজিব কোর্ট তো খুবই সহজ লভ্য। আর উত্তরীয় চল তো আমাদের প্রগতিশীল সমাজে সেই কবে থেকেই চলছে।

আমাদের প্রধানমন্ত্রিকে উদ্দেশ্য করেই বলছি। এত ঢাক গুরগুর সহ্য হচ্ছে না আমার। আপনি কি চুরি করেছেন যে ঢাকাঢাকি করতে হবে? এই যে নারায়নগঞ্জে টার্মিনাল নির্মানের টেন্ডার ভারতে ডাকা হয়েছে, এই কথা গোপন করার দরকার ছিল কোন?



অনেক হয়েছে বাপু ! এইবার ঘোষণাটা দিয়েই দিন। কে ঠেকাবে আপনাকে? আপনি তো দুই তৃতিয়াংশ ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রি। তার উপর আবার ভারত বিধাতা আর বিশ্ব বিধাতার নয়নমণি।

তাই শুভস্য শিঘ্রম। শুভ কাজে দেরি নয়। জয় ভারত মাতার জয়।

ছবি কৃতজ্ঞতা গুগোল মামু আর ফেবু।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে মে, ২০১৩ সকাল ১০:০১
৪১টি মন্তব্য ৪১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×