somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রেডিও নেদারল্যান্ডের সাথে দেয়া বৃটিশ মানবাধিকার কর্মী ও যুদ্ধাপরাধ বিশেষজ্ঞ টবি ক্যাডম্যানের সাক্ষাৎকার

১৪ ই আগস্ট, ২০১১ সকাল ১১:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বৃটিশ মানবাধিকার কর্মী টবি ক্যাডম্যান জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিদেশী আইনজীবী। শুক্রবার রাজধানীর হোটেল পূর্বাণীতে নাগরিক ফোরাম আয়োজিত বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সেমিনারে অংশ নেয়ার কথা ছিল এ বৃটিশ আইনজীবীর। সেমিনারের বিষয়বস্তু ছিল ‘Independence of Judiciary and the Criminal Justice System of Bangladesh is the International Crimes Tribunal A Rubber Stamp'

পুরো সাক্ষাৎকারটি নিচে তুলে ধরা হলো:

প্রশ্ন: আপনি যখন বিমানবন্দরে পৌঁছেন তখন কী হয়েছিল?

টবি ক্যাডম্যান: আমি সরাসরি বিমানবন্দরে পৌঁছে ভিসার জন্য আবেদন করি। আমি ইমিগ্রেশন অফিসারকে আমার ঢাকা আসার কারণ বলি। তারা আমাকে বলে এটা কী আনন্দ ভ্রমণ নাকি কোন কাজের জন্য। অফিসিয়াল ট্যুর। আমি তাদের বলি এটা অফিসিয়াল ট্যুর। আমি তাদের জানাই, আমি একটি সেমিনারে অংশগ্রহণ করার জন্য এসেছি, পাশাপাশি আমি কূটনৈতিক মহলেও বিভিন্ন সভায় অংশ নিবো। ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় ফি দিতে আমি প্রস্তুত আছি। তখন অফিসার ৭ দিনের জন্য সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসার সিল দেন। এসময় তিনি তার কলিগদের সাথে বাংলায় কী যেন বলেন। সে সময় তিনি কিছু ডকুমেন্ট বের করেন যেখানে আমার নাম রয়েছে। এরপর আমাকে জানানো হলো, ভিসা হবে না। আমাকে বলা হলো, আমাকে ফেরত যেতে হবে। আমাকে দুবাই এর একটি ফ্লাইটে ফিরে যেতে বলা হলো। কিন্তু ততক্ষণে সেই ফ্লাইটের বোর্ডিং হয়ে গেছে। ইতোমধ্যে ফ্লাইটটি পূর্ণ হয়ে গেছে। আমি অপেক্ষা করতে থাকলাম। এবং বৃটিশ হাই কমিশনে যোগাযোগ করি, প্রয়োজনীয় সহযোগিতার জন্য।

প্রশ্ন: ইমিগ্রেশন অফিসার আপনাকে কী বলেছিল?

টবি ক্যাডম্যান: আসলে খুব কম কথাই বলেছিল। সিনিয়র অফিসার আমাকে বললো, তিনি শুধু উপরের নির্দেশ ফলো করেছেন মাত্র। আমি বুঝতে পারছিলাম, তারা কোন কারণ দাঁড় করাতে পারছিল না। তবে তারা বলছিল, আমার কোন একটা কাগজ নেই। আমি বলতে পারি, এটা একবারেই অসত্য কথা। তারা আমার সামনে কিছু ডকুমেন্ট দেখাচ্ছিল, আর বাংলায় নিজেরা কথা বলছিল, এর মধ্যে সামান্যই ইংরেজিতে তারা কথা বলে। সেই ডকুমেন্টে আমার নাম, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও জামায়াত নেতাদের নাম ছিল। এরপর আমাকে স্পষ্টই জানানো হলো, আমি অবশ্যই বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারবো না এবং আমাকে চলে যেতে হবে। আমি এমিরাট্স এর পরবর্তী ফ্লাইটে দুবাই যাওয়ার জন্য বোর্ডিং সংগ্রহ করি এবং ১২ ঘণ্টা পর ঢাকা ত্যাগ করি।

প্রশ্ন: আপনি কী জানেন কেন আপনাকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেয়া হলো না?

টবি ক্যাডম্যান: আমার কাছে এটা স্পষ্ট হয়েছে, নির্দেশ থাকার কারণেই আমাকে ভিসা দেয়া হয়নি। এটা নিয়ে নানা কথা হচ্ছে। যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদের পক্ষে কাজ করার কারণেই আমাকে ভিসা দেয়া হয়নি। এ ছাড়া আর কোন কারণ থাকতে পারে বলে আমি মনে করি না।

প্রশ্ন: আপনি কী আসার পূর্বে ভিসার জন্য আবেদন করেছিলেন?

টবি ক্যাডম্যান: না। কারণ আমি বসনিয়া থেকে আসছিলাম। আমি সেখানে অবকাশ কাটাচ্ছিলাম। (আমার স্ত্রী বসনিয়ান)। সেখানে বাংলাদেশের কোন দূতাবাস বা কন্সোলেট নেই। তাই আমি এয়ারপোর্টে এসে ভিসার আবেদন করি। এটাই আমার প্রথম নয়, ইতোঃপূর্বে আমি অনেকবার বাংলাদেশে এসেছি। রাষ্ট্রদূত র‌্যাপ এর সাথে সফরের সময়, লন্ডনস্থ বাংলাদেশের হাই কমিশন থেকেও আমাকে এভাবে ভিসার নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছিল। ইতিপূর্বে আমি হাই কমিশনে ভিসার আবেদন করলে তারা জানিয়েছিল এ জন্য ২ সপ্তাহ সময় লাগবে। কিন্তু আমাকে ৫ দিনের মধ্যে ঢাকা আসতে হবে। তাই তখন তারা বলেছিল, এভাবে এয়ারপোর্টে ভিসা নিতে হবে।

প্রশ্ন: আপনি বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেননি, এ কারণে অভিযুক্তদের স্থানীয় আইনজীবীদের জন্য কোন সমস্যা মনে করছেন কী?

টবি ক্যাডম্যান: অবশ্যই এটা একটা সমস্যা। আমি একজন আইনজীবী হিসেবে এর সাথে যুক্ত। আমাকে বাংলাদেশের ডিফেন্স টিমের সাথে কোর্ট রুমে এক সাথে কাজ করার কথা ছিল। সেখানে সক্ষম এবং প্রত্যয়ী তরুণ আইনজীবী রয়েছে। কিন্তু এই ফিল্ডে (যুদ্ধাপরাধ) তারা একেবারেই নতুন। এবং এজন্য আমাদের সহযোগিতা তাদের প্রয়োজন। তাই আমি যদি বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারি, তাহলে বাংলাদেশে তাদের পক্ষে কার্যকরভাবে কাজ করা সম্ভব হবে না।

প্রশ্ন: আপনার কী আর কিছু বলার আছে ?

টবি ক্যাডম্যান: আমি সচেতনভাবেই আশাবাদী, আমার পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য আমি ভিসা পাবো। বিচারকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য কোন কাজ আমি করছি না। আমি চাই, অপরাধী সঠিকভাবেই নির্ণীত হোক। আমি চাই তারা সঠিক ও স্বচ্ছভাবেই তা নিশ্চিত করবে।
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×