ক’দিন আগে পিএসসি’র ভাইভা বোর্ড নিয়ে একটি লেখা লিখেছিলাম। একটি কমেন্ট পড়ে ভাবলাম চাকুরীর পরীক্ষা নিয়ে আরো লেখা যায়। এতে কারো না কারো উপকার হতে পারে। উপজেলা শিক্ষা অফিসার পদে ভাইভা দিয়ে সিদ্ধান্ত নেই বিদেশে চলে আসার। আমি যখন বারবার ভাইভা বোর্ড থেকে ফিরছিলাম, খুব খারাপ লাগছিল, ভেঙ্গে পরেছিলাম অনেকটা। কি করব, কি করা উচিত এইসব ভেবে ভেবে দিশেহারা।
সব ঠিক আছে আবার কোথাও কিছু ঠিক নেই। ভাইভা নামক মেধা যাচাই এর আবরনে একটা দূর্নীতির দেয়াল টপকাতে আমাদের মত হাজারো তরুন বেছে নেয় টাকার খেলা। আমার খুব কাছের বন্ধু দিনে ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে, ভাল ছেলে হিসেবে সমাজে পরিচিত, বেয়াদবী নেই, খারাপ ব্যবহার নেই কারো সাথে, পরীক্ষার ফলাফল ভাল কিন্তু আমার সামনে ৬৫০০০ টাকা দিয়ে যুব উন্নয়ন এর ‘কৃষি প্রশিক্ষক’ পদে চাকুরি পেতে বিন্দুমাত্র বাধে না তার। আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম টাকা দিতে তোর কি খারাপ লাগছে না? সে বলেছিল…এরকম ব্যকডেটেড চিন্তা কেন করছি আমি? আমি বলেছিলাম তোদের এই টাকার খেলায় আমিতো তাল্ মিলাতে পারছি না্রে। আমি কি তবে চাকুরী করব না? বক্তব্য এরকম-তুই পেয়ে যাবি ভাবিস না…আমি জানি কোনদিন টাকার সাথে এভাবে আপোষ করতে পারব না আর চাকুরীও পাব না। আর আমি জিনিয়াসও নই। ক’দিন পরে আমার বন্ধুবর আমাকে এসে বলল-সেদিন যে ৬৫০০০ টাকা দিয়েছিলাম সেটা তুলে আনতে হবে কারন সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ লাখ টাকায় লেকচারার হওয়া যাবে। আমার বন্ধুটি ৫০০০০ টাকা ফেরত পেল। ১৫০০০ টাকা সার্ভিস চার্জ হিসেবে রেখে দিয়েছে। আহহহহহ কত বড় ব্যবসা আর শিল্প কর্ম। পরবর্তীতে বন্ধু আমার শিক্ষক হিসেবে চাকুরিতে যোগ দেয়। আর আমি চেয়ে চেয়ে দেখি……তাদের কত চাকুরী, আমাদের নেই; তাদের জীবন নিয়ে কত ভাবনা, আমাদের নেই; তাদের প্রতিষ্টিত হবার কত তারনা, আমাদের নেই; তাদের ঘর-সংসার সাজানোর কত সখ, আমাদের নেই। আমরা যে যুগের সাথে তাল মিলাতে পারিনা!
যাই হউক বিদেশে স্কলারশিপ হয়ে যায় আর সাথে সাথে প্রিলিমিনারী/রিটেন/ভাইভা এসব দিতে থাকি কিন্তু ততদিনে বিদেশে চলে আসবার মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে ফেলি। বিদেশে চলে আসব প্রায় ২ মাস বাকি। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন এ লিখিত পরীক্ষার ডেট পরে। আমি খুব আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করি পরীক্ষা দিতে যাব। না চাকুরীর আশায় নয়…বন্ধুদের সাথে অনেকদিন্পর, পরিচিত কৃষিবিদ দের সাথে দেখা হয়ে যাবে-বিদেশ চলে গেলে আর কবে না কবে দেখা হয়। বাড়ি থেকে বেরুচ্ছিলাম- মা মাথায় হাত রেখে বলছিলেন, আশীর্বাদ করি যেন ভাল পরীক্ষা হয়। আমি মাকে বলেছিলাম এই আশীর্বাদ করো না মা আমারতো একটা গতি হয়েছে, যাদের কোন গতি হয়নি তারা যেন চাকুরী পায়। মা হাসেন আর বলেন তাও আমার ছেলে পরীক্ষা দিতে যাচ্ছে আর আমি আশীর্বাদ করব না! আমিতো জানি মায়ের এই আশীর্বাদ করা যেন ছেলেকে বিদেশ যেতে না হয়।
আমি কিছু পড়িনি। পরীক্ষা ভাল হবার সম্ভাবনাও নেই। গেলাম পরীক্ষা দিতে। ধানমন্ডি গভঃ বয়েজ এ সিট পড়েছে। শত শত কৃষিবিদ। সবার সাথে দেখা হয়ে ভাল লাগছে, খুব মজা করছিলাম, সবাইকে জ্বালাতনও করছিলাম কদিন পরে বিদেশ চলে যাচ্ছি দেখা হবেনা অনেকের সাথেই আর। কিন্তু আমার মতো সবার মন চিন্তামুক্ত না। পরীক্ষায় টিকতে হবে। যাই হউক পরীক্ষার হল এ ঢুকলাম। অনেক সময় নিয়ে পরীক্ষা, অনেক অংক, বড় প্রশ্ন, কত্তকি, আমার তর সইছে না। কখন পরীক্ষা শেষ হবে, বন্ধুদের সাথে আবার দেখা হবে, মাঝে একবার বেরুলামও। পরীক্ষা শেষ হল। মজার ব্যাপার হল পরীক্ষা অনেক ভাল হয়েছে-অন্যদের থেকেও।
যেদিন বিদেশ চলে আসব তার ৪/৫ দিন আগে আমাদের বাড়িতে ভাইভা কার্ড এল বিএডিসি’র। আমি একদম প্রত্যাশা করিনি। আমার চলে আসার দিন ২৬ ফেব্রুয়ারী আর ভাইভা’র ডেট পড়েছে ২৭ ফেব্রুয়ারী। পূর্ব অভিজ্ঞতা বলে আমার সিদ্ধান্ত নিতে ভাবতে হয়নি। চলে আসি ২৬ এ। কিন্তু ২ টা বিষয় আমাকে ভাবায়। আমাদের প্রাত্যাহিক জীবনে খুব দরকার-
১। মা’য়ের আশীর্বাদ
২। আত্ববিশ্বাস
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে মে, ২০১০ দুপুর ১২:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



