somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্পঃ লিমি (২য় পর্ব)

১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১০ বিকাল ৫:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তিনঃ লিরার সাথে এখন অমির ভালই বন্ধুত্ব। কিন্তু বন্ধুত্বটা ইন্টারনেট থেকে এখনও বের হয়ে আসেনি। তাতে কি এসে যায়। লিরা ঢাকাতে ফিরেছে ক’দিন হল। প্রায় প্রতিদিন ফেসবুকে ম্যসেজ করছে, অমি রিপ্লাই দিচ্ছে, অমি এর বেশী ভাবে না আবার আশাও করেনা। এদিকে ক্লাস চলছে বোল্ট গতিতে। প্রতিদিন পড়া, প্রাকটিক্যাল লেখা, ল্যাব ওয়ার্ক করা। অমির মাস্টার্স সেকেন্ড সেমিস্টার চলছে হর্টিকালচার এ। এই সেমিস্টার শেষ হলে ভালভাবে রিসার্স এর কাজে মনযোগ দিতে হবে। পড়া শেষে বিদেশ যাওযার কোন ইচ্ছা তার নেই। আশা করা যায় দেশে একটা ভাল চাকুরী হয়ে যাবে। অমির বন্ধুরা এর মাঝে পেয়েও গেছে। কিন্তু অমির ইচ্ছা মাস্টার্স শেষ করা আগে। পরে আর হয়ে উঠবে না হয়তঃ।
এর মাঝে বানিজ্য মেলা শুরু হয়েছে। অমিদের বিশ্ববদ্যালয়ের কাছে বিধায় যে কোন সময় যেতে পারে আর ওদের জন্যে টিকিট ফ্রী প্রবেশ। তাই মাঝে মাঝে নুরসহ অন্যদের সাথে বানিজ্য মেলায় যায় আড্ডা দিতে বা সময় কাটাতে। অমি একদিন বিকেলে লিরাকে ফোন দেয়। কথার মাঝে বলে—
আমাদের এখানে বানিজ্য মেলা দেখেছ? অনেক সুন্দর। আমার ধারনা তোমাদের কলকাতাতে এতো সুন্দর মেলা হয় না। একদিন সময় করে দেখে আসতে পার। তোমার ভাল লাগবে।
যেতে পারি কিন্তু আমার যে প্রতিদিন ল্যাবে যেতে হয়। ল্যাব শেষ করে ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যা হয়ে যায়। তখন আর কোথাও যেতে মন চায় না আবার একা একা বাড়িতে ভালও লাগে না।
তুমি ছুটির দিনে আসতে পার—অমি বলে।
আচ্ছা আমি একদিন দেখে আসব। এতো প্রশংসা যেহেতু করেছ না দেখি কেমন করে। ওকে অমি আজ রাখছি—পরে আবার কথা হবে। লিরার খুব ইচ্ছা করছিল অমি তাকে আসতে বলুক। কিন্তু ছেলেটা এমন করে নিজেকে লুকিয়ে রাখে কেন?

ক্যাম্পাসে অনেক ফুল ফুটেছে। এই সময়টায় বেশ ভাল লাগে দেখতে। ঢাকাতে এতো সুন্দর ফুলের সমারোহ আর কোথাও আছে কিনা অমির জানা নেই। বিকেল বেলা অমি আর নূর টাওয়ার এ বসে সিগারেট ফুকছিল। অমির সিগারেট ধরাটা নতুন। বাদামওয়ালা কাছে এল। বাদাম চিবুচ্ছে। ভুত দেখার মত অমি দেখল লিরা ওদের ক্যাম্পাসে। কনকের সাথে হাঁটছে। ভাল যেমন লাগল, খারাপও লাগল। লিরা তাকে একবারের জন্যেও বল্ল না যে তাদের ক্যাম্পাসে আসছে। লিরা আর কনক ওদের দিকেই আসছে।
কনক কাছে এল--কিরে তোরা এখানে কি করিস?
এইতো তেমন কিছু না…অমি বল্ল। লিরা তুমি কখন এলে?
এইতো একটু আগে। তোমাদের ক্যাম্পাসটা ঘুরে ঘুরে দেখছিলাম। এতো সুন্দর আর কত ফুল ফুটেছে।
লিরা শোন ও আমার বন্ধু নূর। ওর সাথে তোমার পরিচয় হয়নি মনে হয়।
হাই নূর তোমার কথা শুনেছি অমির কাছ থেকে। কিন্তু জানতো অমি আমাকে কখনো তোমাদের এখানে আসতে বলেনি। একবারও নিমন্ত্রন করেনি তোমাদের এই চমতকার পরিবেশে। যদি আজ তোমাদের সময় থাকে চল একসাথে বানিজ্য বেলা থেকে ঘুরে আসি। কি অমি যাবে? তোমার কি সময় হবে?
চল সবাই ঘুরে আসি…কনক বলে।
ওরা রাজি হয়ে যায়। আর অমির তো মন বলছিলই যেখানে লিরা যাচ্ছে সেখানে যেতে। আর কেন জানি কিছুটা হিংসা হচ্ছিল কনকের সাথে লিরাকে দেখে।

চারঃ প্রায় ১০ দিন হয়ে গেল লিরার সাথে অমির শেষ দেখা। মাঝে কথা হয়েছে ফোনে আবার নেটে। আজ বিকেল বেলা অমি একা বসেছিল হলের সামনে। কি মনে করে লিরাকে ফোন দিল।
তুমি কি ব্যস্ত আছ? না হলে তোমাকে নিয়ে এক জায়গায় যেতাম। অবশ্য তোমার যদি আপত্তি না থাকে।
আরে বাবা বলই না কোথায় যাবে। তোমার এতো ফরমালিটি করা লাগবে না। না আমি ব্যস্ত নেই। একটু পরেই ফ্রি হচ্ছি। বল কোথায় নিয়ে যাবে আমায়।
বইমেলা চলছে ঢাকাতে। তুমিতো মনে হয় ঢাকা ইউনিভার্সিটি চিন। ওখানেই বাংলা একাডেমীতে চলছে বইমেলা। আমাদের বইমেলা আমাদের অহঙ্কার। এর সাথে জড়িয়ে আছে ভাষা আন্দোলন। বাঙ্গালী হিসেবে তুমিও জান নিশ্চয়ই। চল ঘুরে আসি।
ঠিক আছে চল। ঠিক ৫ টায় আমি ব্যন্সডক এর সামনে দাঁড়াব। তুমি কিন্তু দেরী করনা। বাইরে বেশীক্ষন অপেক্ষা করতে ভাল লাগে না।
আমি ঠিক ৫টায় থাকব। চিন্তা করো না। অমি এই বলে ফোনটা রেখে রুমে যায়। আয়নার সামনে দাঁড়ায়। আসলে নিজেকে দাঁড় করায়। অমি তুমি কি লিরার প্রতি আস্তে আস্তে দূর্বল হয়ে পড়ছ?
১০টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অনুকুলে নয় শেখ হাসিনা (আপা) প্রতিকুল পরিস্থিতিতেই বেশি অকুতোভয়।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৪




একদিকে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন তিনি দেশে ফিরছেন, আরেকদিকে তিনি প্রায় নিশ্চিন্ন করে দেয়া আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠন করে ফেলেছেন! এবং সেই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের অগণতান্ত্রিক, ভয়ঙ্কর এবং অবৈধ রাজনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির আবালীপনা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮

বিএনপি ৫০ হাজার নাচের শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। যার পেছনে ১০ বছরে ব্যায় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা দিয়ে ফুল প্যাকেজ ৩০ টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×