তিনঃ লিরার সাথে এখন অমির ভালই বন্ধুত্ব। কিন্তু বন্ধুত্বটা ইন্টারনেট থেকে এখনও বের হয়ে আসেনি। তাতে কি এসে যায়। লিরা ঢাকাতে ফিরেছে ক’দিন হল। প্রায় প্রতিদিন ফেসবুকে ম্যসেজ করছে, অমি রিপ্লাই দিচ্ছে, অমি এর বেশী ভাবে না আবার আশাও করেনা। এদিকে ক্লাস চলছে বোল্ট গতিতে। প্রতিদিন পড়া, প্রাকটিক্যাল লেখা, ল্যাব ওয়ার্ক করা। অমির মাস্টার্স সেকেন্ড সেমিস্টার চলছে হর্টিকালচার এ। এই সেমিস্টার শেষ হলে ভালভাবে রিসার্স এর কাজে মনযোগ দিতে হবে। পড়া শেষে বিদেশ যাওযার কোন ইচ্ছা তার নেই। আশা করা যায় দেশে একটা ভাল চাকুরী হয়ে যাবে। অমির বন্ধুরা এর মাঝে পেয়েও গেছে। কিন্তু অমির ইচ্ছা মাস্টার্স শেষ করা আগে। পরে আর হয়ে উঠবে না হয়তঃ।
এর মাঝে বানিজ্য মেলা শুরু হয়েছে। অমিদের বিশ্ববদ্যালয়ের কাছে বিধায় যে কোন সময় যেতে পারে আর ওদের জন্যে টিকিট ফ্রী প্রবেশ। তাই মাঝে মাঝে নুরসহ অন্যদের সাথে বানিজ্য মেলায় যায় আড্ডা দিতে বা সময় কাটাতে। অমি একদিন বিকেলে লিরাকে ফোন দেয়। কথার মাঝে বলে—
আমাদের এখানে বানিজ্য মেলা দেখেছ? অনেক সুন্দর। আমার ধারনা তোমাদের কলকাতাতে এতো সুন্দর মেলা হয় না। একদিন সময় করে দেখে আসতে পার। তোমার ভাল লাগবে।
যেতে পারি কিন্তু আমার যে প্রতিদিন ল্যাবে যেতে হয়। ল্যাব শেষ করে ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যা হয়ে যায়। তখন আর কোথাও যেতে মন চায় না আবার একা একা বাড়িতে ভালও লাগে না।
তুমি ছুটির দিনে আসতে পার—অমি বলে।
আচ্ছা আমি একদিন দেখে আসব। এতো প্রশংসা যেহেতু করেছ না দেখি কেমন করে। ওকে অমি আজ রাখছি—পরে আবার কথা হবে। লিরার খুব ইচ্ছা করছিল অমি তাকে আসতে বলুক। কিন্তু ছেলেটা এমন করে নিজেকে লুকিয়ে রাখে কেন?
ক্যাম্পাসে অনেক ফুল ফুটেছে। এই সময়টায় বেশ ভাল লাগে দেখতে। ঢাকাতে এতো সুন্দর ফুলের সমারোহ আর কোথাও আছে কিনা অমির জানা নেই। বিকেল বেলা অমি আর নূর টাওয়ার এ বসে সিগারেট ফুকছিল। অমির সিগারেট ধরাটা নতুন। বাদামওয়ালা কাছে এল। বাদাম চিবুচ্ছে। ভুত দেখার মত অমি দেখল লিরা ওদের ক্যাম্পাসে। কনকের সাথে হাঁটছে। ভাল যেমন লাগল, খারাপও লাগল। লিরা তাকে একবারের জন্যেও বল্ল না যে তাদের ক্যাম্পাসে আসছে। লিরা আর কনক ওদের দিকেই আসছে।
কনক কাছে এল--কিরে তোরা এখানে কি করিস?
এইতো তেমন কিছু না…অমি বল্ল। লিরা তুমি কখন এলে?
এইতো একটু আগে। তোমাদের ক্যাম্পাসটা ঘুরে ঘুরে দেখছিলাম। এতো সুন্দর আর কত ফুল ফুটেছে।
লিরা শোন ও আমার বন্ধু নূর। ওর সাথে তোমার পরিচয় হয়নি মনে হয়।
হাই নূর তোমার কথা শুনেছি অমির কাছ থেকে। কিন্তু জানতো অমি আমাকে কখনো তোমাদের এখানে আসতে বলেনি। একবারও নিমন্ত্রন করেনি তোমাদের এই চমতকার পরিবেশে। যদি আজ তোমাদের সময় থাকে চল একসাথে বানিজ্য বেলা থেকে ঘুরে আসি। কি অমি যাবে? তোমার কি সময় হবে?
চল সবাই ঘুরে আসি…কনক বলে।
ওরা রাজি হয়ে যায়। আর অমির তো মন বলছিলই যেখানে লিরা যাচ্ছে সেখানে যেতে। আর কেন জানি কিছুটা হিংসা হচ্ছিল কনকের সাথে লিরাকে দেখে।
চারঃ প্রায় ১০ দিন হয়ে গেল লিরার সাথে অমির শেষ দেখা। মাঝে কথা হয়েছে ফোনে আবার নেটে। আজ বিকেল বেলা অমি একা বসেছিল হলের সামনে। কি মনে করে লিরাকে ফোন দিল।
তুমি কি ব্যস্ত আছ? না হলে তোমাকে নিয়ে এক জায়গায় যেতাম। অবশ্য তোমার যদি আপত্তি না থাকে।
আরে বাবা বলই না কোথায় যাবে। তোমার এতো ফরমালিটি করা লাগবে না। না আমি ব্যস্ত নেই। একটু পরেই ফ্রি হচ্ছি। বল কোথায় নিয়ে যাবে আমায়।
বইমেলা চলছে ঢাকাতে। তুমিতো মনে হয় ঢাকা ইউনিভার্সিটি চিন। ওখানেই বাংলা একাডেমীতে চলছে বইমেলা। আমাদের বইমেলা আমাদের অহঙ্কার। এর সাথে জড়িয়ে আছে ভাষা আন্দোলন। বাঙ্গালী হিসেবে তুমিও জান নিশ্চয়ই। চল ঘুরে আসি।
ঠিক আছে চল। ঠিক ৫ টায় আমি ব্যন্সডক এর সামনে দাঁড়াব। তুমি কিন্তু দেরী করনা। বাইরে বেশীক্ষন অপেক্ষা করতে ভাল লাগে না।
আমি ঠিক ৫টায় থাকব। চিন্তা করো না। অমি এই বলে ফোনটা রেখে রুমে যায়। আয়নার সামনে দাঁড়ায়। আসলে নিজেকে দাঁড় করায়। অমি তুমি কি লিরার প্রতি আস্তে আস্তে দূর্বল হয়ে পড়ছ?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




