১। তালের শাঁসঃ
তালের শাঁস আপনারা সবাই চেনেন কোন সন্দেহ নেই। আর সাথে সাথে তালের শাঁস পছন্দ করেন না এমন মানুষও পাওয়া যাবে না। প্রতিটি ফলে সাধারনত তিনটি বীজ হয়। কচি তাল বা তালের শাঁসে আর্দ্রতার অংশ বেশি। কচি তালে আছে প্রচুর পরিমাণে খনিজ লবণ।
২। তালের রসঃ
তাল পেকে গেলে তাল থেকে রস আহরন করে জ্বাল দিয়ে ঘন করে নেওয়া হয়। বেশ ঘন হয়ে গেলে তালের রস মুড়ি দিয়ে মেখে বা মুড়ি-চিরা-গুড়-দুধ একসাথে মেখে খেতে বেশ দারুন লাগে।
৩। পাতা পিঠাঃ
তালের রসের সাথে চালের গুড়া-গুড়-সামান্য লবন-মিশিয়ে ঘন করে চিকন করে কাটা কলাপাতার উপর হাত দিয়ে পাতলা করে লেপ্টে দেওয়া হয়। তারপর তাওয়াতে দিয়ে চুলাতে বসিয়ে এপাশ-ওপাশ করে ৩/৪ মিনিট পরে নামিয়ে নিলে তালের কলাপাতা পিঠা হয়ে যায়।
৪। তালের রসবড়াঃ
এটি প্রায় সবারই চিনার কথা। আমরা সবাই ছোটবেলায় খেয়েছি—এখনো সুযোগ পেলেই খাই। আমার মনে হয় বিস্তারিত লেখার দরকার নেই—ছবি দিলেই যথেষ্ঠ।
৫। তালের রসের লাড্ডুঃ
আমি চাঁদপুরে খেয়েছি। রসে তস তস করে। দেখতে অনেকটা রসগোল্লার মত। কি দিয়ে বানায় জানতে পারিনি।
৬। তালের পায়েসঃ
তালের রস, ঘন দুধ, নারিকেল, চিনি, একসঙ্গে মিশিয়ে অনেকক্ষণ চুলায় জ্বাল দিন। এটা অবশ্য পর পর দু’তিন দিন জ্বাল দিলে ভালো হয়। এভাবে জ্বাল দেয়ার পর মিশ্রণটি ঘন হয়ে এলে ফ্রিজে রেখে ঠাণ্ডা করে খেলে ভালো লাগবে।
৭। তালের খুমঃ
তালের বীজ থেকে তাল তুলে নেওয়ার পর বীজগুলিকে ছাই এর স্তুপের নীচে রেখে দিন। এভাবে প্রায় ১ থেকে ২ মাস। তারপর যখন দেখবেন অঙ্কুরোদ্গম হয়ে ৬ইঞ্চি থেকে ১ ফুট পর্যন্ত হয়েছে বীজগুলো তুলে নিন। পানিতে ভাল করে ধৌঁত করে নিন। তারপর শক্ত কোন কিছুর উপর রেখে মাঝ বরাবর দা দিয়ে কেটে নিন। সাবধানে কাটবেন বীজ খুব শক্ত থাকে। তারপর দেখবেন ভিতরে কি সুন্দর খুম (ভাল নাম জানি না) অপেক্ষা করছে আপনাদের জন্যে। বের করে খেয়ে নিন—যেমন মিষ্টি তেমন মজা। এগুলো দিয়ে নিরামিষ সবজিও রান্না করা যায়।
এরকম অবস্থায় ১/২ মাস রেখে দিতে হয়ঃ
অন্যান্য খাবারঃ
পরিশেষে তাড়ির কথা আর কি বলব! তাড়ি খেয়ে মাতাল হলে আমার কোন দোষ নাই।
এছাড়া তালের ক্ষীরসা, তালের গুড় সহ অন্য অনেক ধরনের খাবার তৈরী হয় বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে।
ছবিসুত্রঃ গুগলে সার্চ দিয়ে নেয়া।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ রাত ১০:১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


