ফুলের গল্প
শামীমুল হক
ওর নাম হাসনা হেনা। ফুলের নামে নাম। মামাত ভাই সুহানের চেয়ে বছর দুয়েকের ছোট। হাসনা সবেমাত্র কলেজে ভর্তি হয়েছে। সুহান পড়ে অনার্সে। একই কলেজের শিক্ষার্থী তারা। সুহান নানা বাড়ি থেকেই লেখাপড়া করে। তাই দুজন একসঙ্গে কলেজে যায়। আবার একসঙ্গে ফিরে আসে। ফুলের নামে নাম বলে সুহান হাসনাকে ফুল বলেই ডাকে। গ্রাম থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে শহরে কলেজ তাদের। আসা- যাওয়ার পথেই তাদের মধ্যে ভাব জমে ওঠে। একে অপরকে ভালবেসে ফেলে। তাদের নিয়ে সন্দেহ করতে থাকে পাড়া প্রতিবেশিরা। পরিবার থেকেও আপত্তি আসতে থাকে। কিন্তু না কোন বাধাই তাদের আটকাতে পাড়েনা। হাসনাদের বাড়ির চারপাশে উঁচু দেয়াল ঘেরা। এর ভেতরে আম, কাঠালের বাগান। এ বাগানের পাশে বড় পুকুর। সবাই ঘুমিয়ে পড়লে প্রায় রাতেই সুহান- হাসনা পুকুর পাড়ে গিয়ে মনের কথা বলত। জীবনের কথা। স্বপ্নের কথা। এক রাতের কথা- সময় তখন রাত ২টা। সুহান- হাসনা পুকুর পাড়ে বসে কথা বলছে। হঠাৎ এক ধমকা হাওয়া এসে তাদের হালকা ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। ভয় পেয়ে যায় হাসনা। সুহানকে বলে, চল আমরা ঘরে যাই। সুহানও কিছুটা ভয় পেয়েছিল। তাই সেও দ্রুত ওঠে পড়ে। তারা যার যার ঘরে গিয়ে শুয়ে পড়ে। হাসনারতো আর ঘুম আসেনা। বার বার কল্পনা। ধমকা হাওয়া ছিল গরম। তাহলেকি কোন ভূত কিংবা জ্বিন ফুঁ দিয়ে গেছে। ভাবতে ভাবতে সকাল হয়ে যায়। এরই মধ্যে হাসনার শরীর গরম হতে থাকে। বেলা গড়াচ্ছে। এখনও ঘুম থেকে উঠছেনা দেখে হাসনার মা ঘরে আসে। ডাকে হাসনাকে। কোন জবাব নেই। গাঁয়ে হাত দিয়ে ডাকতে যাবে দেখে জ্বরে গাঁ পুড়ে যাচ্ছ্।ে
হাসনা ও হাসনা। মা ডাকে।
জ্জরে হাসনার এমন অবস্থা জবাব দিতেও মন চাইছেনা।
আবারও মার ডাক- হাসন ও হাসনা?
এবার হাসনা অনেক কষ্টে জবাব দেয়। মা বল?
মা বলেন, কি হয়েছে তোর? গাঁ পুড়ে যাচ্ছে জ্বরে।
এ কিছুনা মা। ঠিক হয়ে যাবে।
মা দ্রুত বালতি দিয়ে পানি নিয়ে এসে মাথায় দিতে থাকে।
দীর্ঘক্ষণ পানি দেয়ার পরও জ্বর নামছে না। ভয় পেয়ে যায় মা। ডাকা হয় ডাক্তার। ওষুধ দেয়া হয়। এভাবে দুইদিন পার হয়। কিন্তু জ্বর আর নামেনা শরীর থেকে।
তৃতীয় দিনে হাসনার অবস্থা কাহিল। সুন্দর ফুটফুটে চেহারা কাল হয়ে গেছে। সুহান এনিয়ে চিন্তিত। হাসনার পাশে গিয়ে বসে সুহান। হাতে হাত রাখে। হাসনা চোখ মেলে থাকায় সুহানের দিকে। চোখ দিয়ে দু’ ফোটা জল গড়িয়ে পড়ে। সুহানের চোখেও জল। অস্পষ্ট সুরে হাসনা বলে, আমি হয়তো আর ভাল হবোনা। তুমি আমার পাশে একটু বস। হাসনা তার ডান হাত সুহানের বুকে আলতো করে ছুয়ে দেয়। বলে আমি যদি তোমাদের ছেড়ে চলে যাই তাহলে দুঃখ পেওনা। সুহানকে উদ্দেশ্য করে বলে, আমার একটি কথা তুমি রাখবে? সুহান বলে, বল হাসনা, বল। তোমার কথা আমার জীবন দিয়ে হলেও রাখব। তাহলে শোন, আমি মারা গেলে তুমি আমার ছোট বোন জোসনাকে বিয়ে করবে। জোসনাকে নিয়ে ঘর করবে। এটি আমার অনুরোধ। সুহান কোন কথা বলে না। চুপ করে আছে। চোখের পানি নিয়েই সে ঘর থেকে বেরিয়ে যায়।
না। হাসনার জ্বর কমছে না। দিন দিন তার শরীরের অবনতি হচ্ছে। দুই দিন পর হাসনার চোখ চিরদিনের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। শোকে সুহান অন্যরকম হয়ে যায়। কারো সঙ্গে কোন কথা বলে না। সারাদিন ঘরে বসে থাকে। এভাবেই চলছে বছরের পর বছর। কাউকে দেখলেই বলে, হাসনা আমার জন্য অপেক্ষা করছে। আমি হাসনার কাছে যাবো।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

