somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফুলের গল্প

০৩ রা জুলাই, ২০১০ রাত ১২:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ফুলের গল্প
শামীমুল হক
ওর নাম হাসনা হেনা। ফুলের নামে নাম। মামাত ভাই সুহানের চেয়ে বছর দুয়েকের ছোট। হাসনা সবেমাত্র কলেজে ভর্তি হয়েছে। সুহান পড়ে অনার্সে। একই কলেজের শিক্ষার্থী তারা। সুহান নানা বাড়ি থেকেই লেখাপড়া করে। তাই দুজন একসঙ্গে কলেজে যায়। আবার একসঙ্গে ফিরে আসে। ফুলের নামে নাম বলে সুহান হাসনাকে ফুল বলেই ডাকে। গ্রাম থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে শহরে কলেজ তাদের। আসা- যাওয়ার পথেই তাদের মধ্যে ভাব জমে ওঠে। একে অপরকে ভালবেসে ফেলে। তাদের নিয়ে সন্দেহ করতে থাকে পাড়া প্রতিবেশিরা। পরিবার থেকেও আপত্তি আসতে থাকে। কিন্তু না কোন বাধাই তাদের আটকাতে পাড়েনা। হাসনাদের বাড়ির চারপাশে উঁচু দেয়াল ঘেরা। এর ভেতরে আম, কাঠালের বাগান। এ বাগানের পাশে বড় পুকুর। সবাই ঘুমিয়ে পড়লে প্রায় রাতেই সুহান- হাসনা পুকুর পাড়ে গিয়ে মনের কথা বলত। জীবনের কথা। স্বপ্নের কথা। এক রাতের কথা- সময় তখন রাত ২টা। সুহান- হাসনা পুকুর পাড়ে বসে কথা বলছে। হঠাৎ এক ধমকা হাওয়া এসে তাদের হালকা ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। ভয় পেয়ে যায় হাসনা। সুহানকে বলে, চল আমরা ঘরে যাই। সুহানও কিছুটা ভয় পেয়েছিল। তাই সেও দ্রুত ওঠে পড়ে। তারা যার যার ঘরে গিয়ে শুয়ে পড়ে। হাসনারতো আর ঘুম আসেনা। বার বার কল্পনা। ধমকা হাওয়া ছিল গরম। তাহলেকি কোন ভূত কিংবা জ্বিন ফুঁ দিয়ে গেছে। ভাবতে ভাবতে সকাল হয়ে যায়। এরই মধ্যে হাসনার শরীর গরম হতে থাকে। বেলা গড়াচ্ছে। এখনও ঘুম থেকে উঠছেনা দেখে হাসনার মা ঘরে আসে। ডাকে হাসনাকে। কোন জবাব নেই। গাঁয়ে হাত দিয়ে ডাকতে যাবে দেখে জ্বরে গাঁ পুড়ে যাচ্ছ্।ে
হাসনা ও হাসনা। মা ডাকে।
জ্জরে হাসনার এমন অবস্থা জবাব দিতেও মন চাইছেনা।
আবারও মার ডাক- হাসন ও হাসনা?
এবার হাসনা অনেক কষ্টে জবাব দেয়। মা বল?
মা বলেন, কি হয়েছে তোর? গাঁ পুড়ে যাচ্ছে জ্বরে।
এ কিছুনা মা। ঠিক হয়ে যাবে।
মা দ্রুত বালতি দিয়ে পানি নিয়ে এসে মাথায় দিতে থাকে।
দীর্ঘক্ষণ পানি দেয়ার পরও জ্বর নামছে না। ভয় পেয়ে যায় মা। ডাকা হয় ডাক্তার। ওষুধ দেয়া হয়। এভাবে দুইদিন পার হয়। কিন্তু জ্বর আর নামেনা শরীর থেকে।
তৃতীয় দিনে হাসনার অবস্থা কাহিল। সুন্দর ফুটফুটে চেহারা কাল হয়ে গেছে। সুহান এনিয়ে চিন্তিত। হাসনার পাশে গিয়ে বসে সুহান। হাতে হাত রাখে। হাসনা চোখ মেলে থাকায় সুহানের দিকে। চোখ দিয়ে দু’ ফোটা জল গড়িয়ে পড়ে। সুহানের চোখেও জল। অস্পষ্ট সুরে হাসনা বলে, আমি হয়তো আর ভাল হবোনা। তুমি আমার পাশে একটু বস। হাসনা তার ডান হাত সুহানের বুকে আলতো করে ছুয়ে দেয়। বলে আমি যদি তোমাদের ছেড়ে চলে যাই তাহলে দুঃখ পেওনা। সুহানকে উদ্দেশ্য করে বলে, আমার একটি কথা তুমি রাখবে? সুহান বলে, বল হাসনা, বল। তোমার কথা আমার জীবন দিয়ে হলেও রাখব। তাহলে শোন, আমি মারা গেলে তুমি আমার ছোট বোন জোসনাকে বিয়ে করবে। জোসনাকে নিয়ে ঘর করবে। এটি আমার অনুরোধ। সুহান কোন কথা বলে না। চুপ করে আছে। চোখের পানি নিয়েই সে ঘর থেকে বেরিয়ে যায়।
না। হাসনার জ্বর কমছে না। দিন দিন তার শরীরের অবনতি হচ্ছে। দুই দিন পর হাসনার চোখ চিরদিনের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। শোকে সুহান অন্যরকম হয়ে যায়। কারো সঙ্গে কোন কথা বলে না। সারাদিন ঘরে বসে থাকে। এভাবেই চলছে বছরের পর বছর। কাউকে দেখলেই বলে, হাসনা আমার জন্য অপেক্ষা করছে। আমি হাসনার কাছে যাবো।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×