ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে লিবিয়ার সিরত বাংলাদেশী স্কুল
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
লিবিয়ার সিরত শহরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী সিরত বাংলাদেশী স্কুলটি গতকাল বিকেল বেলা ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। গত দেড় বছর ধরে যে অশুভ আশঙ্কাটি করা হচ্ছিল, তারই নিমর্ম বাস্তবায়ন ঘটেছে গতকাল। গত দেড় বছর ধরে স্কুল সংলগ্ন এলাকার উপর দিয়ে একটি হাইওয়ের নির্মাণর কাজ চলছিল এবং এর জন্য ঐ এলাকার সকল বাড়িঘর ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছিল। শুধুমাত্র বাংলাদেশ এবং লিবিয়ার জাতীয় পতাকা উড্ডীয়মান থাকার কারণেই এতদিন ধরে স্কুলটি রক্ষা পেয়ে আসছিল। অবশেষে গত সপ্তাহে সকল স্থাপনা ভেঙ্গে ফেলার পর স্কুলটিও ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ আসে এবং গতকাল বিকেল বেলা তা কার্যকর করা হয়।
ভূ-মধ্য সাগরের উপকূলে তাহলিয়া নামক স্থানে অবস্থিত সিরত বাংলাদেশী স্কুলটি ছিল একান্তই স্থানীয় বাংলাদেশীদের নিজস্ব সম্পত্তি। এবং এটিই ছিল সমগ্র লিবিয়ার একমাত্র বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠান, যেটা ছিল সম্পূর্ণ ভাবেই বাংলাদেশীদের মালিকানাধীন। ১৯৯৫ সালে লিবিয়ান সরকারের কাছ থেকে লীজ নেওয়া একখন্ড জমিতে প্রকৌশলী মোঃ রফিকুল ইসলামের উদ্যোগে এবং স্থানীয় বাংলাদেশীর অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে গড়ে ওঠা এই স্কুলটি ছিল মরুর বুকে এক টুকরো সবুজ উদ্যানের মতো। খোদ রাজধানী ত্রিপলীতে, যেখানে সিরতের চেয়ে অন্তত চার-পাচ গুণ বেশি বাংলাদেশী বসবাস করে, সেখানেও যখন বছর বছর স্কুল পরিবর্তন আর মাসে মাসে লিবিয়ান কর্তৃপক্ষকে ভাড়া দেওয়ার ঝামেলা পোহাতে হয়, সেখানে গত বারো বছর ধরে সিরতবাসীরা নিজেদের ভূ-খন্ডে নিজেদের তৈরি স্কুলে কোন রকম ঝামেলা ছাড়াই শিক্ষা-দীক্ষা চালিয়ে আসছিল। কিন্তু স্কুল ভাঙ্গার এই নির্দেশ হঠাত্ করেই যেন সবকিছু ওলট-পালট করে দিল।
শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা অবশ্য অস্থায়ীভাবে একটি লিবিয়ান স্কুলে বাংলাদেশীরকে শিক্ষা কার্যক্রম চালানোর ব্যবস্থা করে দিয়েছেন এবং আশ্বাস দিয়েছেন যতদিন পর্যন্ত একটি নতুন ভূ-খন্ড এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়া না হবে ততদিন পর্যন্ত বাংলাদেশীরা এই স্কুলেই থাকতে পারবে। কিন্তু লিবিয়াতে যেভাবে দিন দিন প্রবাসীদের ব্যাপারে আইন কানুন কড়াকড়ি করা হচ্ছে, তাতে এই আশ্বাস কবে নাগাদ বাস্তবায়িত হবে বা আদৌ হবে কি না, তা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছে না। স্থানীয় জনগণের আশা, দূতাবাস যদি এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়, তবে দ্রুত একটা ফলাফল হয়তো আশা করা যেতে পারে। কিন্তু দূতাবাস কি নিবে সেই পদক্ষেপ?
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
পণ্ডশ্রম

এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,
চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।
কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,
আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।
দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন
আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?
আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?
ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন
১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে
আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন
নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন
শৃঙ্খল মুক্তি আমার
শৃঙ্খল মুক্তি আমার

ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।