নীলক্ষেত ও নির্বাণ লাভ! (আব্জাব)
০৭ ই মে, ২০০৮ রাত ৮:০৭
নীল ক্ষেত এর মোড় দিয়ে হেটে যাচ্ছেন। যেই বলাকা সিনেমা হলের সামনের ওভারব্রীজ এর নিচে পৌছেছেন ওমনি দুই তিন জন আপনাকে বলে উঠবে, “সিডি লাগবে বস? ডিভিডিও আছে”। কেউ হয়তো বলবে, “নিয়া যান বস। সেইরকম ভাল জিনিস!” কেউ কেউ হয়তো আপনার শার্টের হাতাও টেনে ধরবে। আপনি যদি যুবক বয়সী কোন ছেলে হন তাহলে এই ঘটনা প্রায় নিশ্চিত! পুরা নিশ্চিত না বলে ‘প্রায়’ নিশ্চিত বলছি এই কারণে যে আজকের দুঃখজনক(আসলে লজ্জাজনক) ঘটনা নীলক্ষেতের এই নীলসিডি ওলাদের নিয়েই।
মূল ঘটনা শুরু হল হুঠ করেই! আমার এমনিতে কোন নূরাণী দাড়ি দুড়ি নাই। তার পরও কিভাবে যেন চেহারার মধ্যে একটা নূর চলে এল!! কিন্তু আমি যে এই ভাবে নূর (আলোক) প্রাপ্ত হয়েছি সেটা বুঝতে বেশ কয়েক মাস লেগে গেল আমার। তখন নতুন নতুন বুয়েটে ভর্তি হয়েছি। হলে থাকি। আঁতেল না হলেও আমি গণিত পাগল মানুষ। সেই স্কুল কলেজ থেকেই সারাদিন এটা সেটা অংক করি। বুয়েটে এসে দেখি আরে! আমি তো হেভেনে! হলের যে রুমেই যাই সবাই দেখি অঙ্ক করছে অথবা গণিত বিষয়ক আলোচনা করছে। আমি ভাবি দারুণ মজা তো!! আমি হাজির হলে ওরা আমাকেও একটা দুইটা গাণিতিক প্রব্লেম দিয়ে দেয়। আমি নাচতে নাচতে নিজ রুমে ফিরে যাই। কিছুক্ষন পর আবার তারা আমাকে আরেকটা গাণিতিক প্রবলেম দিয়ে পাঠিয়ে দেয়।
ভালোই কাটছিল দিনকাল। কিন্তু ভাল জিনিসেরও তো একটা সীমা পরিসীমা আছে নাকি? আমি ভাবি, ব্যাপার কি পোলাপাইন গণিত ছাড়া আর কিছু নিয়ে কথাই বলে না নাকি? আলাপের তো আরো কত টপিক আছে। সিনেমা, খেলাধুলা, সুন্দরী মেয়ে এইসব গেলো কই?! এরা তো মুভিটুভিও দেখেনা! সব হালায় খালি অঙ্ক করে!! আজিব!
তারপর একদিন রাতে গেছি এক ফ্রেন্ডের রুমে। দেখি তিন চার জন বসে কম্পিউটারে কি জানি করছে! আমি যেই রুমে গেছি অমনি একজন তড়িৎ গতিতে কোন একটা বাটন চাপলো। তার পরই বেসেল ফাংশন নিয়ে সবাই আলোচনা শুরু করে দিল! আমি যথারীতি কয়েকটা অঙ্ক করে দিয়ে আসলাম! কিন্তু মনের মধ্যে খটকাটা তো আর কাটেনা। পরে জিজ্ঞেস করি, কিরে তোরা কি করতেছিলি যে আমারে দেখে সেরে ফেললি? কেউ কিছু বলেনা। খালি রিদোয়ান একটু মুচকি মুচকি হাসি দেয়। আমিও নাছোড় বান্দা। মুঞ্জুর বলে, দোস্ত এইসব কথা তো তোরে বলা যাবেনা। তুই ভালো ছেলে। আমি জোরাজুরি করি তাও কোন কাজ হয়না। মন মেজাজটাই খারাপ হয়ে যায়। হলের সবাই এইরকম করে। এমন কি রুমমেট বড়ভাইও দেখি আমি আসলেই পড়াশুনার আলাপ স্টার্টকরে। ভালো যন্ত্রনা হল দেখি!
মনের দুঃখে একদিন মঞ্জুরকে বললাম, দোস্ত সবাই আমার সাথে এইরকম করে ক্যান? মুঞ্জুরর মনে হয় একটু দয়া হল। সে বলে আসলে তোর চেহারাটাই এমন যে তোর সাথে কেউ ‘অন্য কোন’ আলাপ করতে চায়না!
-আমার চেহারা কেমন মানে?!! মফস্বল থেকে ঢাকায় এসেছি নতুন। একটু মফস্বলী ভাব আছে চেহারায়। তাই বলে এইরকম করবি তোরা?
-কিন্তু তুই যে চুলে তেল দিশ সব সময়। চুলে কেউ তেল দেয় নাকি?!! আর তোর চশমা...
-আরে তেল না দিলে মাথা খুশ খুশ করে! আর তেল দিলে কি হবে আমি তো চুল আচড়াই না তাউ বছর খানেক হবে। খালি কাটী আর তেল দেই। এর জন্য তোরা এরকম করবি!!
-আমরা কি করবো। তোর চেহারায় মনে হয় নূর আছেরে! এইকারণে তোরে দেখলেই পাপচিন্তা দূর হয়ে যায়!
আমি তুমুল অস্বীকার করি। এর পর ওরা আমাকে পরীক্ষা করার জন্য ‘বিভিন্ন বিষয়’এ বিভিন্ন্য প্রশ্ন করে। আমি উত্তর দেই। মাঝে মাঝে কিছু প্রশ্ন অবশ্য বুঝিনা! অনেকক্ষন চলে ভাইবা। ভাইবা শেষে মুঞ্জুর বলে,
-অনেক কিছুই জানস দেখি। কন্তু তার পরও তোরে একটা ফাইনাল পরীক্ষা দিতে হবে। নীলক্ষেতের মোড়ে অই ওভার ব্রীজের নিচে দিয়ে হেটে যাবি। তোরে যদি কোন সিডি ওয়ালা ডাকে। তাইলেই বুঝবো যে তুই আসলেই আমাদের আলোচনায় অংশ গ্রহনের যোগ্য। নাইলে নাই।
আমিও বেশ ভাব নেই।
-আরে ডাকবে মানে। সবাই এসে একেবারে ছেকে দখরবে!!
মুখে বললেও আসলে মনে বল পাইনা। ওইদিক দিয়ে গেছি অনেক বার। একদিনও আমাকে কেউ ডাকেনি!
যথারীতি একদিন ওদের নিয়ে রওনা দেই নীলক্ষেতের দিকে। উদ্দেশ্য ‘নির্বাণ’ লাভ! তিন জন গট গট করে হেটে যাই বলাকার সামনে দিয়ে। যথারীতি ওদের দুই জনকেই দুই পাশ থেকে শার্টের হাতা টেনে সিডি সাধে বিক্রেতারা। কন্তু আমার ভাগ্যের শিকে ছিড়েনা। ওরা বলে,
-দেখছস তোরে ডাকেনাই।
-তোরা দুইজন দুই পাশ থেকে ঘিরে রাখছিশ! আমারে তো নাগালই পায়নাই।
ওরা ঠেলে ঠুলে আবার পাঠিয়ে দেয় আমাকে। এইবার আমি একা। তার পরও কেউ ডাকেনা। আমাকে যেন দেখতেই পায়না কেউ!! ওরা বলে,
-এই লুকে হবেনা। লুক চেঞ্জ করতে হবে। শার্ট মার্ট বাদ দিয়ে গেঞ্জী পর। আর এইসব কি প্যান্ট পরছশ জিন্স পর।
আমার কাছে ব্যপারটা জ্বিদের মত হয়ে যায়। এরপর থেকে ওরা কেউ নীলক্ষেত গেলেই আমি ওদের সাথে রওনা দেই। এককেক দিন এককে লুক নিয়ে হাজির হই। মাঝে মাঝে যাওয়ার সময় বিক্রেতা দের শুনিয়ে শুনিয়ে ফ্রেন্ড দের বলি, “কি করি বলতো? আমার মাথাভরা খালি কু-চিন্তা!!” আমার মাথা ভরা কুচিন্তা দেখেও আমাকে পটেনশিয়াল বায়ার মনে হয়না শালাদের। মেজজাজ টাই খারাপ। এর মধ্যে একদিন মুঞ্জুর বলে,
-শোন তোর চোখে মনে হয় ‘উইজডম’ আছে। উইজডম দেইখা সবাই ভয় পায়! আর তোর এই চশমা আতশ কাঁচের মত সেই ‘উইজডম’ বহুগুনে বর্ধিত করে দিচ্ছে। এই চশমা রাখ।
চশমা ছাড়া যাই। তাও কাজ হয়না!!
রিদোয়ান আমাকে বলে,
-চশমা আম্পলিফায়ার ছাড়াও তোর চোখ দেখলেই তোরে ভালাপোলা মনে হয়। এক কাজ কর। সানগ্লাস পরে যা।
একদিন সানগ্লাস পড়েও যাই। বিক্রেতারা আমাকে ততদিনে সন্দেহজনক ক্যারেকটার বলে ধরে নিয়েছে। সানগ্লাস পরা দেখে মনে করেছে আমি হয়তো পুলিশের লোক!! এখন আমাকে তো সাধেই না। আমি গেলে অন্য কাউকেও কিছু সাধেনা। সব কিছু লুকিয়ে ফেলে। বড়জোর মমতাজ, আকবর এদের সিডি বেরকরে একটা শো-অফ দেয়। লক্ষন এমন যে আর কয়দিন গেলে দেখা যাবে আমি গেলেই ওরা ননইউক্লিডিয়ান জিওমেট্রি নিয়েও আলোচনা স্টার্ট করে দিবে!!
সে যাত্রা আর নির্বাণ লাভ হয়না। ততদিনে আমি বিশাল আদুভাই হয়ে গেছি। পোলাপাইন আমার দিকে করুণা ভরা দৃষ্টিতে তাকায়।
আমার এত আপ্রান প্রচেষ্টা দেখে রিদোয়ানএর দয়া হয়। এই অধ্যাবসায় এর পুরষ্কার স্বরুপ ওরাও একদিন আমাকে নিয়ে নেয় দলে! কিন্তু আমি দলে থাকলে নাকি এইসব ‘সাহিত্য আলোচনা’ কিছু জমেনা। অবশ্য তীব্র্য অধ্যাবসায়ের মাধ্যমে আমি আমার বেসিকের ঘাটতি পুরণ করে দেই। এভাবেই আমার বাকি হল জীবন কাটে ।
কিন্তু সেই দুইটার্ম ব্যাপি প্রচেষ্টার পরও আমার কোন উন্নতি হয়না। তাই এই এখনও বলাকা সিনেমা হলের সামনে ঐ ওভারব্রীজের নিচ দিয়ে যাওয়ার সময় শার্টের হাতাটা একটু বাড়িয়েই রাখি।
কেউ যদি ডাকে?
প্রকাশ করা হয়েছে: আব্জাব বিভাগে ।
রাতমজুর বলেছেন:
হা হা হা, জটিল!
লেখক বলেছেন: ![]()
ধন্যবাদ! ![]()
লেখক বলেছেন: কবে!! ??
লেখক বলেছেন: ![]()
লেখক বলেছেন:
হা হা হা!! বুঝসি ভাই! আপনিও আমার দলের লোক!
CD মানে অন্যকিছু।
অনেক দিন পর দেখলাম আপনাকে!
আসবেন এই ব্লগে মাঝে মাঝে!
লেখক বলেছেন: আসলেই!
মেন্টাল বলেছেন:
আমি নীলক্ষেত গেলে তো পুরা নীলক্ষেত ভাইঙ্গা পড়ে আমার উপর। আমার চেহারায় কি আছে কে জানে।
লেখক বলেছেন: ভাই একদিন এসে আমাকে একটূ পদ ধুলি দিয়ে যান!! আমার যদি নির্বাণ লাভ হয় তাতে!!
লেখক বলেছেন: সুবুদ্ধি দিয়ে কোন মজা নাই! ![]()
আর আমি কি আঁতেল নাকি? ![]()
লেখক বলেছেন: আপনি তো বিশাল ভাগ্যবান!! ২ দিন টান খাইসেন!!
দুয়া করেন যেন আমারেও ডাকে!
লেখক বলেছেন: দিয়েছি! ![]()
মৈথুনানন্দ বলেছেন:
হাহা! তোদের raggin' নেই? raggin' -এর এক মাস যা কেটেছিল...crew-cut চুল কেটে bathroom slipper পড়ে class attend করা...খালি গায়ে শুধু underwear পড়ে মেয়েদের hostel -এর সামনে চক্কর কাটা...তাছাড়া senior -দের নানা রকম sexy queries -এর answer দেওয়া বাধ্যতামূলকভাবে...শেষ মেষ অবিশ্যি classmate -দের সাথে bet ধরে kohinoor condom কিনে এনেছিলুম বুক ফুলিয়ে...আমার একটা leader-like image তৈরী হয়ে গ্যালো ও সবাই আমাকেই student representative হিসেবে elect করলো।
লেখক বলেছেন: হায় হায়!! এইরকম র্যাগিং দেয় নাকি!!?
এইরকম হলে তো র্যাগ খেয়েই মানুষ হয়ে যেতাম!
এই র্যাগিং না থাকাতেই যত প্রব্লেম হইসে!!
আপনি ভাই আসলেই বস!! মাঝে মাঝে পদধুলি দিয়ে যাবেন। আমার যদি কোন উপকার হয় তাতে!! এমনিতে কিছু হবেনাল ! ![]()
লেখক বলেছেন:
তাই তো মনে হচ্ছে!! তবে অংক ও মজার জিনিস!
লেখক বলেছেন: হায় হায় তোরেও ডাকেনাই !!!
আমি তো ভাবতাম আমি একা! এই গোয়ালের গরু। যাক আরেকজন পাওয়া গেল।
রন্টি চৌধুরী বলেছেন:
জটিল। তুমি উন্নতি করবে হে।তোমাকে অসাধারন গোত্রে ফেলে দিতাম যদি না তুমি ওই হতচ্ছাড়ার প্রেমিক না হতে....।
তেল দেয়া নিয়ে আমারও একটু সমস্যা হত। সারাজীবন তেল দিয়েছী। আমার আম্মা আমার ভাইবোনদের নিজহাতে তেল মাখিয়ে দিতেন, আমাকে মাখিয়েই সবচেয়ে মজা পেতেন। আমার আপা আমাকে বলত...আম্মার হাতে তেল দিয়ে কি লাভ, এরচেয়ে যানা, পাশের দোকানের নারিকেল তেলের হাড়িতে মাথাটা চুবিয়ে আয়।
আমি একটু বেশীই তেল দিতাম বলে বলত আরকি!!!
এইচ এস সি পর্যন্ত আমাকে দেখলেও পুলাপান সবধরনের উল্টাপুল্টা কথা স্টপ করে দিত। আমরা যখন কলেজে, তখন প্রতি বিকেলে আমাদের আড্ডা জমত আমাদের পুরনো হাইস্কুলের ভেতরে। আমাদের ৩০/৩৫টা বন্ধু জর হত প্রতি বিকেলে। চায়ের পর চা চলত, রাত পর্যন্ত আড্ডা চলত তুমুল। আমি এত সময় ওখানে থাকতে পারতাম না। আমাকে তো সারা শহরময় আতলামী করে বেড়াতে হত। আমি ঘুরতাম আপুভাই, হারুনভাইদের সাথে, যারা কিনা আমার যে দশবছরের বড় আর মহা আতেল।
যা হোক আমি আড্ডায় যাবার সময় দুর থেকে দেখতাম পুলাপান একটায় গায় একটা পড়ছে আর কি যে মজা করছে, যেই আমি গেলাম...অমনি সব নিরশ কথাবার্তা শুরু
শেষে একদিন ভাবলাম , আর না। নিজের সমবয়সী বন্ধুদের আড্ডার মর্মার্থই যদি না ধরতে পারলাম তাইলে হবে?
আমার সবচাইতে ঘনিষ্ঠ বন্ধু লিটনকে একদিন বললাম, লিটন আমি তো ভাবছি চেন্জ হয়ে যাব? ও বলল..তুমি পারবে না রন্টি।(ও আমার অতি ঘনিস্ট হলেও তুমি তুমিই চলত) আমি বললাম...দেখা যাক।
এই দেখা যাক এর উত্তর এখন কি আমি ঠিক জানি না।
লেখক বলেছেন: তোমাকে অসাধারন গোত্রে ফেলে দিতাম যদি না তুমি ওই হতচ্ছাড়ার প্রেমিক না হতে....।
অ্যাআ...!!
আমি আবার কোন হতচ্ছড়ার প্রেমিক হলাম!!
তেল তো আমি এখনও দেই। এই মুহুর্তেও মাথা ভরা তেল!! তবে আপনার কাহিনী শুনে মনে হচ্ছে আপনিই একমাত্র আমার দুঃখ বুঝতে পেরেছেন!!
আসলেই বন্ধুরা সামনে মজার আলোচনা না করলে আর মজা কোথায়? !
আপনার সেই অবস্থার কি উন্নতি হয়েছিল পরে?
লেখক বলেছেন: অ্যা!! প্রিয়তমা এটা কি বললেন!!! অংক তো করতেই আছি। ![]()
আপনার বন্ধুরা আপনার সাথে এইরকম করলে বুঝতেন কেমন লাগে!!
রিয়াজ শাহেদ বলেছেন:
উন্মনা রহমানের কমেন্টে বিপ্লব। বস আপনেরে ডাকে না দেইখা আপনে চিন্তায় আছেন, আর আমারে ডাকে দেইখা আমি চিন্তায় আছি। কুন এলাকায় ডাকে না আমারে? নীলক্ষেত স্টেডিয়াম ফার্মগেট সবকয়টা এরিয়াতেই আমার ব্যাপক চাহিদা; দেখলেই চিক্কুর পারা শুরু করে...
লেখক বলেছেন: বস!! আপনার মনে হয় 'ক্রেজি-সেক্সি-কুল' টাইপের একটা লুক আছে!! একবার ভার্সিটী এরিয়া দিয়েও ঘুরে আসুন! দেখা যাবে মেয়েরাও আপনাকে নিয়ে টানা টানি শুরু করেছে!!
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ!! ![]()
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ তামিম ভাই! ![]()
রন্টি চৌধুরী বলেছেন:
হয়েছিল মানে, এসএমসির ওরস্যালাইন হতচ্ছাড়া গনিতের কথা বলেছি
আমি এখন আর তেল দিতে পারিনা ভাইরে
এখানে তেল দিলে গন্ধ পেয়ে তো বেকুবরা চিনবে না। ভাববে কোথেকে পাগলটা এসছে, নিজের দেশে আমি মাথা তেলে ডুবিয়ে হাটলেই কি? কেউ নাক কুচকালে বলব...যা ফুট...
লেখক বলেছেন:
ওহো!! আপনিও গণিত প্রেমী নাকি!!
আরে দেশে এসেও দেখবেন তেল দিলে লোকজন সন্দেহের চোখে তাকায়!! ![]()
এখন হচ্ছে হার্ড জেল সফট জেল এর জামানা!!
আমাদের তেলের যুগ শেষ!! ![]()
রন্টি চৌধুরী বলেছেন:
লিসেন ম্যান। আমরা নিজের দেশে যাই করব, তাই স্টাইল, বুঝলা? কে কি বলল তাতে কে কান দেয়? দেশে গিয়েও আমি তেল দিছি। আম্মা মনের সুখে আমাকে মাখিয়ে দিছেন । আমিও মনের সুখে মাখছি। আহা তেল। তেলের অভাবে আমার চুলেরা রাগ করে মাঝে মাঝে। তেলের যুগ শেষ হবে না।
আমি গনিত দুচোখে দেখতে পারি না। আজাইরা জিনিস।
লেখক বলেছেন: আজাইরা জিনিস মানে!!!
সামহালকে ভাই!! ![]()
হায় হায়! বাইরে কি তেল দেওয়া যায়না নাকি?!! দুই দিন তেল না দিলে তো আমার চুল রা সুইসাইড করার জন্য মাথা থেকে লাফ দিয়ে পড়ে যায়!!
তাইলে তো বাইরে গেলে পুরা টাক হয়ে যাব !! ![]()
রন্টি চৌধুরী বলেছেন:
হেহে। দিতে পারেন। তবে সভ্য সমাজে না। আপনার দিকে সবাই এমনভাবে তাকাবে যেন আপনি ফ্রান্সের অধিবাসী, বছরে দুইবার গোসল করায় বিশ্বাসী লেখক বলেছেন: প্যারাসুট নারকেল তেল দিব!
ভাল ঘ্রান আছে ওতে!
আর নারকেল গাছ ওয়ালা দেশে যাব। যেমন হাওয়াই! তাইলে আর সমস্যা নাই!!
রন্টি চৌধুরী বলেছেন:
কোনো লাভ হবে বলে মনে হয় না তেল এখানেও পাওয়া যায়। একেবারে বাংলাদেশী তেল। তবে মাথায় খালি মহিলারা দিতে পারেন, যারা খুবএকটা বাইরে যান না।
লেখক বলেছেন: হুমম...
তাইলে তো বিপদ!!
কতবতবকতকত বলেছেন:
তানভীর ভাই, লেখা রম্য হইসে কোন সন্দ নাই, তবে একটু আগে একজন ব্লগীয় রমনী আমাকে দূরালাপনীতে জানিয়েছে যে, "এই পোস্টটি তাহার কাছে ব্যাপক আপত্তিকর লাগিয়াছে!"সে কিন্তু আপনার লেখা নিয়মিত পড়ে। তাই একটু বদহজম হয়েছে আরকি!
ফান করছি না। সিরিয়াসরি বলছি।
লেখক বলেছেন: অ্যা আমার লেখা নিয়মিত পড়ে আবার কে !!
এইসব আব্জাব লেখা আপত্তিকর তো লাগতেই পারে!! তবে ঘটনা কিন্তু সত্যি।!
সেই ব্লগীয় রমণীকে তাড়াতাড়ি কমেন্টে আপত্তি জানাতে বলুন।!
আপত্তিটা শুনি।
কতবতবকতকত বলেছেন:
সিরিয়াসলি*
লেখক বলেছেন: ![]()
লেখক বলেছেন:
দুয়া করেন! যেন মাইর টা দিতে পারি !
যূঁথী বলেছেন:
হে হে হে!!! বসের দেখি পসার ভালই হইসে। আজকাল রমনীরা দূরালপনীতেও আপনারে লইয়া কতা কয়। হে হে হে। কলিকাল, কলিকাল। তয় লেখা জব্বর হইসে। মজা পাইসি। তইয় বস কিন্তুক সেদিনের স্টেডিয়ামের সামনের ঘটনা চাইপা গেলেন। কামডা কি বালা অইল? হে হে হে!!! কইয়া দিমু নাকি??? লেখক বলেছেন: ![]()
অইটা হইসে বান্নার কারণে!! আমার কোন দোষ নাই।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ! ![]()
যূঁথী বলেছেন:
না না না!! তুমি তো ধোয়া তুলসি পাতা!!! তোমার কোন দোষ কেন থাকবে বল!!! বাই দা ওয়ে আসল কথায় আসো - সেই রমনীর মান কি ভেঙেছে?লেখক বলেছেন: কোন রমনী?!! ![]()
লেখক বলেছেন: ওরা খারাপ নাকি!!
হাসানুল বলেছেন:
ওই বেটা, আমার কারণে মানে ?? লেখক বলেছেন: অই তোর না শনি বারে পরীক্ষা! পড়তে যা। ![]()
লেখক বলেছেন: এইটা ক্যান মনে হইলো তোর !!
যূঁথী বলেছেন:
আরে তুমি তো সাধু পুরুষ হয়ে যাচ্ছে। ঐ রমনীর কথা বলছি যে কিনা দূরালপনীতে তোমার লেখার প্রতিবাদ জানিয়েছে। হে হে হে।
লেখক বলেছেন: কি জানিরে ভাই আমাকে তো আর প্রতিবাদ জানায় নাই।
আর তোমার এত কৌতুহল ক্যান??
লেখক বলেছেন: এই কারণেইতো আমি ঠান্ডার দেশে যেতে চাইনা!! কিন্তু কপালে কি যে আছে কে জানে।
লেখক বলেছেন: অনেক অনেক ধন্যবাদ আপু!! ![]()
বোকা মানুষ বলেছেন:
আমার শাটের হাতা ধরে টান না মারলেও , পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় প্রায়ই জোরে জোরে ABCD পড়তো ওরা । এড়ায়ে চলে আসলে পিছন থেকে শুনতাম - হুহ, এমন ভদ্রপোলা বহুত দেখছি লেখক বলেছেন: আপনার আগে আমারে দেখছিল মনে হয় অই সময়! ![]()
রাশেদ বলেছেন:
ওরে! কি খাসা গল্প লেখছো! জট্টিল।
লেখক বলেছেন: ![]()
হে হে !! থ্যাঙ্কু!
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ! ![]()
শফিউল আলম ইমন বলেছেন:
সেরম লেখা। ভালো লাগল।আপনার সব লেখায় চমৎকার। আপনার মধ্যে আসলেই উইজডম আছে....।
ভালো থাকুন।
লেখক বলেছেন: কি যে বলেন!! হা হা হা!
আপনাকে ধন্যবাদ!
একটা বুদ্ধি শিখাইয়া দেই, পরেরদিন নিলক্ষেতে গিয়া শুধু কইবেন:
ভাই নতুন কি আছে?
ব্যাস, তারপরেই দেখবেন আপনারে নিয়া এমন টানাটানি শুরু হইছে যে আপনে আর শার্টই পরবেন না

আপনার পাঙ্খা হইয়া যাইতাছি।
লেখক বলেছেন: তাইতো!! এইট পদ্ধতিটা আপ্লাই করা দরকার ! ![]()
লেখক বলেছেন: হে হে লিঙ্কটার জন্য ধন্যবাদ ! ![]()
লেখক বলেছেন: অপেক্ষায় আছি! ![]()
কমেন্টের জন্য ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: ![]()
ভাঙ্গা পেন্সিল বলেছেন:
আমি তো উলটা পাবলিক...আমারে কেউ পড়ার কথা কয় না!!


















