somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মেহেরজান-২(ফান-ফ্যান্টাসি সিক্যুয়েল – ব্যাঙ্গরসাত্মক/বিদ্রুপাত্মক পোষ্ট)

২৮ শে জানুয়ারি, ২০১১ রাত ১১:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি ৫২ এর ভাষা শহীদদের কাছে,তাদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত মাতৃভাষায় এমন একটি লেখা লিখতে হচ্ছে বলে।ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি লাখো মুক্তিযোদ্ধার কাছে মেহেরজান চলচিত্র নিয়ে লিখতে হচ্ছে বলে.........

লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের এই বাংলাদেশে সুশীল সমাজ বলে একটা সমাজ আছে।আমাদের সমাজের মূল চালিকাশক্তি তাদের হাতে।আমাদের সাধারন মানুষের সমাজে সুশীল সমাজের অবদান অনেক।আমাদের মাতৃভাষা বাংলার দাবীতে নিহত শহীদদের স্মরণ করা হয় ইংরেজি মাসের তারিখ একুশে ফেব্রুয়ারী হিসাবে।আমরা পারিনা তাদের বাঙ্গলা মাসের তারিখ অনুযায়ী স্মরণ করতে।এই অবদান কিন্তু আমাদেরই তথাকথিত সুশীল সমাজের।আমাদের সুশীল সমাজের অবস্থা দেখলে ছোটবেলায় কবি দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের লেখা একটা ছড়া মনে পড়ে।ছড়ার নাম নন্দলাল।ছড়াটি ছিল এরকম-
“নন্দলাল তো একদা একটা করিল ভীষণ পণ -
স্বদেশের তরে, যা করেই হোক, রাখিবেই সে জীবন।
সকলে বলিল, 'আ-হা-হা কর কি, কর কি, নন্দলাল?'
নন্দ বলিল, 'বসিয়া বসিয়া রহিব কি চিরকাল?
আমি না করিলে কে করিবে আর উদ্ধার এই দেশ?'
তখন সকলে বলিল- 'বাহবা বাহবা বাহবা বেশ।'

নন্দর ভাই কলেরায় মরে, দেখিবে তারে কেবা!
সকলে বলিল, 'যাও না নন্দ, করো না ভায়ের সেবা'
নন্দ বলিল, ভায়ের জন্য জীবনটা যদি দিই-
না হয় দিলাম, -কিন্তু অভাগা দেশের হইবে কি?
বাঁচাটা আমার অতি দরকার, ভেবে দেখি চারিদিক'
তখন সকলে বলিল- 'হাঁ হাঁ হাঁ, তা বটে, তা বটে, ঠিক।'

নন্দ একদা হঠাৎ একটা কাগজ করিল বাহির,
গালি দিয়া সবে গদ্যে, পদ্যে বিদ্যা করিল জাহির;
পড়িল ধন্য দেশের জন্য নন্দ খাটিয়া খুন;
লেখে যত তার দ্বিগুণ ঘুমায়, খায় তার দশ গুণ;
খাইতে ধরিল লুচি ও ছোকা ও সন্দেশ থাল থাল,
তখন সকলে বলিল- 'বাহবা বাহবা, বাহবা নন্দলাল।'

নন্দ একদা কাগজেতে এক সাহেবকে দেয় গালি;
সাহেব আসিয়া গলাটি তাহার টিপিয়া ধরিল খালি;
নন্দ বলিল, 'আ-হা-হা! কর কি, কর কি! ছাড় না ছাই,
কি হবে দেশের, গলাটিপুনিতে আমি যদি মারা যাই?
বলো কি' বিঘৎ নাকে দিব খত যা বলো করিব তাহা।'
তখন সকলে বলিল – 'বাহবা বাহবা বাহবা বাহা!'

নন্দ বাড়ির হ'ত না বাহির, কোথা কি ঘটে কি জানি;
চড়িত না গাড়ি, কি জানি কখন উল্টায় গাড়িখানি,
নৌকা ফি-সন ডুবিছে ভীষণ, রেলে 'কলিসন' হয়;
হাঁটতে সর্প, কুকুর আর গাড়ি-চাপা পড়া ভয়,
তাই শুয়ে শুয়ে, কষ্টে বাঁচিয়ে রহিল নন্দলাল
সকলে বলিল- 'ভ্যালা রে নন্দ, বেঁচে থাক্ চিরকাল।”

আমাদের সুশীল সমাজের নন্দলালদেরও একই কথা-
“নন্দ বাড়ির হ'ত না বাহির, কোথা কি ঘটে কি জানি;
চড়িত না গাড়ি, মলম পার্টি মলম না লাগায় জানি,
লঞ্চো ফি-সন ডুবিছে ভীষন,রেলে কলিশন হয়
হাটিলে পকেটমার-ছিনতাইকারী আর গাড়ি চাপা পড়া ভয়”

তবে আমাদের সুশীল সমাজ তাদের সীমাবদ্ধতার মাঝে ও আমাদের বিনোদনের কথাটা ভুলে না।তাই সৃষ্টি হয় মেহেরজানের মত ছিঃনেমা।তারা তাদের গা বাচিয়ে চলার জন্য,নিজের স্বার্থোদ্ধারের জন্য সাধারণ মানুষ,তাদের চেতনা,মূল্যবোধ সবকিছুকে গ্রাস করতে পিছু পা হয় না।অবশ্য আমি নিজেও নন্দলাল থেকে কম কিছু না।কারন আমিও নন্দলালের মত লেখি যত তার দ্বিগুণ ঘুমাই খাই তার দিশ গুণ।
আমাদের সুশীল সমাজের রাজনীতিবিদেরা নিজের স্বার্থে বঙ্গবন্ধুকে পশ্চিম পাকিস্তানের দালাল কিংবা মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের জেড ফোর্স কে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অংশ বলতে দ্বিধাবোধ করে না। সেই সুশীল সমাজের যোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে আজ প্রতিনিধিত্ব করছেন সৈয়দা রুবাইয়াত হোসেনরা।

বাংলার বিখ্যাত সৈয়দ বংশের মেয়ে তিনি।তার বাবা বর্তমান সরকারের একজন মন্ত্রী।তার পরিচালিত চলচিত্রটি মুক্তি পাওয়ার পর তাকে নিয়ে কোন একটি ব্লগে একটি লেখা পড়ে জানতে পেরেছি উনার বাবা ৭০ এর দশকে টিসিবিতে চাকরী করতেন।সেখানে ৭৭ লক্ষ টাকার একটি দুর্নীতি মামলার আসামী আমাদের এই মন্ত্রী।সেই সুশীল মন্ত্রীর সুশীলা কন্যা আজ বীরাঙ্গনাদের নিয়ে মুভি বানিয়েছেন মেহেরজান।যেখানে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির মাধ্যমে সুশীল সমাজের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি।তার এই ফ্যান্টাসি সিনেমা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে লেখায় উদ্বুদ্ধ করেছে।

কিছু লেখার আগে বলে রাখা ভাল আমি সিনেমাটি নিজের চোখে দেখিনি।কাজেই সিনেমাটির সমালোচনা করার চেয়ে আসুন আমরা সিনেমাটির থেকে বিনোদন নেয়ার চেষ্টা করি।সিনেমাটির শিল্প জ্ঞান চিন্তা না করে আসুন আমরা এর থেকে কি কি মোরাল বা নীতিকথা বের করা যায় এবং তা থেকে কিভাবে একটি ফান-ফ্যান্টাসি গল্প করা যায় তা বের করি।

মেহেরজানের এই পর্বটি স্রেফ ফোক-ফ্যান্টাসি হিসেবে সুপরিচিতি পেয়েছে।এর ব্যাপক জনপ্রিয়তার কারনে পত্র-পত্রিকা থেকে শুরু করে ব্লগে-ব্লগে বাঘা-বাঘা লেখকেরা আলোচনা(!)-সমালোচনার ঝড় বইয়ে দিচ্ছেন।তারই পরিপ্রেক্ষিতে আমি এই অধম একটি ফান-ফ্যান্টাসি তৈরির প্রচেষ্টা করলাম মাত্র।আশা করি রুবাইয়াত আপার মত বিদেশী ডিগ্রিধারী কোন সুশীল সমাজের লেভেলধারী কেউ একদিন বাংলার বুকে চিত্রায়ন করবে এই ফান-ফ্যান্টাসি।লাখো প্রানের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার পরিপূর্ণ ব্যবহার(!)।মেহেরজানের সিক্যুয়েল হিসাবে এটার টাইটেল মেহেরজান-২(Lets the fun begin)।

একাত্তরের পটভূমিতে রচিত এই ফান-ফ্যান্টাসি।৭১ কে নিয়ে ফান করার কোন ইচ্ছা আমার কোন কালেই ছিল না।তবে পরিস্থিতির কারনে আজ এই ফান-ধর্মী লেখা।তাই আগেই ক্ষমা চেয়ে নিয়েছি ৭১ এর সকল শহীদের কাছে।মেহেরজানের মূল থিমগুলোকে বিদ্রুপ করার উদ্দেশ্যেই আমার এই লেখা।

একটা জীবিনধর্মী কৌতুক দিয়েই শুরু করি।গরীব বাবার ছোট ছেলে মিষ্টির দোকানের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বাবাকে বলল, “বাবা মিষ্টি খাব।”
গরীব বাবার কাছে মিষ্টি কেনার মত টাকা কখনই থাকে না।কাজেই তাকে বলতে হয়, “বাবা আমাদের যখন পয়সা হবে তখন তোকে কিনে খাওয়াব।এখন মনে মনে খা”
ছেলের উত্তর, “বাবা,মনে মনেই যখন খেতে তখন মিষ্টি কেন,কোরমা পোলাও খেতে দোষ কি?পোলাউ-কোরমাই খাব।”
সৈয়দা রুবাইয়াতের কাছে আমার আবেদন আপনিও ছেলেটির মতই করুন না,যদি আপনার মনেও পাকিস্তানপ্রীতি থেকে থাকে।সেই ক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ফোক-ফ্যান্টাসি কেন একটি সত্যিকারের ফ্যান্টাসিই তৈরী করে ফেলুন না কেন,যেখানে সকল পাকিস্তানী সৈন্যদের দেখানো হবে মহান করে।একজন মাত্র সৈন্যকে কেন???আসুন তার সাথে যুক্ত করি মুক্তিসেনাদের নিয়ে কিছু উপহাস।আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশে অনেক লোকই আছে যাদের মধ্যে এখনো মাওহান(!!!) রাষ্ট্র পাকিস্তানের জন্য রয়ে গেছে অশেষ মোহাব্বত।তারা আমাদের চারপাশে প্রতিনিয়ত বিচরণ করছে।কখনো সুশীল সমাজের পৃষ্ঠপোষক হয়ে,কখনো বা দেশের মন্ত্রী হয়ে।হ্যাঁ তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার চেতনবিরোধী শক্তি।আসুন তাদের দৃষ্টিতে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করি আমাদের গর্বের ৭১।

১৯৭১ এ আসলে মুক্তিযুদ্ধ বলে কিছুই হয় নি।যা হয়েছে তাকে বলা যায় যুদ্ধ-যুদ্ধ খেলা।আমাদের তথাকথিত ইসলামী অনুশাসনের ধারক ও বাহকদের মতে গন্ডগোলের বছর।আমি নিজের কানে আমার গ্রামের এক রাজাকারকে বলতে গন্ডগোলের বছর বলতে শুনেছি।তো পাঠক আসুন আমরা রুবাইয়াতের আবেগময় দৃষ্টিতে দেখি আসলে কি ঘটেছিল একাত্তরে।মুক্তিযোদ্ধা বলে আমরা যাদের চিনি তারা আসলে ছিল সসস্ত্র জঙ্গি।তাদের কাজ ছিল তৎকালীন পূর্ব-পকিস্তানে গন্ডগোল সৃষ্টির মাধ্যমে হত্যা,লুন্ঠন,ধর্ষন ইত্যাদি করা।তাদের এই হীন অপপ্রয়াস থামাবার জন্য তৎকালীন পাকিস্তান সরকার আমাদের দেশে সেনাবাহিনী মোতায়েন করে।কাজেই পাক-হানাদারবাহিনী আসলে দেবতুল্য।তাদের সম্পর্কে এতদিন আমরা যা জেনে এসেছি সবই ভুল।যেহেতু মুক্তিযোদ্ধারা নারী-ধর্ষনকারী এবং তাদের হাতে ধর্ষিতা হওয়ার সম্ভাবনা প্রচুর তাই বাংলার নারীগন তাদের ইজ্জত জনগনের বন্ধু সেচ্ছায় পাক-সেনাদের হেফাযতে তুলে দেয়।এবং নিজেদের স্বর্বস্ব দিয়ে দেবতুল্য পাক-সেনাদের যথাযথ সেবা প্রদান করে।৭১ এর গণহত্যার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে দেখানো যেতে পারে,মুক্তিবাহিনীর সংস্পর্শে এসে চরিত্র খারাপ হয়ে যেতে পারে বিধায় তারা সকলে দেবতুল্য পাকিস্তান বাহিনীর হাতে নিজেদের প্রান বিসর্জন দিয়ে বেহেশ্তের টিকিট নিশ্চিন্ত করে।লাইন ধরে দাঁড় করিয়ে তাদের যখন ব্রাশফায়ার করা হয় তার আগে বিদেশী সাংবাদিকদের হাতে তোলা ছবিতে তাই তাদের হাস্যোজ্জল ছবিই হতে পারে তার প্রমাণ।পরে অবশ্য বাংলা ভাইয়েরা সেই বেহেশতের টিকিট পুণরায় আমদের দেশে বিলি করে।

নানাজানের মত চরিত্রগুলো আসলে তৎকালীন পরহেজগার মুরুব্বী সাধারন।অনেকটা আমাদের নিজামী নানার মত।তারা বিপথগামী মুক্তিবাহিনী ছেলেপেলেদের মাঝে মধ্যেই ধমক দিয়ে সঠিক পথে আনার চেষ্টা করে থাকেন এবং মহান পাকি সৈন্যদের সাথে বিবাদে জড়াতে নিষেধ করেন।কিন্তু চোরায় না শুনে ধর্মের কাহিনী।তাই তারা বিবাদে জড়ায়।পাশাপাশি মুক্তিবাহিনীর কতিপয় দুষ্ট বালক তাদেরকে রাজাকার বলে বিদ্রুপ করে।এহেন পরিস্থিতিতে এই দুষ্ট বালকদের শায়েস্তা করার লক্ষ্যে গঠিত হয় শান্তি কমিটি।দুষ্ট বালকদের এই কমিটি চিরশান্তি দেয়ার ব্যাপারে সহায়তা করে।ফলে শুরু হয় গন্ডগোল।তখনকার কিছু সুবোধ বালকেরা(নিজামীর মত ছাত্রশিবির এর সদস্য) শান্তি কমিটির সহায়তা করার জন্য সেচ্ছাসেবক হিসেবে যোগদান করে।শুরু হয় যুদ্ধ।যুদ্ধের সিনে কৌতুকের অবতারনা করা যেতে পারে।স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে বর্তমান কালের কিছু আর জে কে উপস্থাপন করা যেতে পারে।কিভাবে আসুন দেখি...
“হাই ডিয়ার ভিউয়ার্স আমি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের আর জে ফট-ফট এখন কথা বলছি কুর্মিটোলার কাছ থেকে...এখানে মুক্তিবাহিনী এবং পাক-আর্মির মধ্যে ব্যাপক যুদ্ধ হচ্ছে...আমি এখন টক করছি মুক্তিবাহিনীর কমান্ডার কুদ্দুসের সাথে।...হাই কুদ্দুস ব্রো আপনারা কি ওয়ার করছেন...কুদ্দুস বলবে না পটকা ফাটায়া পাক আর্মিরে ডর দেখাইতে চাইতাছি।ফটফটঃ আপনি যে ওয়ার করছেন আপনার ফিলিংস কি গুড হচ্ছে??কুদ্দুসঃ না আমার যুদ্ধ করতে ভাল লাগে না।আমি মেহের রে বিয়া করুম।”
শুনেছি সোনার বাঙ্গলা ব্লগে কিছু রাজাকারের চ্যালা নাকি প্রমান করেছেন স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদের সংখ্যা তিরিশ লাখ নয় তিরিশ হাজার ছিল।শহীদের সংজ্ঞাটা সামান্য পরিবর্তন করলেই কিন্তু সংখ্যাটা মিলে যায়।বিশ হাজার পাকসেনা আর দশ হাজার জামায়েত কর্মী মিলিয়ে সংখ্যাটা তিরিশ হাজারের মতই হবে।তারা যে শুধু দেশের নারীদের সহায়তা করেছে তা নয় তারা দেশের তখনকার হিন্দুদের মুসলমানী করা থেকে শুরু করে তাদের সূরা কালেমা শেখানো পর্যন্তই হয়েছে।পরবর্তিতে ভারতীয় সৈনিকদের হস্তক্ষেপে পাকবাহিনী তাদের এই মহান ব্রত থেকে বিরত হয়ে নিজ দেশে চলে যায়।তাদের সেবিকারা হয়ে যান বীরাঙ্গনা।যাই হোক ভিলেন এখানে মুক্তিবাহিনী এবং তাদের অপকর্মে(!!!!) মেহেরজানদের প্রেম-ভালবাসা ব্যর্থ হয়।বড়ই আপচোষের বিষয়।
ধর্ষিতা বারবার ধর্ষিত হয় সমাজের দ্বারা।তার আরো একটি নিদর্শন হয়ে রইল এই মেহেরজান সিনেমাটি।যেখানে আমাদের বীরাঙ্গনাদের খুবই বাজেভাবে উপস্থাপন করেছেন রুবাইয়াত।এ প্রসঙ্গে আমার এক বন্ধু হাসানের শেয়ার করা একটি কৌতুক নিচে দেয়া হল।

Before sex, you help each other get naked, after sex you only dress yourself.
Moral of the story: in life no one helps you once you're f*cked :P
যাই হোক মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে আবার জাগ্রত করার জন্য এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রতি আমাদের মমত্ববোধকে দুর্বার শক্তিতে পুনর্জাগরিত করার জন্য একটা মেহেরজান সিনেমার সত্যিই খুব প্রয়োজন ছিল।এই ছবিটি দেখে জেগে উঠুক সবার মাঝে ৭১ এবং স্বদেশপ্রেমের চেতনা...একটি গান দিয়ে শেষ করছি...
“আয়নায় মুখ রেখে নিজে দেখার বয়স সবে শুরু,
শৈশব কৈশোর পেরিয়ে যুদ্ধে প্রথম গিয়েছিলে
সেদিন বুঝেছি আমি,তোমার অধিক যারে ভালবাস তুমি
সে তোমার জন্মভূমি......
আমরা যেন দেশকে আমাদের প্রানের চেয়ে ভালোবাসতে পারি সেই প্রার্থনা রইল ঈশ্বরের কাছে......
আমাদের দেশের বুকে সুশীল সমাজ নামের যে বিষাক্ত ক্যাকটাস তা একদিন সমূলে যেন উপড়ে ফেলতে পারি সেই প্রার্থনাও রইলো........

নিন্দুকেরা অনেক কথাই বলে।যেমন অনেক নিন্দুক বলেছেন এই সিনেমায় মেহেরজান কিভাবে এক ফাক-সেনার প্রেমে পড়ল???আফনেরা কি ভুইলা গেছেন এইডা হইল বাংলা ছবি।বাংলা ছবি মানেই হইল"প্রেম ধনী-গরীব উচু-নিচু মানে না।"।বাংলা ছবিতে রিকশাওয়ালার লগে কোটিপতির মাইয়ার প্রেম হয় আর এইহানেতো পাকসেনার লগে দেহাইছে।খুবি রিয়েলিস্টিক।আর যেসব নিন্দুক বলতাসে যে যুদ্ধের সময় শত্রুসেনার সাথে মেহের প্রেম করল কোন যুক্তিতে তাগো কই "কুনু বাংলা সিনেমায় দেখছেন ভালুবাসা যুক্তি মানছে...।কত নায়িকাই ত হেই নায়কের প্রেমে পড়ছে যে নায়িকার বাপরে নিজের হাতে মারছে(বিশ বছর আগে নায়কের বাপরে খুন করার লাইগা)। আর এই নায়ক ত নায়িকারে উলটা বাচাইয়া দিসে রেপ হওনের হাত থাইকা।আফসোস হালার আবুল(!!!) জনগন বুঝবারি পারল না(!!!) বাংলা সিনেমার কারিশমা।ছাই পড়ুক এই সব নিন্দুকের মুখে...যারা মেহেরের এই মহান পেরেমডারে বুঝবার পারল না...
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জানুয়ারি, ২০১১ রাত ১২:০২
৪টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×