বর্তমান সমাজ প্রযুক্তির ছোঁয়ায় আধুনিক হয়ে উঠেছে। মানুষে মানুষে দুরত্ব কমেছে। চাইলে আজ যে কোন প্রান্তের মানুষের সাথে যোগাযোগ করা যায় এবং মূহুর্তের মধ্যে ভ্রমন করে আসা যায়। এটা কি প্রযুক্তির খারাপ দিক? কখনোই নয়। এগুলো আধুনিক সামাজিক জীবনের দাবী, কিন্তু দেখা যাচ্ছে এই প্রযুক্তি আবার সমাজে অসামাজিকতা তৈরি করছে। আজ ছেলেমেয়েরা চাইলেই পরিচিত বা অপরিচিত যে কারো সাথে বন্ধুত্ব পাততে পারছে এই প্রযুক্তির ব্যবহারে। হাদিছ শরীফ এ আছে, “কোন বেগানা পুরুষ যেন কোন বেগানা মহিলাদের সাথে নিরিবিলিতে একত্রিত না হয়, কেননা তখন তাদের তৃ্তীয় বন্ধু হয় শয়তান”। তাই যখন ছেলেমেয়েরা কোন গায়রে মাহরাম এর সাথে যোগাযোগ করতে পারছে, তখনই তাদের পেয়ে বসছে শয়তান। তারা চাইলেও পারছে না নিজেদের সংযম রাখতে। শয়তান তাদের কু-মন্ত্রনা দিতে দিতে এমন পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে যে তারা আর সামাজিক জীবন ধরে রাখতে পারছে না। অসামাজিকতা তাদের জাপ্টে ধরছে, আর তারাও এই অসামাজিকতা আর অশ্লীলতার মাঝে খুজে পাচ্ছে দেহ-মনের খায়েশ মিটানোর নিকৃ্ষ্ট রাস্তা। এভাবেই শুরু হচ্ছে এক একটি পবিত্র আত্মার অপমৃত্যু।
আজকাল অধিকাংশ বাবা-মা পর্দা করছেন না, আর তাদের সন্তানদেরকেও পর্দা করাচ্ছেন না। দেখা যায় ছোট্ট একটি বাচ্চাকে বাবা-মা বাছ-বিচার না করে ছেলে ও মেয়েদের সাথে উঠাচ্ছেন, বসাচ্ছেন, পড়াচ্ছেন, খেলাচ্ছেন, এমনকি বন্ধুত্বও বানিয়ে দিচ্ছেন। এতে যেটা হল যে ছোট্ট সেই বাচ্চা মেয়ে হলে সে ছেলেদের থেকে পর্দা করার বিষয়টি সম্পর্কে ধারনাও পেল না। এতে হয়তো বাচ্চা মেয়েটির কিছু ক্ষতি হল না। কিন্তু সেই বাচ্চা মেয়েই যখন বড় হবে, যখন যৌবনের স্পর্শ দেহ-মনে সাড়া দেবে, তখন কি হবে সেই মেয়েটির। সে তো ছেলেদের থেকে পর্দা করে না। সে কি পারবে নিজের সতীত্বকে ধরে রাখতে। উপোরুল্লিখিত হাদিছ শরীফটি স্মরন করুন। পর্দা না থাকায় আপনার সেই বাচ্চা মেয়েটি বড় হয়ে অবশ্যই শয়তানের ফাঁদে বন্দী হয়ে নিজেকে ধ্বংস করে দেবে।
ছোহবত ও বন্ধু মানুষকে প্রভাবিত করে। আজকাল দেখা যায়, প্রায় সমগ্র বিশ্ব শয়তানের বাক্স টিভি কে তাদের সার্বক্ষনিক সঙ্গী বানিয়ে নিয়েছে, যেখানে বাবা-ছেলে একসাথে বসে বিশ্বকাপের সাম্বা ড্যান্স দেখছে, আর মা-মেয়ে বসে বসে সিনেমার নায়কের বাহারী ভঙ্গিমার প্রশংসা গুনছে। এই টিভি কে সমাজের জাহিল লোকগুলো তাদের সঙ্গী করে নেওয়ায় এর প্রভাব পড়ছে প্রতি ক্ষেত্রে। বাংলা আর হিন্দি সিনেমার প্রভাবে ছেলেমেয়ে হয়ে উঠছে রোমান্টিক, আর হলিউড যুগাচ্ছে তাদের উলঙ্গপনায় দূর্বার সাহস। এই অশ্লীলতাই যার সকাল বিকালের সঙ্গী, সে কি করে একটা সুস্থ সামাজিক মানুষ হয়ে বেড়ে উঠতে পারে। তাইতো এই রোমান্টিকতা তাদের ঠেলে দিচ্ছে হয় পরকীয়ার দিকে, না হয় লিভ-টুগেদার এর অবাধ মেলামেশায়।
আজকাল আরেকটি বিষয় বেশ বিস্ময়কর। ছেলেরা মেয়েদের সাথে নাকি ফ্রেন্ডশিপ করে, আর অবলা মেয়েগুলোও এমন নিস্পাপ যে ফ্রেন্ডশিপ তাদের পাপের বোঝা বাড়াতে পারে না।এ ফ্রেন্ডশিপ এমন যে ঘরের বৌ যাবে যাক, বন্ধু তুমি পাশে থেক। অনেক ক্ষেত্রে ছেলেমেয়েরা এমন কিছু শেয়ার করে থাকে,যা শুধু স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেই সম্ভব। আর এভাবেই তারা একে অপরের সাথে ভাল বন্ধুত্বের দাবী করে থাকে। অনেকক্ষেত্রে আবার চলে বন্ধুর লাভারকে নিজেরই সম্পত্তি মনে করে অবাধ বিচরণ। আর এভাবেই বাড়ছে কলহ-দ্বন্দ্ব, খুন, ধর্ষন, আত্মহত্যা।
এভাবেই কি চলা উচিত? এই কি সুস্থ জীবন? এই কি আধুনিকতা? কোথায় গেল সেই ইসলাম, যে ইসলাম আমাদের পথ দেখিয়েছে স্বাভাবিক জীবনে চলার, যেখানে নেই কোন বিন্দুমাত্র অপবিত্রতা, নেই কোন ছলচাতুরী, নেই স্বামীকে লুকিয়ে নিজের অপকর্ম, নেই বন্ধুর কোলে মাথা রেখে রাত্রিযাপন, নেই কোন মিথ্যার বাহাদুরি। একমাত্র ইসলামই আমাদের দিয়েছে পর্দার বিধান, আর ইসলামই হল আল্লাহ পাক উনার মনোনীত পরিপুর্ণ ও সন্তুষ্টিপ্রাপ্ত ধর্ম। আল্লাহ পাক আমাদের রহমতস্বরূপ উনার হাবীব হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এবং দিকনির্দেশনার জন্য কুরআন শরীফ পাঠিয়েছেন। আর অপরদিকে শয়তানও রয়েছে সঠিক পথ থেকে মানুষকে মাহরুম করে দেওয়ার জন্য। শয়তানকে চিনতে হবে, আর তার থেকে দূরে থেকে নিজেকেই সঠিক পথে আসতে হবে।
ইসলামে পর্দা কতটুকু করতে হবে যে, গায়রে মাহরাম কোন পুরুষ একজন মহিলার শরীরের একটি পশমও দেখতে পারবে না, কন্ঠস্বর শুনতে পারবে না। এজন্য মহিলাদের আপাদমস্তক বস্ত্রাবৃত করে চলতে হবে। অন্যদিকে পুরুষরাও নিজেদের দৃষ্টিকে হেফাজত করবে। আর এই পর্দা পালনেই ইসলামের মাহাত্ম্য। তবে প্রযুক্তিকে বাদ দিয়ে নয়, আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টি হাছিল করার জন্য প্রয়োজন নিজের সদিচ্ছা আর শয়তানের বেড়াজাল দুমড়ে মুচড়ে দেওয়ার দৃঢ় সংকল্প। আর এজন্য প্রয়োজন নিজের সঙ্গীটিকে বদলিয়ে ইসলামকে, আর ইসলাম যাকে সঙ্গী করার অনুমতি দিয়েছে তাকে গ্রহন করে নেওয়া এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলামকে প্রাধান্য দেওয়া
http://www.facebook.com/note.php?note_id=144302442251962&comments&ref=notif¬if_t=note_reply#!/note.php?note_id=144302442251962

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

