সুযোগ ছিল একটি জাতীয় ঐক্য গড়ার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পারতেন একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে। কিন্তু নিজের পায়ে কুড়াল মেরে তিনি নিজে সে সুযোগ নষ্ট করলেন। তিনি পারতেন রাষ্ট্রনায়োকোচিত কাজ করতে। এই সংকটকালে তিনি বিরোধীদলসমূহকে বিশেষত বিএনপি প্রধানকে আমন্ত্রণ জানিয়ে তার পরামর্শ নিতে পারতেন। খালেদা জিয়াও না এসে পারতোনা। আর এভাবে স্বাধীনতার পর থেকে কোন রাষ্ট্রনায়ক যা পারেননি তা করে দেখাতে পারতেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশবাসি অবাক হয়ে দেখতো, সকলে প্রধানমন্ত্রীর এ উদ্যোগকে স্বাগত জানাতো। দল মত নির্বিশেষে একজন দেশনেত্রী হিসেবে নিজেকে উচ্চকিত করতে পারতেন। ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে নিজের নাম লেখাতে পারতেন।
কিন্তু পারলেননা। শুধুমাত্র নিজের স্বভাব দোষে পারলেননা। আজীবন তার নামে যে বদনাম রটিত হয়েছে, তার সত্যতা তিনি আবার প্রমাণ করে দেখালেন। আফসোস মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আফসোস আপনার জন্য। আমি আপনাকে ভোট দেইনি, প্রকাশ্যেই বলছি, কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর শপথ নেবার পর থেকে আপনাকে আমার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বরণ করে নিয়েছি। আপনার ন্যয় সংগত প্রত্যেকটি নির্দেশকে অবশ্য পালনীয় হিসেবে মান্য করতে প্রস্তুত রয়েছি। কিন্তু আজ আপনার এমন বালখিল্যতাপূর্ণ বক্তব্যে আহত হয়েছি, লজ্জিত হয়েছি, বিরক্ত হয়েছি। আর স্বজনহারা সেনা পরিবারের সদস্যরা হয়েছে চরমভাবে হতাশ। আদৌ বিচার হবে, না রাজনীতি হবে এই সংশয়ে হাবুডুবু খাচ্ছে দেশবাসী। আবারও আফসোস আপনার জন্য।
আল্লাহর রসূল সা. আমাদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন তার হাদিসে- প্রতিদিন সকালে ঘুম ভাঙ্গার পর মানুষের শরীরের প্রত্যেকটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ জিহ্বার নিকট হাত জোড় করে আকুতি জানায়- দয়া করে আজ সারাদিন তুমি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে চল। কেননা, তুমি যা বলবে, আমরা সেভাবেই চলবো। (হাদিসটির নিরেট ভাষ্য দিতে পারলামনা)। . . . . . . মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর চোখে হাদিসটি পড়বেনা জানি। তবু আমার সম্মানিত প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে রসূল সা. এর এ বাণীটি উল্লেখ করলাম। অন্তত বাকি সময়গুলো আপনার বাক্য দ্বারা জাতি বিপর্যস্ত না হোক।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা মার্চ, ২০০৯ রাত ১১:২৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


