আমার প্রিয় পোস্ট

প্রথমেই আমি তাকে যাদু করতাম

কেভিন কার্টারের ছবি এবং রুদ্রের কবিতার শকুন

২৫ শে মার্চ, ২০০৯ সকাল ৯:২৩

শেয়ারঃ
0 5 0

১.
বাতাস লাশের গন্ধ / রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ

আজো আমি বাতাসে লাশের গন্ধ পাই
আজো আমি মাটিতে মৃত্যূর নগ্ননৃত্য দেখি,
ধর্ষিতার কাতর চিৎকার শুনি আজো আমি তন্দ্রার ভেতরে...
এ দেশ কি ভুলে গেছে সেই দু:স্বপ্নের রাত, সেই রক্তাক্ত সময় ?
বাতাসে লাশের গন্ধ ভাসে
মাটিতে লেগে আছে রক্তের দাগ।
এই রক্তমাখা মটির ললাট ছুঁয়ে একদিন যারা বুক বেঁধেছিলো।
জীর্ণ জীবনের পুঁজে তারা খুঁজে নেয় নিষিদ্ধ আধাঁর,
আজ তারা আলোহীন খাঁচা ভালোবেসে জেগে থাকে রাত্রির গুহায়।
এ যেন নষ্ট জন্মের লজ্জায় আরষ্ট কুমারী জননী,
স্বাধীনতা - একি হবে নষ্ট জন্ম ?
একি তবে পিতাহীন জননীর লজ্জার ফসল ?

জাতির পতাকা খামচে ধরেছে আজ পুরোনো শকুন।

বাতাশে লাশের গন্ধ
নিয়ন আলোয় তবু নর্তকীর দেহে দুলে মাংসের তুফান।
মাটিতে রক্তের দাগ -
চালের গুদামে তবু জমা হয় অনাহারী মানুষের হাড়
এ চোখে ঘুম আসেনা। সারারাত আমার ঘুম আসেনা-
তন্দ্রার ভেতরে আমি শুনি ধর্ষিতার করুণ চিৎকার,
নদীতে পানার মতো ভেসে থাকা মানুষের পচা লাশ
মুন্ডহীন বালিকার কুকুরে খাওয়া বিভৎস্য শরীর
ভেসে ওঠে চোখের ভেতরে। আমি ঘুমুতে পারিনা, আমি
ঘুমুতে পারিনা...
রক্তের কাফনে মোড়া - কুকুরে খেয়েছে যারে, শকুনে খেয়েছে যারে
সে আমার ভাই, সে আমার মা, সে আমার প্রিয়তম পিতা।
স্বাধীনতা, সে আমার - স্বজন, হারিয়ে পাওয়া একমাত্র স্বজন -
স্বাধীনতা - আমার প্রিয় মানুষের রক্তে কেনা অমূল্য ফসল।
ধর্ষিতা বোনের শাড়ী ওই আমার রক্তাক্ত জাতির পতাকা।

২. কেভিন কার্টার নামে এক অখ্যাত ফটোগ্রাফার একটি মাত্র ছবির জন্য সারা পৃথিবীতে আলোচিত হন এবং পুলিত্‍জার পুরষ্কার পান ।


ছবির ইতিহাস হল এরকম
In March 1993 Carter made a trip to southern Sudan. The sound of soft, high-pitched whimpering near the village of Ayod attracted Carter to a young emaciated Sudanese toddler. The girl had stopped to rest while struggling to a feeding center, whereupon a vulture had landed nearby. He said that he waited about 20 minutes, hoping that the vulture would spread its wings. It didn't. Carter snapped the haunting photograph and chased the vulture away.


এই শকুনটির সঙ্গে রুদ্রের কবিতার শকুন, বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী চক্রটির মিল অনেক। কিন্তু সুদানের শকুনটি অপেক্ষা করছিল কখন শিশুটি মারা যাবে, আর ৭১ এর ঘাতক শকুনগুলো ছিল অধিকতর হিংস্র । নিরীহ লোক হত্যা, হত্যায় সহায়তা, বুদ্ধিজীবিদের চোখ উপড়ে, কলেজে ছিড়ে, নারীর সম্ভ্রম লুন্ঠন করে, দেহবিকৃতি করে মরণোত্‍সবে মেতেছিল।

জামাত‌/শিবির/সাকা, এই ট্রোজান শকুনেরা যে কোন পশুদের চেয়ে অনেক বেশী বর্বর।

৭১ গণহত্যার ছবি:

 

সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ১১:২১ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

২৫ শে মার্চ, ২০০৯ সকাল ১০:৪২

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ!

২. ২৫ শে মার্চ, ২০০৯ সকাল ৯:৫৮
জইন বলেছেন: কবিতা ছবি মন খারাপ করে দিল .... শকুনদের থেকেতো আমাদের রক্ষা হয়নি ... শিবির জামাত সাকা এখনও ... আমাদের পতাকা খামচে ধরেছে।
২৫ শে মার্চ, ২০০৯ সকাল ১০:২৯

লেখক বলেছেন: ঠিক কথা বলেছেন ।

৩. ২৫ শে মার্চ, ২০০৯ সকাল ১০:০৭
নিকোলাই টেসলা বলেছেন: ৭৪ দূর্ভিক্ষের ছবিগুলো দেখে খুব খারাপ লাগল। যেসব জানোয়ার এই দূর্ভিক্ষ সৃষ্টি করেছিল তাদের সীমাহীন দূর্ণিতির মাধ্যমে তারা খুব ভাল ভাবেই তার পরিণাম ভোগ করসে।
২৫ শে মার্চ, ২০০৯ সকাল ১০:৩১

লেখক বলেছেন: ছবি দেখে যদি "খারাপ লেগে" থাকে তবে নিচের লিংকটি ভিসিট করুন Genocide Bangladesh

৪. ২৫ শে মার্চ, ২০০৯ সকাল ১১:৪৬
মুহাম্মদ ফয়সল বলেছেন: লেখককে অনুরোধ করব, কোন বর্ণচোরার মন্তব্যে আশাহত না হতে। তা শুধু বুকের গভিরে জমে থাকা কষ্টকে বাড়িয়ে দেয় বহুগুনে। আর যত কষ্ট নিজে পাবেন ততই আনন্দ বর্নচোরাদের। ধন্যবাদ ভালো পোষ্টের জন্য।
২৫ শে মার্চ, ২০০৯ দুপুর ১২:৫০

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকেও ।

৫. ২৫ শে মার্চ, ২০০৯ দুপুর ১২:০৫
পথিক!!!!!!! বলেছেন: ধন্যবাদ পোষ্টটার জন্য
২৫ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ১১:৩৪

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, পথিক।

৬. ২৫ শে মার্চ, ২০০৯ দুপুর ১:১৩
একরামুল হক শামীম বলেছেন: এই শকুনটির সঙ্গে রুদ্রের কবিতার শকুন, বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী চক্রটির মিল অনেক। কিন্তু সুদানের শকুনটি অপেক্ষা করছিল কখন শিশুটি মারা যাবে, আর ৭১ এর ঘাতক শকুনগুলো অধিকতর হিংস্র, অসংখ্য নিরীহ লোকে হত্যা এবং হত্যায় সহায়তা, বুদ্ধিজীবিদের চোখ উপড়ে, কলেজে ছিড়ে, নারীর সম্ভ্রম, দেহবিকৃতি করে সেই মৃতদেহ নিয়ে উত্‍সব করেছে।

প্রিয় পোস্টের তালিকায় রাখলাম।
২৭ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ১:৫৫

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ

৮. ২৫ শে মার্চ, ২০০৯ দুপুর ১:৫৪
কঁাকন বলেছেন: Afsos eideshe thakar odhikar toslima payna kintu ei cagolai cagla bhal tobiyte bongsh briddhi kore
৯. ২৫ শে মার্চ, ২০০৯ দুপুর ২:৩০
রোহান বলেছেন: নিকোলাই টেসলা ছবিগুলা ৭৪ এর নয় ৭১ এর। অতীতকে এত অবলীলায় ভুলে যান কেনো?


-----------------------------------------------------------------------
এ দেশ কি ভুলে গেছে সেই দু:স্বপ্নের রাত, সেই রক্তাক্ত সময় ?
বাতাসে লাশের গন্ধ ভাসে
মাটিতে লেগে আছে রক্তের দাগ।
এই রক্তমাখা মটির ললাট ছুঁয়ে একদিন যারা বুক বেঁধেছিলো।
জীর্ণ জীবনের পুঁজে তারা খুঁজে নেয় নিষিদ্ধ আধাঁর,
আজ তারা আলোহীন খাঁচা ভালোবেসে জেগে থাকে রাত্রির গুহায়।
এ যেন নষ্ট জন্মের লজ্জায় আরষ্ট কুমারী জননী,
স্বাধীনতা - একি হবে নষ্ট জন্ম ?
একি তবে পিতাহীন জননীর লজ্জার ফসল ?

জাতির পতাকা খামচে ধরেছে আজ পুরোনো শকুন।
---------------------------------------------------------------------

এই লজ্জা থেকে আমাদের মুক্তি কবে? এই শকুনদের হাত থেকে নিস্তার কবে?

চমৎকার পোষ্ট। ধন্যবাদ।
১০. ২৫ শে মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৪:১৭
দি ওয়ান বলেছেন: ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য।
১২. ২৫ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ১০:৩৯
পজিটিভ২৯ বলেছেন: অসাধারন কবিতা!

কেভিন কার্টার সম্ভবত সুইসাইড করসিলেন পরে এই তোলার ছবির কারনে।
১৩. ২৬ শে মার্চ, ২০০৯ ভোর ৫:৩৭
শফিউল আলম ইমন বলেছেন: রাজাকার ও তাদের দোসরদের ঘৃণা এবং বিচার চাই।
১৪. ২৬ শে মার্চ, ২০০৯ সকাল ৯:২৮
মনির হাসান বলেছেন: ... জামাত‌/শিবির/সাকা, এই ট্রোজান শকুনেরা যে কোন পশুদের চেয়ে অনেক বেশী বর্বর।

ট্রোজান শকুনেরা সব সময় আমাদের পিছনে চোখ রাখছে ... সবাই সাবধান থাকুন ...
১৫. ২৬ শে মার্চ, ২০০৯ সকাল ১০:০৫
মুক্ত বয়ান বলেছেন: নিকো মনে হয়, হের জন্মটা কবে সেটাও বুঝতারে নাই!!

কবিতা আর ছবির জন্য ধন্যবাদ।
১৬. ২৬ শে মার্চ, ২০০৯ সকাল ১০:২৭
খািল িপডাইেত ইচ্ছা করে বলেছেন: পজিটিভ২৯ বলেছেন: অসাধারন কবিতা!

কেভিন কার্টার সম্ভবত সুইসাইড করসিলেন পরে এই তোলার ছবির কারনে।

সম্ভবত নয়; তিনি আত্মহত্যা করেছিলেন, আত্মদহনে পুড়ে পুড়ে শেষ পর্যন্ত পরাজিত হন।
১৮. ২৭ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ১০:২৭
মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেছেন: প্রিয়তে রাখলাম।
পোষ্টের জন্য অনেক ধন্যবাদ।
১৯. ২৮ শে মার্চ, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:২৭
জেমস কালাহান বলেছেন: আমাদের পতাকায় এখনো শকুন এর থাবার ছাপ, সব কিছু কড়ায় গন্ডায় ফেরত দিতে হবে ওদের।
২০. ৩১ শে মার্চ, ২০০৯ দুপুর ১:৪৫
মুনীর উদ্দীন শামীম বলেছেন: আমি প্রায় এ কবিতাটির আবৃত্তি শুনি। আমার ছোট্র মেয়েটিকে শোনাই। অনেক ধন্যবাদ পোস্টের জন্য।
২১. ০৩ রা মে, ২০০৯ সকাল ৭:১৩
প্রবর রিপন বলেছেন: চমৎকার পোষ্ট

ভাল লাগল

আর অই শিশু আর সকুনের ছবিটা দেখে আমার একটা কবিতা দিলাম পড়ে মুছে দিয়েন



মৃত্যু উৎপাদন কারখানা


আমরা মৃত্যু উৎপাদন করি
কথায়,ইচ্ছায়,সাধনায় আর কারখানায়।"

মহামারী শিশুদের প্রিয় খেলনা
যুবকদের প্রিয় মরে বেচে থাকা,
অকাল মৃত্যু প্রেমিকার জন্য প্রেমিকের প্রিয় উপহার
সেই বুলেট গুলো কোথায়
যার গায়ে আমাদের মৃত্যু দিবস লিখে রাখা ?
তার জন্য পাঁজরের ভেতর পেতে রেখেছি সিংহাসন
সেটাই ধুয়েমুছে ফু দিয়ে দিয়ে দিন কাটাই,
জীবনকে সময়ের ছুটকা ছাটকা পরিহাস জেনে
পেশায় আমরা বহুপুরুষ ধরে কসাই।
মৃত সৈনিকের ফসিল দিয়ে গড়েছি ঘরের দেয়াল
আর রক্তের সেচে চাষাবাদে ফসল ফলে দেদার
সুর্যকে মনে হয় ফেরেশতাদের তাক করে রাখা কামানের গোলা

"আমরা মৃত্যু উৎপাদন করি
কথায়,ইচ্ছায়,সাধনায় আর কারখানায়।"

এবার তুমি দাঁড়াবে আমার পাশে
বলবে " হ্যা এটাই তো সেই স্বপ্নভূত শ্রমজীবি সমাজ"
মৃত্যু উৎপাদন শ্রমে কোন ঘাটতি নেই
কোন অসংগতি নেই শ্রম বিভাজনে
কোন অসংহতি নেই মৃত্যু বন্টনে

"আমরা মৃত্যু উৎপাদন করি
কথায়,ইচ্ছায়,সাধনায় আর কারখানায়।"

মহান দার্শনিক সূর্য আমাদের শেখালো শুধু মৃত্যুর শিল্প
তার ফুলঝুরি রশ্নি থেকে শিখেছি পারমাণবিক রঞ্জন
শ্যামল প্রকৃ্তি আমাদের মৃত্যু ব্র্যান্ডের পণ্যের মোড়ক
আর সব পণ্যের সাথে বিনামূল্যে অকাতরে
বিলিয়েছি একটি করে সতেজ গোলাপ - তাও আবার লাল।
তুমি বলতে পারো এ শুধু আমাদের যুদ্ধের বিজ্ঞাপন
কিন্তু দ্যাখো ব্যারাকের পোষা সৈনিক উর্দি ছুড়ে ফেলে
নিজের মেরুদণ্ড হাতে দাড়িয়েছে নিজের মাংসপিন্ডের সামনে
ধংস যেহেতু মানব চেতনার সেরা ফসল
তাই নিজেদেরকে হত্যা করে
পৃথিবীর শূণ্যতার প্রশান্তির ভেতর খুজে নেবে
তার অশরীরি নতুন জন্ম।

"আমরা মৃত্যু উৎপাদন করি
কথায়,ইচ্ছায়,সাধনায় আর কারখানায়।"
ধংস যেহেতু মানব চেতনার সেরা ফসল
তাই নিজেদেরকে হত্যা করে
পৃথিবীর শূণ্যতার প্রশান্তির ভেতর খুজে নেব
আমাদের অশরীরি নতুন জন্ম।



ভাল থাকুন শুভেচ্ছা রইল
২২. ২৭ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ১২:১৪
খালেদ সময় বলেছেন:

আমরা মৃত্যু উৎপাদন করি
কথায়,ইচ্ছায়,সাধনায় আর কারখানায়।"
................................................................... কলমটি বেশ ক্ষিপ্র ছিল। সুন্দর পোষ্ট

 

মোট সময় লেগেছে ১.০২৩১ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনের পাঠক । পত্রিকায় লিখতাম সখ করে । টাইপিং এর চেয়ে কাগজ কলম কে বেশী ভাল লাগতো তাই...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই