আমার প্রিয় পোস্ট

প্রথমেই আমি তাকে যাদু করতাম

সংশপ্তক মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি আমাদের ক্ষমা করুন! বীরশ্রেষ্ঠ নিয়েও চলেছে প্রতিশ্রুতিভঙ্গের খেলা

০৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১২:৪২

শেয়ারঃ
0 2 0

ভাস্কর চৌধুরীর লেখাটি পড়ে জগৎজ্যোতির সম্মন্ধে জানতে আগ্রহী হয়ে উঠি। বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল যে আমাদের বীরশ্রেষ্ঠ উপাধী থেকে প্রতিশ্রুতিভঙ্গ শুরু। স্বাধীন বাংলা বেতারে প্রচারিত প্রতিশ্রুতিতে এই মুক্তিযোদ্ধাকে বীর শ্রেষ্ঠ ঘোষণার কথা বার বার বলা হলেও মাত্র কয়েক মাস পরে '৭২ এর ৬ এপ্রিল প্রথম গেজেটে একমাত্র বীরশ্রেষ্ঠ উপাধী পায় মুন্সী আবদুর রউফ । বলাবাহুল্য ৩ জনকে বীরউত্তম, ১৪ জনকে বীরবিক্রম এবং ২৫ জনকে বীরপ্রতীক হিসেবে ঘোষণা দেয়া হলেও জগৎজ্যোতির দুরের কথা কোন গণ মুক্তিবাহিনীর যোদ্ধা এতে ছিল না । কেন? তবে কী এখানে অলিখিত বিধান ছিল যে জগৎজ্যোতির মত গণবাহিনীর সংশপ্তক যোদ্ধারা যতই বীরত্ব প্রদর্শণ করুক তাদের জন্য রাষ্ট্রীয় উপাধী প্রযোজ্য নয়? পরবর্তীতে ১৯৭৩ সালের ৬ ডিসেম্বর ৬ জন বীরশ্রেষ্ঠের নাম যুক্ত হয়। দেখা যায় জিয়া সহ সর্বমোট ৬৮ জন বীরউত্তম খেতাব পায় । কাদের সিদ্দিকী সহ মাত্র ২ জন আসে গণবাহিনী থেকে! (সুত্র: বীরশ্রেষ্ঠ , বীরউত্তমবীরবিক্রম , এবং বীরপ্রতীক দের তালিকা)।

জগৎজ্যোতি কে বীরশ্রেষ্ট উপাধি দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকেস্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সংগঠক বেলাল মোহাম্মদ জানান, শহীদ জগৎজ্যোতিকে বীরশ্রেষ্ট খেতাব দেওয়ার ঘোষনা দেওয়া হয়েছিল একাধিকবার এবং তার বীরত্বগাথা প্রচার হচ্ছিল সম্মানের সঙ্গে। জাতির অস্তিত্ব রক্ষার এই যুদ্ধে জগৎজ্যোতির প্রত্যুতপন্নমতিত্ব, প্রাকৃতিকভাবে যোগাযোগ বিচ্ছন্ন দায়িত্বরত এলাকায় নতুন নতুন রণকৌশল ও দুঃসাহসী সফল অপারেশনের কারণে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে একাধিকবার তার বীরত্বগাঁথা প্রচার হচ্ছিল সম্মানের সঙ্গে। আর একারণে তার প্রতি চরম ক্ষুদ্ধ ছিল পাক হায়েনারা।

জগৎজ্যোতি দাস বীরবিক্রম
’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে ভাটি বাংলার গেরিলা বাহিনীর কমান্ডার ছিলেন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি দাস। বাবা মা আদর করে ডাকতেন শ্যাম নামে। যদিও কোন কোন তথ্যে সে কোন উপাধি পায় নি কিন্তু বীর বিক্রমদের তালিকা অনুযায়ী সেক্টর ৫ থেকে তাকে বীরবিক্রম উপাধী দেয়া হয়

কমিউনিষ্ট আদর্শে দিক্ষিত হলেন
হবিগঞ্জ জেলার আজমিরীগঞ্জ উপজেলার জলসুখা গ্রামের জীতেন্দ্র দাসের কনিষ্ঠ পুত্র জগৎজ্যোতি। শৈশব থেকে জ্যোতি শান্ত স্বভাবে হলেও ছিলেন প্রতিবাদী, জেদি, মেধাবী ও সাহসী । স্কুল জীবনেই জ্যোতি আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে অংশ নেন। ১৯৬৮ সালে ম্যাট্রিক পাস করার পর সুনামগঞ্জ কলেজে ভর্তি হয়ে ছাত্র ইউনিয়নে যোগ দেন এবং তেজোদীপ্ত, বিপ্লবী ও স্পষ্টভাষী ছাত্র নেতা হিসেবে তিনি পরিচিত হয়ে ওঠেন । ১৯৬৯ সালে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়ে বিশেষ দায়িত্ব পালনে ভারতের গৌহাটির নওপং কলেজে ভর্তি হন। সেখানে অবস্থানকালে অনেকগুলো অঞ্চলের ভাষা আয়ত্ব করেন এবং ধীরে ধীরে নকশাল পন্থীদের সঙ্গে জড়িত হন। এখানে অস্ত্র গোলাবারুদ সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারনা নিয়ে আবার দেশে ফিরে আসেন।

যুদ্ধ শুরু হলো
’৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে যখন সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু হয় । পাকবাহিনীর বর্বরোচিত হামলা ও নৃশংস হত্যাকান্ডের বিরুদ্ধে রূখে দাড়ানোর জন্য সিদ্ধান্ত নেন জগৎজ্যোতি । যোগ দেন ভারতের মেঘালয় রাজ্যের ইকো-১ ট্রেনিং ক্যাম্পে। বাংলার ভাটি অঞ্চলের সুনামগঞ্জ-কিশোরগঞ্জ-নেত্রকোনা এবং হবিগঞ্জের হাওরাঞ্চল নিয়ে গঠিত হয় মুক্তিযুদ্ধের ৭ নং সেক্টর। এ সেক্টরের কমান্ডারের দায়্ত্বি পান তৎকালীন মেজর শওকত আলী। ৭ নং সেক্টরকে কয়েকটি সাব-সেক্টরে বিভক্ত করা হয়। এর মধ্যে টেকেরঘাট সাব-সেক্টরের দায়্ত্বি দেওয়া হয় বর্তমান বিশিষ্ট নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে। তার অধীনেই প্রথমত জগৎজ্যোতি বিভিন্ন আক্রমণে অংশগ্রহণ করেন। তার নেতৃত্বে প্রশিক্ষিত চৌকস যোদ্ধাদের নিয়ে গঠিত হয় গেরিলা দল, যার নাম দেওয়া হয় ফায়ারিং স্ট্কোয়াড ‘দাস পার্টি’।

কয়েকটি সফল অপারেশন
জগৎজ্যোতি ইংরেজি, হিন্দি, গৌহাটির আঞ্চলিক ভাষায় পারদর্শী হওয়ার সুবাদে ভারতীয় মিত্র বাহিনীর সঙ্গে তার যোগাযোগ সহজতর হয় । এর ফলে দাস পার্টির জন্য ভারতীয় মিত্র বাহিনীর জগৎজ্যোতি আধুনিক অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংগ্রহে সমর্থ হন । দাস পার্টির উল্লেখযোগ্য একটি অপারেশন ছিল পাকবাহিনীর বার্জ আক্রমণ । ’৭১-এর ১৬ অক্টোবর পাকবাহিনীর সেই বার্জটিতে আক্রমণ চালিয়ে বার্জটি নিমজ্জিত করে। দাস বাহিনীর গেরিলা অভিযানের মাধ্যমে পাকিস্তানী শত্রু ঘাঁটি ধ্বংস শুরু করে। পরবর্তীতে পাহাড়পুর অপারেশন, বানিয়াচংয়ে কার্গো বিধ্বস্ত করা, বানিয়াচং থানা অপারেশনসহ বেশ ক’টি ছোট বড় অপারেশন দাস পার্টির যোদ্ধারা সফল ভাবে সম্পন্ন করে।

বদলপুর অপারেশন
বদলপুর অপারেশন ছিল মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে একটি একটি বিশাল সাফল্য । জগৎজ্যোতির সঙ্গে ছিল বানিয়াচংয়ের মোহাম্মদ আলী মমিন, আমির হোসেন, খালেক মাস্টার, হায়দারুজ্জামান খান ধন মিয়া, আজমিরীগঞ্জের রাশিদুল হাসান চৌধুরী কাজল, মতিউর রহমান, নিত্যানন্দ দাস, ইলিয়াছ চৌধুরী, আঃ রশীদ, নিপেন্দ্র দাশ, ছাতকের আয়ুব আলী, আঃ মজিদ ও দিরাই উপজেলার আহবাব হোসেন এবং নীলু। জগৎজ্যোতির দল আজিমিরীগঞ্জ, মারকুলি, গুঙ্গিয়ারগাঁও প্রভৃতি অঞ্চলে শত্রু ঘাঁটি ধ্বংস করে দেয়। বদলপুরে শত্রুসেনারা দাস পার্টির প্রতিরোধের মুখে পাকসেনারা শক্তি বৃদ্ধি করতে বাধ্য হয়। গুলি ছোড়ার জন্য হেলিকপ্টারও ব্যবহার করা হয় । রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে জগৎজ্যোতি র পাশে ছিল ইলিয়াস নামে আরেকজন অসীম সাহসী যোদ্ধা।

শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত লড়ে গেলেন
পাক ক্যাম্প থেকে মাত্র ২০০ গজ দুরে রাজাকার/পাক সেনাদের আক্রমণে ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে দাস পার্টি। রণাঙ্গণে পরিস্হিতির ভয়াবহ চিন্তা করে এক পর্যায়ে জ্যোতি তার দলকে ফিরে যাবার নির্দেশ দিয়ে একটি মাত্র এলএমজি নিয়ে নিজে একাই যুদ্ধ চালিয়ে যাবার সিদ্ধান্ত নেন । এজন্য জ্যোতি সহযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী মমিনকে নির্দেশ দেন যাতে অন্যরা তাদের জীবন বাঁচিয়ে নিরাপদ স্হানে সরে যায় । এরপর দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে থাকেন মাত্র দুইজন, জ্যোতি ও ইলিয়াছ। সুস্হির এবং দৃঢ় মনোবলের সঙ্গে তারা যুদ্ধ করতে থাকে একটানা কিন্তু হঠাৎ ইলিছাস পাঁজরে গুলিবিদ্ধ হন। জ্যোতি পিছু না হটে তার মাথার লাল পাগড়ি খুলে শক্ত করে ইলিয়াসের বুকে‌ এবং পিঠে বেঁধে দেয়, যাতে তার রক্তক্ষরণ থেকে যায়। ইলিয়াছ সেই অবস্হায় মেশিনগান নিয়ে ক্রমাগত গুলি ছুড়তে থাকে পাক হানাদারদের ওপর।

অবিশ্বাস্য হলেও তিন দিক থেকে আক্রমণ সত্ত্বেও দক্ষ যোদ্ধা জ্যোতির কাছে ভিড়তে পারেনি পাকসেনারা। যুদ্ধের এক পর্যায়ে ম্যাগজিন লোড করে শত্রুর অবস্থান দেখতে মাথা উঁচু করতে মুহুর্তে ১টি গুলি জগৎজ্যোতির চোখে বিদ্ধ করে( একটু সুত্র দাবী করে তার পাঁজর বিদ্ধ করে)। মেশিনগান হাতে উপুড় হয়ে পাশের বিলের পানিতে নিশ্চল হয়ে ঢলে পড়েন জ্যোতি ।

জনসমক্ষে ঝুলিয়ে রাখা হলো
রাজাকারেরা রাতে জ্যোতির মৃতদেহ (একটি সুত্রে বলা হয় তিনি তখনও বেঁচে ছিলেন) খুজে পেয়ে পাকবাহিনীকে খবর দেয় । তাকে আজমিরীগঞ্জ বাজারে নিয়ে যায়। রাজাকাররা জ্যোতি হত্যার ঘটনা ছড়িয়ে দিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানোর জন্য তার দেহ কে আজমিরীগঞ্জ গরুর হাটে একটি খুঁটির সঙ্গে ঝুলিয়ে দেয়া হয়। তারপর চলে মৃতদেহ অবমাননা । একটি সুত্র দাবী করে জ্যোতি তখনও জীবিত ছিল এবং তাকে অমানুষিক নির্যাতন করে মেরে ফেলা হয় । হাফপ্যান্ট ও গেঞ্জি পরা জ্যোতির নিথর দেহটি কোন সৎকার ছাড়া ঝুলিয়ে রেখে পরে একসময় ভাসিয়ে দেওয়া হয় কুশিয়ারা নদীতে। কিন্ত্ত তার সহযোদ্ধারা তার মৃত্যুতে পিছু হটেনি । জগৎজ্যোতি ছিল তাদের কাছে জীবনের বিনিময়ে দেশের জন্য যুদ্ধ করার এক অনন্য দৃষ্টান্ত । জগৎজ্যোতির বীরত্বপূর্ণ যুদ্ধের কাহিনী সিলেটের সেই অঞ্চলের মানুষের কাছে এখনে মুখে মুখে ফেরে ।

বিস্মৃতির অতলে জগৎজ্যোতি
ছিটে ফোটা দু একটি লেখা ছাড়া খুব কমই আলোচনায় এসেছে এই মহান বীর । মইদুল হাসানের "মূলধারা একাত্তরে" পড়েছিলাম আওয়ামীলীগের একটি অংশ ছাত্রইউনিয়ন সহ দলের বাইরের কোন মুক্তিযোদ্ধাদের স্বীকৃতির পক্ষে ছিল না ।

জগৎজ্যোতির কমান্ডার সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত দেশের ক্ষমতাশীল দলের কান্ডারীদের একজন হয়ে তার ভাগ্য বদলেছেন । চ্যানেল আইতে তৃতীয় মাত্রা সহ একাধিক টিভি অনুষ্ঠানে তাকে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করতে দেখেছি ।কিন্তু এই যোদ্ধার নাম ভুলেও বলতে দেখিনি । হয়তো পুরনো কাহিনী বলে সবাই ভুলে গেছে ।

সামহোয়ারইন থেকে শুধু একটি কথাই বলতে পারি, আমাদের ক্ষমা করুন জগৎজ্যোতি!

সূত্র:

ক. ভাটিবাংলায় মুক্তিযুদ্ধ এবং দাস পার্টি , রাশেদ আহমেদ খান, দৈনিক সমকাল, ৮ ডিসেম্বর ২০০৬।
খ. মুক্তিযুদ্ধে সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের শহীদ তিন ছাত্র মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতিদাস, তালেব ও গিয়াস

 

সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ৯:৪৫ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১২:৫৮
রাগিব বলেছেন: তর্পন, আপনি তথ্যসূত্র সহ উইকিতে জগৎজ্যোতির জীবনীটি শুরু করুন। একটু জীবনী আকারে লিখতে হবে, অন্যান্য বীরশ্রেষ্ঠদের জীবনী দেখলে লেখার ধাঁচটি বুঝতে পারবেন।
০৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১:৩২

লেখক বলেছেন: আমি এটি শুরু করেছি ।

Click This Link

সম্ভবত: আপনিও এডিট করছেন । অফলাইন যাচ্ছি । আমি কয়েক ঘন্টা ফিরে উইকিটা আরেকটু তথ্যবহুল করার চেষ্টা করবো ।
ধন্যবাদ।

২. ০৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১:০০
পজিটিভ২৯ বলেছেন: ধন্যবাদ গুরুত্বপূর্ন তথ্য জানানোর জন্য।
৩. ০৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১:১১
স্মৃতিমেঘ বলেছেন: প্রতিটি মুক্তিযোদ্ধাই বীরশ্রেষ্ঠ। কারও হয়ত অবদান কম কারও হয়ত বেশি তবে সকল মুক্তিযোদ্ধারই এক অভিন্ন উদ্দেশ্য ছিল।

এটাই সত্য...........।
৫. ০৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১:২৫
পাগলা আইজু বলেছেন:


আমাদের বীরশ্রেষ্ঠ উপাধী থেকে প্রতিশ্রুতিভঙ্গ শুরু হল যে তার শেষ আর হলোনা।
গোড়ায় গলদ আমাদের, যার খেসারত আজও দিচ্ছি।
৬. ০৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১:৪০
রাগিব বলেছেন: আমি এখন আর সম্পাদনা করছিনা, আপনি সুবিধা মতো সম্পাদনা করতে পারেন। দয়া করে তথ্যসূত্র যোগ করে দিবেন।
০৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১:৪৩

লেখক বলেছেন: ঠিক আছে! ধন্যবাদ।

৭. ০৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১:৫৩
মুক্ত বয়ান বলেছেন: ব্যাপক। ভালো লিখছেন তর্পন ভাই। কালকে ভাস্কর দা পোস্ট দিলেন। আজ আপনি.. দু'টোই তথ্য বহুল।++
৯. ০৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ২:৪৩
ড়ৎশড় বলেছেন: তর্পন ভাই,মুন্সী আব্দুর রউফ বাংলাদেশ রাইফেলসের ছিলেন।ছকে একটু ভুল আছে।

০৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৪৬

লেখক বলেছেন: উইকিপিডিয়ার তথ্য ।সম্ভব হলে উইকিতে রেফরেন্স সহ আপডেট করে দিন।

১০. ০৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ৮:০৭
চাতকপাখি বলেছেন:
তিনি এক জন অসম সাহসী যোদ্ধা ছিলেন তাতে কোন সন্দেহ নেই। তবে আপনার বর্ণনায় কোথায় যেন একটা ফাক থেকে যাচ্ছে।


" অবিশ্বাস্য হলেও তিন দিক থেকে আক্রমণ সত্ত্বেও দক্ষ যোদ্ধা জ্যোতির কাছে ভিড়তে পারেনি পাকসেনারা। যুদ্ধের এক পর্যায়ে ম্যাগজিন লোড করে শত্রুর অবস্থান দেখতে মাথা উঁচু করতে মুহুর্তে ১টি গুলি জগৎজ্যোতির চোখে বিদ্ধ করে। মেশিনগান হাতে উপুড় হয়ে পাশের বিলের পানিতে নিশ্চল হয়ে ঢলে পড়েন জ্যোতি ।

জনসমক্ষে হাতে পেরেক দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হলো
বলাবাহূল্য পাকবাহিনীর প্রভুভক্ত সারমেয় তুল্য রাজাকারেরা রাতে জ্যোতির লাশ খুজে পেয়ে পাকবাহিনীকে খবর দেয় । তাকে আজমিরীগঞ্জ বাজারে নিয়ে যায়। রাজাকাররা জ্যোতি হত্যার ঘটনা ছড়িয়ে দিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানোর জন্য জ্যোতির অর্ধমৃত দেহ কে আজমিরীগঞ্জ গরুর হাটে একটি খুঁটির সঙ্গে ঝুলিয়ে পেরেক মেরে জনসমক্ষে অমানুষিক নির্যাতন চালায়।"



চোখে গুলি খাওয়া একজন লোক অর্ধমৃত থাকার সম্ভাবনা শুন্যের কাছাকাছি। পাকিস্তানীদের পদলেহনকারীরা তার মৃতদেহের অবমাননা করেছিল।


সত্য প্রতিষ্ঠিত হোক। জগৎজ্যোতি দাস যেন তার প্রাপ্য সম্মান পান; সেই প্রার্থনা রইল।
০৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ৮:২৩

লেখক বলেছেন: ভাল জিনিস ধরেছেন । আপনি দুটো সুত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই করে দেখতে পারেন । একই সঙ্গে ভাস্করের লেখা। দেখবেন একটিতে বলা আছে পাঁজরে গুলি খেয়ে সঙ্গে সঙ্গে সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন । এবং রাজাকার বাহনী তার মৃতদেহ ঝুলিয়ে রাখে । অন্যটিতে বলা হয় চোখে গুলিবিদ্ধ হন এবং তাকে পেরেক বিদ্ধ করে ঝুলিয়ে নির্যাতন করা হয় । এটি অস্পষ্ট বিধায় লেখার এডিটে ভুল রয়ে গেছে । ঠিক করে দিলাম।

০৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ৮:৩২

লেখক বলেছেন: চোখে গুলি খাওয়া একজন লোক অর্ধমৃত থাকার সম্ভাবনা শুন্যের কাছাকাছি। পাকিস্তানীদের পদলেহনকারীরা তার মৃতদেহের অবমাননা করেছিল।

পাঁজরে গুলি খেয়ে থাকার কথা বলছে একটু সু্ত্র । আবার চোখে মানে কি চোখের মধ্যে বিদ্ধ নাকি মাথার কোথাও ছুয়ে গুলি বেরিয়ে গেছে তাও পরিস্কার নয়। এবং সেসব ক্ষেত্রে অর্ধমৃত থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না । সঠিক তথ্যটি নিশ্চিত হলে ঠিক করে দেব ।

১১. ০৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১০:২৪
ভাস্কর চৌধুরী বলেছেন:
বীরশ্রেষ্ঠদের তালিকা দেখলাম অনেকবার। ভাবলাম এরই কোন এক পাশে জ্যোতির নাম থাকতে পারতো। কেন নেই, কোন কারণে নেই জ্যোতির নাম কে জানে তার উত্তর.....!!!

হায়রে দেশ, হায়রে জাতি, হায়রে .......!!!

ধন্যবাদ আপনাকে সবার কাছে আবার জ্যোতিকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য।
০৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১১:৩৮

লেখক বলেছেন: বললে কেঁচো খুড়তে সাপ বের হয়ে যেতে পারে । যখন মুক্তিযুদ্ধ চলছিলো তখনো তখনও দলীয় পরিচয়ের কারণে আমাদের ঐক্য বিনষ্ট হয়েছে । বলা বাহুল্য জ্যোতির মত ছাত্র ইউনিয়নের অনেক কর্মী ছিল যারা রণকৌশল এবং পরিকল্পিত আক্রমণে অনেক বেশী শিক্ষিত ছিল। এ কারণে দাস পার্টির সাফল্য ছিল অভাবনীয় ।

কিন্তু মিত্র বাহিনীর কাছে পাঠানো ট্রেনিং এর তালিকায় আগে আসতো আওয়ামী ঘেঁষারা । তাজউদ্দিন ছাড়া বাকি সবাই দলকেন্দ্রীক চিন্তায় অভ্যস্ত ছিল । মুজিবের অদক্ষতা নিয়ে বলার কিছু নেই । যতদুর শুনেছি জিয়ার মত সুবিধাবাদী সামরিক অফিসাররা নিজেদের সুবিধা মত বীরশ্রেষ্ঠ/বীরউত্তমের তালিকাটি পরিবর্তিত করিয়ে নিয়েছিল, ২ বছর পর! ব্লাডি সিভিলিয়ান কে কে স্যালুট দিতে চায়?

হায়রে দেশ, হায়রে জাতি, হায়রে .......!!!

১২. ০৭ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১২:৩৬
মনির হাসান বলেছেন: কমরেড তর্পন ... আপনাকে প্রচন্ড ঈর্ষা হচ্ছে ... আর কিছু বলার নেই ..

পোস্ট প্রিয়তে ...

ভালো থাকুন ।
০৭ ই এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৯:৪৪

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ । আপনিও ভাল থাকবেন।

১৩. ০৭ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১২:৪৮
মনির হাসান বলেছেন: আচ্ছা ... উইকিতে বাংলা ফন্ট দেখাচ্ছেনা ... কি করবো ?
০৭ ই এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৯:৪২

লেখক বলেছেন: http://bn.wikipedia.org/wiki/ র উপরে দেখবে একটি লিংক আছে How to read and write in Unicode Bangla .. আশা করছি এখান থেকে আপনার সমস্যা সমাধানের পথ পাবেন ।

১৪. ০৭ ই এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১২:১৮
তাহ্‌লীল আহেমদ চৌধুরী বলেছেন: অসংখ্য ধন্যবাদ এই ধরনের পোষ্টের জন্য। আশা করি ভবিষ্যতে এই ধরনের লিখা আরো পাব।মুক্তিযুদ্ধের বীরদের ইতিহাস জানার জন্য কিছু লিঙ্ক দিতে পারেন??
প্রিয়তে নিলাম।
ধন্যবাদ।
১৫. ০৮ ই এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১:৫৪
শুভ বলেছেন: "কিন্তু মিত্র বাহিনীর কাছে পাঠানো ট্রেনিং এর তালিকায় আগে আসতো আওয়ামী ঘেঁষারা । তাজউদ্দিন ছাড়া বাকি সবাই দলকেন্দ্রীক চিন্তায় অভ্যস্ত ছিল । ... বীরশ্রেষ্ঠ/বীরউত্তমের তালিকাটি পরিবর্তিত করিয়ে নিয়েছিল, ২ বছর পর!"

বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে একজনও সিভিলিয়ান নাই কেন?
এই প্রশ্নের উত্তর আজ অবধি কেউ গুছিয়ে বলতে পারেনিনি! ঘুরেফিরে যে কথাটা আসে সিভিলিয়ানদের নাকি সামরিক লোকজনের মত অবদান ছিল না। এ আমি বিশ্বাস করি না। ফালতু!
অনেক সিভিলিয়ানের আত্মত্যাগের কাছে সামরিক কারও অবদান আমার কাছে হাস্যকর মনে হয়। এটা আমার নিজস্ব মত।

নিরেট সত্যটার মুখোমুখি করাবার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। ভাল থাকুন@তর্পন
১৭. ২৯ শে অক্টোবর, ২০১০ দুপুর ১২:২৯
কর্ন বলেছেন: ব্লাডি সিভিলিয়ান মহান জলপাই বাহিনীর সমকক্ষ কি ভাবে হবে ? তাই হয়তো দেয় নাই । আরো ক্রাইটেরিয়া হিন্দু এবং ইউনিয়ন মহান জলপাই বাহিনীর দু চক্ষের বিষ

 

মোট সময় লেগেছে ১.১২৩৭ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনের পাঠক । পত্রিকায় লিখতাম সখ করে । টাইপিং এর চেয়ে কাগজ কলম কে বেশী ভাল লাগতো তাই...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই