নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, গাছের এ-ডাল থেকে ও-ডালে মায়ের সঙ্গে ঝুল খেয়ে বেড়াতে বেড়াতে বোনোবো পুরুষ গর্ভধারণক্ষম স্ত্রী বোনোবোর সঙ্গে পরিচয় ও মেলামেশা করার সুযোগ শুধু যে পায় তা নয়, উভয়ের মধ্যে অন্তরঙতা গড়ে ওঠার সম্ভাবনাও বাড়ে। গবেষণায় আরও দেখা গেছে যে, মায়েরা আশপাশে থাকলে সামাজিক সত্মরবিন্যাসে নিচু থেকে মাঝারি সত্মরের বোনোবো পুরুষরা সঙ্গিনীর সঙ্গে প্রজননের সুযোগ বেশি পায়। মায়েরা ছেলেদের সঙ্গে নিয়ে বিচরণ করে বেড়ানোর সময় নারীমহলে তাদের উপস্থিতির পথ সুগম করে দেয় যাতে করে একাধিক স্ত্রী বোনোবোর সঙ্গে তারা মেলামেশা করতে পারে। প্রতিদ্বন্দ্বী কোন পুরুষকে তার নিজের ছেলের কুসুমিত প্রেমের সম্পর্ক ভেঙ্গে দেয়ার চেষ্টা করতে দেখলে মা সেই পুরুষটির দিকে তেড়ে আসে এবং তাকে ধাওয়া করে তাড়িয়ে দেয়। এইভাবে দেখা যায় যে, মা বোনোবোরা ছেলে সন্তানের প্রেম বা যৌন জীবনের ব্যাপারে সক্রিয় আগ্রহ বা উৎসাহ দেখিয়ে থাকে। এর মাধ্যমে মায়েরা তাদের একান্ত নিজস্ব জিন বা বংশগতিগুলোকে সন্তানের সন্তানদের মধ্যে স্থানান্তরিত করার সুযোগ খুঁজে পায়। তারা বুঝে যে, প্রেম বা যৌনজীবনে ছেলেকে সাহায্য করতে পারলে তারা আরও বেশি বংশধর লাভ করতে পারবে।
সন্তানের সন্তান হওয়ার ব্যাপারে বাবা-মার আগ্রহ বা কৌতূহল থাকাটা অতি প্রচলিত ব্যাপার। এটা মানুষের বেলায় যেমন সত্য জীবজগতের কিছু কিছু প্রাণীর বেলায়ও তেমনি সত্য। তারকা নামে এক জাতের তিমি মাছের মা ও ছেলের বন্ধন বেশ শক্তিশালী হতে দেখা গেছে। হায়নাদের বেলায় দেখা গেছে যে, পাশের কর্তৃত্বশীল কোন মায়ের গর্ভজাত পুরুষ হায়েনা পরবর্তী জীবনে অনেক বেশি প্রজনন ক্ষমতার অধিকারী হয়। প্রাইমেটদের বেলায় মা-ছেলের বন্ধন পরিমাপ করা কঠিন; কারণ বেশিরভাগ প্রাইমেটপুরুষ বয়ঃসন্ধি লাভের পর মায়ের পক্ষ ছেড়ে চলে যায়। তবে বেনোবোরাই একমাত্র ব্যতিক্রম। বোনোবো সমাজে মেয়েদের আধিপত্য। সেখানে পুরুষরা প্রাপ্তবয়স্ক হবার পরও মায়ের সঙ্গে যুক্ত থাকে। মাঠপর্যায়ে পর্যবেৰণ থেকে দেখা গেছে যে, বোনোবো মায়েরা ছেলের প্রজননের পথ সুগম করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে থাকে।
পর্যবেক্ষণ থেকে দেখা যায় যে, দিনের বেলা প্রাইমেটরা বিভিন্ন পক্ষে বিভক্ত হয়ে থাকলেও ছেলেরা ৮১ থেকে ৯২ ভাগ সময় মায়ের সঙ্গে আটকে থাকে। মায়েরা আশপাশে না থাকলে শক্তিমত্তার দিক দিয়ে যে পুরুষটির দাপট সবচেয়ে বেশি সে গর্ভধারণক্ষম স্ত্রী বানোবোদের সঙ্গে শতকরা ৪১ ভাগ যৌন মিলনের জন্য দায়ী। কিন্তু পদমর্যাদার দিক দিয়ে নিম্ন থেকে মাঝারি সত্মরের পুরম্নষদের মায়েরা উপস্থিত থাকলে এই হার ২৫ শতাংশে নেমে আসে। অন্য কথায় বলা যায় যে, মায়েরা কর্তৃত্বকারী পুরুষটাকে সন্তান ধারণক্ষম অধিকাংশ স্ত্রী বোনোবোদের সঙ্গে একচেটিয়া প্রজননের সুযোগ থেকে দূরে সরিয়ে রাখে এবং আপন ছেলেদের প্রজননের সুযোগ করে দেয়।
কখনও কখনও মায়েরা সরাসরি হস্তক্ষেপও করে থাকে। তারা মেয়েদের দল থেকে অনাত্মীয় পুরুষদের ধাওয়া করে তাড়িয়ে দেয়। প্রেমঘটিত কোন ব্যাপারে নিজেদের ছেলেরা মারামারিতে লিপ্ত হলে মাকে ছেলেদের পক্ষ নিয়ে লড়তে দেখা গেছে।
বোনোবো সমাজে নারীদের সামাজিক মর্যাদা অনেক বেশি। তাই কোন মায়ের উপস্থিতি ছেলেকে বোনোবো দলে আরও মুখ্য ভূমিকা পালনের সুযোগ তৈরি করে দেয়। দলের মুখ্য অবস্থানে থাকার সুযোগে এই পুরুষরা স্ত্রী বোনোবোদের সঙ্গে আরও বেশি যোগাযোগ ও ভাবের আদান-প্রদান করতে সক্ষম হয়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

