somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

Atari 2600 নামের সেই আজব বক্সটা

১৫ ই মার্চ, ২০০৯ দুপুর ১:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সালটা মনে নেই তবে এটা যে ১৯৮৮ এর বন্যার আগের ঘটনা তা পরিষ্কার মনে আছে। টেলিভিশন তখন পর্যন্ত সবার ঘরে পৌঁছায়নি আমেরিকা বড় মামা নিয়ে এলেন এলেন সেই আজব বস্তুটা। আমাদের বাসায় তখন পর্যন্ত রঙ্গিন টিভি ওঠেনি। নানুর বাসায় রঙ্গিন টিভি আর ভিসিআরটা তাই আমাদের ছোটদের মাঝে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়াতো প্রায়ই। বিশেষ করে অমিতাভ এর ঢিশুম ঢিশুম ছবিগুলো দেখার পর নিজেকে কেউ কেউ অমিতাভ বচ্চন ভাবে মারপিট করা বা নায়ন নায়ক ভাবটা দোষের কিছু ছিলো না। এর ভেতরে যখন আসলো সেই আজব বস্তুটা তখন স্বভাবতই আমাদের সমস্ত মনোযোগ চলে গেল এরদিকে। আমরা সব দল বেঁধে তখন টিভির সামনে। ছোট মামা তার এক গাদা বন্ধুকে সাথে নিয়ে এই আজব বক্সের সকল রহস্য ভেদ করতে ব্যস্ত। টিভির সাথে কানেক্ট করে দিলেই টি টি টু টু ডিচিউ ডিচিউ ট্যাট গ্যাগগগগগগ জজজজজজ টাইপের আজব সব শব্দের সাথে চমৎকার সব গেম চলতে শুরু করতো। আমরা ছোটরা মুগ্ধ হয়ে সেসব দেখতাম। নীল পটভূমিতে ছুটে চলা সূচের একটা বিমান সকল শত্রু বিমানকে ধ্বংস করে দিচ্ছে এই আনন্দে আমরা আত্মহারা। পরিষ্কার মনে আছে ডোরা ডোরা জামা গায়ে চোর বেটা ছুটে চলছে.. পেছনে লাঠি ঘুরাতে ঘুরাতে পুলিশ বেটাও ছুটছে। ফট্‌ ফট্‌ ফট্‌ ফট্‌ করে শব্দ হচ্ছে.. ওটা নাকি পায়ের শব্দ! তিন তলা বিল্ডিং এর ওঠা নামার জন্য সিঁড়ির পাশাপাশি লিফটও ছিলো.. এসব দেখে আমরা শুধু বিস্মিত হতাম। এটা ছিলো একটা টিভি গেম কনসোল। আজকালকার আধুনিক গেমিং ডিভাইজের পূর্বপুরুষ। আমি পৃথিবীতে আসারও বেশ কয়েক আগে ১৯৭৭ সালে Atari 2600 নামে এটি বাজারে ছাড়া হয়েছিলো।


ছবি: Atari 2600 গেম কনসোল (ছবিটি সূত্র: উইকিপিডিয়া)

Atari 2600 পরিচিত ছিলো Atari VCS - (Video Computer System) নামে যা ছিলো পৃথিবীর প্রথম মাইক্রোপ্রসেসর বেজড গেম কনসোল। ১৯৭৭ সালে এটি যখন বাজারে এলো তখন চারদিকে হৈহৈ পড়ে গেল। গেম চালনার জন্য দুটো প্যাডেল প্যাড ও জয়স্টিক ছিল এর সাথে। গেমগুলো পাওয়া যেত কার্টেজ আকারে। উইকিপিডিয়ার তথ্যমতে Combat এবং PacMan ছিলো এর প্রথম দু'টো কার্টেজ। বিপুল মার্কেট পাওয়ার কারণে ১৯৮২ সালে Atari 5200 নামে এর একটি উন্নত সংস্করণও এসেছিলো।


ছবি: Combat এবং PacMan। পৃথিবীর প্রথম গেম কার্টেজ।

এখনকার দিনের গেমগুলো খেলার পর সেই আটারী যুগের গেমগুলো হয়তো অনেকেরই ভাল লাগবে না। কিন্তু এই ছোট ছোট গেমগুলোই একসময় চরম উৎসাহের সাথে দিনের পর দিন খেলে গিয়েছি। একই পুলিশ চোরকে দৌড়াচ্ছে.. একই বিমান সব ধ্বংস করে যাচ্ছে... একই প্যাকম্যান সব খেয়ে ফেলছে। একটা গেমের কথা খুব মনে আছে... আমরা নাম দিয়েছিলাম "ভূতের গলি"। অলিগলি দিয়ে কিম্ভুতাকার সব বস্তু ঘুড়ে বেড়াতো। সুজোগ পেলেই তারা আপনাকে খপ করে খেয়ে ফেলবে... আপনার কাজ হচ্ছে মাইন পেতে রেখে যাওয়া... তারপর তাদেরকে ট্রাপ করে সেই মাইনের উপরে ফেলা... যায়গা মত পড়লেই ঠাস্‌ ঠাস্‌ ঠাস্‌ ঠাস্‌ শব্দের প্রতিধ্বন্নি তুলে ভূতবাবাজী অক্কা পেত। মাইন ফুটলে যে ঠাস্‌ ঠাস্‌ শব্দ হয় এটা আমরা বিশ্বাস না করলেও ঠাস্‌ ঠাস্‌ শব্দে ভূতের মৃত্যুটা খুব উপভোগ করতাম। একটা গেম ছিলো মাটিকাটা। মানে আমরা নাম দিয়েছিলাম। মাটি কেটে কেটে চলতো সেটা... সুচের মত চিকন একটা বিমান ছিলো যেটা উপরের দিকে উড়তে থাকতো আর পথে হেলিপ্টার থেকে শুরু করে নানারকম বিমানের আবির্ভাব হতো। এরকম আরো অনেক রকম গেম ছিলো....! সেই বিখ্যাত গেম কনসোলটা মামার বাসা থেকে খালার বাসা হয়ে আমার বাসায় শেষ পর্যন্ত এসেছিলো। এখনো স্টোররুম ঘাঁটলে হয়তো পাওয়া যাবে এই বিখ্যাত বস্তুটা!


চিত্র: আটারী কনসোলের একটি গেমের স্ক্রিনশর্ট (উইকি থেকে)

যাই হোক, হঠাৎ করে আটারীর কথা মনে পড়ার কথা নয়। ঐদিন কাজ করছিলাম আর পড়ছিলাম। হঠাৎ একটা বিষয়ে সার্চ দিতে গিয়ে স্টেলা ইমুলেটরটার সন্ধান পেলাম যেটা দিয়ে আটারীর গেমগুলো খেলা যাবে। আরেকটু খুঁজতেই ROMগুলো পেয়ে গেলাম। প্রায় হাজারখানেক গেম আছে ওখানে। গেমগুলো সহ পুরো প্যাকেজটা আপলোড করে দিলাম। যারা কখনো খেলে দেখেননি তারা ট্রাই করে দেখতে পারেন।


ডাউনলোড করতে: এখানে ক্লিক করুন


ডাউনলোড করার পর C ড্রাইভে আনজিপ করে নিন। লোকেশন হবে C:Atari2600। তারপর Stella.exe ফাইলটা রান করলেই গেমের তালিকা পেয়ে যাবেন। অণ্য কোন ড্রাইভ বা লোকেশনে আনজিপ করলে তালিকাটা দেখাবে না। তখন অপশনে গিয়ে ROM (.bin) file path ঠিক করে দিন। আপনার গেমের লোকেশন যদি হয় C:Atari2600 তাহলে এই লোকেশন হবে C:Atari2600roms। মানে গেমের roms ফোল্টারটা দেখিয়ে দিতে হবে।

তালিকা হতে যেকোন গেম ওপেন করে স্পেসবার বা F1, F2, F3 ব্যবহার করুন গেম শুরু করার জন্য। মুভমেন্টের জন্য এ্যারো কী এবং গোলাগুলি বা অন্য কাজে স্পেসবার, Alt, Ctrl বা অন্য কোন কী ব্যবহৃত হতে পারে। X-Doom বা Pacman দিয়ে যাত্রা শুরু করতে পারেন।


ছবি: স্টেলা আটারী ইমুলেটর।


আটারীর সেই বিখ্যাত চোর-পুলিশ খেলা.. যেটা অসংখ্যবার খেলেছিলাম।


এই ভিডিওটায় অনেকগুলো গেমের প্রিভিউ দেখা যাবে।

আটারী ২৬০০ এর বিখ্যাত কিছু গেমের ভিডিও দেখতে ও ডাউনলোড করতে চাইলে এখানে ক্লিক করুন

--
কম্পিউটার গ্রুপে প্রকাশিত।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ৯:০১
১৯টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×