somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ওরা কোথায়?

২২ শে ডিসেম্বর, ২০১১ বিকাল ৫:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

1976 সালের 19 শে সেপ্টেম্বর মধ্য রাতে ইরানিয়ান এয়ার ফোর্সের কমান্ড পোস্ট থেকে আকাশে এক অদ্ভুত জিনিস দেখা যায়,এটি হেলিকপ্টারের মত উজ্জল আলোকিত বস্তু।এ্যাসিস্ট্যান্ট ডেপুটি কমান্ডার বি.জি.ইউ সেফিড এই জিনিসটাকে পর্যবেক্ষনের জন্য এবং আটক করার জন্য একটি এফ-4 বিমান পাঠালেন।কিন্ত বিমানটি 40 মাইল অতিক্রম করতেই বস্তুটিকে হারিয়ে ফেললো,এবং বিমানটি ফিরে আসলো।সাথে সাথে আরো একটি এফ-4 বিমান পাঠানো হলো।দ্বিতীয় বিমানটি UFO র কাছে যেতে সক্ষম হলো,কিন্ত হঠাৎ করে UFO টির গতি এত দ্রূত হয়ে গেল যে,পাইলটের পক্ষে তার কাছাকাছি পৌছানো সম্ভব হলো না,যদিও পাইলট তার বিমান দ্রুতগতিতে চালাচ্ছিল।এই অবস্হায় পাইলট রিপোর্ট করলো যে,UFO টি আয়তক্ষেত্রকার বা উপবৃত্তাকার এবং এর কেন্দ্র থেকে উজ্জল আলো বিচ্ছুরিত হচ্ছিল,এবং এটি উজ্জল আলোয় আলোকিত ছিল।পাইলট UFO টিকে ধাওয়া করতে লাগলো এবং UFO টির কাছাকাছি হবার জন্য মিসাইল ছুড়ল। এরপর সে UFO টিকে সম্পূর্ন হারিয়ে ফেলে এবং কিছুক্ষন পর এটি বৃহাদাকার রুপে উদয় হয়,এবং UFO থেকে বিমানকে লক্ষ্য করে অনুরুপ বস্তু ছোড়া হয়।পাইলট এই বস্তু থেকে নিজেকে ও বিমানকে রক্ষা করার জন্য বিমান নিয়ে নিচের দিকে ডাইভ দেয়।হঠাৎ দ্বিতীয় আরেকটি জিনিস UFO র পাশ দিয়ে ছুটে যেতে দেখা যায়,এবং এটি দুরবর্তী একটি পাহাড়ে অবতরন করে। এরপর বড় UFO টির গতি খুব বেড়ে যায় এবং এটি অদৃশ্য হয়ে যায়।UFO দর্শনের ঘটনায় এটি নিঃসন্দেহে একটি ব্যাতিক্রমর্ধমী ঘটনা।
6 ই জানুয়ারী 1969,জর্জিয়ার লিয়ারি,সময় সন্ধ্যা 7:15 মিনিট, প্রান্তন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার তখন জর্জিয়ার গভর্নর।কার্টার ও তার সাথে প্রায় এক ডজন লোক ছিল,স্হানীয় লায়ন ক্লাবকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য।
নিম্নে কার্টারের ভাষ্যে তখনকার ঘটনার বর্ননা দেয়া হল,
UFO'র (Unidentified Flying Object) অস্তিত আছে কিনা,এ ব্যাপারে আমি দ্বিধাম্বিত, কারন এরকম একটা জিনিস দেখেছিলাম...এটা খুবই অদ্ভুত ঘটনা,কিন্ত প্রায় 20 জন মানুষ এটা দেখেছিল।এটা ছিল খুব বড় এবং উজ্জল,এটার রং পরিবর্তন হচ্ছিল,প্রথমে এটা ছিল নীল রংয়ের পরে লাল রং-এ পরিবর্তিত হয় এবং এটার আকার ছিল পূর্নিমার চাঁদের সমান।আমরা দশ মিনিট ধরে এটাকে দেখছিলাম।1973 সালের অক্টোবর মাসে গভর্নর কার্টার ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন কমিটি অন এ্যারিয়াল ফেনোমেনা (NICAP) র জন্য UFO দর্শনের বিস্তারিত রিপোর্ট প্রেরন করেন। এই জিনিসটা প্রায় 3 ডিগ্রী দিগন্ত জুড়ে দেখা গিয়েছিল।কার্টার বলেন, এটা অদৃশ্য হবার পূর্বে বেশ কিছু সময় ধরে কাছে এবং দুরে ঘুরছিল।
1950 সালের 18ই মার্চ নিউ মেক্সিকোর ফার্মিংটনের মেয়রসহ 5000 জন অধিবাসী আকাশে এক অদ্ভুত জিনিস অবলোকন করে। জিনিসটি সকালে প্রায় 1 ঘন্টা ধরে আকাশে দেখা যায়।এই জিনিস সংখ্যায় ছিল প্রায় 100 র মত।এর মধ্যে কিছু ছিল স্পেস শীপের মত,এগুলো দুপরের আগেই অদৃশ্য হয়ে যায়।আবার বিকেল বেলা উদয় হয়।
1948 সালে লন্ডন টাইম এ এরকম একটি অদ্ভুত রকেট কিছু স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশে দেখতে পাওয়ার কথা রিপোর্ট করে।
1901 সালের 10ই এপ্রিল পারসিয়ান উপসাগরে এস.এস.সিলভা নামের জাহাজ এই রকম বৃহাদাকার ঘূর্নায়মান চাকা অবলোকনের কথা রিপোর্ট করে।1906 সালে ওমান উপসাগরে ব্রিটিশ জাহাজ অনুরুপ চাকা দেখেছিল।1909 সালে চায়না সাগরে ড্যানিশ ক্যাপ্টেন এ রকম দৃশ্য দেখেছিলেন,তার ভাষ্য মতে পানির কিছু উপরে বায়ুমন্ডলে চাকাটি ঘূর্নায়মান ছিল।এটি ছিল উজ্জল আলোয় আলোকিত এবং এর চক্রকেন্দ্র ছিল।1879 সালের 15 ই মে, পারসিয়ান উপসাগরে ভালচার নামক একটি জাহাজের নাবিক দল প্রায় 930 মিটার ব্যাসের বৃহদাকার আলোকিত চাকা বায়ুমন্ডলের উপর ঘুরতে দেখে এবং এই চাকাটি ঘুরতে ঘুরতে ধীরে ধীরে পানিতে নেমে আসে।1978 সালের 24 শে জানুয়ারী টেক্সাসের ডেনিসন শহরের জন মার্টিন নামে এক কৃষক অন্ধকার রাতে বলয় আকৃতির একটি জিনিস আকাশে দেখেছিল।আকাশের এই যানটি খুব আশ্চর্যজনক গতিতে ছুটছিলো।এই ঘটনাটি পরেরদিন ডেনিসনের একটি দৈনিকে ছাপা হয়েছিল।
1820 সালের 7 ই সেপ্টেম্বর,ফ্রান্সের এমব্রান শহরের বহুসংখ্যক মানুষ চন্দ্রগ্রহনের সময় আকাশে একটি অদ্ভুত জিনিস দেখতে পেয়েছিল।অদ্ভুত এই জিনিসটি সোজা একটি লাইন টেনে চলে গেছে।যখন এই অদ্ভুত যানটি বাঁক ঘুরলো তখন লাইনটিও সমান ব্যাবধান রেখে বিদ্যমান ছিল। অদ্ভুত এই যানটি খুবই স্পস্টরুপে দেখা দিয়েছিল।1950 সালে পল ট্রেন্ট নামক আমেরিকার একজন ফটোগ্রাফার সবচেয়ে কাছ থেকে UFO র দুটি ছবি তুলেন,এবং পরবর্তীতে এই ছবি দুটির নেগেটিভ পরীক্ষা করে দেখা গেছে,সে কোন প্রতারনার আশ্রয় নেয়নি। এই ঘটনা গুলো সব 18 এবং 19 শতকের ঘটনা।এই বিংশ শতাব্দিতে এই রকম অদ্ভুত যান পৃথিবীর বিভিন্ন স্হানে দেখা গিয়েছে এবং তাদের ছবিও তোলা হয়েছে।যেমন 24/4/06 এ ক্যালির্ফোনিয়া এই যানের ছবি তোলা হয়েছে, 9/6/06 টেক্সাসে এই যানের ছবি তোলা হয়েছে, 2006 গুয়েতেমালায় এই যানের ছবি তোলা হয়েছে।রোমান লেখক জুলিয়াস অবস্কুইন্স চতুর্থ শতাব্দীতে তার বই Prodigorium liber এ এই অদ্ভুত যান সম্পর্কে কিছু দর্শন বর্ননা করেছেন।এই দর্শনগুলো ব্যাখ্যা করলে UFO অবলোকনের কথা পাওয়া যায়।1493 সালে বিরল ধরনের বই থেকে ইউরোপে UFO অবলোকনের কথা পাওয়া যায়।বর্তমানে বইটি ফ্রান্সে ভারডানের যাদুঘরে সংরক্ষিত আছে।
এই UFO অবলোকনের প্রথম লিখিত দলিল পাওয়া যায় মিশরের রাজা তৃতীয় থার্ট এর শাসনকালে (1504 থেকে 1450 খ্রীস্টপূর্ব)।এই UFO অবলোকনের দৃশ্য মিশরিয়ান পেপিরাসে উদ্ধৃতি আছে।
UFO অবলোকনের কথা বাইবেলে নবী Ezekiel (আঃ) এর ভাষ্যতে ও পাওয়া যায়।তার বর্ননানুযায়ী আকাশ থেকে একটি অদ্ভুত যান নেমে এসেছিল চালডিয়ার (বর্তমান ইরাক) চেবার নদীর কাছে (592 খ্রীস্টপূর্বে ব্যাবিলনের রাজা নিবুচর্ডনিজার এর শাসনামলে)।আকাশ থেকে এই অদ্ভুত যানটি নামার পূর্বে দক্ষিন দিক থেকে খুব ঝড়ো বাতাস বইছিলো,চারিদিকে উজ্জল মেঘ ঘুরপাক খাচ্ছিল অনবরত বিদুৎ চমকাচ্ছিল এবং আকাশ থেকে চারটি জীবের প্রতিমূর্তি নেমে এসেছিল।এই চারটি জীবের চারটি করে মাথা আর চারটি করে পাখা ছিল,তাদের পা'গুলি ছিল সোজা,পায়ের পাতাগুলো ছিল বাছুরের খুরের মত। এরা তামার মত জ্বলজ্বল করছিল,তাদের পাখাগুলো দেখতে মানুষের হাতের মত,তাদের চেহারা সামনের দিক থেকে মানুষের মত,ডানদিক থেকে সিংহের মত,বামদিক থেকে ষাড়েঁর মত,পিছনের দিক থেকে ঈগলের মত।প্রত্যেক জীবের দুটি করে পাখা আছে,এই পাখাগুলো তাদের শরীরকে ঢেকে ফেলে।একটি জীবের পাখা অন্য জীবের পাখার সাথে ছুঁয়ে আছে....।আমি দেখেছিলাম এই জীবের সাথে চারটি চাকাও নেমেছিল।এই চাকাগুলোতে অজস্র চোখ ছিল যখন জীবগুলো যাচ্ছিল চাকাগুলোও সাথে যাচ্ছিল।যখন জীবগুলো পৃথিবী থেকে উঠে গেল তখন চাকাগুলোও উঠে গেল।UFO সম্পর্কে এইসব বর্ননা বইতে বা লোকমুখে সীমাবদ্ধ ছিলনা।সারা পৃথিবীতে বর্তমানে হাজার হাজার নিদর্শন ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।যার সাথে আকাশের এই যানটির আগমনের ঘনিস্ঠ যোগাযোগ আছে।এসব নিদর্শন,সত্যি আধুনিক যুগের মানুষকে ভাবিয়ে তুলছে।আমি এরকম কিছু নিদর্শনের কথা উল্লেখ্য করছি।মিশরের রাজধানী কায়রোর পশ্চিমে অবস্হিত শি অপসের পিরামিড,এটি সবদিক থেকে গুরত্বপূর্ন একটি নিদর্শন।
এই পিরামিড শত শত অদ্ভুত সিদ্ধান্তের জম্ন দিয়েছে। শার্ল পিয়াত সি স্মিথ তাঁর "আওয়ার ইনহেরিটেনস্‌ ইন দি গ্রেট পিরামিড" নামের বইতে এই পিরামিডের সন্গে পৃথিবীর অনেক যোগাযোগের বর্ননা করেছেন,যা সত্যিই ভাবনার বিষয়।এই পিরামিডের উচ্চতা 490 ফুট,এই উচ্চতাকে 100 কোটি দিয়ে গুন করলে পৃথিবী থেকে সূর্যের দুরত্ব পাওয়া যাবে,9,30,00,000 মাইল।পিরামিডটির মাঝখান দিয়ে একটি মধ্য রেখা কল্পনা করলে দেখা যাবে মহাদেশ এবং মহাসাগরগুলো সমান দুভাগে ভাগ হবে।এর ভূমির ক্ষেএফলকে এর উচ্চতার দ্বিগুন দিয়ে ভাগ করলে সেই বিখ্যাত সংখ্যা,বৃ্ত্তের পরিধি এবং ব্যাসের অনুপাত 3,14159 পাওয়া যাবে।যে জমির উপর এই পিরামিড তৈরী করা হয়েছিল,সেই জমিকে নিখুঁত আনুভূমিক করা হয়েছিল।এছাড়াও পিরামিডটিকে মহাদেশেগুলোর ভারকেন্দ্রে স্হাপিত করা হয়েছে।ছাব্বিশ লক্ষ পাথর নিখুতঁ ভাবে ছেচে কোন রকমের ঢালাই ছারা শুধু পাথঁরের উপর পাথর দিয়ে তৈরী করা হয়েছে এই পিরামিড।যদি পৃথিবীর কোন মানুষ এটি তৈরী করতো তাহলে অবশ্যই অনেক মানুষ ও যন্ত্রপাতি ব্যাবহার করা হয়েছিল।কিন্ত আশ্চর্যের বিষয় হলো এই পিড়ামিড এর আশেপাশে মাটির উপরে বা নীচে তার কোন রকম নিদর্শন পাওয়া যায়নি।তাছাড়া আশেপাশে এমন কোন পাহাড় নেই যেখান থেকে এই পাথরগুলো আনা হয়েছিল।বর্তমানে কোটি কোটি বছর আগের ফসিল মাটির নিচ থেকে উদ্ধার করা হচ্ছে।এরপরে আ্যডমিরাল পীরি রাইসের (তূর্কি নৌবাহিনীর অফিসার) ওয়ার্ল্ড ম্যাপ,যে যুগে এ্যারোপ্লেন আবিস্কার হয়নি,সেখানে কিভাবে তিনি উপর থেকে না দেখে এইরকম নিখূত ম্যাপ আকঁলেন।
প্রশান্ত মহাসাগরের দক্ষিনের ক্ষুদ্র দ্বীপ ইস্টার।এখানে আছে বিশাল বিশাল সব পাথরের মনুষ্য মূর্তি।সমাপ্ত অসমাপ্ত শোয়ানো মূর্তিতে পুরো দ্বীপটি বোঝাই।স্হানীয় লোকেরা মূর্তিগুলোর নাম দিয়েছে "মোআয়ী",মূর্তিগুলোর মাথায় 25 ফুট বেড়,7 ফুট 2" খাড়া টুপি পরানো, কঠিন আগ্নেয়শিলা কেটে কেটে কারা এই মূর্তিগুলো বানিয়েছে?নিশ্চয়ই অকারনে নিছক কৌতুহলের বশবর্তী হয়ে যে,এই মূর্তিগুলো তৈরী করা হয়নি তা কারোই বুঝতে কস্ট হবার কথা নয়।শুধু মূর্তিই নয় ব্যাখ্যার অসাধ্য সব লিপি ও প্রতিক সমন্বিত শিলাখন্ড ও পাওয়া গেছে যা আজো অপঠিত।
কোহিস্হানের পার্বত্য এলাকার গুহাচিএ আকাঁ আছে হাজার বছর আগেকার নক্ষএপুন্জের নিখুঁত অবস্হিতি।এতো গেল বিভন্ন নিদর্শনের কথা,এরপরে আছে বিভিন্ন উন্নত সভ্যতা যেমন- মায়া,নাজাকা ইত্যাদি।কিভাবে হাজার কোটি বছর আগে এরকম উন্নত শহর সভ্যতা গড়ে উঠেছিল তা আজো অজানা।এর থেকে এটাই প্রতিয়মান হয় যে হয়তো অতীতে ভীনগ্রহ থেকে বুদ্ধিমান প্রানীরা এসে তখনকার মানুষকে কারিগরি জ্ঞান শিখিয়ে গেছে,এবং তারা নিজেরাও নিজেদের প্রয়োজনে অনেক জিনিস তৈরী করেছে।এবং মানুষকে সবকিছু শিখিয়ে দিয়ে একসময় তারা নিজেদের গ্রহে প্রত্যাবর্তন করেছে।সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অজস্র শিলালিপি পাওয়া গেছে যার বেশিরভাগ পাঠ উদ্ধার করা আজো সম্ভব হয়নি।তবে যেটুকু হয়েছে সেখানে ভীনগ্রহের প্রানীদের আগমন বার্তার ইন্গিত পাওয়া যায়।যদি তখনকার মানুষের কারিগরি জ্ঞান ও প্রযুক্তি এতো উন্নত থাকতো এবং সেই প্রযুক্তি যদি আজকের বিন্গান প্রযুক্তির সাথে মিলানো যেত তাহলে বিজ্ঞান আজ কোথায় থাকতো।কিন্তু তা হয়নি এর মাঝখানে সৃস্টি হয়েছে বিশাল ব্যাবধান,এর কারন কি?তবে কি এর পিছনে ভীনগ্রহের প্রানীরা জড়িত? এর সঠিক উওর পাওয়া একান্ত জরুরি।এর প্রয়োজনিতা বিজ্ঞানীরাও বুঝতে পেরেছেন।যার কারনে পৃথিবীর বিভিন্ন মানমন্দিরে ET (Extra terrestrial) বা ভীন গ্রহের বুদ্ধিমান প্রানীদের অনুসন্ধান চলছে।
এ সম্পর্কে কিছু আলোচনা করা যাক,
25,000 হাজার বছর আগে প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক মেট্রোড্রোরাস লিখেছিলেন,"এটা চিন্তা করা বোকামি যে,মহাবিশ্বে একমাএ পৃথিবীতে জীবের বাস আছে,যেমন-চিন্তা করা বোকামি যে,একটি শস্যক্ষেত্রে বীজ বপন করলে কেবল মাএ একটি বীজ থেকেই চারা জন্মাবে।
জ্যেতির্বিদরা মহাবিশ্বের সর্বএ জীব অন্গের অনুর অস্তিত্বের প্রমান পেয়েছেন।এছাড়াও বিভিন্ন তারার পাশে অনেকগুলি নতুন গ্রহের সেই সাথে অন্য ছায়াপথে নতুন সৌরজগতেরও সন্ধান পেয়েছেন বিন্গানীরা।যেমন আমাদের ছায়াপথের কথাই ধরি এখানে 20 হাজার কোটি নক্ষএ রয়েছে।বর্তমানে অনেক নক্ষএ রের কাছেই গ্রহের অস্তিত আবিস্কার হয়েছে।এর মধ্যে যদি 1000 নক্ষত্রের প্লানেটরী সিস্টেম থাকে এবং এই প্লানেটরি সিস্টেমগুলির মধ্যে শুধু 1% প্লানেটরি সিস্টেম বসবাসের যোগ্য হয় তাহলে প্রায় 20 লাখ বসবাস যোগ্য স্হান আমাদের ছায়াপথেই রয়েছে।আর মহাবিশ্বে 10 কোটি ছায়াপথের সন্ধান পাওয়া গেছে এ পর্যন্ত।কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিখ্যাত জ্যেতির্বিদ প্রয়াত কার্ল স্যাগন (1934-1996) বলেছিলেন,আমাদের ছায়াপথের তারকা মন্ডলীর চারপাশে এক লাখ গ্রহে উন্নত সভ্যতার সম্ভাবনা রয়েছে।
সম্প্রতি জ্যেতির্বিদরা অত্যন্ত শক্তিশালী বেতার দুরবীনের সাহায্যে 1240 কোটি আলোকবর্ষ দুরের একটি ছায়াপথের সন্ধান পেয়েছেন।এই ছায়াপথ থেকে আলোর যাত্রা শুরু হয়েছিল আমাদের সৌরজগত সৃস্টির আগে।আলোক দুরবীনের নাগালের বাইরে মহাবিশ্বের বিরাট একটি অংশ রয়ে গেছে।বিন্গানীরা এ সমস্যার
সমাধান করছেন।আকাশের বহু নক্ষএ আলোর ঢেউয়ের সাথে ছড়ায় বেতার তরন্গ।এ তরন্গকে ধরার জন্য তারা তৈরী করলেন রেডিও দুরবীন এবং এর মাধ্যামেই গড়ে উঠে জ্যোতির্বিদ্যার গুরত্বপূর্ন শাখা বেতার জ্যোতির্বিদ্যা।
ভীনগ্রহের প্রানীদের সাথে যোগাযোগের জন্য বেতার তরন্গকে বেছে নেয়া হলো কেন? প্রশ্ন হচ্ছে গামা রশ্নি,লেসার রশ্নি যোগাযোগের এই মাধ্যামগুলো থাকতেও কেন বেতার তরন্গকে বেছে নিল? এর কারন হল গামা ও লেসার রশ্নি তৈরী করে পাঠানো এবং গ্রহন করা দুটোই কঠিন কাজ তাছাড়া এ রশ্নির বিকিরন ও উৎসের সংখ্যাও মহাকাশে খুব বেশী নেই।তার চেয়ে সংকেত পাঠানো কাজে বেতার তরন্গই সহজ মাধ্যম।এর দ্বারা আলোর বেগে (সেঃ 330,000 কিঃমিঃ) একটি সংকেতকে পাঠানো যাবে।এই তরন্গ মহাকাশ ও পৃথিবীর মত গ্রহের বায়ুমন্ডলের মধ্যে দিয়ে সহজে যাতায়াত করতে পারে এবং এ তরন্গকে গোছাবব্ধভাবে একটি মাএ দিকে ছুড়ে মারা যাবে।সর্বোপরি এটি একটি নির্দিস্ট কম্পন সংখ্যার তরন্গ যা সমগ্র মহাবিশ্বে সমস্ত সভ্যতার কাছেই পরিচিত। এ তরন্গের দৈর্ঘ্য হলো 21 সেঃমিঃ এবং কম্পন সংখ্যা হলো সেকেন্ডে 1420.4 মেগাসাইকেল (1 মেগাসাইকেল=10 লক্ষ সাইকেল)।
ভীনগ্রহের প্রানীদের সদ্ধান বা যোগাযোগের সংক্ষিপ্ত নাম SETI (Search for Extra Terrestrial Intelligence)।পৃথিবীতে সর্বপ্রথম এই গবেষনা পরিকল্পনার প্রধান ছিলেন বিন্গানী ফ্রান্ক ড্রেক।
1960 সালের "প্রজেক্ট ওজমা" হলো এই গবেষনার প্রথম পদক্ষেপ।"ওজ" হল রুপকথার জগত।
আর এই জগতের রাজকুমারী যার নাম ওজমা, তার নামেই এর নামকরন করা হয়েছিল।এই অনুসন্ধানের কাজ শুরু হয়েছিল পশ্চিম ভার্জিনিয়ার গ্রীনব্যাংকের ন্যাশনাল রেডিও আ্যস্ট্রোনমিক্যাল অবজারভেটরিতে।বিন্গানীরা সূর্যের 10 থেকে 22 আলোকবর্ষ দূরত্বের মধ্যে বেশ কিছু তারার চারপাশে গ্রহের অস্তিত্ব আছে বলে অনুমান করছেন।যেমন- "এপসাইলিন এরিদানি" "টাউসেটি" "অপহিউস" প্রভৃতি।এদের দুরত্ব হল যথাক্রমে 10,8,11, আলোকবর্ষ।এই মানমন্দিরের দুরবীনের সাহায্যে এর মধ্যে দুটি নক্ষএ টাউসেটি ও এপসাইলন এরিদানিকে 1960 সালের মে জুন জুলাই এই তিন মাসে 150 ঘন্টা অনুসন্ধান করেও কোন অর্থবহ সংকেত ধরতে পারেনি।অবশ্য এই পরিকল্পনার সাথে যারা যুক্ত ছিলেন তারা কেউই সাফল্যের আশা করেননি।তবে এটি নিঃসন্দেহে মানব সভ্যাতার ইতিহাসে একটি নতুন ধরনের অনুসন্ধান কাজের সূচনা করেছিল।এই প্রজেক্ট ওজমার পরে চালু করা হয়েছে প্রজেক্ট সাইক্লোপ,ও প্রজেক্ট ফিনিক্স।এরই ধারাবাহিকতায় আজ নাসা ও এই কাজে নেমে পড়েছে।তারা ভীনগ্রহের প্রানীদের অনুসন্ধানের জন্য তৈরী করেছে অত্যাধূনিক বেতার গ্রাহক এর নাম "মালটি চ্যানেল সিগন্যাল আ্যনালাইজার" এর মাধ্যমে বেতার সংকেতকে 80 লক্ষ চ্যানেলে ভাগ করা যাবে।যার ফলে প্রতিটি চ্যানেলে সূক্ষ কম্পান্ক ও একই সন্গে অনুসন্ধান করা যাবে।ভীনগ্রহের প্রানীদের খোঁজে পৃথিবীব্যাপী যেসব রেডিও দুরবীন আছে,সেগুলোকে একটি নির্দিস্ট ফ্রিকোয়েন্সিতে সেট করা আছে একে বলে মাইক্রোওয়েভ ফ্রিকোয়েন্সিতে।কারন এই ফ্রিকোয়েন্সিতে অন্য কোন শব্দের ঝামেলা নেই।যদি কোন সংকেত কখনো ভীনগ্রহের কোন সভ্যতা থেকে আসে তবে সেটি আসবে অনেক দূরবর্তী কোন গ্রহ থেকে,সেহেতু সংকেতটি হবে অত্যন্ত দূর্বল মাপের।এর পরিবর্ধনের জন্য দুরবীনের সাথে যোগ করা হয়েছে "প্যারামেট্রিক আ্যমপ্লিফায়ার" নামের সূক্ষ একটি ব্যাবস্হা।এছাড়া ও পৃথিবীর বিভিন্ন মানমন্দির থেকে আকাশের কিছু নক্ষএ পুন্জের দিকে ছুড়ে দেয়া হয়েছে বেতার তরন্গ যা এখনো আলোর গতিতে সেসব নক্ষএপুন্জের পানে ছুটে চলছে।
অস্ট্রেলিয়া,ফ্রান্স,কানাডা,ইংল্যান্ড সহ পৃথিবীর বহু দেশ বেতার দুরবীনের বিশাল এক নেটওয়ার্ক তৈরী করেছে এদের খোজ করার জন্য। চীন এদের খোঁজার জন্য তৈরী করেছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বেতার দুরবীন। এখন পর্যন্ত এসব গবেষনা ব্যার্থ,কিন্ত আবার ব্যার্থ ও বলা যাবে না।কারন এখানে দূরত্ব একটি বিশাল প্রতিবন্দক।আমাদের ছায়াপথে যদি 10 লক্ষ ভীনগ্রহ সভ্যতা থাকে তাহলে এদের পরস্পর দূরত্ব হবে প্রায় 300 আলোকবর্ষ।অতএব এত কম সময়ের মধ্যে এই গবেষনার ফলাফল আশা করা ঠিক নয়।তাছাড়া মহাবিশ্বে আলোর গতির চেয়ে বেশী গতি আছে এমন কিছু বিন্গানীরা আবিস্কার করতে পারেননি।কাজেই অপেক্ষা করা ছাড়া আপাতত অন্য কোন কাজ নেই।
সবশেষে বলবো..... হে ভীনগ্রহের বুদ্ধিমান বাসিন্দারা সত্যি যদি আপনারা থেকে থাকেন,তবে অনুগ্রহ করে আমাদের প্রশ্নের উওর দেবেন কি? যদি আমাদের প্রতি আপনাদের আগ্রহ না থাকে তাও বলে দিন।কারন আপনাদের পিছনে কোটি কোটি অর্থ ব্যায় হচ্ছে,যা আমাদের পৃথিবীর অনেক গরীব দেশের জনগনের ভাগ্য পরিবর্তনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।আর আদৌ যদি তাদের অস্তিত্ব না থাকে তবে এই ভীন গ্রহের প্রানীরা কল্পবিন্গানের পাতাতেই বন্দি হয়ে থাকবে
তথ্যসূএ:মিস্টিরিয়াস অফ দি আনএক্সপ্লেইনড,রির্ডাস ডাইজেস্ট,টাইম,নিউজ উইক ম্যাগাজিন।
ছবি পরিচিতি:1. জিমি কার্টার এবং তার রিপোর্ট 2.ফার্মিংটনের আকাশে UFO আর্টিস্ট কনসেপ্ট। 3.পল ট্রেন্ট এবং তার তোলা UFO র ছবি।4.1978 সালের 31শে ডিসেম্বর নিউজিল্যান্ডে তোলা UFO র কম্পিটার ফটোগ্রাফী 5.আধূনিক যুগের UFO র ফটো এভিডেন্স। 6.রাজা তৃতীয় থার্ট। .7.প্যাপিরাসে বর্নিত UFO র কথা।8. বাইবেলে নবী Ezekiel। ( আঃ) 9.শি অপসের পিরামিড। 10.পীরি রইসের ও তার ওয়ার্ল্ড ম্যাপ।11.ইস্টার দ্বীপের মূর্তি।11.মায়া সভ্যতা। 12. অন্য তারার প্লানেটরী সিস্টেম।13.ফ্র্যান্ক ড্রেক। 14.গ্রীনব্যান্ক অভজারবেটরী। 15.প্যারামেট্রিক আ্যমপ্লিফায়ার।16.মাল্টি চ্যানেল আ্যানালাইজার।17.মাল্টি চ্যানেল আ্যানালাইজার কন্ট্রোলরুম।18.কার্ল সাগান।19.সেটি হোম স্ক্রীন।20.পৃথিববীর বিভিন্ন জায়গায় স্হাপিত রেডিও দুরবীন





সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই মার্চ, ২০১২ রাত ৮:৫২
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

×