somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পাথর দিয়ে রোগ মুক্তি।

২৫ শে ডিসেম্বর, ২০১১ বিকাল ৫:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেকদিন আগে থেকে আমাদের দেশে (ভারতীয় উপমহাদেশে),মানুষের হাত দেখে ভাগ্য বলে দেয়া এবং সেই সাথে বিভিন্ন পাথর দ্বারা মানুষের ভাগ্য রোগজীবানু প্রতিহত করার প্রচলন চালু আছে।অতীতে এসবের পীছনে ছিল,মানুষের অজ্ঞানতা ও কুসংস্কার।বর্তমানে মানুষের বিন্গান নির্ভর যুক্তির কাছে অনেক রহস্যের পর্দা উন্মোচিত হয়েছে।বহুল প্রচলিত দুটি জিনিসের বিন্গানসম্মত যূক্তি দিয়ে এর প্রকৃত ঘটনা জানার চেস্টা করবো।
এর প্রথমটি হলো ধাতু।
জ্যোতিষীদের বিশ্বাস মানুষের শরীরে ধাতুর প্রভাব রয়েছে,এবং ধাতু ধারন করলে শরীরে খুব উপকার হয় বা পাওয়া যায়।মানব শরীরে সামান্য পরিমান বিভিন্ন মৌলিক পদার্থের অস্তিত্ব আছে এবং বিভিন্ন অসূখের চিকিৎসায় এর ব্যাবহার হয়।যেমন-শরীরে রক্ত স্বল্পতার জন্য যে ঔষধ দেয়া হয় তার মধ্যে সংশোধিত অবস্হায় লোহা আছে।আবার কিছু কিছু ঔষধের মধ্যে সংশোধিত অবস্হায় থাকে সোনা।কারো রক্ত স্বল্পতার জন্য প্রয়োজনীয় ঔষধ শরীরে না দিয়ে এর পরিবর্তে লোহার রিং শরীরে ধারন করলে কখনই রক্ত স্বল্পতা দুর হবে না।তেমনি বাতের জন্য প্রয়োজনীয় ঔষধের পরিবর্তে তামার রিং ধারন করলেও ঐ একই ফল পাওয়া যাবে।
অতএব ধাতু শরীরে ধারন করলে কখনো তা শোষিত হয়ে শরীরে প্রবেশ করে না।
দ্বিতীয়ত,জ্যোতিষীরা বিভিন্ন গ্রহের খারাপ দৃস্টি থেকে মানুষকে রক্ষা করার জন্য গ্রহ-রত্ন ধারনের পরামর্শ দেয়।তাদের মতে মহাজাগতিক রশ্নির (Cosmic Ray)-র সাতটি রং আছে (বেনীআসহকলা)।এর প্রভাব প্রতিটি মানুষের উপর বিদ্যমান। কোন কারনে মানুষের শারীর যদি এক বা একাধিক মহাজাগতিক রংকে ধারন করতে না পারে তাহলে মানুষের শারীরিক ও মানসিক বিভিন্ন উপসর্গ দেখা যায়। তখন জ্যোতিষীরা পরীক্ষা করে বুঝতে পারে শরীরে কোন রংয়ের ঘাটতি আছে।তখন জ্যোতিষীরা ঘাটতি পরা রংয়টি পূরনের জন্য রোগীকে গ্রহ রত্ন ধারন করতে বলে।এতে নাকি রত্নের ভিতর দিয়ে ঘাটতি পড়া রংটি প্রবেশ করে মানসিক,ও শারীরিক ব্যাধি এবং সেই সাথে নাকি ভাগ্যেরও পরিবর্তন ঘটায়।পত্রিকায় বড় বড় বিন্জাপন দিয়ে এর প্রচার করা হয়।
এখন দেখি এই ব্যাপার গুলো।
তারা যে সাতটি রংয়ের কথা বলে তা কিন্ত সূর্যের দ্বারা সৃস্ট; এর সাথে মহাজাগতিক রশ্নির কোন সম্পর্ক নেই।আর এই মহাজাগতিক রশ্নি কি? বাস্তবে মহাজাগতিক রশ্নি হলো বৈদ্যুতিক চার্জযুক্ত এক ধরনের অদৃশ্য কনিকা যা আমাদের সূর্যের দেহ ছাড়াও অন্তহীন মহাকাশ থেকে অনবরত নেমে আসছে এবং পৃথিবীতে এই রশ্নি পৌছাবার আগে পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেএ দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত হয়। এরপরে যেটুকু রশ্নি পৃথিবী পৃস্টে আসে তা ছড়িয়ে থাকে সর্বএ।এই রশ্নি হলো বর্নহীন।যেহেতু এই রশ্নি বর্নহীন সেহেতু এই রশ্নির রং শরীরে প্রবেশ করার যূক্তিটি গ্রহনযোগ্য নয়।
গ্রহ রত্ন নাকি বিভিন্ন অশুভ গ্রহের খারাপ দৃস্টি থেকে মানুষকে রক্ষা করে।
এবারে দেখা যাক বিন্গানের ব্যাখ্যা কি? আমরা জানি মানুষের শরীরের বিভিন্ন রোগের,সৃস্টির পিছনে দায়ী বিভিন্ন প্রকার জীবানু।আবার এদের ধ্বংস করা হয় বিভিন্ন ঔষধের প্রয়োগে।আবার এইসব ওষুধের কার্যকারীতা বিভিন্ন উপায়ে পরীক্ষা করা হয় এবং পরীক্ষায় এটি সফল প্রমানিত হলেই বাস্তবে এর প্রয়োগ ঘটে।
কিন্ত রত্নের যে জীবানূ ধ্বংসের ক্ষমতা আছে তা কিন্ত পৃথিবীর কোন গবেষনাগারে পরীক্ষা করা হয়নি।এসব গ্রহ-রত্ন রাসায়নিক কিছু পদার্থ ছাড়া অন্য কিছু নয়।
এবার দেখি জ্যোতিষ মতে গ্রহের দ্বারা সৃস্ট রোগ এবং তার প্রতিকার রত্নটি, পাশাপাশি এর রাসায়নিক পরিচয়।
রবি:(জ্যোতিষমতে গ্রহ,বাস্তবে নক্ষএ)।অশুভ হলে হার্টের অসূখ হবার সম্ভাবনা।।এর থেকে মুক্তির উপায় চূনী ধারন করা, আর চূনী হচ্ছে এ্যালুমিনিয়াম অক্সাইড (Aluminum oxide) দ্বারা সৃস্ট পাথর।
চঁন্দ্র:(জ্যোতিষমতে গ্রহ,বাস্তবে উপগ্রহ), অশুভ হলে বাত,শ্লেস্মা হওয়ার সম্ভাবনা।মুক্তির উপায় মুক্তা ধারন করা।(মুক্তা হচ্ছে ঝিনুকের অভ্যন্তরে ক্ষরিত লালা থেকে সৃস্ট পাথর) ক্যালসিয়াম কার্বনেট (Calcium carbonate)।
মন্গল:অশুভ হলে ফোঁড়া,হাম,অর্শ ইত্যাদি রোগের সম্ভাবনা।মুক্তির উপায় রক্ত প্রবাল (পলা) ধারন করা।প্রবাল হচ্ছে ক্যালসিয়াম কার্বনেট (Calcium carbonate) দ্বারা সৃস্ট।
বুধ:খারাপ হলে চর্মরোগ,যকৃতের গোলমালের সম্ভাবনা।মুক্তির উপায় পান্না,পোখরাজ ধারন।পান্না হচ্ছে বেরিলিয়াম এ্যালুমিনিয়াম সিলিকেট,পোখরাজ-এ্যালুমিনিয়াম সিলেকেট দ্বারা সৃস্ট।
বৃহস্পতি:সন্তান লাভ ও ভাগ্যের নিয়ক্ত্রক,মেয়েদের বিয়েতে দেরি হওয়া।মুক্তির উপায় পোখরাজ।
শুক্র:অশুভ হলে যৌনরোগ,মূত্রাশয়ের রোগ দেখা যায়।মুক্তির উপায় হীরে,আর হীরা হচ্ছে কার্বন দ্বারা সৃস্ট।
শনি:অশুভ হলে পোলিও,ক্যানসার হবার সম্ভাবনা।মুক্তির উপায় নীলা,নীলা হচ্ছে এ্যালুমিনিয়াম (Aluminum oxide) দ্বারা সৃস্ট।
রাঁহু : (বাস্তবে এর অস্তিত নেই)।অশুভ হলে উন্নতিতে বাধা,মানসিক ও শারীরিক কস্ট দেখা দেয়।মুক্তির উপায় গোমেদ,ধারন করতে হবে গোমেদ হচ্ছে ক্যালসিয়াম,লোহা, ও ক্রোমিয়ামের মিশ্র সিলিকেট।
কেঁতু ( বাস্তবে অস্তিত নেই): অশুভ হলে ক্ষয়রোগ,অর্শরোগ,হতে পারে।মুক্তির উপায় বৈদূর্যমনি (Cat's eye) ধারন।এটি হচ্ছে বেরিলিয়াম ও এ্যালুমিনিয়ামের মিশ্র অক্সাইড।
জ্যোতিষীদের পরামর্শে এসব পাথর ধারন করে যদি এতসব রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায় তাহলে কোটি কোটি টাকা খরচ করে এতসব ঔষধ বানানোর দরকার কি? তাছাড়া জ্যোতিষরা যেসব গ্রহ নক্ষএদের কথা বলেন বাস্তবে তারা কিন্ত হাজার,লক্ষ,কোটি কিঃমিঃ (আলোকবর্ষ)দুরে অবস্হান করছে।
সেখান থেকে বিকিরিত আলো ও কম্পন পৃথিবীতে আসতে কয়েকদিন থেকে হাজার লক্ষ কোটি বছর সময় লাগে।এরপরে পৃথিবীতে যেটুকু আলো ও কম্পন পৃথিবীতে আসে তা খুব ক্ষীন এবং বহু আগের।বর্তমান আমি আমার উপর অতীতের আলো কিভাবে প্রভাব ফেলবে? এরপরেও আমি যদি বলি হ্যাঁ আমি তাদের পরামর্শ মত পাথর পরে উপকার পেয়েছি,আমার রোগ ভাল হয়ে গেছে।কিন্ত না এতে সেই পাথর বা রত্নটির কোন ভূমিকা নেই।কারন আমাদের বহু রোগের মূলে রয়েছে ভাবনা,উদ্বেগ,অনিশ্চিয়তা ইত্যাদি মানসিক চাপের মধ্যে থেকে।এই মানসিক কারনে সৃস্ট রোগ থেকে সারিয়ে তুলতে যে চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যাবহার করা হয়,তার নাম ''প্লাসিবো চিকিৎসা পদ্ধতি"।এটি হলো বিশ্বাস নির্ভর চিকিৎসা পদ্ধতি।"আমি নিরাময় লাভ করবো" মনের এই গভীর বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে রোগীকে ভাল করা যায়।অতএব এখানে সেই পাথরের কোন ভূমিকা নেই।অর্থাৎ মানসিক সৃস্ট রোগকে মানসিকভাবেই দুর করতে হবে।আর ক্যানসার, পক্ষাগাত,এ্যাজমা,সহ যাবতিয় শারীরিক রোগকে সারিয়ে তোলার জন্য নির্দিস্ট ডাক্তার এবং নির্দিস্ট ঔষধ সেবন করতে হবে।আর রোগ থেকে মুক্তি দেবে মহানসৃস্টিকর্তা আর যাই হোক অন্তত কোন জ্যোতিষ বা পাথর নয়।
ছবি সৌজ্যন্যে গুগল।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই মে, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:৩৩
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×