দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের পূর্ব আগানগর এলাকার ২য় শ্রেণীতে পড়ুয়া শিশু সোহেল। মাত্র ৭ বছর যার বয়স। স্কুল থেকে এসে বাবার কাছ থেকে ৩ টাকা নিয়ে পাশের বাজারে "মজা(চকোলেট)" কিনতে গিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ সরকারের দু’পক্ষের বাজার দখল নিয়ে গোলাগুলিতে সে গুলিবিদ্ধ হয়ে দুপুরে এই পৃথিবী থেকে চির বিদায় নিয়েছে।
সোহেলের গুলিবিদ্ধ ছোট্ট দেহটা দীর্ঘক্ষণ ঘরেই পড়ে ছিল। মায়ের কোলেই মাঝেমধ্যে ঝাঁকি দিয়ে উঠছিল শিশুটি। ছেলেকে হাসপাতালে নিতে মা ওজুফা বেগম ছুটে বেরিয়ে গেছেন বাইরে। হাতে-পায়ে ধরেন অনেকের। বাইরে তখন মারামারি চলছিল। কেউ শিশুটিকে হাসপাতালে নিতে এগিয়ে আসেনি। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর যখন পুলিশ এসেছিল, ততক্ষণে শিশু সোহেলের দেহ নিথর হয়ে গেছে...
সোহেলের বাবা রিকশাচালক রতন মিয়া। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আগানগরে ছাপরা টিনশেড বাড়ির একটি ঘর নিয়েই রতন মিয়ার সংসার। যে মার্কেটটি নিয়ে সংঘর্ষ, ওই মার্কেটের পাশের সরু গলি দিয়ে কিছুদূর গেলেই বাসাটি।
ঘরে বিছানায় বসে সোহেলের প্যান্ট হাতে নিয়ে বুক চাপড়ে বিলাপ করছেন মা ওজুফা! বিলাপরত মা ওজুফা বেগম বলেন, ‘আমার বাবার নাক দিয়া চাক্কা চাক্কা রক্ত পড়তাছিল। বুকডা উডাইয়া ছটফট করতাছিল। আমি বাইরে গিয়া সবার হাতে-পায়ে ধরছি, একবার হাসপাতালে নেওনের লাইগ্গা। কেউ হুনল না! তারা ইডা মারামারি করতাছে। তহনো আমার বাবার রুহডা আছিল।’
তিনি সংঘর্ষকারীদের উদ্দেশ্য করে বলছিলেন, ‘ওরা আমার পোলাডারে খাইল। নিজেরা মারামারি করিস কর। আমার পোলাডা কী করছিল? কেন ওরে মারলি। কেউ একবার ওরে হাসপাতালে নিস নাই। তগোর বিচার আল্লা করব।’
যে দেশের সরকার তার নিরীহ মানুষদের নিরাপত্তা দিতে সম্পূর্ণ অক্ষম, যে দেশের আইন প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি না দিয়ে নিরীহকে হয়রানি করে সে দেশের মানুষ আল্লাহ ছাড়া আর কার কাছে বিচার চাইবে???!!!
আল্লাহ, তুমি কি শুনছো...???!!!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


