somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছোট্ট ফার্মেসি থেকে যেভাবে শিল্পের মহীরুহ...

০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ রাত ১:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কাল। ভারতবর্ষে স্বদেশী আন্দোলনের জোয়ার বইছে। সুভাষ চন্দ্র বসু তখন যুবাদের নায়ক। নতুন নতুন বিপ্লবী চিন্তা আর দেশ গড়ার চেতনায় উজ্জীবিত তারুণ্য। পাবনার আতাইকুলার এক তরুণ নীরব সাধনায় মগ্ন। কিছু একটা করবেন। নানা জটিলতা আর মতের অমিল হওয়ায় পোস্ট অফিসের কেরানিগিরি ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বড় কর্তা যখন তাকে চাকরি থেকে বাদ দেয়ার কথা ভাবছেন তখন তিনি নিজেই তাকে (বড় কর্তাকে) বাদ দিয়ে এসেছেন।

কিন্তু দিশা কোথায়। স্বপ্ন, ব্যবসায়ী হবেন। দেশ ভাগ হলো। চারপাশে অস্থিরতা। হার্ভার্ড থেকে ব্যবস্থাপনায় ডিপ্লোমা শেষ করেছেন। পড়াশোনা শেষ। টুকটাক চাকরির অভিজ্ঞতাও হলো। কিন্তু নিজস্ব উদ্যোগ দরকার। মনের তীব্র নেশায় ছুটে বেড়ান খেত-খামারে। গাঁয়ের মেঠো পথ আর ইছামতির বাতাস দোলা দেয় এক স্বপ্নচারীকে।

বাবা ই এইচ চৌধুরী তখন একটা মিশনারি হাসপাতালে কাজ করেন। আশপাশের চরাঞ্চলের দশ-বারো মাইল দূর থেকে মানুষ তার বাবার কাছ থেকে কুইনাইন নিতে আসতো। নানা রোগ-বালাই আক্রান্ত মানুষের যন্ত্রণা দগ্ধ চেহারা চোখে ভাসতো। ভাষা আন্দোলনে তখন ঢাকা উত্তাল। সারা দেশেই মায়ের ভাষার দাবিতে ছাত্র-জনতা জেগে উঠছে। উদীয়মান এক তরুণ মানুষের রোগ যন্ত্রণা থেকে বাঁচাতে, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে আতাইকুলা বাজারে ছোট্ট একচালা ঘরে ফার্মেসি দিলেন। খুচরা ওষুধ বিক্রয়ের দোকান। সময়টা ১৯৫২ সাল। ১৯২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জন্ম নেয়া স্যামসন এইচ চৌধুরী তখন ২৬ বছরের যুবক। বাবা খ্রিষ্টান মিশনারি পরিচালিত কম্যুনিটি ক্লিনিকের দায়িত্বে। খ্রিষ্টান মহিলার গড়া ছোট কম্যুনিটি হাসপাতালের দায়িত্ব তিনি মারা গেলে বর্তে চৌধুরী পরিবারের হাতেই। বাবা এইচ চৌধুরী নিয়ম করলেন, শুধু গরিব মানুষদের চিকিৎসা দেয়া হবে। তবে শর্ত একটাই, যারা চিকিৎসা নিতে আসবেন তাদের একটা করে চেলা কাঠ নিয়ে আসতে হবে। সবাই অবাক হলো এ আবার কি নিয়ম। কিছু হাসিঠাট্টাও হলো। দমলেন না। কারণ ওই চেলা কাঠ দিয়েই হাসপাতালে পানি জ্বাল দেয়া হতো। ঘটনাক্রম তরুণ স্যামসনকেও নাড়া দেয়। ফাঁকে ফাঁকে বাবার ওষুধ সংগ্রহের কষ্ট পীড়া দেয়। কি করে একটি ওষুধের কারখানা দেয়া যায়। নিজেদের ওষুধ কেন নিজেরাই তৈরি করি না। ভাবনার ডালপালা গজাতে থাকে। সময়-সুযোগের অপেক্ষায় থাকে স্যামসন চৌধুরী।

একদিন ফার্মেসিতেই দেখা মেলে সদ্য পাস করা ডাক্তার বন্ধু রশীদের। সারাদিন রোগী দেখে, খাওয়া-দাওয়া করে আর তাস-টাস খেলে চলে যাওয়ার শর্তে সে বসতে রাজি হলো আতাইকুলায় স্যামসন এইচ চৌধুরীর ফার্মেসিতে। পাবনারই আরেক হিন্দু ফার্মাসিস্ট জুটলো- যিনি ম্যালেরিয়ার মিকশ্চার ওষুধ বানাতেন। বেচতেন। তিনে মিলে আড্ডা। আর টুকটাক পরিকল্পনা। ধীরে ধীরে ফল দিতে শুরু করে এই মজলিশি গল্প-গুজব। স্বপ্নগুলো বাস্তবতায় ভর করে এগোতে থাকে। একদিন মুখোমুখি হন ডিরেক্টর ড্রাগ-এর কাছে। ড্রাগ ম্যানুফ্যাকচারিং লাইসেন্সের অনুমতি প্রার্থনা করতে। দুরু দুরু বুকে নানা প্রতিকূলতা নিয়ে যাত্রা শুরু আজকের স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস-এর।

কোম্পানিটির সূচনায় সঙ্গী হয়েছিলেন চারজন। পুঁজি পনের হাজার টাকা। চারজনে মিলে সূচনা। নাম তাই ‘স্কয়ার’। ফোর হ্যান্ডস আর ইকুয়াল। চার হাত সমান। সমান না হলে তো বর্গক্ষেত্র (স্কয়ার) হচ্ছে না। শুরুতে মিকশ্চার সিরাপ আর কিছু ট্যাবলেট। আস্তে আস্তে পরিধি বাড়তে থাকে। প্রথম তিন বছরে পুঁজি দাঁড়ায় আশি হাজারে। লাভের মুখ দেখতে শুরু করে চতুর্থ বছরে। তখন স্যামসন এইচ চৌধুরী নিজেই ছিলেন দারোয়ান, নিজেই বিপণন কর্মকর্তা, নিজেই ঝাড়ুদার, নিজেই কেরানি। এক সময় চার অংশীদারের দু’জন চলে গেলেও তিনি দমেননি। প্রতিকূলতা ও বৈরী পরিস্থিতিতেও নিজেকে আগলে ধরেন। নির্মাণ করেন সিঁড়ির পর সিঁড়ি। ১৯৫৮ সালের প্রতিষ্ঠিত স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস আজ দেশের বড় শিল্প গ্রুপ।
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×