ছোট বেলায় যখন গান শিখতাম তখন গান টাকে রীতিমত একটা যন্ত্রণা মনে হত। গানের স্যার কে দেখলেই মেজাজ খারাপ হয়ে যেত। হারমোনিয়াম দেখলে অসহ্য লাগত। তারপরও সপ্তাহে দুইদিন সেটাই নিয়ে স্যার এর কাছে ভ্যা ভ্যা করতে বসতে হত। আর নিজেকে রোজ একবার করে গলা সাধতে হত!! কি যে বোরিং লাগত তখন। একদম বাজে। আর শিশু একাডেমী আর উদীচীতে যাওয়া, শাড়ি পরে পাকা পাকা ভাব ধরে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান গাওয়া ছিল আরও বিরক্তিকর!!! শুধু শাড়ি পড়তে হয় সাথে সাজগোজ করতে হয় তাই কত যে কান্নাকাটি করতাম গান না গাওয়ার জন্য!! তবুও করতেই হত!( অতীব অসহায় টাইপ ইমো) । গান শেখার শুধু একমাত্র ভাল লাগার যে দিক টা ছিল সেটা হল মাঝে মাঝেই বাবার সাথে বসে গান গাওয়া। আমার বাবা পুরো গান পাগল মানুষ। মাঝে মাঝেই রাতের বেলা আমার কাছে আবদার করতেন গান শোনানোর জন্য। আমিও বসে যেতাম। বাবাকে গান শোনাতে খুব ভাল লাগত। বাবা চোখ বন্ধ করে খুব মন নিয়ে গান গুলো শুনতেন। আমার তখন খুব খুব বেশি ভাল লাগা হত! আমার গান শেখার কোন ইচ্ছাই ছিলনা, তবুও শুধু বাবার জন্য আমি গান শিখতাম, বাবাকে শোনানোর জন্য! এস.এস.সির জন্য কিছুদিন গান টা বন্ধ রাখি, কিন্তু ঐ কিছুদিন কেন যেন আর শেষ হয়নি!! হয়ত আমার ইচ্ছা ছিলনা তাই!! কিন্তু অভ্যেস টা আমার ভেতরে এখনও কিছুটা থেকেই গেছে!! আমার এখনও মাঝে মাঝেই ইচ্ছে হয় আমি গান গেয়ে শোনাই!! কেউ আমার সামনে বসে চোখ বন্ধ করে গান শুনুক!! এখন আর বাসায় গেলে হারমোনিয়াম নিয়ে বসা হয়না, বাবাকেও গান শোনানো হয়না!! কিন্তু আজ আমার অসম্ভব ইচ্ছে হচ্ছে গান গাইতে, খুব ইচ্ছে হচ্ছে, খুব বেশি!! মনটা একটু খারাপ হলে, একা একা লাগলে এরকম হয় আমি জানি! কিন্তু আজ আমার খুব খুব খুব প্রবল ভাবে গান গাইতে ইচ্ছে হচ্ছে, একা গাওয়ার জন্য না, অন্য কারও সামনে বসে অনেক ভাল লাগা নিয়ে তাঁকে শোনানোর জন্য!! আজ থেকে ৫/৬ বছর পর সে সুযোগ টা আসবে হয়ত জানি, তখন হয়ত অনেক ভালবাসা নিয়ে ঠিক বাবার মতই আমার এক চিলতে বারান্দায় বসে আমি তাঁকে গান শোনাব, শুধু একটু বেশি এই হয়ত হবে যে তাঁকে আমার হাত টা ধরে বসে থাকতে হবে!! আর চোখ বন্ধ করা যাবেনা, চোখ খুলে থাকতে হবে, আমার দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে!!! সুরে ভুল করলে করব, লয়ে ভুল হলে হবে, তাল ঠিক না থাকলেও হবে, তবু আমার দিকে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকতে হবে, চোখ সরানো যাবেনা!! ডিজিটাল যুগে একটা ফোন করেই ঝামেলা মেটানো যায়, বলা যায় শোন আমার গান গাইতে ইচ্ছা করছে, আমি এখন গান করব শুনতে থাকো, ফোন রাখবানা খবরদার, তোমার মেসির খেলা চুলোয় যাক(অতীব কপট রাগের ইমো) !! কিন্তু সেটা কি হাস্যকর!! এরকম ভাবে না, না না না! তাই অপেক্ষায়, আমার এক চিলতে বারান্দার অপেক্ষায়, ততক্ষণ গান গাইতে ইচ্ছে করেই যাক নাহয়। আর যেটা মনে মনে অজস্র বার গেয়ে যাচ্ছি সেটা এখানে লিখে দিলাম, আপনারা মনে মনে কল্পনা করে করে ইচ্ছে মত শুনে নিবেন আপনাদের ভালবাসার মানুষের সাথে বসে-
‘আমি তোমারও সঙ্গে বেধেছি আমারও প্রান......
সুরের বাঁধনে
তুমি জানো না , আমি তোমারে পেয়েছি
অজানা সাধনে!!! ’

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

