কোন এক রাতে ... ... ...
সেদিন কুয়াশাছন্ন ছিল চারপাশ, হয়তো ভুল করে ভুল সময়ে ভুল কোন কোকিল ভুল সুরে ডেকে উঠেছিল! আর সেই রাত হয়ে উঠেছিল রহস্যময়! কুয়াশার ঘনত্ব যত বাড়ছিল তত বাড়ছিল রাতের অন্ধকার! সেই রাতে শীতের তীব্রতা ছাপিয়ে বসন্ত এসেছিল সাবালিকা আর শব্দ বালকের মাঝে! শব্দ বালক এনেছিল উষ্ণতা আর সাবালিকা দিয়েছিল ঠাই!
ভুল সময়ের ভুল সুর জন্ম দিয়েছিল কিছু নতুন ভুলের! সেই রাত একাকার হয়েছিল সেই ভুলে, একাকার হয়েছিল তীব্র উষ্ণতায় অথবা শুধুই হারিয়ে গিয়েছিল ভালবাসাময় অভিমানে!
আজ সেই রাত-
শব্দ বালক শীতগ্রস্থ! সাবালিকাকে উষ্ণতা বিলিয়ে বড্ড রিক্ত আজ! শীত গুলো কুয়াশায় ঢেকে দিচ্ছে তাঁর সমস্ত সত্ত্বাকে! তাঁর চাই কিছু অনুভূতি!
সাবালিকা-
চলো! হারিয়ে যাই এই ঘন কুয়াশার রাতে
তুমি আমি শুধু দুজনার দুজনাতে!
শীত শীত আর কাপাকপি শুধু
হাত রেখে সেই হাতে...
চোখে মাতলামো , ঠোঁটে উষ্ণতা
আগুন গড়িয়ে পাতে!
একি! কুয়াশা ভড়কে দিল...
জ্যোৎস্নাময় এই রাতে!!!
শব্দ বালকের অসাড় সত্ত্বা গুলো জেগে ওঠে! নতুন করে জেগে ওঠে! সাবালিকার স্পর্শে রিক্ত সত্ত্বা পরিপূর্ণতা পায়! শীত কুয়াশা ঠাই নেয় জানালার ওপারে। ভালবাসার উষ্ণতা শীত চাদরের উম হয়ে জড়িয়ে থাকে শব্দ বালককে! শব্দ বালকের হয় মুগ্ধতা!
সাবালিকা-
তোমার অস্তিত্বে শিহরণ
আমার অনলে ...
তোমার মস্তিস্কে আলোড়ন
আমার স্পর্শে...
তোমার তুমিতে বিচরণ
আমার আমিত্বে!!
শব্দ বালক বুনে নতুন শব্দ! মেঘের পরে মেঘকে ভাসিয়ে দিয়ে, কষ্ট শবকে বিষাদ নদীতে তাড়িয়ে দিয়ে সে শুরু করে শব্দ বিকিকিনি! নীল বিষের মোহনায় একাকার হতে আবার শুরু হয় সেই শব্দ বিকিকিনি!
সাবালিকা-
সেই শব্দ বালক , রোজ গোধূলি লগ্নে যার জন্য দাঁড়িয়ে থাকি জানালার শিক ধরে লাল নীল চুরি পড়ে ধূসর শব্দের অপেক্ষায় ... দাঁড়িয়ে থাকি শব্দ নেব বলে ... সেই শব্দ বালকের অপেক্ষায়!
সে শব্দ বিকি কিনি করে, বিষণ্ণ কিছু শব্দ... বিষাদমাখা তবু ভালবাসাময়!! যার শব্দে প্রজাপতির ডানা ভাঙ্গে, অথবা কোন স্বপ্ন হয় পাপবিদ্ধ!! তবু সেই শব্দের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকি, শুধু শব্দ কিনবো বলে!!
শব্দ বালক শব্দ বিলিয়ে দিল! সাবালিকার জন্য বোনা শব্দ গুলো বিকিয়ে দিল! অন্য কোন জানালার গোলাপি চুড়ি হাতের কেউ শব্দ কিনছে! হুম, সেই তো! চুড়ি গুলোর শব্দ হচ্ছে, টুং টাং! বাজছে কি অদ্ভুত সুরে! সেই শব্দ বালক, সেই বোনা শব্দ শুধু সেই জানালার শিক নয় এ! নয় সেই লাল নীল রঙ্গা কোন চুড়ি!
সাবালিকা-
শব্দ বালক! আমার জন্য বুনেছিলে যে শব্দ, যার অপেক্ষায় নির্ঘুম দুপুর কাটিয়ে দিলাম, লাল নীল চুড়ি পড়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম! তুমি আসবে বলে! তবে লাল নীল চুড়ি তোমায় আগে টানল না! তুমি গোলাপি চুড়ির টুং টাং শব্দে হারিয়ে গেলে! বাহ! তুমি তো শব্দ বালক! শব্দ তুমি বিলাতেই পারো! যাকে খুশি তাঁকে! তবে বলত, আমার কেন কষ্ট হয়? কেন কষ্ট হয় যখন তুমি শব্দ বিলাও? কেন জানো? তুমি আমার শব্দ বালক বলে! আমার জন্য বোনা প্রতিটি শব্দ শুধু আমার হবে, শুধু আমার! নও তুমি কি? তবে ঠিক আছে, এ জানালা খুলবে না আর, কোন সাবালিকা আর লাল নীল চুড়ি পড়ে স্বপ্ন চোখে তোমার অপেক্ষা করবেনা, তুমি বরং গোলাপি চুড়ির টুং টাং শুনে মুগ্ধ থেকো!
শব্দ বালককে আবার বিষণ্ণতা ছুঁয়েছে! ছুঁয়েছে নতুন কিছু কষ্ট! খুব ইচ্ছে হয় জানালার সিক ধরে দাঁড়িয়ে থাকা স্বপ্ন চোখের,কোন লাল নীল চুড়ির শব্দ শুনতে! খুব ইচ্ছে হয় আজ! তবে সেই জানালা আর খুলছে না, শুধু কান্নার তীব্র ঢেউ উগড়ে আসতে চাইছে! অশ্রু বিসর্জন!
সাবালিকা-
এই জানো? তুমি যখন বল তোমার কান্না পায়! তখন তোমাকে তীব্র ভালবাসায় ছুঁয়ে থাকতে ইচ্ছে করে! তোমার চোখের জল গুলো যত্ন করে আঁচলে মুছে রাখতে ইচ্ছে করে! বড্ড ইচ্ছে করে! তুমি কখনো নরম গালে জল বিন্দুর বৃত্ত দেখেছো? তোমায় কাঁদতে দেখলে সেরকম বৃত্ত একে ফেলি আমি কোন কম্পাস ছাড়াই! জানো? সেই বৃত্তে তোমাকে আটকে ফেলতে ইচ্ছে করে, তোমার কষ্ট গুলোকে তাড়িয়ে দিয়ে আগের মত শব্দ বুনন দেখতে ইচ্ছে করে! কিন্তু অভিমান গুলো বড্ড অভিমানী! তোমার জন্য জানালা আর খুলবোনা আমি, নতুন শব্দ কিনবোনা আর! তুমি কষ্ট পাবে, আর আমি কষ্ট উপভোগ করব! এসো, এই করি আজ!
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই আগস্ট, ২০১২ রাত ৮:৪০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



