somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সবকিছু হাসির বিষয় নয়-১১৫

১৬ ই আগস্ট, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সেদিন অফিস থেকে ফেরার পথে এক বন্ধুর সাথে দেখা। সে সাইকেল চালিয়ে যাচ্ছে মহুকুমা শহর। বললাম: সাইকেলে কেন, বাসেই তো যেতে পারো।
সে হেসে বলল:-আর বলো না ভাই দুঃখের কথা, সাইকেলটা ছেলের হোস্টেলে পৌঁছে দিতে যাচ্ছি।পায়ে হেঁটে স্কুল যেতে ওর খুব অসুবিধা হচ্ছে।
বললাম:- বেশ তো, তোমার ছেলে নিজেই তো নিয়ে যেতে পারতো সাইকেলটা।
শুনে হো হো শব্দে হেসে উঠলো বন্ধু। বলল:-আজকালকার ছেলেদের ওসব বলা যায় না রে ভাই, কলকাতার ভাল মিশনে ভর্তি
করলাম, থাকতে পারলো না। ২৬ কিমি সাইকেল চালিয়ে যেতে হবে শুনলে ও হয়তো ১০০০ কিমি দূরের বোম্বাই পালাবে।
আমি এবার হাসলাম। বললাম:-জীবনের ২০-২২ টা বছর তো বাবা-মায়ের ফরমাশ খাটলে, এখন বাকী জীবনটা ছেলের ফরমাশ খাটো।
বন্ধু হেসে বলল:-সবই কপাল।
পরে একদিন শুনলাম, সেই ছেলে হোস্টেলেও থাকতে পারেনি। শহরে বাসা ভাড়া নিতে হয়েছে বন্ধুকে। ১৬ বছর বয়সী ছেলে মায়ের হাতের রান্না খেয়ে স্কুলে যায়। বন্ধু প্রায় প্রতিদিন বাসে চড়ে গ্রামে আসে, পৈত্রিক জমিজমা দেখাশোনা করে, রাতে শহরে ফিরে যায়।
গল্পটা আমার বড়ভাইকে বললাম। সে চাকরী সুত্রে বোলপুর-শান্তিনিকেতনে থাকে। পাল-পার্বনে, আচার-অনুষ্ঠানে গ্রামের বাড়িতে আসে।
সে হেসে বলল:- এ আর এমন কি, শোন তবে মুনের গল্প।
মুনকে আমি দেখেছি। পুতুল-পুতুল চেহারার পুচকে মেয়েটি আমার ভাবীর কাছেই থাকে বেশীর ভাগ সময়। ওর আব্বা আমারই বয়সী তবে নামাজ-রোজার অতিরিক্ত চর্চার হেতু দাড়ি-টাড়ি রেখেছে তাই একটু বেশী বয়সী দেখায়। ব্যবসা করে। মৃদুভাষী এবং ভদ্র। মুনের মা-ও সাদাসিধে টাইপের ।
বড়ভাই বলল:- মুনকে আমি দুটো কথা শিখিয়েছি। এক, কেউ যদি তোকে জিজ্ঞেস করে, মুন কেমন আছো, বলবি, আল্লা যেমন রেখেছে। আর যদি জিজ্ঞেস করে, তোমার আব্বা-মা কেমন আছে, তখন বলবি, আমি যেমন রেখেছি।
বললাম:-তার মানে?
দেখলাম ভাবীও হাসছে। বড়ভাই বলল:-সেটাই গল্প। সেদিন আমি তোর ভাবীকে নিয়ে গেছিলাম পৌষমেলায়। সবার জন্য এটা সেটা কিনলাম। একসময় মনে পড়ে গেল মুনের কথা। তোর ভাবীর পরামর্শ মত কিনলাম একজোড়া ঘুঙুর।
বাসায় ফেরার একটু পরে মুন এল। বসল। বলল:-আমার জন্যে কি এনেছেন বড় আব্বা?
তোর ভাবী ওর পায়ে ঘুঙুর দুটো পরিয়ে দিলো। ঝুমুর-ঝুমুর শব্দ তুলে মেয়ে এঘর-ওঘর হাঁটলো খানিক। তারপর খুশি মনে চলে গেল নিজেদের ঘরে।
সেদিন মাঝরাতে ঘুঙুরের শব্দে ঘুম ভেঙে গেল।তোর ভাবীকে বললাম:-মুনের মা কি মাঝরাতে ঘুঙুর পরে নাচতে শুরু করলো নাকি?
তোর ভাবীও তখন জেগে গেছে। সে বলল:- না, মুনের মা নাচছে না, শুনছো না তার হাসির শব্দ?
ঠিক তাই। তবে কি মুন নাচছে? না তাও নয়, সে-ও হাসছে আর হাততালি দিচ্ছে।
কতক্ষণ নাচ চলেছিল তা জানি না, তবে ঘুঙুরের শব্দে ঘুম আসতে খুব কষ্ট হয়েছিল সেই রাতে। একবার মনে হলো, তবে কি ওদের বাসায় কোন গেস্ট এসেছে?
সকালবেলা মুনের মা আমাদের বাসায় এল এক পেয়ালা হালুয়া নিয়ে।
বললাম:-কে মেহেমান এসেছিল গো তোমাদের বাসায়?
মুনের মা বলল:- কেউ আসেনি ভাইয়া।
--তা হলে সকালবেলা হালুয়া?
--আর বলবেননি ভাইয়া, রাত এগারোটার সময় মেয়ে জেদ ধরল, ডিমের হালুয়া খাব। ভাগ্যিস ফ্রিজে ডিম ছিল। নইলে তো মেয়ের কান্না থামতো না।
তোর ভাবী আর থাকতে না পেরে বলল:-মাঝরাতে ঘুঙুর পরে নাচছিল কে?
এবার আর মুনের মা স্থির থাকতে পারল না। মুখে আঁচল চাপা দিয়ে হাসতে-হাসতে লুটিয়ে পড়ল মেঝেয়। তোর ভাবী যত চেষ্টা করে ওকে থামাতে, ও ততই হেসে গড়াগড়ি খায়। আমি তো বিভ্রান্ত হয়ে পাশের ঘরে ঢুকলাম। পরে তোর ভাবীর কাছে শুনলাম,
মেয়ের আব্দারে মাঝ রাতে ঘুঙুর পরে নাচতে হয়েছে মুনের বাবাকে।
এখনকার বাবা-মায়ের অবস্থা এমনই করুণ।
৯টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ শরৎ বন্দনা

লিখেছেন ইসিয়াক, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৯


শরৎ এলেই আকাশ জুড়ে সাদা মেঘের ভেলা
দিনমণি আর মেঘমালার লুকোচুরি খেলা।

রুম ঝুমঝুম নূপুর পায়ে ছুটছে নদীর ঢেউ
ভাটিয়ালি গাইছে গান অচিন সুরে কেউ।

বিলে ঝিলে শাপলা পদ্ম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×