somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মেঘের কোলে রোদ—১৬ (ধারাবাহিক উপন্যাস)

১০ ই জানুয়ারি, ২০১৩ বিকাল ৫:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মেঘের কোলে রোদ-১৬
রিকশোয় পাশাপাশি বসে আছে গনেশ আর ঈষা।দুজনেরই মুখভার।
অন্য একটা রিকশোয় বসে রোমিলা আর সুচেতা।কথার খই ফুটছে
সেখানে।পিচরাস্তার খানাখন্দ ডিঙিয়ে গড়িয়ে চলেছে রিকশো দুটো।
মাথার উপরে ঝিলিক মারছে সূর্য।কিছুক্ষণ আগেও
কুয়াশায় ঢাকা ছিল চারিদিক।এখনকার রোদের ঝিকিমিকি যেন
বলছে,আমি ছিলাম,আমি আছি,আমি থাকব।
মানুষের জীবনে দুঃখ যেমন চলে গিয়েও থেকে যায়।আনন্দ-সন্ধানীরাই
হয়ত জীবনের প্রতি বাঁকে দেখা পায় দুঃখের,ঈষার জীবন যেমন।জীবন
তার চোখে নিত্য-নতুন নির্মমতা নিয়ে দেখা দেয়।
আজ ওয়াশিমকে দেখে আরো একবার সেই উপলব্ধি হল ঈষার।চোখ
ভিজে গেল তার।বিড়বিড় করে বলল,তুমি নিজের বড় ডিগ্রি পায়ে
দলেছো তাই পুলিশ তোমাকে রগড়াচ্ছে।তুমি গ্রামের ছেলেমেয়েরা যাতে
লেখাপড়ার কষ্ট না পায়,তাই দুয়ারে-দুয়ারে ভিক্ষে করে স্কুল গড়েছো,
তাই পুলিশ তোমাকে উচিৎ শিক্ষা দিচ্ছে।তুমি কার মেয়ের বিয়ে হয় না,
কার সৎকাজ হয় না,দেখে নিজের আংটি-বোতাম বন্ধক দাও।আজ তাই
তোমার বিপদে একজনও শুভান্যুধায়ী নাই।গ্রামে ক্লাব গড়ে তুমি তরুণ
ছেলেদের রাত-পাহারা দিতে শিখিয়ে চোরদের ভাত মেরেছো,আজ তাই
তুমি চোরের মত মার খাচ্ছো।জানি না ভগবান বলে কেউ আছে কিনা,
থাকলে তিনিই জানেন,কার পাপে তুমি অপরাধী।কে দেবে তোমাকে
মুক্তির আলো।
বাচ্চা ছেলের মত কেঁদে উঠেছিল গনেশ।সে কোনরকমে বলতে পেরেছিল,
ওকে আর মারবেন না,মারতে হয় আমাকে মারুন।
একজন পুলিশ অফিসার হেসে বলেছিল,উপরওলার হুকুমে আমাদের
মারতে হয়রে ভাই,এটাই আমাদের ডিউটি,মেরেধরেই মাইনে পাই
আমরা।
ঈষা ছুটে গেছিল রোমিলার কাছে।বলেছিল,দিদি,আপনি একটু দেখুন,
দাদাকে ওরা প্রচুর মারছে।
---স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য পুলিশকে ওসব করতে হয়,ওদের সব
কাজে কি বাধা দিলে চলে? মাছি তাড়ানোর মত অবলীলায় বলেছিল
রোমিলা।
---আমি আর এক মুহূর্ত এখানে থাকব না,আমার দমবন্ধ হয়ে আসছে।
বলে অফিসঘর থেকে বেরিয়ে এসেছিল ঈষা।বিড়বিড় করেছিল,কত
নাটকে তুমি নায়কের রোল করেছো দাদা,সেখানে অপরাধীরাই শুধু সাজা
পায়,আজ জীবন নাটকে তুমি এমন অপরাধী যে তোমাকে বাঁচানোর কেউ
নাই।
একটু পরে থানা থেকে বেরিয়েছে রোমিলা আর সুচেতা।দুজনের মুখে হাসি।
তাদের পেছনে চোখ মুছতে-মুছতে গনেশ।বলেছে,ঈষা আমি এক্ষুণি একজন
উকিলের কাছে যাব।
---দিদি পুলিশের কাছে স্বাক্ষী দিয়ে যাকে ধরিয়েছে ভাই যাচ্ছে তাকে বাঁচাতে
উকিলের সন্ধানে।বলে হেসেছিল রোমিলা।
গনেশ উত্তেজিত হয়ে কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল,ঈষা চোখের ইশারায় তাকে
নিষেধ করল।গনেশ তার কোঁকড়া মাথার ঝাঁকড়া চুল ধরে মাথা ঝাঁকাল
একবার।
---বেশ বাবা আগে আমার বাড়ি চল,দুটো ডাল-ভাত খেয়ে যেখানে খুশি
যেও।বলল সুচেতা।
রোমিলার কথা এবং আচরণে ঈষাও খুব বিরক্ত।কিন্তু সে এই মুহূর্তে কিছু
বলতে পারছে না ‘রোমিলা’ নামের মেয়েটিকে।পুলিশ-মহল ওকে সম্ভ্রম করে।
নইলে তার মাকে হয়ত আজও লক-আপে থাকতে হত।
---মা,তোমরা রিকশো করে চলে যাও,আমি গনেশদকে নিয়ে হেঁটে যাচ্ছি।
---ধেৎ, তাই কখনও হয়,আজ আমরা সবাই রিকশো করে তোমাদের
বাসা যাব,সেখানে মাসীমার হাতের ভাত খেয়ে আমি কলকাতার ট্রেন ধরব।
এই রিকশো দাঁড়াও।
সুচেতা আর অতসী যখন রিকশো-চালকদের সাথে দরদাম করছে তখন
গনেশ বলল,আমি ওই দিদির রিকশোয় যাব না।
---বেশ,তুমি আমার সঙ্গে যাবে।
পাশাপাশি বসে আছে দুজনে। রিকশো চলছে।গনেশের কানে বাজছে,
ওয়াশিমের কথা,কেমন আছিস গনেশ।
গনেশ বিড়বিড় করল,ভাল আছি দাদা,তোমার চেয়ে ঢের ভাল আছি।
তার চোখ দুটি কেন যে এমন তরলিত হয়ে গেছে বুঝতে পারছে না
সে।পকেট থেকে রুমাল বের করে চোখ মুছতে গিয়ে দেখল,ঈষাও
কাঁদছে।
ফের পকেটে রুমাল রেখে দিল গনেশ।
(পরের কথা আগামী পর্বে )

২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যু্ক্তিসংগত ব্যাখ্যা চাই-১

লিখেছেন অপলক , ২০ শে মে, ২০২৬ রাত ৯:২৪




আমরা সবাই জানি ইসলাম ধর্মে, আত্মহত্যাকারীর পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। সহীহ বুখারীতে এসেছে, আল্লাহ তা'আলা বলেন, "আমার বান্দা নিজের জীবনের ব্যাপারে আমার আগেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে, তাই আমি তার ওপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোল্লাতন্ত্র ধর্ষণ-হত্যা ও নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধের সমাধান নয়, বরং তা বৃদ্ধির একটি কারণ

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২১ শে মে, ২০২৬ সকাল ৮:৪২


সাত বছর বয়সের ছোট্ট শিশু রামিসাকে ধর্ষণ করে গলা কেটে হত্যার ঘটনার সমাধান হিসেবে, মোল্লাতন্ত্রের মুখপাত্র আহমাদুল্লাহ হুজুর পুরাতন এক ফতোয়া নিয়ে হাজির হয়েছেন। এইসব নৃশঃসতার মাত্রা কমিয়ে আনার একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেজন্মা

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২১ শে মে, ২০২৬ সকাল ১১:৪১


হু বেজন্মা কথা শুনার পর
আমি বিরক্ত মনে করতাম
কিন্তু বেজন্মা কথাটা সত্যই
স্রোতের মতো প্রমান হচ্ছে-
খুন ধর্ষণ করার পশুত্বকে
বলে ওঠে বেজন্মা ক্যান্সার;
ক্যান্সারের শেষপরিণতি মৃত্যু
তেমনী বেজন্মার হোক মৃত্যু-
চাই না এই বেজন্মাদের বাসস্থান
আসুন রুখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভালো থাকো ছোট্ট মা এই অনিরাপদ শহরে

লিখেছেন সামিয়া, ২১ শে মে, ২০২৬ দুপুর ১:৫৫




মাঝে মাঝেই মনে হয়, পৃথিবীতে আমি যদি সত্যি কাউকে নিঃশর্ত ভালোবেসে থাকি, তবে সে আমার মেয়ে।
ওকে প্রথমবার কোলে নেয়ার দিনটার কথা আমাকে আবেগ প্রবণ করে তোলে ছোট্ট একটা উষ্ণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্র কেন রামিসাদের রক্ষা করতে ব্যর্থ?

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ২১ শে মে, ২০২৬ বিকাল ৩:১০


সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামো, আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা এবং সামগ্রিক নাগরিক নিরাপত্তা নিয়ে যে গভীর ও দমবন্ধ করা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা কোনো কাল্পনিক ভীতি বা বিচ্ছিন্ন অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×