মন'রে কৃষি কাজ জানো না, এমন মানব জমিন রইলো পতিত, আবাদ করলে ফলতো সোনা

চো সুং হুই এবং ওরা বত্রিশ জন
১৯ শে এপ্রিল, ২০০৭ সকাল ১০:১৮
ভার্জিনিয়া টেক এর আততায়ী প্রথম দফা দুইজনকে হত্যা করবার পর এনবিসি চ্যানেল এর কাছে একটা পার্সেল পোস্ট করেছিল। এনবিসি সেটা আজ রিসিভ করেছে। সেখানে তার হাতে লিখা ২৩ পৃষ্ঠার জবান, অন্তত ১০ মিনিটের ভিডিও, এবং ১১ টা ছবি আছে।
যার প্রত্যেকটাতেই তেইশ বছরের চো সুং হুই(আততায়ী)চিৎকার করে বলছে, '' You had a hundred billion chances and ways to have avoided today ''। নিশ্চিত ভাবেই মানসিক বিকারগ্রস্ত একজন যুবক সে।
আজ সকালেও আমি ন্যাশনাল পাবলিক রেডিও দেখছিলাম, চোখ দিয়ে জল পড়ছিল না, কিন্তু মনে মনে কাঁদছিলাম। ছবি দেখছিলাম ভার্জিনিয়া'য় শোকযাত্রার। খুবই ক্লীশে শোনায়। কিন্তু
আসলেই কাঁদছিলাম মনে মনে। সব মৃত্যুই বেদনার, কিন্তু তবুও কিছু মৃত্যু নাড়া দিয়ে যায়।
এখন কষ্ট হচ্ছে হত্যাকারী চো সুং হুই এর জন্যে। কি নিদারূণ মানসিক অবসাদ এবং পৃথিবীর প্রতি ঘৃণা একটা তেইশ বছরের যুবককে সারা পৃথিবী ধ্বংসে উৎসাহিত করে, এক লহমায় বত্রিশ জনকে গুলি করে মেরে ফেলতে উৎসাহিত করে সেটা আমি ভাবতেও ভয় পাই। কি ভীষণ ক্ষতবিক্ষত হৃদয়ে বেঁচে ছিল সে ভাবতেই কষ্ট হয়।
যে বয়েসটা সৃষ্টির, স্বপ্ন দেখবার এবং দেখাবার, যে বয়েসটা স্লোগান দেবার যে বয়সে সে সবাইকে ঘোষনা দিয়ে জানালো সে ঘৃণা করে তাবৎ পৃথিবীকে। মানবজাতির জন্য এ বড় বেদনার।
এ সংকটা আমাদের সবার। শুধু এক আমেরিকান কিংবা দক্ষিণ কোরিয়ার সংকটা না এটা। এরকম কোটি কোটি যুবক-যুবতী সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে আছে। সুযোগ এবং সম্ভাবনার দুয়ার দিয়ে কেউ বন্দুক নিয়েছে হাতে, কেউ এসিড কিংবা কেউ স্বপ্নহীনতার জীবন।
চো সুং হুই এবং বত্রিশ জন মৃতের হৃদয়ের শান্তি কামনা করছি।
আমাদের সময় হোক কবিতা পড়বার, লিখবার
আমাদের সময় হোক ভাববার
আমাদের সাহস হোক স্বপ্ন দেখবার এবং দেখাবার
আমাদের সামর্থ্যে হোক, প্রজন্মান্তরে স্বপ্নের বীজ বুনবার
আমাদের মধ্যে অবারিত নতুন শব্দের ঝর্ণা বয়ে যাক ।।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): ভার্জিনিয়া টেক, ভার্জিনিয়া টেক, ভার্জিনিয়া টেক, ভার্জিনিয়া টেক ভার্জিনিয়া টেক ভার্জিনিয়া টেক, ভার্জিনিয়া টেক ভার্জিনিয়া টেক ভার্জিনিয়া টেক ;
প্রকাশ করা হয়েছে: আমার দিনকাল বিভাগে ।
হযবরল বলেছেন:
৭ জন বিদেশী ছাত্র-ছাত্রী জানতাম না। ধন্যবাদ রাগীব।
স্বরহীন বলেছেন:
খুব খারাপ লাগছে।
সাদিক মোহাম্মদ আলম বলেছেন:
অসম্ভব দু:খজনক। আততায়ীর পুরো ম্যানিফেস্টোটা এখনো পড়িনাই। লিংক থাকলে জানাইয়েন।
রাগ ইমন বলেছেন:
প্রথম খবরটা পাই ব্লগে । তারপর অসুস্থ শরীর নিয়ে রাত ভর বিবিসি , সিএন এন, এবিসি - কষ্ট হচ্ছিলো খুব! আমরা কি এতটাই স্বার্থপর হয়েছি তাহলে? এতটাই নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত ? আমাদের বিবেককে নাড়া দিতে মেরে ফেলতে হয় ৩৩টি প্রাণ?
সুতরাং প্রতিদিন গনহত্যা তৈরি করার জন্য ব্যাক্তিদের জন্য দুক্ষ প্রকাশ করে লাভ নেই।
সুমন বলেছেন:
সাদিয়া কি বলেন এই সব?কোন মৃত্যুই কাম্য নয়। সবই টাই বিষাদে ভরা। আপনার নিজে কথা চিন্তা করেন। যারা গেছে তারা কারো ভাইবোন বা প্রিয়জন।
তারপরেও করে।
ওদের মনে যেই গভীর শূণ্যতা, এই সমস্যাটার মূল কিন্তু অনেক গভীরে।
চো এর কথাগুলো শুনছিলাম আর ভাবছিলাম, একজন মানুষ, 33 জনকে গুলি করে হত্যা করে ফেললো, সেও নির্বিকার হতে পারে নি আসলে। নিজের কাজটা নিজের কাছেই জাস্টিফাই করে গিয়েছে অবিরত। শেষ অবদি নিজেকেই বুঝিয়েছে, মানুষগুলো নিজের পাপের শাস্তি পাচ্ছে।
ওর হিরো নাকি ছিল আমেরিকায় আট বছর আগে ঘটে যাওয়া সেই শুট অফের নায়কেরা দু'জন। ওর শেষ স্টেইটমেন্ট, যেটা টিভিতে বার বার দেখাচ্ছে সেটা আমাকে শঙ্কিত করছে... এরকম কিছু একটা বলেছিল যে, ও জিযাস ক্রাইস্টের মত নিজের রক্ত দিয়ে অবহেলিত সংখ্যালঘুর হয়ে কিছু বলে গেল!
একই কথাকে হিরোইক রূপ দিয়ে হয়তো আরও অনেক তরুন তরুনীরা অনুপ্রেরনা পাবে...
ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট ভারতীয় একটা মেয়ে নাকি মারা গিয়েছে। ওর কথা ভাবছিলাম। বাবা মা একটু নিরাপদ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তীব্র আকাংখাতেই নিশ্চয়ই মেয়েকে পাঠিয়েছিল সুদূর আমেরিকায়। হায়রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা!
ওর দু' দুইটা পিস্তল ছিল। আমেরিকার মত দেশেই সম্ভব।
ঘটনা দেখে এখন কিন্তু মনে হয়... হয়তো রোধ করা যেত...
সব মৃত্যুই কাঁদিয়ে যায়... চো ছেলেটা সত্যিকার অর্থে নিসঙ্গ ছিল, যেটা ওকে মানসিক ভাবে অসুস্থ বানিয়ে ছেড়েছে। ইন্ডিভিজুয়ালিস্টিক সোসাইটির একটা বড় সমস্যা মানুষের একাকিত্ব...
অন্ধকার বলেছেন:
সত্যিই খুবই দুঃখজনক।
হযবরল বলেছেন:
দুজন শিকখক মারা গেছে জানতাম রাগিব। 5 কোথায় পেলে ? ওভ্র না থাকায় লিখতেই পারছিনা। ওভ্র কোনোভাবে এমবেড করা যায় না ব্লগে । না হলে আমাকে তো পুরো ক্যাম্পাসের সব কম্পিউটারে ওভ্র ইনস্টল করতে হবে ।
জ্বিনের বাদশা বলেছেন:
ভয়াবহ রকমের দুঃখজনক।আশা করি যেন কোরিয়ান ছাত্ররা আমেরিকায় সামাজিক সমস্যায় না পড়ে ... নেটব্লগে পড়ছি ... কিছু নেইটিভ ছাত্র দাবী করছে কোরিয়াতে গেম রপ্তানী কমানোর কথা ...
তাও ভাগ্য ভাল, চো নর্থ কোরিয়ার না।
আমেরিকার গান পজেশন ল'টা আজিব!!
ত্রিভুজ বলেছেন:
হযবরল, রিটায়র্ড করলেন নাকি? পোষ্টান না ক্যান? আপনার পোষ্ট মিস করছি....


















এই আক্রমণে একজন ভারতীয় ছাত্রী ও একজন ভারতীয় অধ্যাপক মারা গেছেন। মোট ৭ জন বিদেশী ছাত্র-ছাত্রী মারা গেছে।
ভার্জিনিয়া টেক হতে আমারো পিএইচডি অফার এসেছিলো বছর চারেক আগে। আজ ঐ নরিস হলে আমিও থাকতে পারতাম। বাংলাদেশী সবাই সুঃস্থ আছেন, এটা জেনে স্বস্তি পেয়েছি।