মন'রে কৃষি কাজ জানো না, এমন মানব জমিন রইলো পতিত, আবাদ করলে ফলতো সোনা

কালো ভবঘুরে
০১ লা মে, ২০০৭ সকাল ৮:৪৪
শৈশবে আমাদের পাড়ায় এক ভবঘুরে দেখতাম। আমাদের পাড়ার বাসিন্দা সে ছিলোনা, তবে ঘুরে ঘুরে কিছুদিন পর পর আসতো। নির্দিষ্ট কিছু বাড়ী ছিলো যেগুলোর ছায়ার সে জ্যেষ্ঠ মাসের কড়া রোদে বিশ্রাম নিত। বেশ লম্বা, কালো পেটানো শরীর। পিঠে বিশাল এক বোঝার কারণে খুব ঝুঁকে থাকত। দেখে মনে হত দুঃখ ভারাক্রান্ত যোদ্ধা। চোখ দুটো ছিল শিশুর সারল্য। প্রায়শই ওর আস-পাশ ঘুরতাম, আগ্রহ অনুভব করতাম মানুষটার প্রতি। লোকটার কাঁধে এত বড় বোঝা কেন ? বিচিত্র এক বোঝা, কোল্ড ড্রিংক’স এর খালি প্লাস্টিক এর বোতল থেকে, লাল-নীল রংয়ের কাপড়ের টুকরো, পলিথিন, ছেঁড়া জুতো। খুব সাধারণ সব বস্তুর সমাহার। নিজের চেয়েও বড় সেই বোঝা বহন করছে, পিঠ কুঁজো করে। ওর কথা শুনবার একটা অদম্য ইচ্ছে ছিল, কিন্তু শোনা হয়নি। এখনো জানিনা সে কী কথা বলতে পারে না? না কি সে কথা বলতো না। আমার ধারনা সে কথা বলতে পারে, কিন্তু সে বলতো না। নিজের মাঝে এক বিশাল সমুদ্রে, সে একা এক নির্জন দ্বীপে বাস করত। কখনো দেখে মনে হয়নি, এই বিশাল দালান, জীবনের নানাবিধ আয়োজন কোনো কিছুই তার নির্জনতা ভঙ্গ করছে।
কিছু কিছু শিশুসুলভ আগ্রহ আমরা সযত্নে লালন করি, দীর্ঘদিন কিংবা অনন্তকাল। আগ্রহ মিটবার সম্ভাবনা খুব কম জেনেও আমরা সেই আগ্রহ ঝেড়ে পুঁছে যত্ন করে রাখি। ওর গলার স্বর শুনবার আগ্রহ, আমার সেই রকম একটা আগ্রহ।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): বাসনা, বাসনা, বাসনা ;
প্রকাশ করা হয়েছে: আমার ডায়েরি বিভাগে ।
হযবরল বলেছেন:
ছবি সূত্রঃ পোস্ট সিক্রেট।
আড্ডাবাজ বলেছেন:
পড়লাম। ধন্যবাদ।
এস এম মাহবুব মুর্শেদ বলেছেন:
পড়লাম। সুন্দর অনুভুতির সুন্দর উপস্থাপন।
শ্যাজা বলেছেন:
গলাবাজি, গালাগালি, রেটিং, আর মন্তব্যদের পেরিয়েও ব্লগে আসি এইরকম কিছু লেখা পড়তে পাই বলে।
হযবরল বলেছেন:
ধন্যবাদ জলিল ভাই, আড্ডা ভাই, এসএম৩, অমিত, ইমন এবং শ্যাজা।

















