somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ব্লগোৎসব ...... (ধূসর গোধূলি সমীপে)

১০ ই মে, ২০০৭ সকাল ৯:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




ব্লগে খুব বেশী আসা হয় না, বস্তুত কম্পিউটার সারাদিন অনলাইন থাকলেও ব্লগানো হয়ে ওঠেনা। কিন্তু হাতের চুলকানো থামানোতো আর যায় না। লিখবার জন্য খচমচ করে, ব্লগে মাঝে মাঝে উঁকি দিয়ে দেখি যেরকম জাবড়াজাবড়ি দেখি তাতে আগ্রহ পানসা মেরে যায়। আজ হতাশ করা দুপুরে ডিমভাজি দিয়ে খিচুড়ী এবং সালাদ সাঁটানোর সময় পেলাম ধূসরের মেসেজ।

... আর্জেন্ট...নো কোশ্চেন...আগামী রবিবার রাত ৯ ঘটিকার সময় গানে গানে ভালবাসার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে... ... গান রেকর্ড করে রাখুন ... ... প্রতিযোগীতায় জমা দিতে হবে ----- ।

মুখে অতি মূল্যবান খিচুড়ী(একদিন রান্না করিয়া তিনদিন চালানো হয়) না থাকলে এক পেট হাসতাম। কিংবা বলা যায় পেট উল্টে, হাসতাম। কিংবা গব্বর সিং হলে বলতাম,
‘ ইয়াহা সে ২০০ মাইল দূর দূর তক, গাঁও গাঁও মে জিজু লোগ আপনে শালী ক্যাহতে হে --সো যা, নে হি তো হযুভাই গানা শুর করে গা’’
আমার এলেম এতোখানিই বিস্তৃত।

আমার গায়কীর ইতিহাস সুদূর ক্লাস থ্রি হইতে। কিংবা তার ও আগে হতে পারে। আমাদের ঘরে কোন গায়ক-গায়িকা নেই। ফলতঃ অধিকাংশ পোস্টমর্ডান ফ্যামিলির বাচ্চাদের মত আমাদিগকে আর্ট, নাচ , গান এসবের তালিম নিতে কোন প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয় নাই। সুতরাং যাওয়া ও হয় নাই। আমার আশে পাশে ফুলকি’ই ছিল এসবের আগাড়। ফুলকি’তে গল্প বলা প্রতিযোগীতা কিংবা গ্যালিলিও সায়েন্স ফেয়ারে যাওয়া হলেও নাচ-গানের ক্লাসে যাওয়া হয়নি।

কিন্তু জনগণ তাই বলে এই সুপ্ত প্রতিভাতো আর লুকিয়ে রাখা যায় না। বিকশিত হবেই। প্রতিভা বলে কথা। ক্লাস থ্রিতে শুরু করলাম আমাদের পাড়ার, ‘জলসিঁড়ি’ খেলাঘরে যাওয়া। সাপ্তাহিক ছুটির দিন, সরকারী ছুটির দিন, সপ্তাহে দু-দিন বিকেলে আমাদের খেলাঘরের আসর। এক একদিন একেকজনের বাসায়। বড় ভাই-বোনেরা আয়োজক, আমরা কচি-কাঁচারা পারফর্মার, সে এক এলাহী ব্যাপার। বিশেষ বছরের শেষের দিকে যখন বাৎসরিক অনুষ্ঠানের সময় হতো তখন জোরদার প্র্যাকটিস, কিংবা একুশে ফেব্রুয়ারীর সময়।
এই প্র্যাকটিসের মূল অংশ ছিলো কোরাস গান। মাথা দুলিয়ে দুলিয়ে আমরা সকলে টুলু দিদি সঙ্গে গাইতাম, ‘সোনা সোনা সোনা, লোকে বলে সোনা; সোনা নয় তত খাঁটি’, ‘আমরা করবো জয় , আমরা করবো জয়’, ‘ও আমার দেশের মাটি, তোমার পরে ঠেকাই মাথা’। কিছু গান ছিল যেখানে উদাত্ত গলার টান লাগত, যেমন ‘ঢেউ ভাঙা ঐ স্রোতের সাগর পাড়ি দেব রে’ এইখানে আরিফ ভাই ‘ ও ও ও ও ও’ বলে ডাক ছাড়তেন থামাথামির কোন লক্ষণ থাকতো না।

ফ্যাকড়া বাঁধালো ঐ কোরাস গানটাই। মানে কোরাসে ফ্যাকড়া না, কোরাসের থেকেই উৎপত্তি ফ্যাকড়ার। তখন সবে মাত্র ‘ আম পাকে বৈশাখে ’ জাতীয় কবিতা আবৃত্তি শুরু করেছি স্টেজে। ডিসেম্বর মাস, সামনে বাৎসরিক অনুষ্ঠান। টুলু দি এক পশলা হারমোনিয়াম ধরে একটা গানের কঠিন জায়গা সবাইকে দিয়ে আবার করালেন। কিন্তু কেন জানি একটু বেসুরো লাগছে উনার। আবার ধরলেন। হঠাৎ কি জানি মনে হলো, ভাবলেন সবাইকে আলাদা আলাদা ভাবে টেস্ট করবেন, তাহলেই হেঁড়ে হলার সিসিম ফাঁক হবে। যেই ভাবা সেই কাজ। প্রথমেই মেয়েদের গলা ভাঁজা হলো, এদের গলা এমনিতেই ভালো। এরপর ছেলেদের শুরু হলো। আমাকে গাইতে বললেন সেই লাইন। আমি গাইলাম। সব সময় যেরকম গেয়ে যাই, সেরকম গাইলাম। এখনো সেরকমই গেয়ে যাচ্ছি , আমার কাছে খুব একটা অস্বাভাবিক কখনোই লাগেনি। আজো লাগেনা, কিন্তু যারা শোনে তাদের লাগে।

আমার গান শুনে টুলু’দির চোখ এমন হলো যেন হাঁসজারু দেখেছেন। হুংকার এতদিন ধরে গান শিখিস তুই, একি দশা। সেইদিন ডিসিশন হলো, আবৃত্তির সাথে সাথে কিছু অংশ উপস্থাপনার দায়িত্ব ও আমার ঘাড়ে। এরপর ও অনেকদিন কোরাস চালিয়েছি। সাফল্য বলতে ক্লাস সেভেনে হামদ-নাত এ দ্বিতীয় পুরষ্কার। এখানে একটা গোমর আছে। যারা প্রথম হয়েছিল, ক্লাস নাইনের ভাইদ্বয়, উনারাই আমাদের বলেছিলেন হামদ-নাতে অংশগ্রহণ করতে। তাও আবার প্রতিযোগীতার ঘন্টা তিনেক আগে। কারণ কোন কম্পিটিটর ছাড়া পুরষ্কার নেওয়াই মজা নেই তো তাই। সো আমি বাই ডিফল্ট সেকেন্ড।

গান নিয়ে এরকম, আরো রোমহর্ষক, আনন্দদায়ক এবং ভয়াবহ অভিজ্ঞতা আছে। সেসব আরেকদিন। সেই কোরাস কিস্‌সার পর থেকে ধীরে ধীরে শ্লোগানের দিকেই নিজের অমূল্য প্রতিভা বিনিয়োগ করা শুরু করেছি।

সুতরাং ধূসরের গানগ্রাম(টেলিগ্রাম টাইপ) পেয়ে সুপ্ত প্রতিভা চাগাড় দিলেও এই প্রতিযোগীতায় অংশ নেবো না বলেই ঠিক করেছি। এমনিতেই ব্লগের বেহাল দশা। আমি গলা ছাড়লে বাকী ব্লগাররাও জান নিয়ে পালাবে। ব্লগের স্বার্থেই সুপ্ত প্রতিভা, আরো কিছুকাল সুপ্তই রাখবো ঠিক করেছি।

কিন্তু সবাইকে আহবান জানাই, দলে দলে ব্লগোৎসবে সামিল হোন। মাদল বাজিয়ে, ঝাঁপ-করতাল বাজিয়ে গেয়ে উঠুন নব আনন্দে।







৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকাল

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:৫১



আজকাল আমার মনে হয় -
আমাকে কেউ পছন্দ করে না,
কারো কাছে গেলে, সে বিরক্ত হয়।
পোশাক অগোছালো, এলোমেলো চুল,
চোখের দৃষ্টি কেমন ঘোলাটে!
বীরত্ব দেখানোর কিছু নেই।
চতুর পুরুষ স্ত্রীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে ৯টি বছরঃ একজন লিলিপুটিয়ান থেকে সত্যিকার ব্লগার হয়ে উঠার গল্প

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২৮

আজ আমার ৩য় বইয়ের জন্য চুক্তি করতে প্রকাশক আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। প্রকাশনা সংস্থা 'উত্তরণ'-এর মাসুদ ভাইয়ের বাংলাবাজারের অফিসে ঘণ্টাখানেক ছিলাম। তাঁর সাথে কথা বলতে বলতেই আমার মনে একটি বোধোদয় আসে! আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×