আমি মুভি খুব দেখি। দেখতে ভাল লাগে। বাংলা ছবি খুব একটা দেখি না। ইংশিল আর হিন্দি মুভি বেশি দেখি।
কিছু দিন আগে আমি I hate luv story মুভি টা দেখলাম।
মুভিটা দেখে আমি চরম হতাশ হলাম। যেমনটা ভেবেছিলাম আসলে মুভি না কেমন হল না। গানগুলো যদিত্ত আমার ভাল লেখেছে। মুভি কাহীনিটা আমার কাছে পুরোই ফালতু মনে হয়েছে। আমি যে কোন ছবি দেখার পর কিছু সময় ভাবি এই মুভি থেকে আসলে কি আমি কিছু শিখতে পারলাম। প্রতিটি ছবি মত করে এই মুভিটা দেখা শেষ করে ভাবতে থাকলাম । আদৌ আমি কি কিছু শিখতে পেরছি? কিন্তু আমি দেখেছি কিছু কিছু মেযের কাছে এই মুভি টা অনেক ভাল লেগেছে। আমার কাজিন তো বলল “এই মুভি টা নাকি তার জীবনে দেখা সবচেয়ে ভাল মুভির মধ্যে একটা” এখন প্রশ্ন হল কি ধরনের মুভি সে দেখে। সারাদিন হিন্দি সিরিয়াল নিয়ে পড়ে থাকতে দেখি তাকে। যতদিন আমার কাজিনের বাসায় গেছি ততোদিন দেখছি সনি, ষ্টার প্লাস এই বিরক্তর সিরিয়াল দেখছে।
এই ধরনে মুভি গুলো আমাদের সমাজে প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে পরকীয়ার মত ব্যাপার গুলো । এই ছবিতে ত্ত একধরনের পরকীয়ার চিএ তুলে ধরেছেন। কেমন করে পরকীয় করতে হয় তা যেন শিক্ষা দিচ্ছে এই ধরনের মুভিগুলো । আমরা মুভি দেখি ঠিক আছে। কিন্তু আমাদের সমাজের টিনএজের ছেলেমেয়েরা এই ধরনের মুভিগুলো দেখে এই চরিএ গুলোর মত হতে চায়। সে এমন করেছে, তার চুলে টাইল এমন, সে এমন করে কথা বলে , ত্ত দুটা প্রেম করেছে, সে রোমান্টিক, এই নায়ক মেয়েদের কে এমন করে পটায় ….!!!! ইত্যাদি …………
আমি বলতে শুনিছি অনেকে বলে “বাসনে এ হাছিনা” মুভি রানবীন তিনটা প্রেম করছে আমি করলে কি ক্ষতি। আমিত্ত এমন করব ।!!!{ আরে গাধা লাইফ আর মুভি কি এক জিনিস। } বিশেষ করে যার টিনএজ আমাদের মত তরুন এই ধরনের বিশেষ শ্রেনীর ছেলেদের মুখে এই ধরনের কথা শুনা যায়।কিন্তু কেন???
খারাপ জিনিস গুলো প্রতি আমার মনে হয় বেশি আকস্তি হই। নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি সবাই আগ্রহ বেশি।এটাই বাস্তব।
একটা ঘটনা মনে পড়ল। ঘটনাটা তিন –চার বছর আগের।
“আমাদের ক্লাসের একটা মেয়ে একটা ছেলে খুব পছন্দ করত।ছেলেটার সাথে মেয়েটার বেশ কিছুদিন রিলেশন ছিল। পরে মেয়েটা জানতে পারে ছেলেটার আর একটা মেয়ের সাথে রিলেশন আছে। তার সাথে ছেলেটা ফান করেছে বন্ধুদের সাথে মজা করে। শুনে মেয়েটা কান্নাকাটি করে আবস্থা খারাপ। শেষ পযন্ত মেয়েটা ডিসিশন নিল মারা যাবে। আত্নহত্যা করবে।
আমি ঘটনাটা জানতে পেরে মেয়েটির কাছে গিয়ে জানতে চাই আত্নহত্যার বুদ্ধিটা তোমায় পেল। উত্তরটা শুনে আমি অবাক।
“ মোহাব্বতিন” ছবিতে শাহরুখকে না পেয়ে বিশ্ব সুন্দরী মিসেস বচ্চন আত্নহত্যা করে । বধূ সেজে।কপালে সিদুর দিয়ে ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে। এই দৃশ্যটির মত করে নাকি মেয়েটি আত্নহত্যা করবে। ত্ত মুসলমান বলে কপালে সিদূরের জায়গায় টিপ থাকবে।“
আমি যেন আকাশ থেকে পড়লাম। কেমন করে একজন মানুষ ছবির ঘটনা গুলো নিজের লাইফে ছড়িয়ে ফেলে। হ্যা এটা মানি মুভি কিছু ঘটনা কাকতালীয় ভাবে মিলে যায় তাই বলে এমন করা কি উচিত আমার । ছবি মত করে কি জীবনের সমাধান হয়। যদি আজ ছবিগুলোতে আমাদের মূ্ল্যবোধের এতটুকু হলেত্ত শিক্ষা দিত তবে আমি বলতাম মুভি গুলো বানানো সফল হয়েছে।
আমার সেই ক্লাসমেটকে আমি কিছু না বলে চলে আসি। আমি জানি মেয়েটা অনেক আবেগ প্রবন কিন্তু এটা জানি সে আত্নহত্যা করবে না। কারন যখনই আত্নহত্যা করতে যাবে তখণ অন্য একটা মুভি সাথে নিজের কাহীনিটা মিলাবে এবং এই পথ থেকে সরে আসবে।
এই ধরনের কাজ সাধারনত মেয়েরা বেশি করে । কিন্তু বর্তমানে ছেলেত্তরা পিছিয়ে নেই।
শেষ পযন্ত আমার ক্লসমেট মেয়েটি মারা যায়নি। দিব্যা সুন্দর বেচে। আছে। শুনিছি এখণ নাকি কয়েকটা ছেলের সাথে ঘুরাঘুরি করেতে দেখা যায় পথে -ঘাটে। এটা মনে হয় কোন মুভি এর অংশ…..!!!!!
আমি কখনো এটা বলছি না মুভি দেখা খারাপ। “ ফুলে মধু থাকে আবার বিষ থাকে। ভোমর নেয় বিষ আর মৌমাছি নেয় মধু “ আমাদেরকে তা হতে হবে। ভাল –খারাপ দুটাই আমরা দেখব । কিন্তু খারাপ গুলো ফেলে দিয়ে ভাল বিষয় গুলো নিলেই হয়। কিন্তু আমার কখনো তা করব না। বেছে বেছে খারাপ বিষয় গুলো আমাদের মাথা ঢুকে। একটা মুভিতে কিছু ঘটনা ভাল থাকে আবার কিছু থাকে খারাপ । আমাদের উচিত একটু শিক্ষার দৃষ্টিতে মুভিগুলো দেখা এবং কখনো এগুলোকে নিজের জীবনের সাথে না না জরানো। জীবনে জীবন আর মুভি মুভিই……….।
কিন্তু এখন সমাজের তরুন তরুনী এবং টিনএজদের কে বুঝাবে এটা।সিরিয়ার আর মুভি গুলো এমন করে মাথা ঢুকে তা যেন বের হতেই চায় না।
অনেক উপদেশ মূলক কথা বলে ফেললাম।আর না। আরত্ত কিছু কাহীনি লিখতে ইচ্ছা করছে কিন্তু সময় না থাকায় লিখতে পারছি না। পড়ে সময় করে লিখব আসলে উপদেশ দিতে খুব একটা খারাপ লাগে না। {!!!!!!}
এগুলো আমি মুভিটা দেখার পর ভাবলাম। আমার ভাবনা গুলো আমি তুলে ধরলাম। পুরোপুরি সুন্দর ভাবে তুলে ধরতে পারিনি। যখন ভাবি তখন অনেক সুন্দর করে ভাবি । কিন্তু লিখার সময় যেন এলোমেলো হয়ে যায়।
এই এলোমেলো লেখাগুলো কার কেমন লাগবে জানি না । তবুত্ত কষ্ট করে পড়ার জণ্য ধন্যবাদ।
লেখাটি আগে প্রকাশিত হয়েছে আমার ব্লগ তুসিনের জল-জোছনায়
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ১২:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


