somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সেঝ আপাকে জ্বীনে ধরার কাহিনী- খন্ড এক

০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ২:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাদের বাসায় প্রায় সব সময়ই মেহমানের ভীড় থাকে। একবার অনেক মেহমান আসায় ড্রইং রুমের মেঝেতে বিছানা করা হয়। ঠিক হয় ঐখানে আমার এক মামী, পরে মা এবং সবশেষে আমার সেঝ বোন ঘুমাবে। মাঝরাতে হঠাৎ করে আমার সেঝ বোন ঘুম থেকে উঠে সবাইকে পার হয়ে মামীর গলায় চাপ দিয়ে ধরে। মামী সাথে সাথে উঠে গিয়ে লাইট জ্বালায়। পরে আপা একটু ঠিক হয়ে বলে যে সে দেখতে ছিলো মামীর নাকি অনেক বড় বড় দাঁত দেখা যাচ্ছিলো আর আপার দিকে তাকিয়ে হাসছিলো। সেইজন্যই নাকি গলা চেপে ধরতে যাচ্ছিলো। একটু সবাই আবার ঘুমিয়ে যায়।

প্রায় মাস খানেক পর এক রবিবারে আবার কয়েকজন মেহমান আসে। আগের মতো করেই ঘুমাতে যায়। তবে এইবার সেঝ আপার পাসে বড় আপা ছিলো। সবাই মিলে খুব গল্প করছিলো আর হাসছিলো। বড় আপা সেঝ আপার পিঠে চাপড় দিয়ে বলে এতো হাসিস না। এই কথা বলার সাথে সাথে নাকি আপা চুপ করে যায়। এর একটু পরেই খুব আস্তে আস্তে কেঁদে উঠে। কিন্তু অন্যদের হাসির আওয়াজে কেউ বুঝতে পারে না। কিন্তু একটু পরেই আবার হেসে উঠে এবং তার পরেই আবার কেঁদে উঠে। এতে বড় আপার সন্দেহ হয়। তখন মাকে বলে লাইট জ্বালাতে। দেখে একবার সেঝ আপা কাঁদে এবং একটু পরেই আবার হেসে উঠে। তারে জিজ্ঞেস করলে কোন কথা বলে না চুপ করে থাকে আর একদিকে তাকিয়ে থাকে। এইরকম করতে করতে একটু পর বেহুস হয়ে যায় আর দাঁতেদাত লেগে যায়। আমাদের আশের বাসায় মসজিদের ইমাম ছিলো। সে এসে জ্বীন সূরা পড়ে ফুঁ দেয়ার সাথে সাথেই অজ্ঞান হয়ে যায়। একটু পর জ্ঞান ফিরলে বলে তার ঘাড়ে আর দাতে প্রচন্ড ব্যাথা। কিন্তু আগের কোন ঘটনা তার মনে নাই। তারপরে সব স্বাভাবিক ভাবেই চলতে থাকে।

একমাস পরের ঘটনা, রাতের বেলা। এই রাতেও সে হঠাত করে আগের মত করতে থাকে। হাসতে হাসতে কাঁদে আবার কাঁদতে কাঁদতে হাসে, কিন্তু কোন কথা বলতো না। আমার বাবা জ্বীন সূরা পড়ে ফুঁ দেয়ার সাথে সাথেই আপা অজ্ঞান হয়ে যায়। একটু পর জ্ঞান ফিরে আসে। তখন জিজ্ঞেস করলে কিছুই বলতে পারতো না। এইভাবে দেখা যেলো প্রতি অমাবশ্যায় তার এইরকম হয়।

পনের দিন পর, পূর্ণিমা ছিলো। আমার এক দূসম্পর্কের আত্মীয়া বেড়াতে এসেছে। উনি একটু ফকির টাইপের ছিলো, মানে ঝাড়ফুক করতো। সবাই ঘুমাতে গেছে এমন সময় হঠাত করেই সেঝ আপা হেসে উঠে, তার একটু পরেই কেঁদে উঠে। তখন যে বেড়াতে আসছিলো সে আপার হাতের কণি আঙ্গুল চেপে ধরে। তখন এক দৃস্টিতে তার দিকে তাকিয়ে থাকে। সবাই তাকে ঘিরে তার নাম নিয়ে ডাকতে থাকি, আর বাব ওযূ করতে যায়। কিন্তু আপা কোন কথাই বলে না। আমি একটা বালিশ নিয়ে আত্মীয়ার সামনে ধরলে আপা পাশ দিয়ে তার দিকে তাকাতে যায়। এইভাবে কিছুক্ষণ থাকার পর অজ্ঞান হয়ে যায়। জ্ঞান ফিরলে তাকে নিয়ে সবাই হাসাহসি করলে, তার নিজের কাজ শুনে নিজেও হেসে উঠে। আত্মীয়াকে আমাদের বাসায় থেকে যেতে বলে।

এক সপ্তাহ পরের ঘটনা। রাতে ঘুমানোর আগে সে বারান্দার দিকে এক নজরে তাকিয়ে থাকে। তাকে রাতের বেলাতে সবাই চোখে চোখে রাখতো। বড় আপা আবার এইটা খেয়াল করলো। সেঝ আপার গায়ে হাত দিয়ে বললো যে ঐভাবে তাকিয়ে আছে কেন। সেঝ আপা বলে কই নাতো। এর একটু পর ঘুমাতে গেলেই হেসে উঠে। তখন সেই আত্মীয়া উঠে বলে একটা মরিচ আর মোমবাতি আসেন। তখন কাজের মেয়ে নিয়ে আসতে গেলে এই প্রথম সেঝ আপা এই অবস্থায় কথা বলে উঠে। আত্মীয়ার নাম ধরে বলে উঠে, “সখিনা, তুমি কি ফকির হইছো”। তখন সখিনা আপা বলে যে দেখ আমি কি হইছি এই বলে মরিচ পুড়ায় আর আপার নাকের কাছে ধরতে চায়। কিন্তু সেঝ আপা তার দুই হাত দিয়ে জোরে নিজের নাক চেপে ধরে। বড় আপা আর মা দুই হাত জোর করেও সরাতে পারে না। চিতকার করে সেঝ আপা বলে উঠে....


(চলবে...)
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ১০:৩৬
৩৪টি মন্তব্য ৩৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×