আমাদের বাসায় প্রায় সব সময়ই মেহমানের ভীড় থাকে। একবার অনেক মেহমান আসায় ড্রইং রুমের মেঝেতে বিছানা করা হয়। ঠিক হয় ঐখানে আমার এক মামী, পরে মা এবং সবশেষে আমার সেঝ বোন ঘুমাবে। মাঝরাতে হঠাৎ করে আমার সেঝ বোন ঘুম থেকে উঠে সবাইকে পার হয়ে মামীর গলায় চাপ দিয়ে ধরে। মামী সাথে সাথে উঠে গিয়ে লাইট জ্বালায়। পরে আপা একটু ঠিক হয়ে বলে যে সে দেখতে ছিলো মামীর নাকি অনেক বড় বড় দাঁত দেখা যাচ্ছিলো আর আপার দিকে তাকিয়ে হাসছিলো। সেইজন্যই নাকি গলা চেপে ধরতে যাচ্ছিলো। একটু সবাই আবার ঘুমিয়ে যায়।
প্রায় মাস খানেক পর এক রবিবারে আবার কয়েকজন মেহমান আসে। আগের মতো করেই ঘুমাতে যায়। তবে এইবার সেঝ আপার পাসে বড় আপা ছিলো। সবাই মিলে খুব গল্প করছিলো আর হাসছিলো। বড় আপা সেঝ আপার পিঠে চাপড় দিয়ে বলে এতো হাসিস না। এই কথা বলার সাথে সাথে নাকি আপা চুপ করে যায়। এর একটু পরেই খুব আস্তে আস্তে কেঁদে উঠে। কিন্তু অন্যদের হাসির আওয়াজে কেউ বুঝতে পারে না। কিন্তু একটু পরেই আবার হেসে উঠে এবং তার পরেই আবার কেঁদে উঠে। এতে বড় আপার সন্দেহ হয়। তখন মাকে বলে লাইট জ্বালাতে। দেখে একবার সেঝ আপা কাঁদে এবং একটু পরেই আবার হেসে উঠে। তারে জিজ্ঞেস করলে কোন কথা বলে না চুপ করে থাকে আর একদিকে তাকিয়ে থাকে। এইরকম করতে করতে একটু পর বেহুস হয়ে যায় আর দাঁতেদাত লেগে যায়। আমাদের আশের বাসায় মসজিদের ইমাম ছিলো। সে এসে জ্বীন সূরা পড়ে ফুঁ দেয়ার সাথে সাথেই অজ্ঞান হয়ে যায়। একটু পর জ্ঞান ফিরলে বলে তার ঘাড়ে আর দাতে প্রচন্ড ব্যাথা। কিন্তু আগের কোন ঘটনা তার মনে নাই। তারপরে সব স্বাভাবিক ভাবেই চলতে থাকে।
একমাস পরের ঘটনা, রাতের বেলা। এই রাতেও সে হঠাত করে আগের মত করতে থাকে। হাসতে হাসতে কাঁদে আবার কাঁদতে কাঁদতে হাসে, কিন্তু কোন কথা বলতো না। আমার বাবা জ্বীন সূরা পড়ে ফুঁ দেয়ার সাথে সাথেই আপা অজ্ঞান হয়ে যায়। একটু পর জ্ঞান ফিরে আসে। তখন জিজ্ঞেস করলে কিছুই বলতে পারতো না। এইভাবে দেখা যেলো প্রতি অমাবশ্যায় তার এইরকম হয়।
পনের দিন পর, পূর্ণিমা ছিলো। আমার এক দূসম্পর্কের আত্মীয়া বেড়াতে এসেছে। উনি একটু ফকির টাইপের ছিলো, মানে ঝাড়ফুক করতো। সবাই ঘুমাতে গেছে এমন সময় হঠাত করেই সেঝ আপা হেসে উঠে, তার একটু পরেই কেঁদে উঠে। তখন যে বেড়াতে আসছিলো সে আপার হাতের কণি আঙ্গুল চেপে ধরে। তখন এক দৃস্টিতে তার দিকে তাকিয়ে থাকে। সবাই তাকে ঘিরে তার নাম নিয়ে ডাকতে থাকি, আর বাব ওযূ করতে যায়। কিন্তু আপা কোন কথাই বলে না। আমি একটা বালিশ নিয়ে আত্মীয়ার সামনে ধরলে আপা পাশ দিয়ে তার দিকে তাকাতে যায়। এইভাবে কিছুক্ষণ থাকার পর অজ্ঞান হয়ে যায়। জ্ঞান ফিরলে তাকে নিয়ে সবাই হাসাহসি করলে, তার নিজের কাজ শুনে নিজেও হেসে উঠে। আত্মীয়াকে আমাদের বাসায় থেকে যেতে বলে।
এক সপ্তাহ পরের ঘটনা। রাতে ঘুমানোর আগে সে বারান্দার দিকে এক নজরে তাকিয়ে থাকে। তাকে রাতের বেলাতে সবাই চোখে চোখে রাখতো। বড় আপা আবার এইটা খেয়াল করলো। সেঝ আপার গায়ে হাত দিয়ে বললো যে ঐভাবে তাকিয়ে আছে কেন। সেঝ আপা বলে কই নাতো। এর একটু পর ঘুমাতে গেলেই হেসে উঠে। তখন সেই আত্মীয়া উঠে বলে একটা মরিচ আর মোমবাতি আসেন। তখন কাজের মেয়ে নিয়ে আসতে গেলে এই প্রথম সেঝ আপা এই অবস্থায় কথা বলে উঠে। আত্মীয়ার নাম ধরে বলে উঠে, “সখিনা, তুমি কি ফকির হইছো”। তখন সখিনা আপা বলে যে দেখ আমি কি হইছি এই বলে মরিচ পুড়ায় আর আপার নাকের কাছে ধরতে চায়। কিন্তু সেঝ আপা তার দুই হাত দিয়ে জোরে নিজের নাক চেপে ধরে। বড় আপা আর মা দুই হাত জোর করেও সরাতে পারে না। চিতকার করে সেঝ আপা বলে উঠে....
(চলবে...)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

