somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সেঝ আপাকে জ্বীনে ধরার কাহিনী- খন্ড দুই

০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

চিতকার করে সেঝ আপা বলে উঠে, “এই সব আমার কাছ থেকে সড়া।” কিন্তু না সরিয়ে তার নাকে ধরলে একটু পরই অজ্ঞান হয়ে যায়। তখন পাশের ঘর থেকে ইমাম সাহেবকে ডেকে আনা হয় একটু ফুঁ দেয়ার জন্য। ইমাম সাহেব এসে জ্বীন সূরা পড়তেছে এমন সময় আবার সেজ আপার জ্ঞান ফিরে যায়। তখন ইমামের দিকে তাকিয়ে তার ধরে বলে, “ঐসব জিনিস পড়ে আমার কিছুই করতে পারবে না।” বড় আপা সেঝ আপাকে জিজ্ঞেস করে, “তুই ওনাকে চিনিস?” সেঝ আপা বলে ওরে না চিনার কি আছে। ও হইলো একটা মসজিদের ইমাম”। এই কথা বলে ইমাম সাহেবের বাবা-মা এমনকি তার শ্বশুড়ের নামও বলে দেয় এবং যার সবই ছিলো সঠিক। ইমাম সাহেব জোড়ে জোড়ে জ্বীন সূরা পড়তে থাকলে আপা নিজের কান চেপে ধরে যেনো না শুনতে পারে। তখন তার হাত সড়িয়ে নিয়ে তার কানের সামনে গিয়ে ফুঁ দিলে অজ্ঞান হয়ে যায় আপা। এরপর জ্ঞান ফিরলে তখন স্বাভাবিকই ছিলো।

এর পর আর কোন নির্দিস্ট রাত ছিলো না। দুইদিন পরেই হঠাত করেই ঐরকম করতে থাকলো। মেঝমামাকে খুব তাড়া দিয়ে গ্রামের বাড়ি থেকে ডেকে আনা হয়। মামা নাকি জ্বীন তাড়াতে পারে। হাসতে হাসতে যখন বেহুশ হয়ে যায় তখান মামা একটু কাগজে কিছু লিখে সূতা দিয়ে বেঁধে আপার পায়ের আঙ্গুলে বেধে দেয়। আর বলে যে ঐ সূতা থাকলে নাকি আর কোন কিছুই হবে না। একটু পরেই আপার জ্ঞান ফিরলে বলে, “আতিয়ার ফকিরগীরি কবে থেকে শুরু করলি, দেখবি তর সূতা আমি খুলবো”। মামা বলে, “পারলে খুলে দেখা”। সেঝ আপা তখন পা থেকে সূতা খুলে নিয়ে এসে বড় আপাকে দিয়ে বলে, “নে, এইটা তোর গলায় বাঁধ”। এইভাবে অনেকক্ষন পার হওয়ার পর একটু পর আপা আবার অজ্ঞান হয়ে যায়। জ্ঞান ফিরলে আবার স্বাভাবিক আচরন করতে থাকে।

পরদিন সন্ধ্যা। সন্ধ্যা হবার সাথে সাথেই বাসার সব দরজা জানালা বন্ধ করে দেয়া হতো। আমরা যে যেখানেই থাকতাম সবাই বাসাতে আসার চেস্টা করতাম। আমি টিউশানী শেষ করে বাসায় এসেই দেখি যে আজকেও সেঝ আপা ঐরকম করছে। এখন উনি প্রতিদিন রাতেই অমন করছে। আমাকে দেখে মা বলে, “তোর বড় ভাইকে ডাক দে”। সাথে সাথে সেঝ আপা বলে উঠলো, “তারে তো এখন পাবি না, সে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতেছে”। মা সেঝ দুলাভাই আর ভাগ্নেকে তারপরও ডাক দিতে বললো ভাইয়াকে। সেঝ আপা বলে উঠলো, যা দেখি কার কতো বড় সাহস। সিড়িতেই এক আছাড় দিবো দুইটারে”। দুইজনেই ভয়ে বসে পরলো। সেঝ আপাকে জিজ্ঞেস করলো, “বলতো তোর মেঝ মামা কোথায়?” সেঝ আপা বললো, “সে এখন কাওরানবাজারে”। এমনভাব নিয়ে বললো যে সে সব জানে। তখনি মামাকে ফোন করলে বলে যে সে আসলেই কাওরান বাজারে। ঐদিন অনেকক্ষন পর্যন্ত ঐরকম অবস্থায় ছিলো।

অবস্থা খারাপ দেখে পরের দিনই মসজিদের ইমামের কাছ থেকে অনেকগুলা আরবী লেখা কাগজ, তাবিজ আর পড়া পানি নিয়ে আসে। প্রতি ঘরের দরজায় লাগিয়ে দেয়া হয়। আর সন্ধ্যা হবার আগে থেকেই সব জানালা বন্ধ করে দেয়া হতো। ঘরে ৈসব লাগানোর পর থেকে আর কোন সমস্যা হয় নাই। এইদিকে দুলাভাইদের বাবার বাসায় উনি কিছু জানান নাই। তারা বউকে নিয়ে যাবার জন্য বলছিলো। আর অবস্থা ভালো দেখে আপা আর দুলাভাই বাসায় চলে যায়। দুইদিন ভালো থাকার পর তৃতীয় রাতে দুলাভাইয়ের ফোন। সে জানায় আপা আম কাটছিলো অহন হঠাত করেই নাকি আম কাটা বাদ দিয়ে হাসতে থাকে। দুলাভাই তাড়াতাড়ি করে বটি সরিয়ে নিয়ে যা। একটু পর স্বাভাবিক হলে তারা লুডু খেলতে থাকে। দুলাভাই সারারাত সজাগ থাকতে চেয়েছিলো যাতে কোন অঘটন না ঘটায়। লুডু খেলতেই নাকি অজ্ঞান হয়ে যায়। দুলাভাই কাতার বাসার কাউকেই না জানিয়ে নিজে নিজে মাথায় পানি ঢেলে দিয়ে জ্ঞান ফিরিয়ে আনে। পরে অবশ্য আর কোন কিছু হয় নাই।


(চলবে...)


সেঝ আপাকে জ্বীনে ধরার কাহিনী- খন্ড এক
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ১০:৩৬
২৮টি মন্তব্য ২৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×