somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সেঝ আপাকে জ্বীনে ধরার কাহিনী- শেষ খন্ড

০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৯:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পরেরদিনই দুপুরেই দুলাভাই আপাকে বাসায় নিয়ে আসে। ঠিক করা হয় দুইদিন পর মঙ্গলবার সকালে আপাকে আত্মীয়া ঐ ফকিরের বাসায় নিয়ে যাওয়া হবে। কারন উনি মঙ্গলবার আর শনিবার খুব সকালে গেলে সব কিছু বলে দিতে পারেন। কিন্তু ঐদিন বিকালেই আপা হঠাত করে চিতকার দিয়ে উঠে। আমরা তাড়াতাড়ি ছুটে গেলে উনি বলেন যে উনি জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়েছিলো। তখন নাকি দেখছিলেন অনেক বড় একটা পাখি তার দিকে তেড়ে আসছিলো। তখনই ফোনে ঐ ফকিরকে জানালে বলে যে বাইরে তাকাতে নিষেধ করবেন। কারন ঘর বং করে দেওয়ার জন্য ওরা আর ঘরে ঢুকতে পারতেছে না। তাই বাইরে থেকেই ভয় দেখাচ্ছে। তবে ভয়ের কিছু নাই, কিছুই করতে পারবে না।

পরদিন সন্ধ্যা। লোডশেডিং চলছিলো। আপাকে জানালার দিকে তাকাতে নিষেধ করলেও উনি আড়চোখে ঠিকই তাকাতেন। মা ঝাড়ি মেরে উঠলেন, “কি, জানালায় কি দেখিস?” আপা হঠাত করেই আগুন বলে জোড়ে চিতকার করে উঠলেন। আশ্চর্য্যের ব্যাপার মা নিজেও নাকি দুইটা আগুনের দলা আমাদের জানালার কাঁচে বাড়ি খেতে দেখেছেন।

মঙ্গলবার খুব সকালে আপাকে রেডী হতে বলে ফকিরের কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য। আপা রেডী হয়ে এসে হঠাত করেই বলে উঠে যে সে যাবে না। তার নাকি পায়ে প্রচন্ড ব্যাথা করছে। তখন দুলাভাই জোড় করে নিয়ে যেতে চাইলে আপা কান্নাকাটি করতে থাকে আর বলে থাকে, “আমাকে নিয়ে যাবিনা ফকিরের কাছে”। তখন বড় আপা আর সেঝ দুলাভাই জোড় করে সেঝ আপাকে নিয়ে নিচে নেমে সি.এন.জি-তে করে ফকিরের বাড়ির দিকে রওনা দেয়। আত্মীয়া বলে বড় আপা অনেকবার গেছিলেন ঐ ফকিরের বাসায়। কিন্তু ঐদিন নাকি উনি বারবার পথ ভুলে যাচ্ছিলেন। আর সেঝ আপা ছিলো অজ্ঞানের মতো।

দেখানোর পর ফকিরের বাসা থেকে আমাদের বাসায় ফিরত চলে আসে। ফকির যা বলে তা হলো, “একদিন সন্ধ্যায় আমাদের পাসের মসজিদে মিনারের কাজ চলছিলো তখন মা সেঝ আপাকে ডাক দিয়ে দেখায় যে মসজিদে অনেকে কাজ করছে। ঠিক তখনি নাকি তিনজন জ্বীন ঐ পথ দিয়ে যাচ্ছিলো। যাদের মদ্ধে দুই জন নাকি ছিলো খুব ভালো আর বাকিজন ছিলো একটু খারাপ প্রকৃতির। যাওয়ার পথে আপা বাধা দেওয়ায় খারাপ জন নাকি আপার উপর ভর করছিলো। অনেক কস্ট করে তাকে স্বীকার করানো হইছে যে আপাকে সে ছেড়ে চলে যাবে। সত্যি এর পর থেকে আপা আর ঐরকম করে নাই। এখন পর্যন্ত উনি ভালো আছেন। ঐ ফকির এও বলছিলেন যে বাকি দুইজন যারা খুব ভালো ছিলো তাদের সাথে নাকি আমার মসজিদে একবার কথা হয়েছিলো।

অবাক করা ব্যাপার হলো যে, রোযার সময় আমি জোহরের নামায পরে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলাম তখন সিড়িতে দুইজনের সাথে কথা হয়। আমাকে সালাম দিয়ে বলে আমি কেমন আছি। কিন্তু আমি তাদের চিনি নাই বলে জিজ্ঞেস করেছিলাম আপনাদের তো আমি চিন্তে পারলাম না। তখন তারা বলছিলো যে আমার আব্বার সাথে তারা তাব্লিগে গিয়েছিলো। আর এই কথাটা আমি বাসাতে এসেই আব্বাকে বলি। সেও ঠিক চিন্তে পারে নাই, কারন অনেকজনই ঐবার তাব্লিগে গিয়েছিলো। সেই ফকিরের এই কথা জানবার কথা না, কিন্তু উনি হুবহু এই কথা কিভাবে বলে দিলেন আমার কাছে তা আজও অজানা।


সেঝ আপাকে জ্বীনে ধরার কাহিনী- খন্ড দুই

সেঝ আপাকে জ্বীনে ধরার কাহিনী- খন্ড এক
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ১০:৩৬
৩৯টি মন্তব্য ৩৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×