পরেরদিনই দুপুরেই দুলাভাই আপাকে বাসায় নিয়ে আসে। ঠিক করা হয় দুইদিন পর মঙ্গলবার সকালে আপাকে আত্মীয়া ঐ ফকিরের বাসায় নিয়ে যাওয়া হবে। কারন উনি মঙ্গলবার আর শনিবার খুব সকালে গেলে সব কিছু বলে দিতে পারেন। কিন্তু ঐদিন বিকালেই আপা হঠাত করে চিতকার দিয়ে উঠে। আমরা তাড়াতাড়ি ছুটে গেলে উনি বলেন যে উনি জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়েছিলো। তখন নাকি দেখছিলেন অনেক বড় একটা পাখি তার দিকে তেড়ে আসছিলো। তখনই ফোনে ঐ ফকিরকে জানালে বলে যে বাইরে তাকাতে নিষেধ করবেন। কারন ঘর বং করে দেওয়ার জন্য ওরা আর ঘরে ঢুকতে পারতেছে না। তাই বাইরে থেকেই ভয় দেখাচ্ছে। তবে ভয়ের কিছু নাই, কিছুই করতে পারবে না।
পরদিন সন্ধ্যা। লোডশেডিং চলছিলো। আপাকে জানালার দিকে তাকাতে নিষেধ করলেও উনি আড়চোখে ঠিকই তাকাতেন। মা ঝাড়ি মেরে উঠলেন, “কি, জানালায় কি দেখিস?” আপা হঠাত করেই আগুন বলে জোড়ে চিতকার করে উঠলেন। আশ্চর্য্যের ব্যাপার মা নিজেও নাকি দুইটা আগুনের দলা আমাদের জানালার কাঁচে বাড়ি খেতে দেখেছেন।
মঙ্গলবার খুব সকালে আপাকে রেডী হতে বলে ফকিরের কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য। আপা রেডী হয়ে এসে হঠাত করেই বলে উঠে যে সে যাবে না। তার নাকি পায়ে প্রচন্ড ব্যাথা করছে। তখন দুলাভাই জোড় করে নিয়ে যেতে চাইলে আপা কান্নাকাটি করতে থাকে আর বলে থাকে, “আমাকে নিয়ে যাবিনা ফকিরের কাছে”। তখন বড় আপা আর সেঝ দুলাভাই জোড় করে সেঝ আপাকে নিয়ে নিচে নেমে সি.এন.জি-তে করে ফকিরের বাড়ির দিকে রওনা দেয়। আত্মীয়া বলে বড় আপা অনেকবার গেছিলেন ঐ ফকিরের বাসায়। কিন্তু ঐদিন নাকি উনি বারবার পথ ভুলে যাচ্ছিলেন। আর সেঝ আপা ছিলো অজ্ঞানের মতো।
দেখানোর পর ফকিরের বাসা থেকে আমাদের বাসায় ফিরত চলে আসে। ফকির যা বলে তা হলো, “একদিন সন্ধ্যায় আমাদের পাসের মসজিদে মিনারের কাজ চলছিলো তখন মা সেঝ আপাকে ডাক দিয়ে দেখায় যে মসজিদে অনেকে কাজ করছে। ঠিক তখনি নাকি তিনজন জ্বীন ঐ পথ দিয়ে যাচ্ছিলো। যাদের মদ্ধে দুই জন নাকি ছিলো খুব ভালো আর বাকিজন ছিলো একটু খারাপ প্রকৃতির। যাওয়ার পথে আপা বাধা দেওয়ায় খারাপ জন নাকি আপার উপর ভর করছিলো। অনেক কস্ট করে তাকে স্বীকার করানো হইছে যে আপাকে সে ছেড়ে চলে যাবে। সত্যি এর পর থেকে আপা আর ঐরকম করে নাই। এখন পর্যন্ত উনি ভালো আছেন। ঐ ফকির এও বলছিলেন যে বাকি দুইজন যারা খুব ভালো ছিলো তাদের সাথে নাকি আমার মসজিদে একবার কথা হয়েছিলো।
অবাক করা ব্যাপার হলো যে, রোযার সময় আমি জোহরের নামায পরে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলাম তখন সিড়িতে দুইজনের সাথে কথা হয়। আমাকে সালাম দিয়ে বলে আমি কেমন আছি। কিন্তু আমি তাদের চিনি নাই বলে জিজ্ঞেস করেছিলাম আপনাদের তো আমি চিন্তে পারলাম না। তখন তারা বলছিলো যে আমার আব্বার সাথে তারা তাব্লিগে গিয়েছিলো। আর এই কথাটা আমি বাসাতে এসেই আব্বাকে বলি। সেও ঠিক চিন্তে পারে নাই, কারন অনেকজনই ঐবার তাব্লিগে গিয়েছিলো। সেই ফকিরের এই কথা জানবার কথা না, কিন্তু উনি হুবহু এই কথা কিভাবে বলে দিলেন আমার কাছে তা আজও অজানা।
সেঝ আপাকে জ্বীনে ধরার কাহিনী- খন্ড দুই
সেঝ আপাকে জ্বীনে ধরার কাহিনী- খন্ড এক

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

