somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সুন্দরী একটা মাইয়া দেইখা বিয়া করুমু

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৩:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আই.ই.এল.টি.এস করতে একটা কোচিংয়ে ভর্তি হইছিলাম। ঐখানে স্যার স্পিকিং টেস্ট নিতো। আমি যদি বেশী না কৈতে পারতাম তাইলে স্যারে আবার শিখায় দিতো। স্যারে সব সময় কইতো একটু আলাদা কইবা যাতে কইরা এক্সামিনর না বুঝে যে তুমি মুখস্থ টাইপের কিছু কইতাছো। যত ইচ্ছা মিথ্যা কইতে পারবা, কিন্তু সেন্টেন্স ঠিক থাকলেই হইলো।

স্যারে আমারে দুইটা খুব ভালো মতো কইয়া দিছিলো। একটা হইলো aim in life আরেকটা হইলো tell something about yourself। আমি ভালোমতো দুইটা মনে রাখছিলাম।

স্পিকিং মেইন পরীক্ষার দিনে কেন্দ্রে একটু আগে গেলাম। বহুত টেনশান নিয়া। গিয়া তাগো জানাইলাম যে বাপধন পরীক্ষা দিবার আইছে তার নামটা লেখাও। নাম লেখার পর আমারে কইলো তিন তলায় যাইতে। আমি ভাবছিলাম নাম লেখাইয়া যাইয়া একটু বিড়ি টাইনা আমু। বহুত টেনশান হইতাছিলো আর বুক ধরফরাইতাছিলো। যাই হোক তিনতলায় গিয়া দেখি আরেকজন তার কাছে কইলাম ছাত্র হাজির। হেয় আমারে একটু খাড়াইতে কইলো। খাড়াইলাম মনে হয় মিনিট খানেক। একটু পরেই কয় আপ্নে ভিতরে যান।

আমার হার্টবিট বাড়তে বাড়তে একবারে বাইড়াইয়া মেঝেতে পরলো আবার বুকে আইলো। দরজায় ঢুইকা স্যাররে জিগাইলাম যে আমি ভিতরে ঢুকবার পারুম কিনা। আমারে ভিতরে ঢুক্তে কইলো। আমি ভিতরে ঢুকলে আমারে বইতে কইলো। ভিতরে তোল্পাড় শুরু হইয়া গেলো। কান দিয়া ধুয়া বাইরাইতে থাকলো। কোন আওয়াজ আমার কানে ঢুকতাছিলো না। সে নিজের পরিচয় দিলেও আমি ভোঁ ভোঁ ছাড়া আর কিছুই শুনলাম না।

আমার তারপর সব কাগজপত্র নিয়া আমার নাম জিগাইলো। মনে মনে ভাবলাম হালায় আন্ধা নাকি কত বড় হরফে নাম লেখা দেখোছ না। তারপরেও নাম কইলাম। এরপরেই সে ক্যাসেট প্লেয়ার অন কইরা দিলো। আর আমারে বিভিন্ন প্রশ্ন জিগাইতে থাকলো। মনে হইলো কয়েক শো প্রশ্নের উত্তর দিয়া দিছি। তারপর কইলো এইবার তোমারে টপিক্স দিমু। আমি তো পুরা থ। তাইলে এত প্রশ্ন জিগাইলা ক্যান।

টপিক্স দেইখাতো একটা ফাল দিলাম মনে মনে। দেখি লেখা tell something about ur goal। শুরু কইরা দিলাম স্যারের শেখানোটা

"আমার আসলে অনেক গুলা শখ আছিলো। যখন ছোট আছিলাম তখন কার্টুন দেইখা ভাবছিলাম বড় হইলে টারজান হমু। কিন্তু যথেষ্ট গাছপালা না থাকায় আমি আর হইতে পারলাম না। পরে ভাবলাম আমি নায়ক রাজ্জাক হমু। কিন্তু আমার বাসার কেউ তাও হইতে দিলো না। পরে মেট্রিক পাস কইরা ভাবলাম ডাক্তার হমু। কিন্তু বিড়ালের পেট কাইটা আবার জোড়া লাগাইতে যাইয়া আব্বা দেইখা ফালাইছিলো যার জন্য আমারে বেদম মাইর খাইতে হইছিলো। তাতেও আশা ছাড়ি নাই কিন্তু ইন্টারে রেজাল্ট খারাপ কইরা আর পারলাম না। পরে এখনের ইচ্ছা হইলো আমি শিক্ষক হমু তারপর সুন্দরী একটা মাইয়া দেইখা বিয়া করুমু যাতে আমার মায়ের সেবা করতে পারে।"

এই কথা শুইনা স্যারে দেখি চোখ বড় বড় কইরা ফালায়ছে। কয় ক্যান, " কালো মাইয়া তোমার মায়ের সেবা করবো না?"
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ২:১২
১৫৯টি মন্তব্য ১৪৩টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×