নির্লজ্জ্ব ঘুষখোরদের লজ্জ্বা দেবার জন্য ইন্দোনেশিয়ানরা অবশেষে একটি কার্যকর পথ বের করেছে। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মুসলিম দেশটিতে ঘুষগ্রহণের হার মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছেছে। সরকার প্রধান থেকে শুরু করে সাধারন কর্মকর্তা পর্যন্ত কেউই বাদ নেই এ-থেকে। প্রায় প্রতিদিনই কোন না কোন রাঘব বোয়ালের ঘুষ গ্রহণকালে হাতে-নাতে ধরা পড়ার ছবি পত্রিকায় আসে। ঘুষখোররা এটাকে এখন আর কোন লজ্জ্বাজনক ঘটনা হিসেবে মনে করে না।তাই তাদের লজ্জ্বা দেবার জন্য ২০০৪ সালে ক্ষমতায় আসা সুসীলো সরকার ব্যাংকার, রাজনীতিবীদ, ব্যাবসায়ী, এবং কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে এই নতুন পদ্ধতি ঠিক করেছে, যা খুব শীঘ্রই কার্যকর হতে যাচ্ছে।
এই থেরাপী অনুসারে সাজাপ্রাপ্ত ঘুষখোরদের জেলখানায় উজ্জ্বল রঙের একটি বিশেষ ইউনিফর্ম পড়ানো হবে, যা জেলের সাধারন কয়েদীদের থেকে তাদের আলাদাভাবে চিহ্নিত করবে। পেছনে বড় করে লেখা থাকবে তাদের নাম, মামলার সংখ্যা, এবং সাজার মেয়াদ। ফলে দূর থেকেও সহজেই তাদের সনাক্ত করা যাবে।এই থেরাপীর ফলে সমাজের উঁচু আসনে থাকা এইসব ঘুষখোরদের পাবলিকলি (শব্দটার একটা ভালো বাংলা বলেন তো!) টিজ করার দারুন একটা সুযোগ পাবে। ইন্দোনেশিয়ানরা আশা করছে, চোর-ছ্যাচ্ছরদের দ্বারা এই রকম পাবলিক হ্যারাসমেন্টের (আবারো বাংলা সমস্যা রে ভাই!) ভয়ে ঘুষখোর এবং ঘুষ প্রদানকারীরা (তাদের জন্যও একই চিকিৎসা) হয়ত এবার ঘুষ লেনদেন থেকে বিরত থাকবে।
কেমন হবে এই দারুন ব্যাবস্থাটি আমাদের দেশে প্রয়োগ করা হলে? আসুন কল্পনা করা যাক।
জেলের ভেতরে কমলা রঙের শাড়ী পড়ে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত দুই নেত্রী গালে হাত দিয়ে পাশাপাশি বসে আছে। জামার পেছনে বড় করে লেখা তাদের নাম এবং সাজার মেয়াদ শাড়ীর আঁচল দিয়ে ঢেকে বৃথাই পরিচয় লুকানোর চেষ্টা করছে। শাড়ীর রঙই অন্য কয়েদীদের কাছে তাদের পরিচয় প্রকাশ করে দিচ্ছে। অন্য নারী কয়েদিরা তাদের টিজ করছে - কেউ হয়ত পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় পেছন থেকে শাড়ীর আঁচল সরিয়ে দিয়ে নাম-ধাম-ইতিহাস প্রকাশ করে দিচ্ছে, মাথার চুল ধরে টান দিচ্ছে, দুষ্টোমি করে মাথায় মৃদু আঘাত করছে। ভাবী আপাকে অভিযোগ করছে, দেখলেন আপা কাজটা কি করলো? এত বড় নেত্রী হয়েও আমাদের কাছে এদের কোন শ্রদ্ধা নাই!
দারুন ব্যাপার হতো নিঃসন্দেহে! কিন্তু আমরা জানি, সেসব কিছুই ঘটবে না। সরকার প্রধান তো দূরের কথা, আমাদের মন্ত্রী-এমপিদেরও কখনো টিজ করে লজ্জ্বা দেয়ার সুযোগ একজন হামদু চোরা পাবে না। যেই অভিযোগেই তাদের আটক করা হোক না কেন, আমাদের আদালত কখনোই তাদের সাজা দিয়ে জেলে আটকে রাখতে পারবে না। বরং সরকার আঁতাত করে তাদের রক্ষা করবে। কোন এক অদৃশ্য আঙ্গুলী হেলনে একে একে সবাইকে জামিন দেয়া হবে। তারা আবার ভোটে দাঁড়াবে এবং জনগন তাদের ভোট দিয়ে সংসদেও পাঠাবে। কিছু মানুষ বসে বসে শুধু আফসোস করবে এই হঠকারীতা দেখে, কিন্তু তাদের আসলে বসে বসে দেখা আর ভাবা ছাড়া আর কিছুই করার থাকবে না।
তার চেয়ে আসুন বরং আমাদের মনের আদালতে বিচার করে তাদের শাস্তি দেই। কমলা রঙের ইউনিফর্ম পড়িয়ে সাধারন বন্দিদের কাছে প্রতি মুহূর্তে অপমানিত হওয়ার জন্য জেলে পাঠাই। সেখানে তাদের নিয়ে কি ধরনের হাস্যকর পরিস্থিতি তৈরী হতে পারে, তা এখানে লিখি। নিজেদের বিবেকের কাছে অন্তত কৈফিয়ত দেই, যে আমার যতটুকু ক্ষমতা আছে, এদের বিরুদ্ধে আমি তা প্রয়োগ করেছি। আমি নিজেকেও একই দলে নিয়ে যাইনি।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৪:৫৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


