সখী ভালোবাসা কারে কয়?
এর উত্তর খুজতে বছরের পর বছর,যুগের পর যুগ,শতাব্দীর পর শতাব্দী কেটে গেছে।জন্ম নিয়েছে ইতিহাস,দর্শন,বহুতত্ত্ববাদ তবুও ধরা কি দিয়েছে এর অনুভুতির রুপ?মানুষ তার প্রতিভার সাথে ভালোবাসার মিশ্রণ ঘটিয়ে তৈরি করেছে সাহিত্য।তাইত জন্ম নিয়েছে পদ্মাবতী,লাইলী-মজনু,শেষের কবিতার।কিন্তু তবুও কি তার তল পাওয়া গিয়েছে?
সম্রাট শাহজাহান নাকি তাজমহল গড়েছিলেন এই ভালবাসার জোড়েই।(নাকি নিজের আধিপাত্যকে যুগ যুগ টিকিয়ে রাখার জন্যে) সত্যি তিনি মমতাজকে বডড বেশি ভালবাসতেন।তাইত এত গন্ডা গন্ডা সন্তান উপহার দিলেন।বেচারী মমতাজ শাহজাহানের ভালোবাসার দান ভুমিষ্ঠ করতে করতেই পটল তুললেন।
দেবদাসের ভিতর ভালবাসা নামক এই অজানা বস্তুটা এতটাই ছিল যে এক পার্বতীতে কুলায়নাই প্রেক্ষাপটে আগমন ঘটে চন্দ্রমুখির।ভালবাসার সংগা খুজতে অতদুরে যাই কেন ছাই,এই ডিজিটাল যুগেই কি এর সঠিক হদিস পাওয়া গেছে?তাইত "দোস্তির"মানে খুজতে গিয়েই কাজল পড়ে যায় খাদে আর শাহরুখের উপরি লাভ রানী মুখার্জী।কত লেখক,কত গায়ক পরিচালকের মত সাধারন আমজনতাও কি এর মানে খুজতে উঠেপড়ে লাগেন নাই?
আমার এক কলিগ তার গম্ভীর মুখ খানা আরো গম্ভীর করে বললেন,"ভালবাসা মানে দুটি মনের লেনদেন"।
তা ভাই এই লেনদেনটা কিভাবে হয়?
প্রশ্নটা পাড়তেই তিনি চক্ষু মুদিয়া তার ব্যাখ্যা শুরু করলেন,এক্ষেত্রে এক অলৌকিক পদ্ধতিতে দুটি মনে রাসায়নিক প্রক্রিয়া সংঘটিত হয়।যারফলে উহাদের উভয়ের মনের মধ্যে ইলেক্ট্রন প্রোটনের মধ্যে জারণ-বিজারণ ঘটিয়া থাকে।এক্ষেত্রে অনুঘটক কিংবা প্রভাবক হিসেবে তাদের মনের টেম্পারেচার ভুমিকা পালন করিয়া থাকে।আর এই পুরো ব্যাপারটাই ঘটিয়া থাকে জাগতিক রশ্মি ইথারের মাধ্যমে।তবে ইহাতে আরও........তার চক্ষু খুলিয়া যায় নাকি সেই ভয়ে সেখানে আরেক কলিগকে বসিয়ে রেখে আমি দূরে গিয়ে এতক্ষণ কি বুঝিলাম তাই রিফ্রেশ করতে লাগলাম।
তবে আমার এই কলিগের সম্পুর্ণ ব্যাখ্যা ভালভাবে না বুঝিলেও এতটুকু বেশ বুঝেছি তার ঐ ইথারের জ্ঞানটুকু আমার চেয়ে বেশি না।একদা বড় বড় মনীষীদের বই পড়ে আমিও ভেবেছিলাম প্রেম আসে ঈশ্বরের কাছ থেকে এক দৈবিক শক্তি নিয়ে।সে আপনা থেকে আসে আর আপনা থেকেই সৌরভ ছড়িয়ে দেয়।সেই সৌরভের ভরসাতেই আমি দ্বিতীয়বার ধপাস করে প্রেমে পড়ে গেলাম।ডিপার্টমেন্টের লাইব্রেরীতে তার পা পড়লেই আমার বুকের চতুষ্কোণে দাপাদাপি শুরু করত,সেথা অলি বার বার আসা যাওয়া শুরু করল কিন্তু দুর্ভাগ্য এর কিছুই ইথার হয়ে তার কানে ,বা সৌরভ হয়ে তার নাকের ইন্দ্রিয়ে ধরা পড়লনা।
আজ আর বলতে নাহি লাজ সবে মাত্র সেকেন্ড ইয়ারে পা রেখেছি।মেরে ব্রাদার কি দুলহানের ক্যাটরিনার মত বুঝলাম সামথিং ইজ মিসিং।সাথে সাথে ডায়েরিতে লিখলাম,"দিস ইজ লাভ"।দেখলাম আমার ছোট ছোট রাতগুলো লম্বা হয়ে গেছে,আকাশের চাদ অনেকক্ষন আমাকে সংগ দেয়।সবাই গরমে হাসফাস করলেও কই থেকে যেন ঝিরঝিরে বাতাস এসে আমাকে ছুয়ে যায়
মনের পিছনে যে আরেকটা মন বাবার বসত সে বলিল"ওকে বলে দে তোর মনের কথাখানা"।কিন্তু আমার এক গো ভালবাসা কখনই চাপা থাকেনা।সে ঠিক টের পেয়ে যাবে।
ওমা!!!!!!!!সে সত্যি টের পেল।একদিন আমাকে ফোন করে বলল;এই শোন আমি আমার মাকে নিয়ে তোদের বাসায় আসছি।
ইয়াহু!!!!!!!!!!!!!!এইত প্রেম।আমি জানতাম জানতাম জানতাম।
হায় হায় নিকুচি করি প্রেমের।নিজেকে বিসর্জন করে পৃথিবীর বুকে আরেকটা তাজমহল গড়ে উঠুক এত বিখ্যাত হবার শখ আর কারও থাকলে থাক আমার নাই।আমাকে যে এতবড় ঠকটা ঠকাল সেই জাতির চৌদ্দগুষ্ঠী উদ্ধার করতে করতে মাকে জানিয়ে দিলাম পড়ালেখা শেষ করার আগে মেয়েদের বিয়ে করা ঠিক না।
তারপর রাজ্যের তাবত পড়া গলাধকরণ করে আজ আমি মস্ত বিদ্বান হয়েছি কিন্তু সেই প্রবঞ্চক জাতিকে আজও ভুলিতে পারিনাই।তাইত সেই পুরুষজাতির বিরুদ্ধে আজ আমার কন্ঠস্বর বজ্রসম।তাইত আজ আমি মাঠে প্রান্তরে,সভা সমিতিতে নারী জাতির ঘুম ভাঙ্গিয়ে যাই।গেয়ে যাই বিবাহের অপ্রয়োজনীয়তা,নারী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা ডিসেম্বর, ২০১১ বিকাল ৫:৫৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



