somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

২য় ছ্যাকা সমাচার ও অতঃপর নারীবাদী এক আমি।।

০২ রা ডিসেম্বর, ২০১১ বিকাল ৫:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সখী ভালোবাসা কারে কয়?

এর উত্তর খুজতে বছরের পর বছর,যুগের পর যুগ,শতাব্দীর পর শতাব্দী কেটে গেছে।জন্ম নিয়েছে ইতিহাস,দর্শন,বহুতত্ত্ববাদ তবুও ধরা কি দিয়েছে এর অনুভুতির রুপ?মানুষ তার প্রতিভার সাথে ভালোবাসার মিশ্রণ ঘটিয়ে তৈরি করেছে সাহিত্য।তাইত জন্ম নিয়েছে পদ্মাবতী,লাইলী-মজনু,শেষের কবিতার।কিন্তু তবুও কি তার তল পাওয়া গিয়েছে?

সম্রাট শাহজাহান নাকি তাজমহল গড়েছিলেন এই ভালবাসার জোড়েই।(নাকি নিজের আধিপাত্যকে যুগ যুগ টিকিয়ে রাখার জন্যে) সত্যি তিনি মমতাজকে বডড বেশি ভালবাসতেন।তাইত এত গন্ডা গন্ডা সন্তান উপহার দিলেন।বেচারী মমতাজ শাহজাহানের ভালোবাসার দান ভুমিষ্ঠ করতে করতেই পটল তুললেন।

দেবদাসের ভিতর ভালবাসা নামক এই অজানা বস্তুটা এতটাই ছিল যে এক পার্বতীতে কুলায়নাই প্রেক্ষাপটে আগমন ঘটে চন্দ্রমুখির।ভালবাসার সংগা খুজতে অতদুরে যাই কেন ছাই,এই ডিজিটাল যুগেই কি এর সঠিক হদিস পাওয়া গেছে?তাইত "দোস্তির"মানে খুজতে গিয়েই কাজল পড়ে যায় খাদে আর শাহরুখের উপরি লাভ রানী মুখার্জী।কত লেখক,কত গায়ক পরিচালকের মত সাধারন আমজনতাও কি এর মানে খুজতে উঠেপড়ে লাগেন নাই?

আমার এক কলিগ তার গম্ভীর মুখ খানা আরো গম্ভীর করে বললেন,"ভালবাসা মানে দুটি মনের লেনদেন"।
তা ভাই এই লেনদেনটা কিভাবে হয়?
প্রশ্নটা পাড়তেই তিনি চক্ষু মুদিয়া তার ব্যাখ্যা শুরু করলেন,এক্ষেত্রে এক অলৌকিক পদ্ধতিতে দুটি মনে রাসায়নিক প্রক্রিয়া সংঘটিত হয়।যারফলে উহাদের উভয়ের মনের মধ্যে ইলেক্ট্রন প্রোটনের মধ্যে জারণ-বিজারণ ঘটিয়া থাকে।এক্ষেত্রে অনুঘটক কিংবা প্রভাবক হিসেবে তাদের মনের টেম্পারেচার ভুমিকা পালন করিয়া থাকে।আর এই পুরো ব্যাপারটাই ঘটিয়া থাকে জাগতিক রশ্মি ইথারের মাধ্যমে।তবে ইহাতে আরও........তার চক্ষু খুলিয়া যায় নাকি সেই ভয়ে সেখানে আরেক কলিগকে বসিয়ে রেখে আমি দূরে গিয়ে এতক্ষণ কি বুঝিলাম তাই রিফ্রেশ করতে লাগলাম।:((:((:((


তবে আমার এই কলিগের সম্পুর্ণ ব্যাখ্যা ভালভাবে না বুঝিলেও এতটুকু বেশ বুঝেছি তার ঐ ইথারের জ্ঞানটুকু আমার চেয়ে বেশি না।একদা বড় বড় মনীষীদের বই পড়ে আমিও ভেবেছিলাম প্রেম আসে ঈশ্বরের কাছ থেকে এক দৈবিক শক্তি নিয়ে।সে আপনা থেকে আসে আর আপনা থেকেই সৌরভ ছড়িয়ে দেয়।সেই সৌরভের ভরসাতেই আমি দ্বিতীয়বার ধপাস করে প্রেমে পড়ে গেলাম।ডিপার্টমেন্টের লাইব্রেরীতে তার পা পড়লেই আমার বুকের চতুষ্কোণে দাপাদাপি শুরু করত,সেথা অলি বার বার আসা যাওয়া শুরু করল কিন্তু দুর্ভাগ্য এর কিছুই ইথার হয়ে তার কানে ,বা সৌরভ হয়ে তার নাকের ইন্দ্রিয়ে ধরা পড়লনা।X(X(X(

আজ আর বলতে নাহি লাজ সবে মাত্র সেকেন্ড ইয়ারে পা রেখেছি।মেরে ব্রাদার কি দুলহানের ক্যাটরিনার মত বুঝলাম সামথিং ইজ মিসিং।সাথে সাথে ডায়েরিতে লিখলাম,"দিস ইজ লাভ"।দেখলাম আমার ছোট ছোট রাতগুলো লম্বা হয়ে গেছে,আকাশের চাদ অনেকক্ষন আমাকে সংগ দেয়।সবাই গরমে হাসফাস করলেও কই থেকে যেন ঝিরঝিরে বাতাস এসে আমাকে ছুয়ে যায়:):):)টিভি দেখার চেয়ে পড়ার টেবিল বড্ড ভাল লাগতে লাগল অথচ হরফগুলো সব শিউলি ফুল হয়ে ফুটতে লাগল।বললাম দিস ইজ লাভ।;););)

মনের পিছনে যে আরেকটা মন বাবার বসত সে বলিল"ওকে বলে দে তোর মনের কথাখানা"।কিন্তু আমার এক গো ভালবাসা কখনই চাপা থাকেনা।সে ঠিক টের পেয়ে যাবে।

ওমা!!!!!!!!সে সত্যি টের পেল।একদিন আমাকে ফোন করে বলল;এই শোন আমি আমার মাকে নিয়ে তোদের বাসায় আসছি।

ইয়াহু!!!!!!!!!!!!!!এইত প্রেম।আমি জানতাম জানতাম জানতাম।:):):)বাড়িঘর ঝাড়ামোছা করলাম।মাকে কাটা কুটিতে সাহায্য করলাম।যথাসময়ে আমাদের বাসায় ওর মায়ের পদার্পণ।আমার চুল দেখল,হাত পায়ের আঙ্গুল নেড়েচেড়ে দেখল ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখল আমার মুখখানা।মেঝেতে পানি ঢেলে তাতে কিছুটা ক্যাটয়াকও করলাম ভাগ্য পরীক্ষা করতে। যাবার সময়ে আমার মায়ের কাছে ফিসফিসিয়ে তিনি বলে গেলেন,খালাম্মা আপনার লক্ষ্মীসমত্থ মেয়েটাকে আমার ভাইয়ের জন্যে ঠিক করে গেলাম।:-*:-*:-*

হায় হায় নিকুচি করি প্রেমের।নিজেকে বিসর্জন করে পৃথিবীর বুকে আরেকটা তাজমহল গড়ে উঠুক এত বিখ্যাত হবার শখ আর কারও থাকলে থাক আমার নাই।আমাকে যে এতবড় ঠকটা ঠকাল সেই জাতির চৌদ্দগুষ্ঠী উদ্ধার করতে করতে মাকে জানিয়ে দিলাম পড়ালেখা শেষ করার আগে মেয়েদের বিয়ে করা ঠিক না।

তারপর রাজ্যের তাবত পড়া গলাধকরণ করে আজ আমি মস্ত বিদ্বান হয়েছি কিন্তু সেই প্রবঞ্চক জাতিকে আজও ভুলিতে পারিনাই।তাইত সেই পুরুষজাতির বিরুদ্ধে আজ আমার কন্ঠস্বর বজ্রসম।তাইত আজ আমি মাঠে প্রান্তরে,সভা সমিতিতে নারী জাতির ঘুম ভাঙ্গিয়ে যাই।গেয়ে যাই বিবাহের অপ্রয়োজনীয়তা,নারী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা।

সর্বশেষ এডিট : ০২ রা ডিসেম্বর, ২০১১ বিকাল ৫:৫৪
৩৫টি মন্তব্য ৩৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ডায়োজেনিস সিন্ড্রম

লিখেছেন করুণাধারা, ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ রাত ১২:০১



ডায়োজেনিস সিন্ড্রমে আক্রান্ত মানুষের ঘর

আমার একজন ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের কিছু অদ্ভুত আচরণ দেখে বুঝতে চাচ্ছিলাম যে তার এমন আচরণ কোনো মানসিক সমস্যা কিনা। তার আচরণের বর্ণনা দেই ইন্টারনেটে, আর তখন জানতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-৩০)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ রাত ১:০৩



সূরাঃ ৩০ রূম, ৩২ নং আয়াতের অনুবাদ-
৩২। যারা নিজেদের দীনে মতভেদ সৃষ্টি করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে।প্রত্যেক দল নিজ নিজ মতবাদ নিয়ে উৎফুল্ল।

সূরাঃ ৩০ রূম, ২৯ নং... ...বাকিটুকু পড়ুন

হামে শিশুদের মৃত্যুর দায় ডঃ ইউনুস গভার্নমেন্টের

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ রাত ১:০৪

ইউনিসেফ হামের টিকা কেনার জন্যে গত তত্তবধায়ক সরকার প্রধান ড' ইউনুসকে বারবার অনুরোধ করেছিলো। আমরা এখনো ইউনুস স্যারের উত্তর পাই নাই। কিন্তু, প্রশ্ন হচ্ছে, ইউনিসেফকে প্রধান উপদেষ্টা পর্যন্ত যেতে হলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাশূন্যের অন্তহীন দিগন্তে: আগামীর মহাকাশ গবেষণা, মানবসভ্যতা এবং আল কুরআনের বিস্ময়কর দিকনির্দেশনা

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ সকাল ৯:৫৫

মহাশূন্যের অন্তহীন দিগন্তে: আগামীর মহাকাশ গবেষণা, মানবসভ্যতা এবং আল কুরআনের বিস্ময়কর দিকনির্দেশনা

ছবি অন্তর্জাল থেকে সংগৃহিত।

ভূমিকা:

মানুষ যখন প্রথম আকাশের দিকে চোখ তুলে তাকিয়েছিল তখন সেই বিশাল নীলিমা তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

যুগে যুগে সারদা দেবী

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৯



নদীর নাম রুপসা।
জীবনানন্দ দাশ তার কবিতায়ও রূপসা নদীর কথা বলেছেন। এই নদীতে স্নান করেছেন- রবীন্দ্রনাথের মা এবং স্ত্রী। বর্ষাকালে রুপসা নদী যেন যৌবনে ফিরে যায়। কি তেজ! কি জলের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×