ঢাকা ছারা আর কোথায় কোথায় সে রাতে হত্যা যজ্ঞ চলেছিল ?
অল্প কথায় সরল ভাষায় দীর্ঘ ইতিহাস সূদূর ভবিষ্যেতের একটি বিজয়ের ভাষন রচনা করা কত কঠিন !
সন্মানীত সূধী ও উপস্থিত বেলাববাসী
আসসালামু-আলাইকুম। আজ ১৬ ই ডিসেম্বর, মহান বিজয় দিবস। ১৯৭১ সালের এইদিনে সশস্ত্র রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছিল বাঙালীর হাজার বছরের প্রতিক্ষিত বিজয়। সেদিন পাকিস্তানী সুসজ্জিত হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে এদেশের জনগণ ছিনিয়ে এনেছিল স্বাধীনতা। যাদের আত্মত্যাগ আর রক্তে অর্জিত এ স্বাধনতা, তাঁদের আত্মার প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা।
সন্মানীত বেলাববাসী
১৯৪৭ সালে ২০০ বছরের বৃটিশ শাসন থেকে মুক্ত হয়ে দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুইটি রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়। তখনই বাঙালী জাতি উপলব্ধি করে তাঁদের পরাধীনতার ইতিহাস শেষ হয়নি। ১৯৫২'র ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪'র যুক্তফ্রন্টের নির্বাচন, ৬২র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬'র ছয় দফা, ৬৯ এর গণঅভ্যুথান, ১৯৭০ নির্বাচন এবং ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ জাতির জনক বঙ্গ বন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের মুক্তির ভাষন বাঙালী জাতিকে নিয়ে আসে সেই মহেন্দ্রক্ষনে। ৭১ এর ২৫শে মার্চের কালো রাতে গণহত্যার চুড়ান্ত নীল নকশা নিয়ে পাকিস্তানী সুসজ্জিত সামরিক বাহিনী ঝাপিয়ে পরে নিরস্ত্র বাঙালীর উপর। অসম শক্তির দীর্ঘ নয় মাসের যুদ্ধে ৩০ লাখ শহিদ, ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম, ৩ কোটি মানুষের বাস্তু ত্যাগ ও ৭ কোটি বাঙালী প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ত্যাগের মাধ্যমে ১৬ ডিসেম্বরে পাকিস্তানী বাহিনীর আত্মসমর্পনের মাধ্যমে জন্ম নেয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণের অংশ হিসাবে বেলাব উপজেলার রয়েছে এক গৌরবময় ইতিহাস।সেদিন বেলাব'র অকুতভয় সাহসী সন্তানেরা বুকের রক্ত দিয়ে মুক্ত করেছিল এ অঞ্চল।তাদের এ বিজয় গাথা কখনও ভুলবার নয়।
সন্মানীত উপস্থিতী
কালের বিবর্তনে দেশ আজ ৪০ বছর পেরিয়ে এসেছে।কিন্তু অর্জিত হয়নি বাংলার জনগণের চির কাংক্ষিত সোনার বাংলা।সেদিনের যুদ্ধ বিদ্ধস্ত বাংলাদেশে থেকে কিছু দৃশ্যমান সাফল্য ছারা পরিবর্তন হয়নি সাধারন মানুষের ভাগ্যের।এ অবস্থার পরিবর্তন করতে হবে।জাতির জনক বঙ্গ বন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের সুযোগ্য কণ্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে এখন এদেশের কান্ডারী। তিনি ঘোষনা দিয়েছেন ডিজিটাল বাংলাদেশের।অর্থনৈতিক মুক্তি, সামাজিক সমতা, ন্যায় বিচার ও সুখি সমৃদ্ধ একটি বাংলাদেশের ধারনাটি সমাজে সমতা প্রতিষ্ঠিত করার একটি স্বপ্ন। প্রকৃতপক্ষে সমাজের একটি দীর্ঘ প্রতক্ষিত স্বপ্ন, যেখানে থাকবে ন্যায় বিচার, থাকবে না দারিদ্র, থকবে নিজস্ব সম্পদ ব্যবহার করে অর্ধনৈতিক সমৃদ্ধি। ডিজিটাল বাংলাদেশ ধারনাটি আপাত দৃষ্টিতে নতুন মনে হলেও এরকম একটা সমাজের স্বপ্ন বাঙালী জাতি অনেক বছর আগে থেকেই দেখে আসছে। এরকম একটি বাংলাদেশের জন্য অসংখ্য মানুষ রক্ত দিয়েছে, আন্দোলন করেছে রাজপথে বছরের পর বছর, মরেছে অকাতরে। সব শেষে একটি স্বাধীন দেশ প্রতিষ্ঠা করেছে। কিন্তু ৪০ বছরে পরুষের রক্তে কেনা স্বপ্নের সোনার আজও মরিচিকাই রয়ে গেছে। অথচ এরচেয়ে অল্প সময়ে দেশটি আজ ১৫ কোটি জনগণের অপার সম্ভাবনাময় একটি দেশ।
সন্মানীত বেলাববাসী
বিজয় দিবসের এই মহেন্দ্রক্ষনে আজ আমাদের শপথ গ্রহন করতে হবে।দেশ ও মানুষ গড়ার শপথ।সমাজের প্রতিটি স্তর থেকে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও সকল ভেদাভেদ ভুলে নবীন প্রবীন সকল প্রজন্মের দেশপ্রেমে আত্মনিয়োগ করতে হবে।কেবল এ পথেই আসবে দারিদ্র মুক্ত, সুখি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।আর এ মহৎ কাজে বেলাব উপজেলা পরিষদ, জ্ঞান, দক্ষতা
পরিশেষে আজকের এই বর্ণাঢ্য আয়োজনের সাথে সম্পৃক্ত সকলকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ।এবং বেলাববাসীর সাফল্য কামনা করে আমার বক্তব্য এখানেই শেষ করছি।সবাই ভালো থাকুন এই শুভ কামনায়, আল্লাহ হাফেজ।
Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০১১ সকাল ৮:৪২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



