রাজনৈতিক দল নয়, এখনো আমর চোখে এরা লাগি-বৈঠাধারী কুকুরের পাল। সেদিন পুরো পল্টন জুড়ে ছিল লগি, বৈঠা বাহিনীর তান্ডব। লগি-বৈঠা আর অস্ত্রধারীরা লগি-বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে বিরোধী পক্ষের কর্মীকে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তারা তার লাশের ওপর ওঠে নৃত্য-উল্লাস করতে থাকে। মনবতার জন্য এর চেয়ে বড় লজ্জার আর কি আছে? মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকি হানাদাররাও দিনে দুপুরে হাজার ক্যামেরার সামনে এমন জঘন্য অপরাধ করার ধৃষ্ঠতা দেখানোর সাহস করেনি, হিটলারের নাৎসী বাহীনিও এমন করেছে বলে ইতিহাসে পাওয়া যায়না। অথচ স্বাধীন বাংলাদেশে লাখো মানুষের সামনে এমন অপরাধ ঘটলো। ধিক্কার জানাই।
সেদিন আওয়ামী হায়েনারা জামায়াত কর্মী হাবিবুর রহমানকে পৈশাচিক কায়দায় হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি লাশটি টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যেতে চেয়েছিল গুম করার জন্য। কিন্তু পুলিশের সহায়তায় যখন লাশটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলো সেখানেও চলতে থাকে আওয়ামীলীগ নেতা হাজী সেলিম বাহিনীর লাশ দখলের খেলা। তারা নকল বাবা মা সাজিয়ে নিয়ে যেতে চেয়েছিল লাশটি। পরবর্তীতে এ কারসাজি ধরা পড়ায় নকল বাবা মা সটকে পড়ে। এখানেই শেষ নয়। আওয়ামী লীগ হাবিবুর রহমানকে নিজেদের কর্মী দাবি করে তার লাশের ছবি ব্যবহার করে পোস্টারও ছেপেছিল। লাশ নিয়ে রাজনীতি এর চেয়ে জঘন্য নমুনা আর কী হতে পারে?
এই লগি বৈঠাধারীদের সব আক্রোশ সেদিন ছিলো খালেদা জিয়ার উপর। এরা খালেদা জিয়াকে পেলেও সেদিন লাগি বৈঠা দিয়ে হত্যা করতে পিছপা হতনা, কারন এদের এ জঘন্য অপরাধের মদতদাতারা প্রতিশোধ আর হত্যার রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন।
গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের ভেক ধরে বর্তমানে চলমান বিচারের নামে কিংবা ২৮ অক্টোবরের গণহত্যার তান্ডবের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে নিধনের মধ্যযুগীয় নারকীয়তা দেখে সক্রেটিসের অন্তরাত্মাও কেঁপে উঠছিল। প্রতিপক্ষকে কথিত বিচারের নামে কিংবা শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে হত্যা ও নিঃশেষ করে দেয়ার উল্লাসে যারা আনন্দোৎসবের মতলব করছেন, তাদের জেনে রাখা ভালো, ইতিহাস নিধনকারীদের নয়, সক্রেটিসকে মনে রেখেছে।
আমরা বিশ্বাস রাখি, আমরা একদিন জয় করবোই। আমরা বিএনপি- আওয়ামীলীগ-জামায়াত ভুলে মানবতার গান গাইবো। আমাদের দল-মত ভিন্ন হতে পারে তবে মানবতাকে সম্মান জানাতে শিখবো। হত্যা ও প্রতিশোধের রাজনীতি থেকে বের হতে পারবো। আরো বিশ্বাস করি রক্তের বন্যায় ভেসে যাবে অন্যায়।
আর মার্টিন লুথার কিং এর মতো বলছি
Sometimes we've had tears in our eyes when we joined together to sing it, but we still decided to sing it! We shall overcome.
Before the victory is won, even some will have to face physical death. But if physical death is the price that some must pay, to free their children from a permanent psychological death, then nothing shall be more redemptive. We shall over come.
আমাদের বুকের ভিতর আছে প্রত্যয় আমরা একদিন হানাহানি ভুলে বসবাস করবো শান্তিতে। মানবতার চেয়ে বড় কিছু নেই এই সমাজে।
আজ ২৮ অক্টোবরের এমন ভয়াবহ মানবতা বিরোধীদের উল্লাসের দিনে ৪ টা গান উৎসর্গ করলাম মানবতাবাদীদের জন্য, শান্তি কামনায়।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে অক্টোবর, ২০১১ রাত ৮:৪৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




