somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জেতার পরই আপনি হেরে গেলেন আইভি। (লালনের একটা গানসহ আইভিকে দু' লাইন)

০২ রা নভেম্বর, ২০১১ রাত ১১:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আপনি হেরে গেলেন নারায়গঞ্জ জয় করা নেত্রী আইভি। আইভি আপনি হেরে গেলেন রাজনীতির কুটিল মারপ্যাঁচে যদিও আপনার মারপ্যাচে আর নারায়গঞ্জবাসীর ভালোবাসায় এইতো দুদিন হলো হারিয়ে দিয়েছিলেন সন্ত্রাসের জননী, যাবতীয় সহিংস রাজনীতির উদ্যোক্তা ও গডফাদারদের গডমাদার হাসিনাকে। আপনি হেরে গেলেন বিবেকের কাছে, আপনি হেরে গেলেন সমস্ত মনুষত্বের কাছে, আপনি হেরে গেলেন ন্যায়ের কাছে, আপনি হেরে গেলেন মানুষের ভালোবাসার কাছে। কি দাম দিলেন আপনি নারায়গঞ্জবাসীর ভালোবাসার। আজ দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে লিখতে বসেছি। আইভি আপনি নিশ্চয় আমার চেয়ে বেশী জানেন। বাস্তবতা খুবই কঠিন। আপনি আপনার দলের মনোনয়নের জন্য কতটা যুদ্ধ করেছেন আমরা তা জেনেছি বন্ধু-বান্ধবের মুখে, পত্র-পত্রিকায় আর আপনি এই যুদ্ধটা করেছেন সরাসরি। তবুও তারা আপনাকে মনোনয়ন দেয়নি। তাই বলছি আপনি আমার চেয়ে অনেক বেশী জানেন।

আইভি আপনাকে আপনার দল বা আওয়ামী বাকশালীরা মনোনয়ন দেয়নি। আপনাকে মনোনয়ন দিছে নারায়গঞ্জের জনগন। আপনার পাশে আপনার প্রিয়তম দল যার জন্য জিতেই উতলা হয়ে ছুটেছেন পাশে দাঁড়ায়নি, পাশে দাঁড়িয়েছে নারায়াংঞ্জের সাধারন মানুষ। আপনার জন্য ভালোবাসার ছিটেফোঁটাও দেখায়নি আপনার প্রিয়তম দলের কেন্দ্রীয় নেতারা তারা ছুটে ছিলেন সন্ত্রাসের গডফাদার শামীমের পিছে পিছে তার লেজ ধরে, কিন্তু নারায়নগঞ্জের জনতা দেখিয়েছে ভালোবাসার পরাকাষ্ঠা। আইভি আপনিই বলুন এ জয়টা কার আপানার, আপনার দলের না নারায়নগঞ্জের সাধারন শান্তিপ্রিয় জনগনের। বুকে কি হাত দিয়ে বলতে পারেন সত্যকথাটা কেন এই অসাধারন জয়ের সমস্ত ক্রেডিট আপনি দিয়ে দিচ্ছেন আপনার নেত্রী শেখ হাসিনাকে। আপনার নেত্রী আজো প্রতিদিনের মতো করে অনেক গুলো মিথ্যাকথা শোনালেন আমাদের আমজনতাকে। তাহলে কি আমরা ধরে নিবো আপনি আর সন্ত্রাসের গডফাদার শামীম উসমান আসলে মুদ্রার এপিট ওপিট?

বৈঠকের অনেকগুলো নিউজের একটি এখানে


কেন আপনি ব্যাক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতে গিয়ে সাধারন মানুষকে কষ্ট দিলেন। আমার আজকের লেখাটা মূলত প্রধানমন্ত্রীর সাথে আপনার দেখা করার বিষয় ও শেখ হাসিনা কতৃক যে কিছু হেদায়েতি বক্তব্য এসেছে তা নিয়ে। প্রিয় পাঠক চলুন একটু দেখি ১লা নভেম্বরে হাসিনা, আইভী ও শামীম ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের সারাংশ কি??

১. বৈঠকের উপস্থিতি: উপস্থিত প্রধান প্রধান টিন ব্যাক্তি হলেন, শেখ হাসিনা, সেলিনা হায়াত আইভি ও শামীম উসমান।
২. বৈঠকের কারন: বিজয়ী প্রার্থীকে শুভেচ্ছা জানানো।
৩. বৈঠকের ফলাফল: আমরাই ফার্স্ট, আমরাই সেকেন্ড
৪. হাসিনার বক্তব্য: “শান্তিপূর্ণ পবিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এটাই আওয়ামী লীগের নীতি আদর্শ। এখন সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে।”
৫. আইভীর বক্তব্য: “শুরু থেকেই আমার সাথে প্রধানমন্ত্রীর দোয়া ছিল। আমি জননেত্রী শেখ হাসিনার দোয়া নিয়ে নির্বাচন করেছিলাম। আজকেও তার দোয়া নিতে এসেছিলাম।”
৬. শামীম উসমানের বক্তব্য: ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী আমরা মিলেমিশে একসঙ্গে কাজ করতে চাই।
৭. সবচেয়ে বড় হিপোক্রেসী: সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া সফরের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমরা নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে কথা বলি। নাসিক নির্বাচনই নারীর ক্ষমতায়নের বড় প্রমাণ। সফরের সময় নিউজিল্যান্ডের মেয়রকে বলেছিলাম, আমরা বোধ হয় এবার একজন নারী মেয়র পেতে যাচ্ছি।”

প্রিয় পাঠক আপনারা কি বুঝতে পারছেন কি হিপক্র‌্যাসী আর ড্রামাটাই না হয়ে গেলো।

আসুন এক নজরে আমার ভাবনা গুলো শেয়ার করি।

সাধারন মানুষকে অপমান করার কোন প্রয়োজন ছিলোনা:
আপনি যখন শেখ হাসিনার সাথে দেখা করে তার আনুগত্য প্রকাশ করবেনই তাহলে নারায়গঞ্জ বাসীকে ক্যানো বলেছিলেন তারাই আপনার ভরসা। যখন সেনাবাহীনি নিয়োগের সিদ্ধান্ত থেকে সরকার সরে আসলো তখন আপনি ভরসা করেছিলেন জনগনের উপর বলেছিলেন জনগনই আপনার সেনা বাহীনী। যখন শামীম নির্বাচনের দিনেও সাধারন ভোটার ও আপনার এজেন্টদের হুমকী ধমকী ইত্যাদিতে ভীত করতে চেয়েছিলো তখনও আপনার ভরসা ছিলো জনগনের উপর। আর আজ আপনি সেই শামীম ওসমান ও তার ত্রানকত্রী সেখ হাসিনার সাথে বসে তাদের আনুগত্য স্বীকার করে নিলেন ক্যানো? সংবাদ পত্র টিভিতে দ্যাখা গেলো আপনি এ বৈঠকে খুবই খুশী ও বিগলিত।



গরু মেরে জুতা দেওয়ারও দরকার ছিলোনা:
মাননীয় প্রধান মন্ত্রী আপনি নাকি দোয়া দিয়েছিলেন আইভীকে। আপনি নাকি জানতেন আইভি জিতবে। আপনি যদি এতো কিছুই জানেন তাহলে ক্যানো আইভীকে মনোনয়ন দিলেন না? তাহলে হয় আপনি সন্ত্রাসের পালন কর্তা না হয় সন্ত্রাসের কাছে জিম্মি। আপনি জনগনের মন বুঝেন না। আপনি গনতন্ত্রের মূল স্পিরিট কি তা জানেন না। জনগনের চাওয়া পাওয়া কি তা জানেন না এবং জানলেও তার কোন মূল্য দেয়ার অনুভূতি নেই।

নতুন কি শিখলাম, জানলাম

বর্তমান সময়ের এই তিন আলোচিত ব্যাক্তির এই বৈঠকের পর আজ জনমনে প্রশ্ন জাগে, তাহলে কি সবই সাজানো ছিলো? আমরা সন্ত্রাসের গডফাদারের বিরুদ্ধে যে জোরালো অবস্থান ছিলো আইভীর তা কি কেবলই মেকী বা নাটুকে। শামীম উসমানের সাথে দেখা সাক্ষাত যেকোন জায়গায় যেকোন সময়েইতো হতে পারতো যেহেতু তারা একই এলাকায় বসবাস করেন। কিন্তু এ বৈঠক যখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে হয় তখন সহজেই অনুমান করা যায় এই তিনজনের মধ্যে আগে থেকেই যোগাযোগ ছিলো। বা এর পিছনে একটা কুন্টু আছে। প্রধানমন্ত্রী জনগনের নির্বাচিত প্রতিনিধিকে, জনগন কতৃক প্রত্যাখ্যাত সন্ত্রাসের গডফাদারের সাথে এক সাথে বসিয়ে কি শিক্ষা দিলেন? ক্যানো জনগনের নির্বাচিত প্রতিনিধি ও প্রত্যাখ্যাত প্রতিনিধি সমানভাবে মূল্যায়িত হলো প্রধানমন্ত্রীর কাছে?

তাই দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি আপনি আপনি যদি সত্যিই জনগনের ভোটে নির্বাচিত হন তাহলে যারা আপনাকে লাত্থি দিয়ে সন্ত্রাসের গডফাদারের সাথে ছিলো তাদের সাথে অন্তরঙ্গ বৈঠক করে আপনি আসলেই হেরে গিয়েছেন।

লালনের একটা গান খুব মনে পরলো:
ব্রাম্মন, চন্ডাল, চামার মূচী
একই জলে সকল সূচী
দেখে শুনে হয়না রুচী
যমেতো কাউকে ছাড়বেনা



তবেকি রাজনীতিবিদ জাতটাতে আসলেই জাতগেলো বলে কোন কথা নেই।

সর্বশেষ এডিট : ০২ রা নভেম্বর, ২০১১ রাত ১১:৩৩
৪৮টি মন্তব্য ২১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×